সকালে পুলিশ স্টেশনে, একজন রক্ষী প্যাডকে কিছু একটা খেতে দিল যা খাবার যোগ্য নয়। তারপর তাকে সাদা পোশাকের দুজন অফিসার এবং একজন বিটি প্রতিনিধি পাহারা দিয়ে একটা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নিয়ে যায়।

সে কি কোনো আইনজীবির কথা বলেছে? না। তার তো লুকানোর কিছু ছিল না। তাছাড়া, পুলিশ ইতিমধ্যেই তার বাড়ি থেকে আলামত জব্দ করেছে, যার মধ্যে তার হ্যাকিং কার্যক্রমের আনএনক্রিপ্টেড ডাটা লগগুলোও আছে। এসবের বিরুদ্ধে সে কি যুক্তি দিবে? কাজেই সে কঠোন জিজ্ঞাসাবাদ মোকাবেলা করবে এবং নিজ থেকেই সব প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দিবে।

যেই মুহূর্তে তারা গ্রেটার লন্ডন পলিটেকনিক এর কম্পিউটারগুলোতে ‘ক্ষতিসাধনের’ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে বসল তখন হঠাৎ করেই ঘটনাপ্রবাহ অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। ক্ষতিসাধন? কি ক্ষতিসাধন? প্যাড নিশ্চিতভাবেই কোনো ক্ষতিসাধন করেনি।

জ্বী, পুলিশ তাকে বলল। প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ডের এক-চুতর্থাংশ পরিমাণ অর্থমূল্যের ক্ষতিসাধন।

প্যাড ভয়ে হাঁসফাঁস করতে লাগল। এক মিলিয়ন পাউন্ডের এক-চুতর্থাংশ? তার চোখের সামনে বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমে অগুণতি আক্রমণের ঘটনাগুলো ভেসে উঠতে লাগল। সে সামান্যই দুষ্টুমি করত, সম্ভাষণ বার্তার লেখা পরিবর্তন করে ‘হাই’ লিখে দিত এবং ৮১গ্রাম এর সই দিয়ে দিত। সে নিজের জন্য কয়েকটা একাউন্ট বানাত যাতে সে পরে আবার ঢুকতে পারে। সেসব তো বিশেষ কিছু নয়, তবে, তার এবং গ্যান্ডাল্ফ’র একটা অভ্যাস ছিল ৮১গ্রাম নামের জ্যানেট সিস্টেমে একাউন্ট খোলা। সে তার যাবতীয় কার্যক্রমের লগও মুছে দিত যাতে তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, কিন্তু তবুও, এসবের কোনোটাই অস্বাভাবিক কিছু নয়, এবং সে নিশ্চিতভাবেই বলতে পারে, কোনোদিন কোনো কম্পিউটার ব্যবহারকারীল ফাইল সে মুছে দেয়নি। পুরো জিনিসটাই নিছক আনন্দের জন্যই করা, সিস্টেম এডমিনদের সঙ্গে একটু ইঁদুর-বেড়াল খেলার উদ্দেশ্যে। সে এমন কোনোকিছুই মনে করতে পারল না যার জন্য তার বিরুদ্ধে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা যায়। নিশ্চিতভাবেই কি তারা ভুল কাউকে ধরেছে?

না, তাকেই তারা খুঁজছিল। বিটি, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’র আশিজন গোয়েন্দা এবং অন্যান্যরা ৮১গ্রাম’র হ্যাকারদের পিছনে গত দুইবছর ধরে ছুটছে। তারা জানত এই লোকই সেই বান্দা।

এই প্রথমবারের মত, পরিস্থিতির সত্যিকার গভীরতা প্যাড অনুধাবন করতে পারল। এই লোকগুলো কোনোভাবে বিশ্বাস করে যে সে গুরুতর ফৌজদারী ক্ষতিসাধন করেছে, যার জন্য সে খল চরিত্র হয়ে গেছে।

দুইঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর, তারা প্যাডকে আবার সেলে ফেরত পাঠিয়ে দিল। তারা বলল, আগামীকাল আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সেদিন বিকালে, একজন অফিসার এসে প্যাডকে জানালো যে তার মা এবং বাবা বাইরে অপেক্ষা করছে। অতিথি কক্ষে সে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবে। কাঁচে ঘেরা দেয়ালের ওপাশ থেকে, প্যাড তার চিন্তিত বাবা-মাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। পাঁচ মিনিট পর, একজন অফিসার এসে তার পরিবারকে জানাল সাক্ষাতের সময় শেষ হয়েছে। কারারক্ষীর অধৈর্য চাহনির মাঝে তাড়াহুড়ো করে বিদায় জানাবার সময়, প্যাড’র বাবা-মা তাকে বলল তারা সেলে বসে পড়ার জন্য একটা জিনিস এনেছে। সেই ওশানোগ্রাফির পাঠ্যপুস্তকটি।

সেলে ফিরে সে পড়তে চেষ্টা করল, কিন্তু মনযোগ দিতে পারল না। লন্ডন পলিটেকনিকে ঢোকার দিনগুলোর কথা তার বারবার মনে পড়তে থাকল, সে কীভাবে ২৫০০০০ স্টার্লিং মূল্যের ক্ষতিসাধন করেছে তাও খোঁজার চেষ্টা করল। প্যাড খুব ভাল হ্যাকার ছিল; সে তো চৌদ্দ বছর বয়সী কোনো বাচ্চা না যে বেপরোয়াভাবে সিস্টেমে ঢুকে হাঙ্গামা করেছে। কোনো সিস্টেমে কোনো ক্ষতি না করেই কীভাবে ঢুকতে এবং বেরোতে হয় সেসব তার জানা ছিল।

রাত ৮টার কিছু সময় পরেই, প্যাড যখন লোহার বিছানায় শুয়ে পুলিশের ক্ষতিসাধনের দাবী নিয়ে যন্ত্রণা পাচ্ছিল, তখন পুরো সেল একটা বিষাদময় সংগীতে ছেয়ে গেল। প্রথমে খুবই মৃদু শব্দে, বলতে গেলে প্রায় অদৃশ্য একটা গোঙানির মত শব্দ থেকে ধীরে ধীরে গম্ভীর কিন্তু চেনা কতগুলো সুর বেজে উঠল। শুনতে অনেকটা ওয়েলস দোহার গানের মত এবং সেটা তার ছাদের উপর থেকে ভেসে আসছিল।

প্যাড সিলিঙের দিকে তাকাল। গানটা — সবগুলো পুরুষকণ্ঠ — হঠাৎ হঠাৎ থেমে যায়, তারপর আবার শুরু হয়, একই গুরুগম্ভীর সুরের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। হ্যাকারটি হেসে ফেলল। স্থানীয় পুলিশের দোহার দল ঠিক তার উপরতলায় অনুশীলন করছে।

একটা অশান্তিময় রাতের পরে, প্যাডকে আরেকদফা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হল। পুলিশই বেশী প্রশ্ন করল, কিন্তু তাদেরকে কম্পিউটারের ব্যাপারে তেমন জানাশোনাওয়ালা বলে মনে হল না — মানে, আলটসের যেকোন ভাল হ্যাকারের তুলনায় তো নিতান্তই নস্যি। পুলিশ যখনই কোনো টেকনিক্যাল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, তখনই তারা টেবিলের এক কোণায় বসা বিটি প্রতিনিধির দিকে এমনভাবে তাকাত যেন বলতে চাইছে, ‘প্রশ্নটা ঠিকঠাক হলো তো?’ তখন সেই বিটি প্রতিনিধিটি হালকা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলে পুলিশ তখন আবার প্যাডের দিকে ফিরে তাকিয়ে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করত। বেশীরভাগ সময়ই, সে বুঝতে পারত তারা আসলে কি জানতে চাইছে, এবং সেইসমতোই সে উত্তর দিত।

