প্রাইম সাসপেক্ট তার চারপাশ নিয়ে যতোরাগ হতো সবই ঘরে এসে ঝাড়তো। তের বছর বয়সে যখন সে তার প্রথম কম্পিউটারটাকিনল, একটা এপল টু-ই,  তখন থেকেই সে সেটাকে আত্মীয়স্বজনদের চেয়েওআপন ভাবতে শুরু করল। স্কুলের কম্পিউটারগুলো তাকে তেমন আকৃষ্টকরত না, কারণ সেগুলোতে মডেম দিয়ে বাইরের দুনিয়ায় যুক্ত হওয়া যেত না। এপল ইউজার্স সোশাল নিউজলেটারে বিবিএস সম্পর্কে জানার পর, সে তার নিজের মডেম কেনার জন্য টাকা জমাতে শুরু করে এবং দ্রুতইবিভিন্ন বিবিএসে সংযুক্তও হতে শুরু করে।

স্কুল অবশ্য, গোপনে হলেও বিপ্লবী হবার একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল এবং সে  ব্যাপক প্র্যাঙ্কিং করে বেড়াত। খুব কম সংখ্যক শিক্ষকই এই চুপচাপ, ভোলাভালা বাচ্চাটাকে সন্দেহ করত এবং সে ধরা খেতো না বললেই চলে। প্রকৃতিও প্রাইম সাসপেক্টের প্রতি সদয় হয়ে তার চেহারায় একটা সারল্য দান করেছিল। লম্বা এবং লিকলিকে শরীর, বাদামী কোঁকড়া চুল, তার সত্যিকার চরিত্র তার কমবয়সী মুখে শুধুমাত্র সেই বামনমার্কা ক্রুর হাসি ফুটলেই বোঝা যেত। শিক্ষকরা তার মাকে বলেছিল যে সে তার বুদ্ধির তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণ অর্জন করতে পারছে না, তা বাদে তাদের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না।

১০ বছরের মাথায় সে একজন দুর্ধর্ষ হ্যাকার হয়ে গেল এবং পুরোটা সময় কম্পিউটারের পেছনে ব্যয় করতে শুরু করল। কখনো কখনো সে স্কুল কামাই দিতে শুরু করল, এবং বেশীরভাগ সময়ই তার এসাইনমেন্ট জমা দিতে দেরি হত। নিত্যনতুন অজুহাত তৈরির পথও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছিল এবং কখনো কখনো সে ভাবত শিক্ষকদের সত্যি কথাই বলবে। ‘দুঃখীত, আমি ২০০০-শব্দের লেখাটা শেষ করতে পারিনি, তবে গতরাতে আমি নাসা’র নেটওয়ার্কে বুঁদ হয়ে থেকেছি।’ এইসব চিন্তাভাবনা করে তার হাসি পেত।

মেয়েদেরকে সে হ্যাকিঙের পথে অনাঙ্ক্ষিত বাঁধা বলে মনে করত। কখনো কোনো পার্টিতে কোনো মেয়ের সাথে আলাপ হলে, পরে তার বন্ধুরা তাকে জিজ্ঞেস করত, সে কেন মেয়েটিকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যাবার প্রস্তাব দিলো না। প্রাইম সাসপেক্ট কোনোরকমে এসব এড়িয়ে যেত। সত্যিকার কারণটি হল তারচেয়ে বরং বাড়ি গিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসতে পারলেই তার ভালো লাগত, কিন্তু সে কখনোই তার হ্যাকিং বিষয়ক কাজকর্ম নিয়ে স্কুলের কারও সঙ্গে কথা বলত না, এমনকি মেন্টাট’র সঙ্গেও নয়।

ফোর্স’র এক বন্ধু এবং দ্য রেল্ম’র অনিয়মিত অতিথি, মেন্টাট স্কুলে প্রাইম সাসপেক্ট’র চেয়ে তুই বছরের বড় ছিল এবং সাধারণত সে প্রাইম সাসপেক্ট’র মত বয়সে ছোট হ্যাকারদের সঙ্গে কথা বলারও তেমন প্রয়োজন বোধ করত না। এতে অবশ্য সে মন খারাপ করত না। অন্যান্য হ্যাকারদের দাদাগিরির সাথে সে ভালোই পরিচিত, এদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কোনো ইচ্ছাও তার ছিল না এবং তার হ্যাকিং জীবন গোপন রাখাতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।

