এর একটু পরই লিজি ঘেউ করে উঠলো।

প্রাইম সাসপেক্ট’র মা বলে উঠলেন, ‘এতো দ্রুত ঘরে ফিরলে যে? পার্টিতে মজা হয়নি?’

কেউ উত্তর দিলো না।

তিনি বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তখনো কোনো উত্তর না আসায়, তার মনে ভয় হলো পাশের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে কিনা। ধস্তাধস্তির শব্দও আসছে।

ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলায় কোনো এক লোকের কণ্ঠ দরজার বাইরে থেকে আসছে। ‘ম্যাম। দরজা খুলুন।’

তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সদর দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন।

‘দরজা খুলুন। পুলিশ।’

‘আপনারা যে সত্যিই পুলিশ তা কীভাবে বুঝব?’

‘আপনি যদি দরজা না খোলে, তাহলে আমরা ভেঙে ঢুকব!’ একটা ক্রুদ্ধ গলা দরজার ওপাশ থেকে চিৎকার করে জানালো।

প্রাইম সাসপেক্ট’র মা পাশের জানালায় কিছু একটা ঠেস দিয়ে রাখা দেখতে পেলেন। তার চোখে পড়ার চশমাটা ছিল না, কিন্তু মনে হল একটা পুলিশ ব্যাজ। ভয়ে ভয়ে, তিনি দরজাটা সামান্য একটু খুললেন এবং বাইরে তাকালেন।

আট থেকে নয়জন লোক দাঁড়িয়ে। তাদেরকে থামানোর আগেই, তারা তাকে ঠেলে. হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়লো।

একজন মহিলা অফিসার একটা কাগজের টুকরা শুন্যে নাড়তে লাগলেন। ‘এটা দেখুন!’ তিনি ক্রুদ্ধস্বরে বললেন, ‘এটা একটা গ্রেপ্তার পরোয়ানা! পড়তে পারছেন?’

‘না, আসলে পারছি না। আমার পড়ার চশমাটা নেই,’ প্রাইম সাসপেক্ট’র মা সংক্ষেপে বললেন।

তিনি পুলিশকে বললেন যে তিনি একটা ফোন করতে চান এবং তার পারিবারিক উকিলকে কল কা চেষ্টা করলেন, কিন্তু কাজ হলো না। তিনি একটা শেষকৃত্যে গিয়েছিলেন এবং তাকে এখন ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। যখন তিনি দ্বিতীয়বার ফোন করতে গেলেন, একজন অফিসার বেশী ফোন করার জন্য তাকে বকতে লাগলেন।

‘আপনি একদম চুক করুন,’ সেই অফিসারের দিকে আঙ্গুল তুলে তিনি বললেন। তারপর তিনি আরও একটা ব্যর্থ ফোন করলেন।

প্রাইম সাসপেক্ট’র মা পুলিশ অফিসারদের দিকে দেখলেন, মনে মনে গুণলেন। এটা তার বাড়ি। তিনি হয়তো এই পুলিশদের তার পুত্রের ঘরও চিনিয়ে দেবেন, যেমনটা তারা বলেছে সেইমত, কিন্তু তিনি কিছুতেই পুরো বাড়িটা তাদের দখলে চলে যেতে দিবেন না। সেইমত তিনি কড়া করে পুলিশকে বলে দিলেন কোথায় তারা যেতে পারবে এবং কোথায় যেতে পারবে না, তিনি ভাবলেন, তোমাদের কোনো বাজে প্রলাপ শুনতে আমি রাজি নই।

‘আপনার ছেলে কোথায়?’ একজন অফিসার জিজ্ঞেস করলেন।

‘পার্টিতে গেছে।’

‘সেটার ঠিকানা দিন?’

