অধ্যায় ৯ — অপারেশন ওয়েদার

The world is crashing down on me tonight

The walls are closing in on me tonight

— from ‘Outbreak of Love’ on Earth and Sun and Moon by Midnight Oil

এএফপি হতাশ। অস্ট্রেলিয়া কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেশকিছু বিদেশী সাইটে আক্রমণ করার জন্য হ্যাকাররা রয়াল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আরএমআইটি) কে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।

তাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার পরেও, এএফপি’র সাউদার্ন রেজিওন কম্পিউটার ক্রাইমস ইউনিটের গোয়েন্দারা বের করতে পারেনি এইসব আক্রমণের পেছনে কারা রয়েছে। তাদের সন্দেহ এসব মেলবোর্ন-ভিত্তিক ছোট্ট একটা হ্যাকার দলের কারসাজি যারা একসাথে কাজ করে। তবে, আরএমআইটি তে হ্যাকারদের এতোই বেশী দৌরাত্ম যে নিশ্চিত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব। হতে পারে একটামাত্র সুসংগঠিত দল বা একাধিক। আবার হতে পারে একটা ছোট দল আর সাথে আলাদা কিছু মানুষও ইচ্ছাকৃতভাবে জলঘোলা করার জন্য এসব করছে।

তবুও, এটা একটা সোজাসাপ্টা অভিযানই হওয়া উচিত ছিল। এএফপি চাইলেই এই ধরণের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থেকেও হ্যাকারদের অনুসন্ধান করতে পারতো। টেলিকমকে দিয়ে আরএমআইটি’র সবকয়টা মডেমে আসা সংযোগে সর্বশেষ কলদাতার পরিচয় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করাই যেত। তারপর হ্যাকারের লগঅন করার অপেক্ষা, তারপর যে মডেমটা সে ব্যবহার করছে সেটাকে আলাদা করে ফেলা। মডেম লাইনে আড়িপাতা এবং টেলিকমের ওই লাইনের হদীস খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

তবে,  আরএমআইতে এরকম কিছুই করা সম্ভব হচ্ছিল না। সংযোগ অনুসন্ধান বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল, এবং সেটাও হঠাৎ হঠাৎ নয়। সব সময়।

যখনই আরএমআইটি’র লোকজন হ্যাকারদের অন-লাইনে দেখত, তারা সংযোগটা চিহ্নিত করে ফেলত এবং টেলিকম সেই সংযোগের উৎস অনুসন্ধানে লেগে পড়তো। পথিমধ্যে, অনুসন্ধান ভেস্তে যেত। ব্যাপারটা এমন যেন হ্যাকাররা আগে থেকেই জানতো অনুসন্ধান করা হচ্ছে…প্রায়ই মনে হতো যেন এএফপি’র তদন্ত নস্যাৎ করতে তারা যেন পুরো টেলিফোন সিস্টেমেই গন্ডগোল লাগিয়ে দিতো।

নতুন প্রজন্মের হ্যাকারদের মনে হয় যেন নতুন কারিগরি দক্ষতা হয়েছে যেটা এএফপি’র গোয়েন্দাদের বারবার ব্যর্থ করে দিচ্ছে। তারপর, ১৩ অক্টোবর ১৯৯০ সালের একদিন এএফপির দিন এলো। সম্ভবত হ্যাকাররা ওইদিন অসতর্ক ছিল, বা হয়তো গায়েবী ফ্রিকিং করতে তাদেরই কোনো কারিগরি সমস্যা চলছিল। প্রাইম সাসপেক্ট তার বাসা থেকে ট্র্যাক্স’র গায়েবী ফ্রিকিং পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারতো না কারণ তার সংযোগ একগুচ্ছ এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করত, এবং কখনো কখনো ট্র্যাক্স নিজেও ওই পদ্ধতিটা ব্যবহার করতো না। কারণ যেটাই হোক, টেলিকম সেদিন আরএমআইটি থেকে দুটি সংযোগ অনুসন্ধান করতে পেরেছিল এবং এএফপি দুটি ঠিকানা এবং দুটি নাম পেয়েছিল। প্রাইম সাসপেক্ট এবং ট্র্যাক্স।

‘হ্যালো, প্রাইম সাসপেক্ট।’

‘হেই, মেনড্যাক্স। কাজকর্ম কেমন চলছে?’