রেল্মে ধরপাকড়েরও আগে, একবার ফিনিক্স তাকে রাত ২টায় ফোন করে নোম এবং তাকে ওইখানে মাঝেসাজে আসার কথা বলেছিল। ফোনের শব্দ শুনে, প্রাইম সাসপেক্ট’র মা তার শোবার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন, এই মাঝরাত্রে তার ‘বন্ধুর’ ফোন করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। এককানে ফিনিক্স তাকে ফুসলাচ্ছিল,এবং অপর কানে তার মা তার মাথা খাচ্ছিল, প্রাইম সাসপেক্ট বুঝতে পারলো খুব ভুল হয়েছে। সে ফিনিক্সকে ধন্যবাদের সঙ্গে ফিরিয়ে দিল এবং মায়ের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল।

তবে, সে মাঝসাঝে পাওয়ারস্পাইকের সঙ্গে ফোনে কথা বলত। এই অগ্রজ হ্যাকারের বেপরোয়া ভাবভঙ্গি এবং পর্কি পিগের মতো হাসি তার মন কাড়তো। তবে ওই অল্পস্বল্প কথাবার্তা ছাড়া, প্রাইম সাসপেক্ট ইন্টারন্যাশনাল সাবভার্সিসভ’র বাইরের লোকজনের সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলত না, বিশেষ করে যেসময় সে এবং মেনড্যাক্স মিলে সেনাবাহিনীর কম্পিউটারের মত স্পর্শকাতর এলাকায় ঘুরে বেড়াত।

মেনড্যাক্স’র লেখা সাইকোফ্যান্ট নামের একটা প্রোগ্রাম ব্যবহার করে, আইএস হ্যাকাররা মার্কিন সেনাবাহিনীর উপর বড়সড় হামলা চালাত। তারা সাইকোফ্যান্টকে আটটা মেশিনে বসিয়েছিল, একাজে তারা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস’র মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেশিন তারা ব্যবহার করত। আটটা মেশিনকেই তাক করে তারা সমানে হামলা চালিয়ে যেত। ছয় ঘন্টার মধ্যেই, সেই আটটা মেশিন হাজার হাজার কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করে ফেলত। হ্যাকাররা কখনো কখনো একরাত্রে প্রায় ১০০০০০ একাউন্ট হাতিয়ে নিতে পারত।

সাইকোফ্যান্ট ব্যবহার করে, তারা মূলত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যকার একগুচ্ছ ইউনিক্স মেশিনকে পুরো ইন্টারনেটে হামলার কাজে একযোগে অংশ নিতে বাধ্য করতো। 

এবং এসব ছিল কেবল ঢাকের গুড়গুড়। যদি তারা কোনো নির্দিষ্ট কম্পিউটারকে হ্যাক করে ফেলতে পারত তাহলে এতো বেশী সাইটে ঢুকত যে সবগুলো হয়তো মনেও করতে পারবে না। যেসব জায়গার নাম তারা মনে করত পারত সেগুলোকে তারা আমেরিকান সেনাবাহিনী-বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের অমুকের তমুক কম্পিউটার এভাবে ডাকত। পেন্টাগনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৭ম কমান্ড গ্রুপ হেডকোয়ার্টার্স। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। ভার্জিনিয়ার নাভাল সার্ফেস ওয়ারফেয়ার সেন্টার। টেক্সাসে লকহিড মার্টিন’র ট্যাক্টিকাল এয়ারক্রাফট সিস্টেম এয়ারফোর্স প্ল্যান্ট। পেনসিলভানিয়া’র ব্লু বেলের ইউনিসিস কর্পোরেশন। নাসা’র গোডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার। ইলিনয়িস’র মটোরোলা ইনকর্পোরেশন। ক্যালিফোর্নিয়ার রেডন্ডো বিচের টিআরডব্লিউ ইনকর্পোরশন। পিটসবার্গের আলকোয়া। নিউ জার্সির প্যানাসনিক কর্পোরেশন। ইউএস নাভাল আন্ডারসি ওয়ারফেয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং সটেশন। ম্যাসাচুসেটসের সিমেন্স-নিক্সডর্ফ ইনফরমেশন সিস্টেমস। নিউ ইয়র্কের সিকিউরিটিজ ইন্ডাস্ট্রি অটোমেশন কর্পোরেশন। ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি। নিউ জার্সির বেল কমুনিকেশন্স রিসার্চ। ক্যালিফোর্নিয়ার জেরক্স পালো আলটো রিসার্চ সেন্টার।