তারপর চার্জশিট তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আবার সেই সেলে ফেরা। আবার একাকী, প্যাড’র আবারও মনে পড়ল ওরা গ্যান্ডাল্ফকেও ধরেছে কিনা। ছাদ ভেদ করে আসা টেলিফোনের শব্দ যেন প্যঅডের সেই উত্তর দিতেই চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাদের নিয়তি নিয়ে যেন বারবার খেলছে। যখন সে জানতে পারল তারা গ্যান্ডাল্ফকে ধরেছে তখন থেকেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।

গ্যান্ডাল্ফ তার কম্পিউটারের সঙ্গে একটা টোন ডায়ালার ঝুলিয়ে রাখত। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে পুলিশ সেটা নিয়েই খেলেছে, বুঝার চেষ্টা করেছে।

কাজেই, গ্যান্ডাল্ফ’র সঙ্গে প্যাড’র সাক্ষাত হতে যাচ্ছে পরিচয়ের প্রায় দুই বছর পরে। সে দেখতে কেমন হবে? অনলাইনের মতো বাস্তবেও কি তাদের খুব জমবে? প্যাড’র মনে হল সে গ্যান্ডাল্ফকে চেনে, তার মতিগতি বুঝে, কিন্তু সামনাসামনি দেখা হলে বুঝে উঠতে হয়তো সামান্য সমস্যা হতে পারে।

চার্জশিট সহ যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছে – এই কথাটি জানাতে একজন পুলিশ অফিসার এসে প্যাড’র সেলের দরজা খুলে দিল এবং তাকে একটা বড় হলঘরে নিয়ে যেতে যেতে বলল, এবার সে গ্যান্ডাল্ফ এবং ওয়ান্ডি দুজনের সঙ্গেই দেখা করতে পারবে। পুলিশের এক বিশাল দল অর্ধবৃত্তাকারে অপর দুই যুবককে ঘিরে রেখেছিল। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’র কম্পিউটার ক্রাইমস ইউনিট এবং বিটি’র লোকজন ছাড়াও, অন্তত সাতটি ভিন্ন ভিন্ন পুলিশ ফোর্সের লোকজন বৃহত্তর ম্যানচেস্টার, মার্সিসাইড এবং পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের এই তিনটি পাকড়াও অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

দীর্ঘ দুই বছরের অনুসন্ধানের পরেও, পুলিশ হ্যাকারদের আসল পরিচয় জানতে পারেনি। বিশাল এবং শ্রমসাধ্য অনুসন্ধানের পরেও, পুলিশকে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কারণ তারা প্রতিটা হ্যাকারকে কাজ করার সময় হাতেনাতে ধরতে চেয়েছিল। তার মানে হল, তারা লগইন করবার আগে প্রত্যেকের বাড়ির বাইরেই তারা লুকিয়ে থাকত। যেকোনো সিস্টেমে লগইন করলেই হল এবং তাদেরকে অন-লাইনে কথাও বলতে হত না — কারণ লগইন করাই অবৈধ। পুলিশ অনেক ধৈর্য্য ধরেছে এবং অবশেষে প্রত্যেককে কয়েকঘন্টার ব্যবধানে পাকড়াও করেছে, কাজেই তারা একে অপরকে সাবধান করার মত সময় পায়নি।

কাজেই, এই বিরাট অনুসন্ধান এবং সুসংগঠিত অভিযান অন্তে, পুলিশ চাইছিল হ্যাকারদের ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে।