 তিনি সতর্ক দৃষ্টিতে একবার চেয়ে দেখলেন। এই অফিসারদের তার একেবারেই পছন্দ হয়নি। তবে, তারা যে তার পুত্র না ফেরা পর্যন্ত এখানেই অপেক্ষা করতে থাকবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই, এই ভেবে তিনি ঠিকানাটা বলে দিলেন।

যখন পুলিশ দলবেঁধে প্রাইম সাসপেক্ট’র ঘরে ঢুকল, তার কাগজপত্র, কম্পিউটার, মডেম এবং অন্যান্য জিনিসপত্র জড়ো করতে লাগলো, তার মা তখন দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন যাতে সেখান থেকে তাদের উপর নজর রাখতে পারেন।

কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়লো। একজন এএফপি অফিসার এবং প্রাইম সাসপেক্ট’র মা দুজনেই তাতে সাড়া দিতে এগিয়ে গেলেন।

পুলিশ, স্টেট পুলিশ।

পাশের বাড়ির প্রতিবেশীরা হট্টগোল শুনতে পেয়েছিলেন। তারা যখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন, দেখলেন একদল অচেনা লোক সাধারণ পোশাকে নির্লজ্জভাবে বিধবার বাড়ি থেকে জিনিসপত্র বের করে আনছে যেন তারাই জায়গাটার মালিক। কাজেই প্রতিবেশীরা তাই করলেন যা কোনো দায়িত্বশীল লোক এমন পরিস্থিতিতে করে তাকে। তারা পুলিশে খবর দিলেন।

এএফপি অফিসারেরা  ভিক্টোরিয়া পুলিশকে ফেরত পাঠিয়ে দিলো। তারপর তাদের কয়েকজন একটা সাদা গাড়িতে ভারমন্টের পার্টির উদ্দেশ্যে রওনা হল। প্রাইম সাসপেক্টকে বন্ধুদের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে, তার মা তাকে কল দিলেন এবং বাইরে দাঁড়িয়ে এএফপি’র জন অপেক্ষা করতে বললেন।

প্রাইম সাসপেক্ট ফোন রাখতে রাখতেই প্রচুর পরিমাণ এলকোহলের প্রভাব ঝেড়ে ফেলে দিতে চেষ্টা করলো। পুলিশ যখন বাইরে এসে দাঁড়াল, পার্টি তখন পুরোদমে চলছে। প্রাইম সাসপেক্ট ছিল পুরো মাতাল, কিন্তু এএফপি অফিসারেরা যখন নিজেদের পরিচয় দিলো এবং তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল তখন তাকে দ্রুত সামলে উঠতে দেখা গেল।

‘তো,’ বাড়িতে যেতে যেতে একজন অফিসার তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘কি নিয়ে তোমার এতো চিন্তা হচ্ছে? তোমার ডিস্কগুলোতে কী ছিলো অথবা ডেস্ক ড্রয়ারে কী ছিল, সেসব?’

প্রাইম সাসপেক্ট যথাসাধ্য চেষ্টা করলো সবকিছু ভাবার। ডেস্কের ড্রয়ারে কী ছিল? খাইছে! মাদত। সে খুব একটা ধূমপান করতো না, মাঝে মাঝে মজা করে, কিন্তু একটা পার্টিতে বেঁচে যাওয়া  সামান্য কিছু গাঁজা তার কাছে ছিল।

সে উত্তর দিলো না। সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো এবং চেষ্টা করতে লাগলো ঘাবড়ানো চেহারা না দেখাতে।

বাড়িতে, পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করলো সে জিজ্ঞাসাবাদে রাজি আছে কিনা।

‘আমার মনে হয় না। আমি এই মুহূর্তে একটু…অসুস্থ বোধ করছি।’ সে জানালো। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ বেশ কঠিন হবে। মাতাল অবস্থায় সেটা করলে শুধুই বিপদই হবে।

পুলিশ তার হ্যাকিঙে সর্বশেষ যন্ত্রটিও নিয়ে গেলে, প্রাইম সাসপেক্ট আনুষ্ঠানিক জব্দতালিকায় সই করলো এবং রাতের অন্ধকারে তাদের মিশে যাওয়া দেখলো।

