৮ম অধ্যায় – দ্য ইন্টারন্যাশনাল সাবভার্সিভস

All around

An eerie sound

  • From “Maralinga’, on 10,9,8,7,6,5,4,3,2,1 by Midnight Oil

প্রাইম সাসপেক্ট মেনড্যাক্সকে ফোন করে একটা অভিযানের প্রস্তাব দিল। সে এনএমইএলএইচ১ (উচ্চারণ এন-মেলি-হ-১) নামের একটা উদ্ভট সিস্টেমের সন্ধান পেয়েছে এবং এবার সেটা ঘেঁটে দেখার সময় এসে গেছে। সে অন্য আরেকটা হ্যাককরা সিস্টেমের ভিতরে মডেমের ফোন নম্বরের একটা তালিকার ভিতরে ডায়াল-আপ্ নাম্বারটা পেয়েছিল। এবার সেটা দেখে মিলিয়ে নিল।

মেনড্যাক্স তার হাতে ধরা কাগজের টুকরার দিকে তাকিয়ে কম্পিউটার সিস্টেমটার নামটার নিয়ে ভাবতে লাগল।

‘এন’ অক্ষরটার মানে নর্দার্ন টেলিকম, একটা কানাডিয়ান কোম্পানি যার বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলার। নরটেল নামে পরিচিত কোম্পানিটি, বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় ফোন কোম্পানির কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হাজার হাজার সুইচ এবং অন্যান্য টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সরঞ্জাম বিক্রি করে। ‘মেলি’ বলতে নিঃসন্দেহে বোঝা যাচ্ছে সিস্টেমটা মেলবোর্নে আছে। আর, ‘এইচ-১’ হল, অনেকের অনেক অনুমান থাকলেও, কিন্তু মেনড্যাক্সের ধারণা ‘হোস্ট-১’ – অর্থ কম্পিউটার সাইট নম্বর এক।

প্রাইম সাসপেক্ট মেনড্যাক্সের আগ্রহকে উস্কে দিয়েছিল। মেনড্যাক্স ঘন্টার পর ঘন্টা বসে কম্পিউটারের ভিতরের যেসব কমান্ড টেলিফোন এক্সচেঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সেগুলো নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। অবশেষে, সব চেষ্টাই অনুমানের উপর নির্ভর করে করতে হয়েছে – ভুল করে করে শেখার মত, সেইসাথে ছিল ধরা খাবার সমূহ সম্ভাবনা। কম্পিউটারে ভুল করার সাথে এর মিল নাই। কোনো টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ভিতরে ভুল কমান্ড প্রয়োগ করার পরিণাম হতে পারে সিডনি বা মেলবোর্নের একেবারে কেন্দ্রে গিয়ে আঘাত করা – ১০০০০ বা তারও বেশী ফোন লাইন অকেজো হয়ে যাওয়া – এবং তৎক্ষণাৎ ক্ষতিসাধন করা।

এই ধরণের কোনো কাজ ইন্টারন্যাশনাল সাবভার্সিভস কখনোই করতে চায় না। তিন আইএস হ্যাকার – মেনড্যাক্স, প্রাইম সাসপেক্ট এবং ট্র্যাক্স – অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড জুড়ে আন্ডারগ্রাউন্ড সদস্যদের কপালে কী ঘটছে তাতো দেখছিল। আইএস হ্যাকারদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেবার জন্য তিনটি মোক্ষম কারণ ছিল।

ফিনিক্স। নোম। এবং ইলেক্ট্রন।

কিন্তু, মেনড্যাক্স ভাবল, যদি কোনো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ প্রস্তুতকারণ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি কাগজপত্র পড়েই যদি সেটাতে ঢোকার রাস্তা জেনে যাওয়া যায় তাহলে কেমন হয়? সাধারণের কাছে যেসমস্ত কাগজপত্র নাই, সেসব কাগজপত্র নরটেলে’র কম্পিউটার নেটওয়ার্কে থাকার সম্ভাবনা কতোখানি?