রেল্ম’র তুলনায় আইএস হ্যাকাররা যখন অনেক বেশী দক্ষ হয়ে উঠল, তখন তারা বুঝতে পারলো তাদের এই যাত্রায় অনেক বিপদও আছে এবং সেই ভেবে তারা অস্ট্রেলিয়ার হ্যাকিং কমুনিটি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিলো। খুব দ্রুতই তারা নিজেরা একটা সুসংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করল। তারা শুধু নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা বলত।

রেল্ম হ্যাকারদের ধরা পড়ার ঘটনা পরবর্তী প্রজন্মের হ্যাকারদের নিবৃত্ত করতে পারে নাই। এই ঘটনা তাদের শুধুমাত্র আরও বেশী আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য করেছিল।

১৯৯১ সালের বসন্তে, প্রাইম সাসপেক্ট এবং মেনড্যাক্স ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’র নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের (এইআইসি) কম্পিউটারের হদীস সন্ধানের প্রতিযোগিতায় লেগে গেল। এটি ইন্টারনেটে আক্ষরিক অর্থেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার বলা যেতে পারে।

দুই হ্যাকার এক রাত্রে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার দিয়ে ফোনে জমিয়ে কথা বলতে বলতে প্রাইম সাসপেক্ট গোপনে অন্য আরেকটা স্ক্রিনে, এনআইসি’র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স সিস্টেমের ns.nic.ddn.mil ঠিকানায় ঢোকার চেষ্টা করছিল। তার ধারণা ছিল এনআইসি এবং তাদের এই অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পরস্পরকে নিশ্চয়ই ‘বিশ্বাস’ করে — এই বিশ্বাসকে ব্যবহার করেই সে এনআইসিতে ঢুকতে পারবে। এবং, এনআইসি-ই সবকিছুর মাথা।

এনআইসি-ই ইন্টারনেটে ইমেইল ঠিকানার জন্য  ‘.কম’ বা ‘.নেট’ ডোমেইন নাম নির্ধারণ করে থাকে। এনআইসি মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ডাটা নেটওয়ার্ক, মিলনেট’র নিয়ন্ত্রণ করে।

তাছাড়া এনআইসি সমস্ত ইন্টারনেটের জন্য কমুনিকেশন প্রটোকল স্ট্যান্ডার্ডও প্রকাশ করে। আরএফসি (রিকোয়েস্ট অফর কমেন্টস) নামে পরিচিত এই টেকনিকাল স্পেসিফিকেশনগুলো ইন্টারনেটে এক কম্পিউটারকে অপর কম্পিউটারের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেয়। ডিফেন্স ডাটা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি বুলেটিন, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’র সমকক্ষ সিইআরটি এডভাইজরিস, সবই এইনআইসি মেশিন থেকেই আসে।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এনআইসি ইন্টারনেটে রিভার্স লুক-আপ সার্ভিসও নিয়ন্ত্রণ করে। ইন্টারনেটে কেউ যখন কোনো সাইটটে ঢুকতে চায়, তখন সে সাধারণত সাইটের নাম টাইপ করে – যেমন, ariel.unimelb.edu.au হল মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা। কম্পিউটার তখন এই অক্ষরের নামকে সংখ্যাভিত্তিক ঠিকানায় রূপান্তর করে — যাকে বলে আইপি ঠিকানা — এক্ষেত্রে 128.250.20.3. ইন্টারনেটের সমস্ত কম্পিউটারেরই ডাটা প্যাকেট আদান-প্রদানের জন্য এইরকম আইপি ঠিকানা দরকার হয়। এনআইসি-ই ঠিক করে দেয় কম্পিউটারগুলো আক্ষরবাচক নামকে কেমন করে সংখ্যাভিত্তিক ঠিকানায় বা তার উল্টো ঠিকানায় রূপান্তিত করবে।