শোবার ঘরে ফিরে, সে বসে পড়লো, বিধ্বস্ত এবং চেষ্টা করলো তার চিন্তাকে কেন্দ্রীভূত করতে। তারপর তার মাদকের কথা মনে পড়লো। সে তার ডেস্কের ড্রয়ার খুললো। ওগুলো তখনো ওখানেই ছিল। মজার জিনিস, এইসব পুলিশের লোকজন।

তারপর আবার, হয়তো এবার সে বুঝলো। তারা এতো অল্প মাদক নিয়ে মাথাঘামাবে কেন যেটা কিনা কাগজেকলমে উল্লেখ করার মতোও নয়? তার ঘাবড়ে যাওয়া চেহারা পুলিশের কাছে নিশ্চয়ই হাস্যকর লেগেছিল। তারা হ্যাকিং সংক্রান্ত যথেষ্ট আলামত সংগ্রহ করেছে যেটা দিয়ে তাকে বছরের পর বছর আটকে রাখা যাবে, অবশ্য তা নির্ভর করছে বিচারকের উপর, আর, এখন কিনা সে সামান্য এতোটুকু গাঁজা নিয়ে ভয়ে মরছে ধরা পড়লে যার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়তো ১০০ ডলার জরিমানা।

বসন্তের শেষ সময়ে রাতের হাওয়া যখন ঠান্ডা হতে শুরু করেছে, তখন প্রাইম সাসপেক্ট ভাবতে বসলো এএফপি মেনড্যাক্স এবং ট্র্যাক্সের বাড়িতেও তল্লাসি করলো কিনা।

পার্টিতে পুলিশ আসার আগেই, সে মেনড্যাক্সকে ফোন করার চেষ্টা করেছিল। তার মায়ের ভাষ্যমতে যখন সে কল করছে, তখন মনে হচ্ছিল যেন পুরো ফেডারাল পুলিশ ফোর্স যেন সেই মুহূর্তে তার বাড়িতেই বসে ছিল। যার একমাত্র মানে হল অন্যান্য আইএস হ্যাকাররাও একইসাথে ধরা খেতে পারে। যদি না তাকেই সর্বশেষ ধরা হয়ে থাকে, মেনড্যাক্স বা ট্র্যাক্স’র কেউই হয়তো জানতে পারবে না কী ঘটেছে।

উঠয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের অপেক্ষা করতে করতে, পুরো মাতাল প্রাইম সাসপেক্ট মেনড্যাক্সকে আবারো ফোন করার চেষ্টা করলো। আবার চেষ্টা করলো। আবার। ব্যস্ত সিগনালের কর্কশ শব্দ প্রাইম সাসপেক্টকে আরও ঘাবড়ে দিলো।

যোগাযোগের কোনো রাস্তা নাই, তাকে সতর্ক করারও কোনো উপায় নাই।

 প্রাইম সাসপেক্ট ভাবতে লাগলো পুলিশ সত্যি সত্যিই মেনড্যাক্সের বাড়িতে গিয়েছে কিনা এবং গেলেও সে পালাতে পেরেছে কিনা, তার ফোন কলেও হয়তো কোনো পার্থক্য হতো না।

[  ]

বাড়ির চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়েছে। মেনড্যাক্সের স্ত্রীই তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে, বেরিয়ে যাবার সময়। অর্ধেক আসবাবপত্র হাওয়া, এবং বাকিগুলো অগোছালো। ড্রেসার ড্রয়ারগুলো হাঁ করে খোলা, ভিতরকাল সব মালপত্র গায়েব, এবং জামাকাপড় ঘরময় ছড়ানো।