তার উপরে, নরটেলের আসল সোর্স কোড, মানে যেসব সফটওয়্যার নির্দিষ্ট টেলিফোন সুইচ নিয়ন্ত্রণের জন্য বানানো হয়েছে, যেমন: ডিএমএস-১০০ মডেল, সেসব পাওয়া গেলে তো সোনায় সোহাগা। নরটেলেরই কোনো নেটওয়ার্কে হয়তো সেই কোড ঘাপটি মেরে লুকিয়ে রয়েছে। প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত কোনো হ্যাকার, গ্রাহকদের কাছে কোম্পানির তরফ থেকে পাঠানো সফটওয়ারেই তার নিজের তৈরি খিড়কি দরজা – মানে গোপন নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগাতে পারবে।

নরটেল’র যন্ত্রপাতি কেমন করে কাজ করে সে ব্যাপারেভালো জানাশোনা হলে, সেইসাথে তাদের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে দেওয়াসফটওয়্যারের ভিতরে গোপনে কোনো নিরাপত্তা গলদ ঢুকিয়ে দিতে পারলেই বোস্টন থেকে বাহরাইন – যেকোন স্থানের নরটেল ডিএমএস টেলিফোন সুইচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কী খেলটাই না হবে!মেনড্যাক্স ভাবল, যদি রিও ডি জেনেরিও’১০০০০ ফোন, কিংবা নিউইয়র্কারদের ৫০০০ ফ্রি কল কোনো এক বিকালে বন্ধ করে দিলাম কিংবা ব্রিসবেনের যাবতীয় ব্যক্তিগতফোনালাপ শুনতে পেলাম, তাহলে কী হবে! পুরো টেলিযোগাযোগদুনিয়া তখন হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

পূর্বসুরীদের মতোই, তিন আইএস হ্যাকারও তাদের যাত্রা শুরু করেছিল মেলবোর্ন বিবিএস থেকে। মেনড্যাক্সের সঙ্গে ট্র্যাক্সের পরিচয় ইলেক্ট্রিক ড্রিমসে সম্ভবত১৯৮৮ সালের দিকে, এবং এর কিছুদিন পরে মেগাওয়ার্কে প্রাইমসাসপেক্টের সঙ্গে, যেখানে সে কন্ট্রোল রিসেট হ্যান্ডেল ব্যবহারকরত। এরপর যখন সে টাকোমাতে তার নিজস্ব বিবিএস তৈরি করল, তখন সে এই দুই হ্যাকারকে সিঙ্গেল ফোন লাইন দিয়ে ঢোকার সুযোগ পেলেইতার ‘এ কিউট প্যারানয়া’তে যেন আসে, সেই নিমন্ত্রণপাঠিয়েছিল।

মেনড্যাক্স’র বিবিএসেঢোকা দুই হ্যাকারের পক্ষেই নিরাপদ ছিল,কারণ এটা অন্যান্য বিবিএসগুলোর তুলনায়অনেক বেশী ব্যক্তিগত। এরপর ধীরে ধীরে তারা পরস্পরের বাড়ির ফোননম্বরও বিনিময় করেছিল, তবে শুধুমাত্র মডেম থেকে মডেমে কথা বলারজন্য। মাসের পর মাস,তারা পরস্পরের কণ্ঠস্বর না শুনেই পরস্পরকেরিং করত এবং কম্পিউটার স্ক্রিনে লিখত। অবশেষে, ১৯৯০ সালেরশেষের দিকে একদিন, ঊনিশ বছর বয়সী মেনড্যাক্স ২৪ বছর বয়সীট্র্যাক্সকে কথা বলার জন্য কল দিল। ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে, মেনড্যাক্স এবং সতের বছর বয়সী প্রাইম সাসপেক্টও ফোনে কথা বলতেশুরু করল।

ট্র্যাক্সকে কিছুটা ছিটগ্রস্ত মনে হত, এবং সম্ভবত সে এংজাইটি ডিজঅর্ডারে ভুগছিল। সে শহরে ঘুরে বেড়াতে চাইতো না এবং একবার সে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরঠিকানাও খোঁজ করেছিল। কিন্তু মেনড্যাক্স খেয়াল করে দেখেছে, কৌতূহল জাগায় এমন মানু্ষেরা বেশীরভাগ সময়ই এরকম অদ্ভূত হয়ে থাকে, এবং ট্র্যাক্স সেরকমই একজন মানুষ।

মেনড্যাক্স এবং ট্র্যাক্স আবিষ্কার করলতাদের কিছু বিষয়ে মিল আছে। দুজনেই গরিব কিন্তু শিক্ষিত পরিবার থেকেএসেছে, এবং দুজনেই শহরের বাইরে থাকে। তবে, দুজনের ছেলেবেলা খুবই ভিন্ন।