‘ভালো। তুমি কি আরএমআইটি’র মেইল দেখেছ? সেই জিওফ হাস্টন’র মেইলবক্স?’ কথা বলতে বলতে মেনড্যাক্স হেঁটে গিয়ে জানালা খুলে দিল। ১৯৯১ সালে এপ্রিল, এবং আবহওয়ায় অকারণে অত্যধিক উষ্ণ।

‘দেখেছি। বেশ অদ্ভুত। আরএমআইটি দেখে মনে হল তারা শেষমেশ লাইন অনুসন্ধানের কাজ থেকে রেহাই পেয়েছে।’

‘আরএমআইটি নিশ্চয়ই পরিত্রাণ চায়,’ সহমর্মিতার সুরে মেনড্যাক্স বললো।

‘হ্যাঁ। মনে হচ্ছে আরএমআইটি’র লোকজন তাদের কম্পিউটারগুলোতে মি. ডে’র লাইন অনুসন্ধানের কাজ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। ’

‘হ্যাহ। আরএমআইটি’র ওই এডমিন বেশ ছিল, আরনেট এবং এএফপি’র মাঝে যে তদারকি করতো। আমার মনে হয় জিওফ হাস্টন তাকে নিশ্চয়ই খাটিয়ে মেরেছে।’

’বাজি ধরে বলতে পারি।’ প্রাইম সাসপেক্ট একটু দম নিয়ে বললো। ‘তুমি কি মনে করো পুলিশ এমনি এমনিই সংযোগ অনুসন্ধান করা ছেড়ে দিয়েছে?’

‘সেরকমই তো মনে হচ্ছে। মানে আরএমআইটি-ই হয়তো তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ছাড়া তো পুলিশের করণীয় নাই তেমনকিছু। চিঠিটা পড়ে মনে হল তারা তাদের সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেই বেশী আগ্রহী। একটু ধরো। আমার কাছেই আছে ওটা।’

মেনড্যাক্স তার কম্পিউটারে একটা চিঠি খুলরো এবং তার শেষের দিকে গেল।

From aarnet-contacts-request@jatz.aarnet.edu.au Tue May 28 09:32:32 1991

Received: by jatz.aarnet.edu.au id AA07461

(5.65+/IDA-1.3.5 for pte900); Tue, 28 May 91 09:31:59 +1000

Received: from possum.ecg.rmit.OZ.AU by jatz.aarnet.edu.au with SMTP
id AA07457

(5.65+/IDA-1.3.5 for /usr/lib/sendmail -oi -faarnet-contacts-request
aarnet-contacts-recipients); Tue, 28 May 91 09:31:57 +1000

Received: by possum.ecg.rmit.OZ.AU for aarnet-contacts@aarnet.edu.au)

Date: Tue, 28 May 91 09:32:08 +1000

From: rcoay@possum.ecg.rmit.OZ.AU (Alan Young)

Message-Id: <9105272332.29621@possum.ecg.rmit.OZ.AU>

To: aarnet-contacts@aarnet.edu.au

বিষয়বস্তু: প্রত্তুত্তর: হ্যাকার

অবস্থা: আরও

কেউই হয়তো দ্বিমত করতে না যে ‘হ্যাকিং’ খুবই খারাপ কাজ এবং একে রুখতে হবে, বা কমাতে হবে। গত ছয় বা আট মাসে এই ধরণের লোকদের ধরার ব্যাপারে বেশ কয়েকটি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি:

১. এর জন্য যে ব্যয় তা বেশ উল্লেখযোগ্য, কমনওয়েলথ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে আমাদের একটি সিএও কার্যক্রম পুরোদমে চলছে প্রায় তিন মাস হল।

