‘চলে যাও, র‍্যাটফেস, আমার মেজাজ আজকে ঠিক নাই,’ মেনড্যাক্স বইয়ে মন দিতে দিতে বললো।

কণ্ঠস্বরটি আরও জোরে হাঁকলো, আরও বেশী প্রবল হয়ে উঠলো, ‘পুলিশ। দরজা খুলুন। এক্ষুনি’। কাঁচের পেছনে আরও কিছু অবয়ব ঘোরাফেরা করছিল, শার্সির ওপাশে পুলিশের ব্যাজ এবং বন্দুকের আনাগোনা বোঝা যাচ্ছিলো। মরণ। সত্যিই তো পুলিশ!

মেনড্যাক্স’র হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। সে পুলিশকে তাদের তল্লাসী পরোয়াণা দেখাতে বললো। তারা সাথে সাথে কাঁচের অপরপাশ থেকে দেখালো। মেনড্যাক্স দরজা খুলে দেখলো ডজনখানেক সাদাপোশাকের পুলিশ তার জন্য অপেক্ষা করছে।

সে বিড়বিড় করে বললো, ‘বিশ্বাস হচ্ছে না এসব। আমার স্ত্রী এইমাত্র আমাকে ছেড়ে গেছেন। আপনারা পরে আসতে পারেন না?’

পুলিশের দলের একদম সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডিটেক্টিভ সার্জেন্ট কেন ডে, এএফপি’র কম্পিউটার ক্রাইমস ইউনিটের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান। তারা দুজন পরস্পরকে ভালোই চিনতেন, কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি। ডে প্রথম বলে উঠলেন।

‘আমি কেন ডে। আমার ধারণা আপনি আমার অপেক্ষায় ছিলেন।’

মেনড্যাক্স এবং তার সহযোগি আইএস হ্যাকাররা এএফপি’র আগমন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। গত কয়েকসপ্তাহ ধরে তারা এমনসব ইলেক্ট্রনিক মেইলের সন্ধান পাচ্ছিল যেগুলোর বক্তব্য ছিল যে পুলিশ নেট বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। কাজেই, ডে যখন বললেন, ‘আমার ধারণা আপনি আমার অপেক্ষায় ছিলেন,’ তিনি ওই তথ্যচক্রটিই সম্পন্ন করলেন মাত্র। চক্রটি পুলিশ হ্যাকারদের নজরে রাখছে, হ্যাকার পুলিশকে নজরে রাখছে এভাবেই চলছিল।

বিষয়টা হল মেনড্যাক্স ওই মুহূর্তে আসলে পুলিশ আসার কথা চিন্তাও করে নাই। তার মনের মধ্যে তখন নানান জিনিস জট পাকিয়ে ছিল এবং সে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার ঘরের সামনে অফিসারদের দলের দিকে তাকিয়ে ছিল। বিস্ফারিত চোখে সে ডে’র দিকে তাকালো এবং তারপর যেন নিজের সাথেই কথা বলছে এমন ভঙ্গীতে জোরে জোরে বলে উঠলো, ‘কিন্তু আপনি তো পুলিশদের তুলনায় খুবই বেঁটে।’

ডে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। ‘এটা কী অপমান করার জন্য বললেন?’ তিনি বললেন।

সেরকম কিছু নয়। মেনড্যাক্সের মাথায় কিছুই খেলছিল না এবং যতক্ষণ না পুলিশ তার পাশ দিয়ে ঘরে ঢুকে গেল তখন তার ঘটনার আকস্মিকতা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করলো। মেনড্যাক্স’র মাথা আবার কাজ করতে শুরু করলো।

