তখনো নিচতলায় কম্পিউটারে বসা প্যাড, ক্ষিপ্র গতিতে তার মডেম খুলে এবং তারপর তার কম্পিউটার বন্ধ করায় — তৎক্ষণাৎ তার সংযোগ এবং কম্পিউটারের পর্দার যাবতীয় জিনিসপত্র বন্ধ হয়ে গেল।

সে পিছন ঘুরে বসার ঘরের দিকে ছুটল এবং উপরতলায় কী হচ্ছে তা শোনার চেষ্টা করল। নেহায়েত এতোটা অবাক না হলে, নিশ্চিত সে হেসেই ফেলত। সে বুঝতে পারল পুলিশ যখন তার শোবার ঘরের দিকে অবস্থান নিয়েছে, তখন তারা  হ্যাকারদের সম্পর্কে প্রচলিত যাবতীয় চলতি কথাবার্তার কথা মাথায় রেখেছে। বাচ্চা ছেলেটা। শোবার ঘর। কম্পিউটারের সামনে কুঁজো হয়ে থাকার দৃশ্য। মাঝরাত।

শোবার ঘরে তারা কম্পিউটার চালানোরত একজন তরুণ যুবককে পেয়েছিল বটে। তবে ভুল মানুষকে, এবং অবধারিতভাবে ভুল কম্পিউটারটি। প্যাড’র ভাইকে চিনে নিজেদের ভুলটা বুঝতে পুলিশের ঝাড়া দশ মিনিট সময় লেগে গেল।

গোলমাল শুনে, প্যাড’র বাবা-মা ছুটে সদর ফটকে যাচ্ছিলেন আর প্যাড সেই সময় দরজা থেকে বসার ঘরে ঢুকছিল। সেই সময় পোশাক পরিহিত জনৈক পুলিশ অফিসার সবাইকে ঘরে নিয়ে গেল এবং প্যাডকে প্রশ্ন করতে শুরু করল।

‘আপনি কম্পিউটার ব্যবহার করেন? আপনি কী কম্পিউটারে প্যাড নামটা ব্যবহার করেন?’ তারা জিজ্ঞেস করল।

প্যাড বুঝতে পারল খেল খতম। সে তাদের প্রশ্নের সত্য উত্তর দিল। সে ভেবেছিল, হ্যাকিং নিশ্চয়ই খুব বড় ধরণের অপরাধ নয়। সে তো আর কোনো টাকাপয়সা বা অন্যকিছু চুরি করেনি যে তাই হবে। এসব নিশ্চয়ই নাটক, কিন্তু সে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই নিবে। তাকে হয়তো সতর্কভাবে কিছু বিষয় এড়াতে হবে, সামান্য শাস্তি সহ্য করতে হবে এবং তারপর হয়তো সবকিছুটা ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

পুলিশ প্যাডকে তার শোবার ঘরে নিয়ে গেল এবং তল্লাসি চালাতে চালাতেই তাকে নানারকম প্রশ্ন করতে লাগল। শোবার ঘরটায় বেশ আরামদায়ক জীবনযাপনের চেহারা ছিল, এক কোণে ছিল কাপড়চোপড়ের ছোট্ট স্তুপ, মেঝেতে ছড়ানো কিছু জুতা, কোঁচকানো পর্দা এবং দেয়ালে সাঁটানো কয়েকটি গানের পোস্টার – জিমি হেনড্রিক্স এবং দ্য স্মিথস।

একদল পুলিশ তার কম্পিউটারে তল্লাসি চালিয়ে দেখল। একজন পিসির উপরে শেলফে রাখা প্যাড’র বইপত্র একটা একটা করে নামিয়ে ঘেঁটে দেখতে লাগল। স্পাইক মিলিগ্যানের কয়েকটি বহুল জনপ্রিয় বই। তার স্থানীয় দাবা দলের ক্যাপ্টেন থাকার আমলের কিছু পুরোনো দাবা খেলার বই। রসায়নের বই, এই বিষয়ে ক্লাস করার আগে যেগুলো সে নিজের আগ্রহ মেটাবার জন্য কিনেছিল। পদার্থবিজ্ঞানের বই। একটা ওশানোগ্রাফি’র পাঠ্যপুস্তক। তার আগ্রহের একটা গুহা ঘুরে আসার পর পাথরের গঠন নিয়ে আগ্রহ জন্মালে তখন কেনা একটা ভূতত্ত্ব বিষয়ক বই। প্যাড’র মা, পেশায় একজন সেবিকা যাজক এবং বাবা, একজন ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়র যিনি এরোপ্লেনের জাইরো পরীক্ষা করতেন। তাঁরা সবসময় তাদের সন্তানদের বিজ্ঞান বিষয়ক আগ্রহকে উৎসাহ দিতেন।

পুলিশের লোকটি বইগুলো আবার শেলফে রেখে দিল, শুধুমাত্র কম্পিউটার সংক্রান্ত বইগুলো আলাদা করে রাখল, যার মধ্যে ছিল পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রোগ্রামিং এবং ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে প্যাড’র করা গণিত ক্লাসের বই। অফিসারটি সতর্কতার সঙ্গে সেগুলোকে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়ে আলামত হিসেবে জব্দ করল।