তার বউ যখন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেছে তখন সে শুধুমাত্র তার হৃষ্টপুষ্ট বাচ্চাটিকেই নেয়নি। সে আরও কিছু জিনিস নিয়েছে যেগুলো মেনড্যাক্স’র খুবই আবেগের জিনিস। যখন সে মাত্র কয়েকমাস আগে তার বিশতম জন্মদিনে দেওয়া সিডি প্লেয়ারটিও নিয়ে যেতে চাচ্ছিল, তখন সে তার তাকে তার চুলের এক গোছা রেখে যাবার অনুরোধ করেছিল। সে তখনও বিশ্বাস করতে পারছিল না যে তার তিন বছরের বিবাহিত স্ত্রী সব গুছিয়ে তাকে ফেলে চলে যাচ্ছে।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহটি মেনড্যাক্স’র খুব খারাপ কেটেছে। ভগ্নহৃদয়ে, সে বিরাট বিষন্নতায় পড়ে গিয়েছে। কয়েকদিন হলো সে ঠিকমতো খায়নি, ঘুমের মধ্যে এপাশ-ওপাশ করেছে এবং কম্পিউটার চালাবার সমস্ত স্পৃহা হারিয়ে ফেলেছে। তার মহামূল্যবান হ্যাকিং ডিস্ক, যেগুলো দুর্ধর্ষ সব কম্পিউটার একসেস কোডে ভর্তি, সবই সাধারণত একটা নিরাপদ জায়গায় লুকানো থাকত। কিন্তু, ১৯৯১ সালের ২৯ অক্টোবর, তেরোটি ডিস্ক তার ৭০০ ডলার দামের এ্যামিগা ৫০০ এর আশেপাশেই ফেলে রাখা ছিল। চৌদ্দতম ডিস্কটি ছিল কম্পিউটারের ডিস্ক ড্রাইভের ভিতরে।

মেনড্যাক্স কাউচে শুয় সোলেদাদ ব্রাদার পড়ছিল, আমেরিকার নিকৃষ্টতম কারাগারে জর্জ জ্যাকসন’র নয় বছরের রোজনামচা। সামান্য অপরাধে শাস্তি পেয়ে, জ্যাকসনের অল্প কিছুদিনের সাজা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু গভর্নরের ইচ্ছায় তাকে অহেতুক জেলে আটকে রাখা হয়। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা তাকে আশা-নিরাশার দোলাচালে এবং কর্তৃপক্ষের পায়ের তলে হতাশায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে, কারারক্ষীরা জ্যাকসনে গুলি করে মেরে ফেলে। এটা মেনড্যাক্স’র অন্যতম প্রিয় বই এটা, কিন্তু তাতেও তার মন খারাপের কোনো হেরফের হয়নি।

নষ্ট টেলিফোনের ব্যস্ত সিগনালের গমগম শব্দে ঘর ভরে উঠেছিল। মেনড্যাক্স তার স্টেরিও স্পিকারগুলো মডেম এবং কম্পিউটারে লাগিয়ে দিল, এতে দারুণভাবে একটা স্পিকারপোন হয়ে যায় যাতে সে তার কম্পিউটার থেকে টেলিফোনে পাঠানো শব্দ এবং এক্সচেঞ্জ থেকে উত্তর হিসেবে আসা শব্দগুলো শুনতে পায়। ট্র্যাক্স’র এমএফসি ফ্রিকিং পদ্ধতি চালানোর জন্য একটা দারুণ ব্যবস্থা।

মেনড্যাক্স এই সিস্টেম দিয়ে স্ক্যানিঙের কাজও করতো। বেশীরভাগ সময়ই, সে মেলবোর্ন সিবিডি এর টেলিফোন প্রিফিক্স বেছে নিতো। যখন তার মডেম অন্য আরেকটি মডেমে পৌঁছাত, মেনড্যাক্স তখন দৌড়ে কম্পিউটারের কাছে যেত এবং ভবিষ্যতে হ্যাকিং অভিযানের জন্য টেলিফোন নম্বরটি লিখে রেখে দিতো।

এই যন্ত্রটিই ঠিকঠাক করে, সে সেটাকে ফ্রিকারদের ব্ল্যাক বক্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারতো। সেই বাক্সো টেলিফোন এক্সচেঞ্জকে ধোঁকা দিয়ে মনে করতে বাধ্য করতো যে সে তার ফোন তোলেনি, এভাবেই মেডড্যাক্স’র বন্ধুরা তাকে ৯০ সেকেণ্ডের বিনামূল্য কল করতে পারতো।