ডিস্কগুলো। বালের ডিস্কগুলো। মৌচাক।

শখের মৌমাছিচাষী, মেনড্যাক্স’র নিজের কিছু মৌচাক ছিল। মৌমাছি তাকে খুব আকর্ষণ করতো। তাদের যোগাযোগ পদ্ধতি, তাদের সুনিপুন সামাজিক ব্যবস্থা দেখতে তার খুব ভালো লাগতো। কাজেই সে হৃষ্টচিত্তে তার হ্যাকিং কার্যক্রমের আলামত লুকানোর জন্য তাদের কাজে লাগিয়েছিল। মাসের পর মাস ধরে সে নিখুঁতভাবে তার ডিস্কগুলো চাকে লুকিয়ে রেখেছে। এটা একটা আদর্শ জায়গা – অন্যজায়গার তুলানয় এবং ৬০০০০ হুলওয়ালা উড়ুক্কু প্রাণীর পাহারার কারণে। যদিও সে পেন্টাগনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৭ম কমান্ড গ্রুপের মত চোরাই কম্পিউটার একাউন্টের পাসওয়ার্ড লুকানোর জন্য মৌচাকটা কেনে নাই, এটা এমনিতেই লুকাবার নিরাপদ জায়গা মনে হয়েছে।

সে সুপার বক্স, মানে যেখানে মৌচাকটা তৈরি হয়, তার খোলসটা পাল্টে রঙিন কাঁচের শিট বসিয়েছিল যাতে মৌমাছিদের কার্যকলাপ সে দেখতে পায়। গরমের দিনে, সে একটা উষ্ণতা নিরোধক গ্লাসের উপর দিয়ে লাগিয়ে দিত। সেই প্লাস্টিকের ঢাকনাগুলোর উচুঁ উঁচু কোণা ছিল এবং কাঁচের শিটের সঙ্গে সেগুলো লোহার আংটা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই জুড়ে দেওয়া যেত। মৌমাছির বাক্সোগুলোর এমন পরিবর্তন করার পর মেনড্যাক্স বুঝতে পারলো এবং চাকগুলো মধুর চেয়েও বেশীকিছু তাকে দিতে পারে। সে সাবধানতার সঙ্গে ডিস্কগুলোকে কাঁচ এবং উষ্ণতা নিরোধকের মাঝে ঢুকিয়ে দিল। ছোট্ট ছোট্ট ভাগে রাখলে সেগুলো দারুণভাবে এঁটে যেত।

মেনড্যাক্স মৌমাছিদের এমনভাবে প্রশিক্ষণও দিয়েছিল যেন প্রতিদিন ডিস্ক রাখা এবং বের করার সময় তারা যেন তাকে আক্রমণ না করে। সে তার বগলের ঘাম টিস্যুতে সংগ্রহ করত এবং তারপর সেই টিস্যুগুলোকে চিনি গোলানো পানিতে ডুবাতো। সেই ঘামওয়ালা নির্যাস সে মৌমাছিদের খেতে দিতো। মেনড্যাক্স চেয়েছিল মৌমাছিরা যেন তাকে তাদের আজন্ম শত্রু ভাল্লুক না মনে করে ফুল মনে করে।

কিন্তু এএফপি’র তল্লাসী চালানোর সন্ধ্যায় মেনড্যাক্স’র দুর্ধর্ষ সব ডিস্ক কম্পিউটার টেবিলের উপর একেবারে উদোম করে রাখা ছিল এবং অফিসাররা সরাসরি সেগুলোই নিতে গেল। কেন ডে এতোটা ভালো আলামত পাবার কথা চিন্তাও করেন নাই। ডিস্কগুলোতে চোরাই ব্যবহারকারীর তালিকা, এনক্রিপ্টেড পাসওয়ার্ড, ক্র্যাকড পাসওয়ার্ড, মডেম টেলিফোন নম্বর, বিভিন্ন কম্পিউটারের নিরাপত্তা ত্রুটি সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং যেসব কম্পিউটার সিস্টেমে মেনড্যাক্স অবৈধ উপায়ে ঢুকেছিল সেগুলো নিয়ে এএফপি’র নিজস্ব তদন্তের বিবরণে ঠাসা ছিল।

শুধু মৌচাকে লুকানো ডিস্কগুলো নিয়েই মেনড্যাক্স’র দুশ্চিন্তা ছিল না। সর্বশেষ যে কাজটি সে গতকাল করেছে সেটা তখনো স্ক্রিনেই রয়ে গেছে। এটা প্রায় ১৫০০ একাউন্টের একটা তালিকা, তাদের পাসওয়ার্ড, যেদিন মেনড্যাক্স সেগুলো পেয়েছে সেই দিন, তারিখ এবং প্রতিটার পাশে কিছু ছোট ছোট নোটও ছিল।