এরপর পুলিশ প্যাড’র গানের টেপ থেকে বাছতে শুরু করল — দ্য স্টোন রোজেস, পিক্সিস, নিউ অর্ডার, দ্য স্মিথস এবং ম্যানচেস্টারের উদীয়মান সংগীত জগতের আরও অনেকগুলো ইন্ডিই ঘরানার সংগীত। সংগীতের একটা দারুণ রুচিবোধ ছাড়া সেখানে আলামতের জন্য আর কিছুই ছিল না।

অন্য আরেকজন পুলিশের লোক প্যাড’র ওয়ার্ডরোব খুলে ভিতরে দেখতে লাগল। ‘দেখাবার মত কোনোকিছু এর ভিতরে আছে?’ সে জিজ্ঞেস করল।

‘না,’ প্যাড উত্তর দিল। ‘সবকিছু ওইখানে আছে।’ সে কম্পিউটার ডিস্কগুলোর দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাল।

প্যাড ভাবতে পারেনি যে পুরো বাড়িটা এতো তন্নতন্ন করে খুঁজে পুলিশের লাভটা কী হবে, তারা তো যা চাইবে তার সবকিছু এমনিতেই পেয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের মত, প্যাডও পুলিশের এই আগমন ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করেনি। যদিও তার হার্ডড্রাইভের কিছু তথ্য এনক্রিপ্ট করা আছে, তা সত্ত্বেও বহু দোষ ধরার মত যথেষ্ট আলামত আন-এনক্রিপ্টেড অবস্থায় রয়ে গেছে।

পাশের ঘরে তার মা-বাবা পুলিশের সঙ্গে ঠিক কি বিষয় নিয়ে কথা বলছিল তা প্যাড ঠিকমত শুনতে পাচ্ছিল না, কিন্তু সে নিশ্চিত তারা চুপ করে আছে। আর থাকবে না-ই বা কেন? তাদের সন্তান তো এমন কোনো লঙ্কাকান্ড করেনি। সে তো পাবে গিয়ে হাঙ্গামা করে কারও সঙ্গে মারামারি করেনি , বা ছিনতাই করেনি। মাতাল হয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে সে কাউকে ধাক্কাও দেয়নি। না, তারা ভেবেছিল, সে কম্পিউটারে বিভিন্ন জায়গায় মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়। হয়তো এমন জায়গায় গিয়েছে যেখানে যাওয়া উচিত হয়নি, কিন্তু, তাতে তো বিরাট কোনো অপরাধ হয় না। তাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নাই। জেলে বা অন্যকোথাও যাবার মতো ঘটনাও এটা নয়। পুলিশ নিশ্চয়ই সবকিছু বুঝতে পারবে। হয়তো একধরণের সতর্কবার্তা, এবং তারপর সবকিছু আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে। প্যাড’র মা এমনকি পুলিশদের চা খাবার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।

চা খাবার ফাঁকে একজন পুলিশ প্যাড’র সাথে কথা বলতে শুরু করল। সে হয়তো জানত যে প্যাডকে হাতখরচ নিয়ে চলতে হত, এবং, একদৃষ্টে তাকিয়ে সে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার যদি চাকরিরই প্রয়োজন ছিল, তাহলে তুমি পুলিশে যোগ দিলে না কেন?’

প্যাড সম্বিত ফিরে পেতে একটু থামল। এইখানে সে শ’খানেক কম্পিউটারে হ্যাকিং এর জন্য প্রায় এক ডজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসারদের দ্বারা অবরুদ্ধ — যার মধ্যে বিটি এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’র কম্পিউটার ক্রাইমস ইউনিটের প্রতিনিধিরাও আছে — আর এই লোকটি জানতে চাইছে সে কেন পুলিশে যোগ দিল না?

সে হাসার চেষ্টা করল। যদিও সে ধরা নাও খেত, তবুও ইহজনমে তার পুলিশে যোগ দেবার কোনো খায়েশ হত না। মিলিয়ন বছরেও না। তার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবরা, মধ্যবিত্ত জীবনযাপনের প্রতি অনুরক্ত হওয়া সত্ত্বেও, মূলত এন্টি-এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষের লোক। অনেকেই জানে প্যাড হ্যাকিং করে, এও জানে কোন কোন সাইটে সে ঢোকার চেষ্টা করত। তাদের ভাবভঙ্গী ছিল: বিগ ব্রাদারকে হ্যাক করছ? তোমার মঙ্গল হোক।

তার বাবা-মা একটু দ্বিধায় থাকত, তারা কম্পিউটারে প্যাড’র আগ্রহকে উৎসাহও দিত আবার তাদের পুত্র একটা বিরাট সময় কম্পিউটারের পর্দা আঠার মতো লেগে থাকে দেখে দুশ্চিন্তাও করত। তাদের মিশ্র অনুভূতি কখনো কখনো প্যাডের মাঝেও দেখা যেত।