ট্র্যাক্স’র মা-বাবা ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। তার অবসরপ্রাপ্তকম্পিউটার টেকনিশিয়ান বাবা,এবং মা, দুজনেই জার্মানউচ্চারণে কথা বলেন। ট্র্যাক্স’র বাবাই বলতে গেলে বাড়ির কর্তা, এবং ট্র্যাক্সই তার একমাত্র সন্তান।

অপরদিকে, পনের বছরবয়স হতে না হতেই মেনড্যাক্সের প্রায় ডজনখানেক জায়গায় বাস করার অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে আছে পার্থ,ম্যাগনেটিক আইল্যান্ড, ব্রিসবেন,টাউনসভিল, সিডনি, দ্য এডেলইড হিলস,এছাড়াও রয়েছে উত্তারঞ্চলের নিউ সাউথ ওয়েলসএবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াসহ বেশকিছু উপকূলবর্তী শহর। এই পনের বছরেসে অসংখ্য স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।

নিজের আঁকানো ছবি বিক্রি করে একটা মোটরসাইকলে, তাঁবু এবং অস্ট্রেলিয়ার রাস্তার মানচিত্র কেনার মত পয়সা জমা হওয়ারপর তার মা সতের বছর বয়সে কুইন্সল্যান্ডে তাদের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল। তার শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা-বাবাকে বিদায়জানিয়ে, সেইসাথে লেখাপড়াতেও ইস্তফা দিয়ে, তিনি অজানাপথে পা বাড়িয়েছিলেন। প্রায় ২০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে, তিনি সিডনি পৌঁছান এবং উদ্দাম কাউন্টার-কালচারেরদলের সাথে ভীড়ে যান। ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী মহড়ায় শিল্পী হিসেবেকাজ করার সময় তিনি একজন বিল্পবী যুবকের প্রেমে পড়ে যান।

মেনড্যাক্স’র জন্মেরএক বছরের মাথায়, তার বাবার সাথে মায়ের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েযায়। মেনড্যাক্স’র বয়স যখন দুই বছর, তখন তিনি একজন সহশিল্পীকে বিয়ে করেন। এরপর অনেকগুলোদুর্ধর্ষ বছর কাটে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরে ঘুরে, কারণ তারমা-বাবা‘৭০ এর বামপন্থী, ভবঘুরে সাবকালচারের মধ্যে মজে ছিলেন। বাচ্চাকালথেকেই সে শিল্পী পরিবেষ্টিত হয়েই ছিল। তার সৎ বাবা বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ এবংপরিচালনা করতেন এবং তার মা তাতে মেক-আপ, কস্টিউম এবংসেটের নকশা করতেন।

একবার এডেলেইডে রাতের বেলা, তখন মেনড্যাক্সের বয়স চার বছর, তার মা এবংএকজন বন্ধু নিউ্রকিয়ার বিরোধী আন্দোলনকারীদের মিটিং শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই বন্ধুটি দাবী করল যে তার কাছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে যে ব্রিটিশরাসাউথ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমের মরু অঞ্চল মারালিঙ্গার বায়ুমন্ডলেউচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিউক্লিয়ার বোমা পরীক্ষা করেছে।

১৯৮৪ সালের একটি রয়াল কমিশন পরবর্তীকালেপ্রকাশ করে যে, ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৩ এর মাঝে ব্রিটিশ সরকারওই অঞ্চলের ৫০০০ আদিবাসীদের জোরপূবর্ক বাসস্থান থেকে উৎখাত করে নিউক্লিয়ার বোমা পরীক্ষাকরেছিল। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে,এতোদিন পর, ব্রিটিশ সরকার২০০ স্কয়ার কিলোমিটারের চেয়েও বড় আয়তনের দূষিত এলাকা পরিষ্কারের জন্য ২০ মিলিয়ন স্টার্লিংদিতে সম্মত হয়। তবে, ১৯৬৮ সালেই,  মেঞ্জিস সরকার ওই এলাকা পরিষ্কার করারভার ব্রিটেনের মর্মে চুক্তি সই করেছিল। ১৯৭০ সালেও, অস্ট্রেলিয়ারসরকার মারালিঙ্গাকে আসলে যাকিছু ঘটেছিল সেসবকিছু অস্বীকার করতেই থাকে।