পুলিশ এবং টেলিকম প্রোটেক্টিভ সার্ভিসের দুজন অফিসার ঘরে ঢোকার সময় হ্যাকার দরজার এককোণে সড়ে গেল। তারা তার কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির ছবি তুললেন এবং ডিস্কগুলোকে একখানে জড়ো করলেন, তারপর গালিচাটা উঁচিয়ে ধরলেন যাতে মডেমে লাগানো টেলিফোনের তারটি ভিডিও করতে পারন। তারা প্রতিটা বই উল্টেপাল্টে দেখলেন, মেনড্যাক্স বইপোকা হওয়ায় সেটাও খুব একটা সহজ কাজ ছিল না, এবং প্রতিটা বই উল্টো করে লুকানো কম্পিউটার পাসওয়ার্ডের কোনো কাগজ পাওয়া যায় কিনা দেখলেন। হাতে লেখা প্রতিটা কাগজ তারা পরীক্ষা করে দেখলেন এবং তার প্রতিটা প্রেমপত্র, নোটখাতা এবং ব্যক্তিগত ডায়েরিতেও চোখ বুলিয়ে নিলেন। ‘কাজটা করতে যতো সময় লাগে লাগুক,’ একজন পুলিশ বললেন। ‘আমরা ওভারটাইমের জন্য পয়সা পাবো। এবং ঝুঁকি ভাতাও পাবো।’

পুলিশ এমনকি তার পুরোনো সায়েন্টিফিক আমেরিকান এবং নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনগুলোও উল্টেপাল্টে দেখলো। তারা হয়তো ভেবেছিলো সে কোনো শব্দের নিচে দাগ দিয়ে রেখেছে এবং সেটাকে কোনো এনক্রিপশন প্রোগ্রামের পাসফ্রেজ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তবে, একটা ম্যাগাজিন আছে যেটা পুলিশ সত্যিই খুঁজছিল: ইন্টারন্যাশনাল সাবভার্সিভ। তারা যতগুলো ইলেক্ট্রনিক জার্নালের সন্ধান পেয়েছিল সবগুলোরই প্রিন্ট আউট নিয়েছে।

মেনড্যাক্স তার যাবতীয় সম্পত্তি নিয়ে পুলিশের এমন কাড়াকাড়ি এবং কম্পিউটারের ঘরটা অগোছালো করা দেখতে দেখতেই, অ্যামিগাতে দখল আছে এমন একজন অফিসার আসলেন। তিনি এসেই মেনড্যাক্সকে তৎক্ষণাত ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হুকুম করলেন।

মেনড্যাক্স ঘর ছেড়ে বেরোতে চাচ্ছিল না। তাকে তো আটক করা হয়নি এবং সে নিশ্চিত হতে চায় পুলিশ কোনো কারসাজি করলো কিনা। কাজেই সে পুলিশটির দিকে তাকিয়ে বললো, ‘এটা আমার বাড়ি এবং আমি এই ঘরে থাকতে চাই। আমাকে আটক করা হয়েছে নাকি?’

পুলিশটি চোখমুখ খিঁচিয়ে খ্যাঁক করে বললো, ‘আটক হতে চাও নাকি?’

মেনড্যাক্স নীরবে মেনে নিলো এবং ডে, যিনি কিছুটা মার্জিত, সেই হ্যাকারকে অন্য একটা ঘরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল। তিনি মেনড্যাক্সের দিকে ঘুরে, একটা ব্যাঁকা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাহলে, ধরা খেয়ে কেমন লাগছে? নোম যেমনটা বলেছিল তেমন লাগছে কি?’