২. আমাদের কর্মকর্তাদের নিয়ে কোনো সমালোচনা না হওয়ায়, মানুষ তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলে, পশ্চাৎধাবনই পুরো বিষয়টার প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩. হ্যাকারদের পাকড়াও করা (এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা) প্রায় অসম্ভব, এরজন্য আক্ষরিক অর্থেই তাদের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করতে হবে এবং অবৈধ মেশিনে লগঅন থাকা অবস্থায় হাতেনাতে তাদেরকে ধরতে হবে।

৪. যদি তাদের ধরা এবং অভিযোগও দায়ের করা যায়, তবুও মামলা চালাবার ব্যয়ও বিরাট, এবং ফল পেতে হলে সেসবও নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে ধরতে এবং বিচার করতেও নিশ্চয়ই একটা ন্যূনতম ব্যয় আছে?

৫. এর সঙ্গে জড়িতদের এসব কাজ অব্যাহত রাখতে হলে অনেক দরজা খোলা রাখতে হবে, এতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্যদের সাইটও উদোম হয়ে যাবে এবং এতে আমাদের কিছু সমালোচনাও সহ্য করতে হবে। 

পুরো বিষয়টিই অত্যন্ত জটিল, এবং কিছু ক্ষেত্রে আশার চেয়েও কম সাফল্য মিলবে। স্বাধীনতা এবং অপব্যবহার রোধকল্পের মাঝে একটা সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যেটা একটা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এলান ইয়ং

আরএমআইটি

‘আচ্ছা, আমি বলতে চাচ্ছি, এই আরএমআইটি’র লোকটি মূলত বলতে চাইছে যে তারা আমাদের এখন ধরতে যাচ্ছে না, তাহলে এতো সময় এবং পয়সা খরচ করছে কেন?’

‘তাইতো। পুলিশ অন্তত তিনমাস ধরে সেখানে পড়ে আছে,’ প্রাইম সাসপেক্ট বলল। ‘যদিও শুনে মনে হল  যেন নয়মাস।’

‘হুম। আচ্ছা, আমরা অবশ্য এখনো তেমন কিছুই জানতে পারিনি।’

‘সবগুলো একাউন্ট সবসময় উদোম করে রাখাটা সন্দেহজনক। এতেই আমার সন্দেহ হয়, যদিও আমরা সেরকম কোনো মেইল পাইনি।’

‘একদম,’ মেনড্যাক্স একমত হল। ‘আরএমআইটিতে আরও অনেক হ্যাকার ঢোকে। তারাও যদি বুঝতো।’

‘হুমম। এখনই যদি তারা সতর্ক না হয় তাহলে ধরা খেয়ে যাবে।’

‘এ্যাঁ?’ প্রাইম সাসপেক্ট জিজ্ঞেস করলো।

‘বেশ, যদি তারা বুঝতোই, তাহলে তারা ওই একাউন্টগুলো উদোম করে রেখে যেতো? আরএমআইটি কেন এটার পেছনে সবসময় লোকজন রেখে দিয়েছে?’

‘কিছুই বুঝতে পারছি না।’

‘না,’ মেনড্যাক্স বললো। ‘আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে আরএমআইটি তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে।’

‘হ্যাঁ, আমিই তাদের বলেছি, “তোমাদের খেলা শেষ, বাচ্চারা। কাউকে তো ধরতে পারলা না। এখন ব্যাগপত্র গুটাও”।’

‘ঠিক।’ মেনড্যাক্স একটু বিরতি দিল। ‘নরটেল সম্পর্কেও যথেষ্ট জানিনা।’

‘উমম, হ্যাঁ,’ প্রাইম সাসপেক্ট বললো। তারপর, যেমনটা হয়, কথায় ধীরে ধীরে ছেদ পড়তে শুরু করলো।