মেনড্যাক্স’র মা এবংতার বন্ধুটি যখন এডেলেইডের শহরতলী দিয়ে মারালিঙ্গা ট্রাজেডি’র প্রাথমিকআলামত নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা লক্ষ্য করলেন একটা অচেনা গাড়িতাদের অনুসরণ করছে। তারা তাদের পথের চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইলেও সেটা সম্ভব হল না। তার বন্ধুটি,ভয় ভয়ে বলল, পুলিশের কাছেধরা খাবার আগে তাকে ওই তথ্যগুলো এডেলেইডের একজন সাংবাদিকের কাছে পৌঁছাতেই হবে। মেনড্যাক্স’র মা চট করে কোণার একটা গলিতে ঢুকে পড়লেতার বন্ধুটি গাড়ি থেকে নিঃশব্দে নেমে যায়। তারপর তিনি আবার পুলিশের তাড়া মাথায় নিয়েচলতে থাকেন।

সাদা পোশাকের পুলিশ এর একটুপরেই তাকেগাড়ি থেকে বের করে আনে, তার গাড়িতে তল্লাসি করে এবং জিজ্ঞেস করেতার বন্ধুটি কোথায় গেছে এবং মিটিঙে কি কি হয়েছে। তার যখন কাহিলঅবস্থা, তখন এক অফিসার তাকে বলে, ‘তোমার দুইবছর বয়সী একটা বাচ্চা আছে। আমার মনে হয় তোমার রাজনীতি থেকে সড়ে আসাউচিত, মেয়ে। নাহলে তোমাকে অযোগ্য মা হিসেবেও ঘোষনাদেওয়া হতে পারে।’

এই উগ্র হুমকির কয়েকদিন পর, তার সেই বন্ধুটি গায়ে কালশিটে নিয়ে  মেনড্যাক্স’র মায়ের বাড়িতেআসে। সে বলে পুলিশ তাকে মেরেছে, তারপর তারবিরুদ্ধে গাঁজা চাষের অভিযোগ এনেছে। ‘আমি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি,’ সে ঘোষনা দেবার ভঙ্গীতে বলল।



যাহোক, তিনি এবংতার স্বামী তাদের থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা চালিয়ে গেলেন। যুবক মেনড্যাক্সকখনো স্বপ্নেও ভাবেনি যে তাকে আবার বেরিয়ে পড়তে হবে – সে ইতমধ্যেইভবঘুরে গায়কদের মতো একদফা জীবন কাটিয়ে ফেলেছে। তবে, সেই অভিনেতা-পরিচালক একজন ভালো সৎবাবা হলেও, তিনি ছিলেন প্রচন্ড পরিমাণে মদ্যপ। মেনড্যাক্স’র নবম জন্মদিনের অল্প কয়েকদিনের মাথায়, তাদের মা-বাবা আলাদা হয়ে যায় এবং তারপর তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।

এরপর মেনড্যাক্স’র মা এক শখের গায়কের সঙ্গে তুমুল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মেনড্যাক্স সেই লোককে ভয় পেত, তাকে সে একজনবর্ণচোরা এবং ভয়ংকর পাগল মনে করত। তার ছিল পাঁচ ধরণের পরিচয়পত্র এবং প্রত্যকটারজন্য আলাদা আলাদা প্লাস্টিক তার ওয়ালেটে সবসময় রাখা থাকত। তার জন্মভূমিথেকে শুরু করে সমস্ত অতীতই ভুয়া। যখন সেই সম্পর্কও টিকলো না, এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ানোর দিন আবার শুরু হল, কিন্তু এবারের ঘোরাঘুরি আগের আনন্দময় ঘোরাঘুরির চেয়ে একেবারেইভিন্ন হয়ে গেল। এইবার,মেনড্যাক্স এবং তার পরিবারকে সেই মানসিকভাবেপাগল এবং হিংস্র লোকটির কাছ থেকে পালাতে হল। অবশেষে, সারা দেশেরবলতে গেলে সবর্ত্র লুকিয়ে বেড়িয়ে,মেনড্যাক্স এবং তার পরিবার মেলবোর্নেরউপকণ্ঠে এসে থিতু হল।

সতের বছর বয়সে মেনড্যাক্সকে বাড়ি ছেড়েপালাতে হয় কারণ সে আগেভাগেই বাড়িতে তল্লাসি হবার একটা সতর্কবার্তা পেয়েছিল। মেনড্যাক্স যাবতীয় ডিস্ক মুছে ফেলে, সমস্ত প্রিন্ট-আউট পুড়িয়ে ফলে এবং পালিয়ে যায়। এক সপ্তাহপরে, ভিক্টোরিয়ান সিআইবি আসে এবং তার ঘর তল্লাসি করে কিন্তু কিছুই পায়না। সে তার প্রেমিকাকে বিয়ে করেছিল, সে ছিল বেশবুদ্ধিমতী কিন্তু অন্তর্মূখী এবং আবেগী ধরণের ষোড়শী বালিকা। সে প্রতিবন্ধীবাচ্চাদের একটা অনুষ্ঠানে তাদের একজন বন্ধুর সুবাদে পরিচিত হয়েছিল। এর এক বছর পর তাদের একটা সন্তান জন্ম হয়।