মেনড্যাক্স স্তব্ধ হয়ে গেল।

নোম যে মেনড্যাক্সকে তার ধরা খাওয়ার ঘটনা বলেছে সেটা ডে’র জানার মাত্র দুইটা উপায় থাকতে পারে। নোম নিজেই হয়তো তাকে বলেছে, কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা নয়। নোম’র হ্যাকিং মামলা এখনো আদালত অবধি যায়নি এবং নোম’র সাথে পুলিশের তেমন খাতিরও হয়নি। আরও একটা উপায় হতে পারে, এএফপি হয়তো মেনড্যাক্স’র গন্ডীর অন্যান্য হ্যাকারদের টেলিফোনে আড়ি পেতেছে, যেটা এতোদিন আইএস ত্রয়ী জোড়ালোভাবে সন্দেহ করে আসছিল। মেনড্যাক্স এবং ট্যাক্স’র সঙ্গে ত্রিমুখী ফোনালাপ করতে গিয়ে নোম তার ধরা খাওয়ার গল্প বলেছিল। মেনড্যাক্স পরবর্তীতে নোম’র কাহিনী প্রাইম সাসপেক্টকে ফোনে বলেছিল। শুধু সন্দেহ করা এক কথা। আর এএফপি’র উর্ধ্বতন একজন কর্মর্কতার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া আরেক কথা।

ডে একটা টেপ রেকর্ডার বের করলেন, টেবিলে রাখলেন, চালু করলেন এবং প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। মেনড্যাক্স যখন ডে-কে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালো, ডে তখন রেকর্ডারটা বন্ধ করে রাখলো। ‘তুমি চাইলে আমরা গোপনেও কথা বলতে পারি’ তিনি হ্যাকারকে বললেন।

মেনড্যাক্স প্রায় জোরে হেসেই ফেলেছিল। পুলিশ তো আর সাংবাদিক নয়। সন্দেহভাজন এবং পুলিশ অফিসারের মাঝে কোনো গোপন আলাপ হতে পারে না।

মেনড্যাক্স একজন আইনজীবির সঙ্গে কথা বলতে চাইলো। সে জানালো সে আলফালাইনে কল করতে চায়। এটি একটি দাতব্য আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠানের টেলফোন সার্ভিস। ডে রাজি হলেন, কিন্তু মেনড্যাক্সকে দেবার আগে পরীক্ষা করার জন্য যখন তিনি ফোনটা কানে ধরলেন তখন একটা খটকা লাগলো। ফোনটার একটা অস্বাভাবিক, মাঝামাঝি তীক্ষ্ণতার টোন বাজছিল যেটা ডে আগে কখনো শুনেছেন বলে মনে করতে পারলেন না। ঘরে টেলিকম’র দুজন কর্মকর্তা এবং অসংখ্য বিশেষজ্ঞ পুলিশ থাকার পরেও, ডে যেন এই হাস্যকর টোনের কারণ বের করার ক্ষমতা রাখেন না। তিনি মেনড্যাক্স’র দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কি হাইজ্যাক করা টেলিফোন লাইন?’

হাইজ্যাক করা? ডে’র এহেন মন্তব্যে মেনড্যাক্স বিস্মিত হয়ে গেল। ডে যে এটাকে হাইজ্যাক করা লাইন বলছে সে ব্যাপারে নয়, বরং, যে ব্যাপারটি তাকে সবচেয়ে বিস্মিত করলো তা হল, ডে জানেন না যে এই লাইনটাতেই কারসাজি করা হয়েছে।

সে ডে’র দিকে উপহাসের স্বরে বললো, ‘তা, তুমি জানোনা নাকি?’

পরবর্তী আধাঘন্টা সময়, ডে এবং অন্যান্য অফিসাররা মেনড্যাক্স’র টেলিফোন অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে, হ্যাকারটি তাতে কী কী গোপন কাজকর্ম করেছে সেগুলো উদঘাটনের চেষ্টা করল। তারা একগুচ্ছ কল করল শুধুমাত্র এটুকু নিশ্চিত হতে যে, লম্বা চুলের এই যুবকটি কোনোভাবে তার টেলিফোনটার সংযোগ অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেছে কিনা, যাতে কলগুলোর হদীস আর না পাওয়া যায়।

আসলে, মেনড্যাক্স’র টেলিফোনে এআরই-১১ টেলিফোন এক্সচেঞ্জের স্বাভাবিক ডায়াল টোনই ছিল। অন্যান্য এক্সচেঞ্জগুলো, যেমন এএক্সই এবং পর্যায়ক্রমিক এক্সচেঞ্জগুলোর চেয়ে এটা স্বভাবতই একটু আলাদা শুনতে ছিল।