সেই রাত্রে, অবশ্য, মেনড্যাক্স শুধুমাত্র একটা বার্তাই পাঠাতে চাইছিল। সেটি হল, সে একা থাকতে চায়। সে কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে কল করেনি। পরিত্যক্ত ফোন টাইম-আউট হয়ে বিপ বিপ করছিল, তাতে ছিল না কোনো রিমোট মডেম সংযোগ।

যে লোক তার বাল্যকালের বেশীরভাগ সময় টেলিফোন লাইন এবং কম্পিউটার দিয়ে বাইরের দুনিয়ায় সংযুক্ত হবার চেষ্টা করে কাটিয়ে দিয়েছে, সেই লোকের পক্ষে এমন ব্যবহার আশ্চর্যই বটে, কিন্তু মেনড্যাক্স সারাদিন শুধু হুক থেকে তুলে রাখা ফোনের ঘরময় ছড়ানো সম্মোহক শব্দই শুনেছে। বিইইইপ। থামা। বিইইইপ। থামা। অবিরাম।

দরজায় একটা কড়া আঘাত ফোনের ছন্দপতন করে দিল।

সদর দরজার জমাটবাঁধা কাঁচের শার্সি দিয়ে একটা ছায়াকৃতির কিছু একটা দেখে মেনড্যাক্স বই থেকে চোখ তুলে তাকালো। অবয়বটি যথেষ্ট ছোট। দেখতে যেন অনেকটাই র‍্যাটফেস’র মত, মেনড্যাক্স’র স্ত্রী’র স্কুলের এক পুরানো বন্ধু এবং একটা চরিত্র যে তার চারপাশ নিয়ে কৌতুক করার জন্য বিখ্যাত।

মেনড্যাক্স সোফা থেকে না উঠেই হাঁকলো, ‘কে ওখানে?’

‘পুলিশ। দরজা খুলুন।’

হ্যাঁ, অবশ্যই। রাত ১১:৩০ এ? মেনড্যাক্স চোখ কচলাতে কচলাতে দরজার দিকে এগোলো। সবাই জানে পুলিশ শুধুমাত্র ভোরবেলাতে তল্লাসী করে, যখন তারা জানতে পারে যে কেউ ঘুমাচ্ছে বা বেকায়দায় আছে।

পুলিশের তল্লাসীর দুঃস্বপ্ন মেনড্যাক্স’র বহুদিনের। সে স্বপ্নে দেখতো গাড়িবারান্দার নুড়ির উপর পায়ের শব্দ, ভোর হবার মুহূর্তের অন্ধকারে ছায়ার অবয়ব, সশস্ত্র পুলিশ স্কোয়াড তার ঘরের পেছনদরজা ভেঙে ভোর ৫টার সময় ঢুকছে। সে স্বপ্নে দেখতো গভীর ঘুম থেকে জেগে সে আবিষ্কার করছে তার বিছানার চারপাশে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার ঘিরে রয়েছে। এইসব স্বপ্ন তাকে খুবই ভোগাতো। স্বপ্নে সে বিড়বিড় করে পুলিশ তাকে দেখছে, নজরে রাখছে এইসবও বলতো।

স্বপ্ন এতোই সত্যি হয়ে উঠতো যে মেনড্যাক্স মাঝেমাঝেই ভোর হবার আগ মুহূর্তে উত্তেজিত বোধ করতো। সারারাত জেগে হ্যাক করার রাতগুলো শেষের পথে এলেই, সে চিন্তাবোধ করতো, ভয় পেয়ে যেত। হ্যাকিং করে পাওয়া চোরাই কম্পিউটার ফাইলে ভর্তি কম্পিউটার ডিস্কগুলো গোপন জায়গায় ঠিকঠাক লুকিয়ে না ফেলা পর্যন্ত সে শান্ত হতে পারতো না।