কারও সাথে এনআইসি’র নিয়ন্ত্রণ থাকা মানে, ইন্টারনেটের অসীম ক্ষমতা হাতে থাকা। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, চাইলেই, অস্ট্রেলিয়াকে পুরোপুরি গায়েব করে দিতে পারে। বা তাকে ব্রাজিলে রূপান্তরিত করতে দিতে পারে। নির্দেশক ইন্টারনেটের প্রতিটি ঠিকানার শেষে অস্ট্রেলিয়ার নাম ‘.au’ শব্দটি চিহ্নিত করে তাকে ব্রাজিল করে দিলেই দুনিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এবং অস্ট্রেলিয়ার যাবতীয় ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্রাজিলে চলে যাবে। বস্তুত, ডোমেইন নামগুলোর এই প্রতিনিধিত্বকারী শব্দাংশ পরিবর্তন করেই পুরো দুনিয়ার ইন্টারনেটে তথ্য আদাপ্রদান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।

এই ফাঁদ থেকে উদ্ধার পাবার একটাই পথ কোলা থাকবে যদি কেউ অক্ষরভিত্তিক ঠিকানা ব্যবহারের বদলে সংখ্যাভিত্তিক আইপি ঠিকানা টাইপ করে তাহলে। কিন্তু প্রতিটি অক্ষরভিত্তক ঠিকানার সমান বারো সংখ্যার আইপি ঠিকানা অল্প সংখ্যক লোকই জানতে পারবে এবং, তারচেয়েও কম মানুষ সেটা আসলে ব্যবহার করবে।

এনটিসিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আরও কিছু লাভও আছে। এনআইসি’র নিয়ন্ত্রণ থাকা মানে আক্ষরিক অর্থেই ইন্টারনেটের সমস্ত কম্পিউটার যেগুলো পরস্পরকে ‘বিশ্বাস’ করে সেগুলোতে ঢোকার চাবি হাতে থাকা। এবং বেশীরভাগ মেশেনই কমপক্ষে অপর একটি সিস্টেমকে বিশ্বাস করে।

নেটে যখনই একটি কম্পিউটার অপর একটি কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত হয় তখন দুজনেই এক বিশেষ পরিচয়পর্বের মাধ্যমে পরিচিত হয়। গ্রহণকারী কম্পিউটার অপর কম্পিউটারকে দেখে এবং কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। ইনকামিং মেশিনের নাম কী? এই নামের কারও সাথে কী আমার সংযুক্ত হবার অনুমতি আছে? এই মেশিনকে ‘বিশ্বাস’ করার জন্য আমাকে কীভাবে করে প্রোগ্রাম করা হয়েছে – সংযুক্ত হবার জন্য ওই সিস্টেম থেকে আমার জন্য সাধারণ নিরাপত্তা পাওয়া যাবে কী?

গ্রহণকারী কম্পিউটার এইসব প্রশ্নের যে উত্তর দেয় সেগুলোর বেশীরভাগই এনআইসি’র দেওয়া তথ্য থেকে পেয়ে থাকে। এসবের অর্থ হলো, এনআইসিকে নিয়ন্ত্রণ করে নেটের যেকোন কম্পিউটারকে বিশ্বস্ত কম্পিউটার হিসেবে ‘দেখানো’ সম্ভব। নিরাপত্তা বেশীরভাগ সময়ই নির্ভর করে কম্পিউটারের নামের উপর, এবং এনআইসি সরাসরি সেই নামও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

প্রাইম সাসপেক্ট যখন এনআইসি’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটির সিস্টেমে ঢুকতে সমর্থ হল, তখন সে মেনড্যাক্সকে জানালো এবং তাকে সেই কম্পিউটারে ঢোকার নম্বর দিল। তারা দুজনেই তখন নিজ নিজ পদ্ধতিতে এনআইসিতে আক্রমণ শুরু করল। অবশেষে মেনড্যাক্স যখন এনআইসি’র হদীস পেলো, তাকে হাতে যেন দুর্নিবার ক্ষমতা চলে এলো। প্রাইম সাসপেক্টও একইসাথে হদীস পেয়েছিল কিন্তু সে অন্য একটা পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিল। তারা দুজনেই ঢুকতে পেরেছিল।