অবশেষে মেনড্যাক্স বললো, ‘বলার মতো আর কিছু পাচ্ছি না…।’ তারা প্রাইম সাসপেক্ট’র এতোই ভালো বন্ধু যে তার অস্পষ্ট কথাও বুঝে নিলো।

‘হুম।’

আরও বেশী নিঃস্তব্ধতা নেমে এলো।

মেনড্যাক্স ভাবছিল কারও সাথে এতো ভালো বন্ধুত্ব হওয়া কতো দারুণ একটা ব্যাপার, এতো কাছ থেকে যার সাথে মেশা, তবুও কথা ফুরিয়ে যায় বারবার।

‘আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি বরং যাই। কিছু কাজ আছে,’ মেনড্যাক্স বন্ধুত্বের সুরে বললো।

‘আচ্ছা, ঠিক আছে। বিদায় মেনড্যাক্স,’ প্রাইম সাসপেক্ট খুশীমনে বললো।

মেনড্যাক্স ফোন রেখে দিল।

প্রাইম সাসপেক্ট ফোন রেখে দিল।

এবং এএফপি ফোনে কান পেতেই রইলো।

১৯৯০ সালে শুরু হওয়া প্রাথমিক অনুসন্ধান চলাকালীন বারো মাস, এএফপি আরএমআইটি’র ডায়াল-আপ লাইনগুলোকে চোখে চোখে রাখছিল। লাইন অনুসন্ধান বার বার ব্যর্থ হয়ে যেত। কিন্তু হ্যাকারদের আক্রমণের নতুন নতুন সংবাদ বেরোতেই থাকলে, বিভিন্ন আক্রমণের আপাত একটা ধরণ ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। সেই খন্ডচিত্রগুলোকে জোড়া লাগিয়ে গোয়ান্দারা তাদের শিকারের একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করতে চেয়েছিল।

১৯৯০ এবং ১৯৯১ সালে, আরএমআইটি ডায়াল-আপ এবং কম্পিউটারগুলো হ্যাকারদের আনাগোনায় ভরে থাকত, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সিস্টেমগুলোকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো – এমন একটা জায়গা যেখানে তারা ফাইল জমা করে রাখতো, পরবর্তী আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো। তারা প্রায় প্রকাশ্যেই সিস্টেমে ঘুরে বেড়াতো, মাঝে মাঝে আরএমআইটিকে অন-লাইনে কথাবার্তা বলার জায়গা হিসেবেও ব্যবহার করতো। এই প্রতিষ্ঠানটি একটা মোক্ষম ঘাঁটি হিসেবে সেবা দিয়ে যেত। শুধুমাত্র একটা স্থানীয় ফোনকলের পয়সায়, এতে তাজা ইন্টারনেট সংযোগ মিলতো, সাথে মিলতো বেশিকিছু শক্তিশালী কম্পিউটার আর দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা। হ্যাকারদের স্বর্গরাজ্য।

পুলিশ এসব জানতো, এবং তারাই কম্পিউটার কর্মীদের যাবতীয় নিরাপত্তা ত্রুটি খোলা রাখতে বলেছিল যাতে তারা হ্যাকারদের কার্যকলাপ নজরে রাখতে পারে। আরএমআইটি’র ভেতরে ডজনখানে বা তারও বেশী হ্যাকারদের মাঝে একটামাত্র সংযোগে এক, দুই বা তিনটি সংঘবন্ধ দলের কোনটি কোন ভয়ংকর আক্রমণের জন্য দায়ী তা  আলাদা করা চাট্টিখানি কথা নয়।

তবে, ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে, আরএমআইটি কর্মীদের মাঝে তাদের কম্পিউটারকে উদোম ছেড়ে রাখার অভ্যাস বেড়ে গিয়েছিল। আগস্টের ২৮ তারিখে, আরএমআইটি’র ইলেক্ট্রনিক কমুনিকেশন্স গ্রুপের প্রধান, এলান ইয়ং, এএফপি কে জানান যে প্রতিষ্ঠানটি এবার নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো বন্ধ করতে চায়। এএফপি এই প্রস্তাব একেবারেই পছন্দ করেনি, কিন্তু যখন তারা আপত্তির কথা জানায় তখন ইয়ং তাদেরকে আরনেটের জিওফ হাস্টন এবং আরএমআইটি’র পরিচালককে জিজ্ঞেস করতে বলেন।