পুলিশ অফিসারটি প্যাডকে তাদের গ্রুপের কাছে নিয়ে গিয়ে গ্যান্ডাল্ফ’র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। লম্বা, বাদামী চুল এবং ফ্যাকাসে চামড়া, সে দেখতে অনেকটা প্যাড’র মতোই। দুই হ্যাকার একে অপরের দিকে চেয়ে লাজুক ভঙ্গিতে হাসল, তারপরই কোনো একজন পুলিশ ওয়ান্ডির দিকে নির্দেশ করল, সতের বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা। প্যাড ওয়ান্ডি’র দিকে ভালোমত দেখার সুযোগ পেল না, কারণ, তাদের উদ্দেশ্যে বিশদ কথা বলার উদ্দেশ্যে পুলিশ দ্রুত গ্যান্ডল্ফকে মাঝখানে রেখে হ্যাকারদেরকে একটা লাইনে দাঁড় করিয়ে দিল। কম্পিউটার মিসইউজ এক্ট ১৯৯০ এর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হলে তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

অবশেষে তাদের যখন বেরিয়ে যাবার অনুমতি মিললো, ততক্ষণে ওয়ান্ডি চলে গেছে।

প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ হেঁটে হেঁটে বাইরে বেরিয়ে এলো, কয়েকটি বেঞ্চ থেকে সেখানে বসে পড়ল, বাড়িতে ফেরার গাড়ির অপেক্ষায় রোদ পোহাতে পোহাতে গল্প করতে লাগল।

গ্যান্ডাল্ফকে অনলাইনের মতো বাস্তবেও মিশুক হিসেবে মনে হল। তারা ফোন নম্বর বিনিময় করল এবং পুলিশের তল্লাসির সময়কার কথার্বাতাও বলল। জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে গ্যান্ডাল্ফ আইনজীবির সঙ্গে দেখা করার দাবী করেছিল, কিন্তু যে আইনজীবি এলো, তার কম্পিউটার ক্রাইম বিষয়ক বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। সে গ্যান্ডাল্ফকে পরামর্শ দিয়েছিল যে পুলিশ যাকিছু জানতে চায় সবই যেন সে বলে দেয়, কাজেই সে তাই-ই করেছে।

বিচারের কার্যক্রম লন্ডনে শুরু হল। প্যাড বুঝতে পারল না কেন, তিনজন হ্যাকারের প্রত্যেকেই তো উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা, কিন্তু মামলার কার্যক্রম চলছে দক্ষিণাঞ্চলে। তাছাড়া, ম্যাঞ্চেস্টারের আদালতও তাদের অপরাধের শুনানি করার মত যথেষ্ট শক্তিশালী।

হয়তো, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড লন্ডনে হবার কারণেই এমনটা হচ্ছে। হয়তো তারা যাবতীয় কাগজপত্র সেখানেই তৈরি করেছিল। হয়তো তারা যে কম্পিউটারগুলোকে হ্যাক করেছিল সেগুলো লন্ডনের ওল্ড বেইলী’র সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টের এখতিয়ারের অধীনে ছিল। কিন্তু প্যাড’র দোষৈকদর্শী মনে ভিন্ন একটা চিন্তার আভাস দেখা দিয়েছিল — সেই অনুমানটি ১৯৯৩ সালে নির্ধারিত বিচার শুরুর আগে ১৯৯২ সালেই কয়েকটি শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পর আরও ঘনীভূত হয়। ১৯৯২ সালের এপ্রিলে যেদিন প্যাড বো স্ট্রিটের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার কমিটালের জন্য গিয়েছিল, সেখানে সে গণমাধ্যমকর্মীতে ভরে থাকতে দেখে, ঠিক যেমনটা সে সন্দেহ করেছিল।

কয়েকজন হ্যাকার আবার এগিয়ে এসে আন্ডারগ্রাউন্ডের পাতাকাও উড়াচ্ছিল। আদালত থেকে বেরোনোর পর তাদের একজন — অপরিচিত — প্যাড’র দিকে এগিয়ে এসে তাকে পিঠ চাপড়ে আনন্দিত কণ্ঠে বলে, ‘দারুণ করেছ, প্যাডি!’ সচকিত হয়ে প্যাড তার দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে। এই আগন্তুকের কথার কী উত্তর সে দিবে ভেবে পায় না।