এনআইসি’র ভিতরে, মেনড্যাক্স শুরুতেই একটা খিড়কি দরজা তৈরি করল — এটা কোনো কম্পিউটারে এডমিন যদি হ্যাকারের ব্যবহৃত নিরাপত্তা ত্রুটিটি সারিয়েও ফেলে তাহলে পুরোনো তারিখ দিয়ে ঢোকার একটা পদ্ধতি। এখন থেকে, যদি সে সিস্টেমের ডাটা ডিফেন্স নেটওয়ার্কের (ডিডিএন) ইনফরমেশন সার্ভারে টেলনেট করে এবং ‘লগিন০’ টাইপ করে, তাহলে সে অদৃশ্য থেকে এনআইসি’র রুট একসেস পেয়ে যাবে।

সেই ধাপ সম্পন্ন করে, সে কৌতূহলোদ্দীক কিছু পড়ার জন্য জিনিসপত্র খুঁজতে শুরু করলো। একটা ফাইল দেখে মনে হল স্যাটেলাইট এবং মাইক্রোওয়েভ ডিস কোঅর্ডিনেটের তালিকা — দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ, ট্রান্সপন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি। এইসব কোঅর্ডিনেট দিয়ে হয়তো সারাবিশ্বে ডিওডি’র কম্পিউটার ডাটা পৌঁছাবার জন্য যেসব যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলোর একটা পূর্ণাঙ্গ ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব।

তাছাড়া মেনড্যাক্স মিলনেট’র সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার, যেটি মিলনেট কম্পিউটারগুলোর উপর নিরাপত্তা বিঘ্নকারী সকল সম্ভাব্য ঘটনাসমূহের প্রতিবেদন সংগ্রহ করে থাকে, তাতেও ঢোকার চেষ্টা করল। ওই কম্পিউটারগুলোতে — বেশীরভাগই ডেক’র তৈরি টপস-২০ — ভালো ভালো স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা প্রোগ্রাম ছিল। যেকোন সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলেই স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি হয়ে যেত। কেউ হয়তো কোনো মেশিনে অনেক বেশী সময় ধরে লগইন করে আছে। অপ্রত্যাশিত বেশীসংখ্যক ব্যর্থ লগইন চেষ্টা, যেখানে পাসওয়ার্ড আন্দাজ করার চেষ্টা চলেছে। একই একাউন্টে দুইজন ভিন্ন মানুষ একই সময়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। এলার্ম বেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং স্থানীয় কম্পিউটার সাথে সাথে মিলনেট সিকিউরিটি সেন্টারে নিরাপত্তা লংঘিত হয়েছে মর্মে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিবে। সেখানে সেটি ‘হট লিস্টে’ যুক্ত হয়ে যাবে।

মেনড্যাক্স স্ক্রিনে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মিলনেটের নিরাপত্তা প্রতিবেদনগুলো ওলটপালট করে দেখল। বেশীরভাগেরই কোনো অর্থ নাই বলে মনে হচ্ছিল — মিলনেট ব্যবহারকারীরা দুর্ঘটনাবশত নিরাপত্তা জালে খাবি খাচ্ছে — তবে, জার্মানিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটা সাইটের নোটিশ বেশ নজর কাড়লো। সেটা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়নি। সেটা সত্যিকার কোনো মানুষ পাঠিয়েছে। সেই সিস্টেমের এডমিন জানিয়েছেন যে কেউ একজন অনবরত তার মেশিনে ঢোকার চেষ্টা করছে, এবং একসময় তাতে সফলও হয়েছে। সেই এডমিন, দিশাহারা হয়ে, সেই অনুপ্রবেশকারীর নাম-নিশানা খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে, বিদঘুটে কারণে সেটা অপর একটি মিলনেট সিস্টেম থেকেই আসছে বলে জানা গেছে।