কম্পিউটারে পরিচয়ের সুবাদে মেনড্যাক্সেরঅনেক বন্ধুত্ব হয়। তার কাছে ট্র্যাক্সকে কথা বলার জন্য সহজসরল মনে হত এবংতারা মাঝেমাঝে এক ফোন কলেই টানা পাঁচ ঘন্টাও কথা বলত। প্রাইম সাসপেক্ট, অপরদিকে,ফোনে বেশ গম্ভীর হয়ে থাকত।

চুপচাপ এবং অন্তর্মুখী স্বভাবের, প্রাইম সাসপেক্ট সবসময়ই যেন পাঁচ মিনিট কথা বলার পরেই আর কোনোকথা খুঁজে পেত না। মেনড্যাক্স নিজেও বেশ লাজুক স্বভাবের ছিল, কাজেই তাদের কথাবার্তাতেও মাঝে মাঝেই বিরাট নীরবতা নেমে আসত। এমন নয় যে মেনড্যাক্স প্রাইম সাসপেক্টকে পছন্দ করত না, সে করত। ১৯৯১ এর মাঝামাঝি সময় থেকে এই তিন হ্যাকারট্র্যাক্স’র বাড়িতে সামনাসামনি দেখা করতে শুরু করল, সে আইএস’র আঁটসাঁট গন্ডীর মধ্যে প্রাইম সাসপেক্টকেএকজন সহযোগী হ্যাকারের চেয়েও বেশীকিছু মনে করত। মেনড্যাক্সতাকে বন্ধু ভাবত।

প্রাইম সাসপেক্ট একটু ছদ্মবেশ রেখেই চলত। বাইরের দুনিয়ায়,সে নিজেকে একজন ১২ ক্লাসের পড়ুয়া ছাত্রহিসেবেই পরিচিত করিয়েছিল, যে তার মধ্যবিত্ত গ্রামার স্কুল থেকেবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ী। ছেলেদের কোনো স্কুলই কখনোই তাদের ছাত্রদেরকাছ থেকে কম করে আশা করে না এবং সেখান থেকে ট্যাফে নামের ভকেশনাল কলেজে পড়বার কথা কেউচিন্তাও করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে। কোনো ছাত্র তা না পারাটা  কোনো বিস্বাদ খাবার দামী গালিচার নিচেলুকিয়ে ফেলার মত বিব্রতকর ঘটনা।

প্রাইম সাসপেক্ট’র নিজের পরিবারের অবস্থা অবশ্য তার স্কুলের মত অতো দায়িত্বশীলতারভেক ধরতে যায়নি। তার বাবা ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট এবং মা ছিলেন সেবিকা। যখন তার বাবার টার্মিনাল ক্যান্সার ধরা পড়ে তখন তারা তিক্ত বিবাহ বিচ্ছেদেরমামলা লড়ছিলেন। এইরকম তিক্ত,বৈরি পরিবেশে, আট বছর বয়সীপ্রাইম সাসপেক্টকে অনাথশালা থেকে তার বাবার শয্যাপাশে তড়িঘড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় যাতেসে তাকে বিদায় জানাতে পারে।

শৈশব এবং কৈশোরের অধিকাংশ সময়জুড়েই, প্রাইম সাসপেক্ট’র মা জীবন নিয়ে ছিলেন বিরক্ত, বিশেষ করে তার দারিদ্র নিয়ে। যখন তার বয়সআট, প্রাইম সাসপেক্ট’র ষোল বছর বয়সী  বড়বোন তখন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়্, এবং পার্থে গিয়ে থাকতে শুরু করে এবং তার মায়ের সাথে যোগাযোগ রাখতেঅসম্মতি জানায়। তখন থেকেই প্রাইম সাসপেক্ট নিজেকে একইসাথে একজন বাচ্চা এবং অভিভাবকভাবতে শুরু করে। এইসবই তাকে দ্রুত বড় হয়ে যেতেও সাহায্য করে কিছু ক্ষেত্রে, কিন্তু,অন্যান্য ক্ষেত্রে সে আনাড়িই থেকে যায়।