এএফপিকে একপ্রকার জোর করেই বের করে দেওয়া হয়, মূলত তারা তাদের তদন্ত চালাতে এতোবেশী সময় লাগিয়ে দেওয়ার কারণে। আরএমআইটি বিব্রত হয়ে এএফপি’র তদন্তের ব্যাপারে কাউকে কিছু জানাতেও পারছিল না, কারণ আরও ডজনখানেক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে মনে হতো যে প্রতিষ্ঠানটির নিজেদের কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোনো ধারণাই নাই। এলান ইয়ং এই ‘হ্যাকার সমস্যা’ নিয়ে আরনেট’র অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে কনাফারেন্সেও রাগারাগিও করতে পারতো না। মাঝথেকে, তাদের সকল কম্পিউটার কর্মী আসল কাজ ভুলে এই চোর-পুলিশ খেলাতেই ডুবে ছিল।

তবে, আরএমআইটি, এএফপির এই ফাঁদ থেকে উত্তরণের জন্য প্রুস্তুতি নেবার সময়, পুলিশও নরটেল’র কাছ থেকে এরকম কাজ চালাবার আরেকটা সুযোগ পেয়ে গেল। ১৬ সেপ্টেম্বর, পুলিশের কাছে হ্যাকারদের ব্যাপারে অভিযোগ করলে নরটেল’র ডায়াল-আপ থেকে একটা সংযোগের সফল অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়। ১ অক্টোবর রাত থেকে এএফপি প্রাইম সাসপেক্ট’র টেলিফোন সংযোগে আড়ি পাততে শুরু করে। হ্যাকাররা হয়তো ধরে ফেলতে পারে যে পুলিশ তাদের উপর নজর রাখছে, কিন্তু তবুও পুলিশ ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। এই আড়িপাতা থেকেই ট্র্যাক্স’র সন্ধান মেলে এবং, তারপর কোনো একভাবে মেনড্যাক্স নামের নতুন একজনেরও নাম জানা যায়।

এএফপি মেনড্যাক্স এবং ট্র্যাক্স’র টেলিফোনে আড়িপাততে চাইলো। এটা এমন একটা সিদ্ধান্ত যেটা খুব সাবধানে করতে হবে। টেলিফোনে আড়িপাতা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, এবং অনেকক্ষেত্রে হয়তো একমাসেরও বেশী সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়। হ্যাকাররা অনলাইনে কী করে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তারা অবশ্য সংগ্রহ করেছে।

অপারেশন ওয়েদারে পুলিশ অতিরিক্ত আড়িপাতা কার্যক্রম যুক্ত করার আগে, পুরো কাহিনীটা একটা নাটকীয় মোড় নিলো যখন কোনো এক আইএস হ্যাকার এমন এক কাজ করলো যেটা এএফপিকে পুরোপুরি চমকে দিলো। ট্র্যাক্স নিজে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দিলো।

২৯ অক্টোবর প্রাইম সাসপেক্টের আনন্দের দিন ছিল। তার মা তার ১২ ক্লাস শেষ করার সম্মানে রাতে দারুণ খাবারদাবারের বন্দোবস্ত করেছিলেন এবং তারপর তাকে নিয়ে ভারমন্টে একটা পরীক্ষাপূর্ব পার্টি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে তিনি দেড় ঘন্টা টুকটাক কাজকর্ম করছিলেন, তার পুরোনো কুকুর লিজিকে খাওয়াচ্ছিলেন এবং পরিষ্কার করছিলেন। রাত ১১টার সময় তিনি ভাবলেন রাত হয়েছে।