শেষমেশ মেনড্যাক্সকে আলফালাইনের একজন আইনজীবিকে কল করতে দেওয়া হল। আইনজীবিটি সেই হ্যাকারকে মুখ না খোলার জন্য সতর্ক করে দিল। তিনি বললেন, যাকিছু হ্যাকারটি বলবে সেসবই হয়তো পুলিশ জবানবন্দী আকারে নিয়ে আদালতে পেশ করবে এবং আরও বললেন, পুলিশ তার এই ফোনে আড়িও পাততে পারে।

এরপর, ডে হ্যাকারের প্রতি একটু আলগা পিরিতি দেখাবার চেষ্টা করলেন। ‘শুধুমাত্র তোমার আর আমার মধ্যেইথাকবে, ঠিক আছে মেনড্যাক্স?’ তিনি বললেন।

নিশ্চুপ সময় কেটে গেল।

ডে আরও একটা কৌশল ফাঁদলেন। হ্যাকারদের ভয়াবহ ইগো থাকে – যেটা ডে নির্বিঘ্নে কাজে লাগাতে পারে।

‘তোমার হ্যান্ডেল ব্যবহার করে, এই কয়েক বছরে আরও অনেকেই অনেককিছু করেছে।’ তিনি বললেন।

মেনড্যাক্স বুঝতে পারলো ডে তাকে উল্টোপাল্টা বুঝাবার চেষ্টা করছে কিন্তু এই পর্যায়ে চলে আসায় সে সেটাকে বিশেষ পাত্তা দিলো না। সে মনে মনে হিসাব করলো যে পুলিশ ইতিমধ্যেই তার হ্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত এমন অনেক বিষয়ের সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছে, কাজেই সে বিষয়টি স্বীকার করে নিলো।

ডে আরও কিছু চমকপ্রদ প্রশ্ন তাঁর ঝাঁপি থেকে বের করতে লাগলো।

‘তাহলে, মেনড্যাক্স, শোবার ঘরের ওই সাদা পাউডারগুলো দিয়ে তুমি কী করো?’

মেনড্যাক্স বাস্তবিকই শোবার ঘরের কোনো সাদা পাউডারের কথা মনে করতে পারছিল না। সে তো নেশা করে না, তাহলে সাদা পাউডার এলো কোত্থেকে? সে দেখলো দুজন পুলিশ অফিসার ঘর থেকে বড় বড় দুটি টুলবক্স বের করে আনছে — দেখে মনে হলো মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ যন্ত্র। হায় যীশু, মেনড্যাক্স প্রমাদ গুনলো। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

পুলিশেরা হ্যাকারটিকে শোবার ঘরে নিয়ে নিয়ে গিয়ে বেঞ্চের উপরে রাখা দুটো সাদা পাউডারের লাইনের দিকে নির্দেশ করলো।

মেনড্যাক্স স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হেসে উঠলো। ‘আপনারা যা ভাবছেন এটা তা নয়,’ সে বললো। এই সাদা পাউডার হল অন্ধকারে জ্বলে এমন আঠা যেটা সে তার বাচ্চার ঘরের ছাদে তারা আঁকার জন্য ব্যবহার করেছিল।

দুজন পুলিশ একে অপরের দিকে চেয়ে হাসতে লাগলো। মেনড্যাক্স বুঝতে পারলো তারা মনে মনে কী ভাবছে: প্রত্যেক মাদকসেবীই এইরকম গল্প ফেঁদে থাকে।

একজন আরেকজনের দিকে হাসতে হাসতে বললো, ‘স্বাদ পরীক্ষা!’

মেনড্যাক্স বললো, ‘এটা কোনো কাজের কথা নয়’ কিন্তু তার প্রতিবাদে সংকট কেবল আরও ঘনীভূতই হল। পুলিশ তাকে অন্যঘরে টেনে নিয়ে গেল এবং ফিরে এসে নিজেরাই ওই পাউডার পরীক্ষা করতে শুরু করলো।