অস্ট্রেলিয়ার সেই তিন হ্যাকারের মতোই, প্যাড, গ্যান্ডাল্ফ এবং অখ্যাত ওয়ান্ডিকেও নতুন হ্যাকিং আইনের বলীর পাঁঠা সাজতে হল। ব্রিটিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে এর পেছনে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হয়েছিল — ৮১গ্রাম এর মামলা চলাকালে — সংবাদপত্রগুলোর পেছনেই তারা ৫০০০০০ স্টার্লিঙেরও বেশী অর্থ ব্যয় করেছিল। এই মামলাটা একটা মাইলফলক মামলা হতে যাচ্ছে এবং সরকারি সংস্থাগুলো করদাতাদের একটি কথাই বুঝাতে চেষ্টা করছিল যে, তারা তাদের প্রদেয় অর্থের সঠিকভাবেই উসুল করছে।

হ্যাকারদের বিরুদ্ধে কম্পিউটারে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যা আরও বেশী গুরুতর অপরাধ। সেই হ্যাকারত্রয় কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য হ্যাক করেনি মর্মে স্বীকার করলেও রাষ্ট্রপক্ষ দাবী করে যে হ্যাকাররা কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে তাতে পরিবর্তনের  ষড়যন্ত্র করেছিল। হ্যাকাররা কখনো সামনাসামনি দেখাও করেনি এমনকি গ্রপ্তার হবার সময়ও তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেনি এই বিষয়টুকু খেয়াল করলে এই দাবী যে অত্যন্ত অদ্ভূত তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না।

তবে, শাস্তির কথা বিবেচনায় ধরলে বিষয়টা এতোটাও অদ্ভূত ছিল না। যদি হ্যাকারদেরকে কোনো ক্ষতিসাধন ব্যতিরেকে শুধুমাত্র মেশিনে অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত করা হত, তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি হত ছয় মাসের জেল এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ স্টার্লিং। আর, আইনের অন্য ধারায় বর্ণিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল এবং যেকোন অংকের অর্থদন্ড হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষ বড় দাঁওটাই মারতে চাইছিল। যদিও ষড়যন্ত্র প্রমাণ করা কঠিন হবে, কারণ তখন হালকা অভিযোগের তুলনায় গুরুতর অপরাধমূলক উদ্দেশ্যকে প্রমাণ করতে হবে। এরজন্য নিশ্চয়ই শাস্তিও হবে অনেক বড়। অপরাধ প্রমাণ হলে, ব্রিটেনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই হ্যাকিং মামলাটির আসামীদেরকে জেলে যেতে হবে।

দ্য রেল্ম মামলার মতোই, দুই হ্যাকার — প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ — সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা অপরাধ স্বীকার করবে কিন্তু তৃতীয়জন — ওয়ান্ডি — সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লড়বে। আইনগত সহায়তা তাদের আইজীবিদের অর্থ পরিশোধ করছিল, কারণ হ্যাকাররা হয় বেকার নাহয় তাদের আয় এতোই কম ছিল, চাকুরী ছিল সাময়িক যে তারা আইনগত সহায়তা পাবার যোগ্য ছিল।

ওয়ান্ডি’র আইনজীবি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন এই প্রদর্শনীমূলক বিচার রাষ্ট্রীয় বিচারের সমতুল্য। নতুন আইনের অধীনে এটিই সর্ববৃহৎ হ্যাকিং মামলা যেখানে কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীকে সমর্থন করা হচ্ছে। যেকোন সাধারণ বিচারের চেয়ে এই বিচারের কোনো আলাদা কোনো মর্যাদা না থাকায়, রাষ্ট্রীয় বিচার শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে রাষ্ট্রের ক্রোধকেই বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে — এ হল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যে ধরণের ক্রোধ প্রকাশ করে থাকে, সেই ধরণের ক্রোধ।