অসংখ্য যন্ত্রণাময় হ্যাকিং করার রাতগুলোতে, কখনো সে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ত এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করত, আমি এখানে কি করছি, সারা দিনরাত এই বালের কম্পিউটারের সামনে বসে আছি? এর পরিণতি কি? বাকি জীবন কি করব আমি? এইসব বলে সে নিজেকে হ্যাকিং থেকে কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করত। তখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবে গিয়ে বেশীরভাগ সময়ই তার সহপাঠী ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে বসে মদ গিলত।

লম্বা, ছোট করে ছাঁটা বাদামী চুল, দোহারা গড়ন এবং আকর্ষণীয় পুরুষালী চেহারা, মৃদুভাষী প্যাডকে অনেক বুদ্ধিমতী তরুণীই আকর্ষণীয় বলে মনে করত। কিন্তু সমস্যা হল এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়াই দায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে এরকম খুব বেশী খুঁজে পায়নি — গণিত এবং কম্পিউটার ক্লাসে সামান্য কয়েকজন মেয়ে ছিল। কাজেই সে এবং তার বন্ধুরা ম্যানচেস্টারের নাইটক্লাবগুলোতে সামাজিক মেলামেশা এবং ভাল সংগীতের আশায় মাঝেমাঝেই যেত।

প্যাড একজন অফিসারের সঙ্গে নিচে নেমে এলো এবং পুলিশকে তার ১২০০ বডের মডেম খুলে, প্লাস্টিকের একটা ব্যাগে পুরতে দেখল। তার যখন আঠার বছর বয়স ছিল তখন সে ওই মডেমটা কিনেছিল। পুলিশ সেটার তারগুলো খুলে ফেলেছে, সেগুলো বান্ডিল পাকিয়েছে এবং লেবেল সাঁটানো প্লাস্টিক ব্যাগে তুলে ফেলেছে। তারা তার ২০ মেগাবাইটের হার্ডড্রাইভ এবং মনিটরও এক জায়গায় জড়ো করেছে। আরও প্লাস্টিক ব্যাগ এবং লেবেলও প্রস্তুত আছে।

একজন অফিসার প্যাডকে সদর দরজার কাছে ডাকল। ভাঙা দরজায় তখনো জ্যাকটা লাগানো ছিল। পুলিশ দরজায় কড়া না নেড়ে ভেঙে ঢুকেছিল কারণ তারা হ্যাকারকে হাতেনাতে ধরতে চেয়েছিল। অফিসারটি তাকে অনুসরণ কর প্যাডকে ইশারা করল।

‘আসো,’ হ্যাকারটিকে রাতের অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে যেতে সে বলল। ‘আমরা তোমাকে স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছি।’

প্যাড স্যালফোর্ড ক্রিসেন্ট পুলিশ স্টেশনে একাকী একরাত্রি কাটাল। আর কোনো কুখ্যাত আসামী বা অন্যকোনো হ্যাকার সেখানে ছিল না।

সেলের সঙ্গে লাগোয়া একটা লোহার খাটে সে শুয়ে পড়ল, কিন্তু ঘুম এলো না মোটেও। প্যাড ভাবছিল, গ্যান্ডাল্ফও তার মতো ধরা খেল কিনা। তার আসার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু তবুও, পুলিশ দুইজন হ্যাকারকে একই জায়গায় রেখে দেওয়ার বোকামী নিশ্চয়ই করবে না। সে পাশ ফিরে শুলো, মাথা থেকে এসব চিন্তা বিদায় করার চেষ্টা করল।

প্যাড’র হ্যাকিঙে জড়িয়ে পড়া ছিল একটা আকস্মিক ঘটনা। আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্যান্যদের তুলনায়, সে এসবে অনেক বেশী বয়সে জড়িয়েছিল – প্রায় ঊনিশ বছর বয়সে।

আলটস ছিল এক্ষেত্রে অনুঘটক। বিবিএসগুলোতে ঘোরাফেরা করে, সে শুধু আলটসের ব্যাপারে জানতেই পারেনি, বরং কিভাবে সেটাতে ঢুকতে হয় তাও জেনেছিল — সঙ্গে এনইউআই-ও। অস্ট্রেলিয়ান আন্ডারগ্রাউন্ডের মত, সবে দানা বাঁধা ব্রিটিশ আন্ডারগ্রাউন্ডে এনইউআই-এর কোনো অভাব ছিল না। কেউ একগাদা বিটি এনইউআই আবিষ্কার করলেই সেটা ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিবিএসগুলোতে দিয়ে দিত।

প্যাড বিবিএস’র ফাইলের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুতই জার্মান চ্যানেলে ঢুকে পড়ে। থিওরেম’র মতোই, সেও আলটসের নির্ভীক নতুন প্রাণবন্ত দুনিয়া দেখে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল। অসাধারণ এক জায়গা ছিল সেটা, বিশাল একটা আন্তর্জাতিক মিলনমেলা। সবচেয়ে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ান, সুইস, জার্মান, ইতালিয়ান এবং আমেরিকানদের সঙ্গে তো আর তারপক্ষে প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব হত না। অনতিবিলম্বে, আলটসের অন্যান্য নিয়মিতদের মতোই সেও হ্যাকিংকে স্নায়ুতে এঁটে নিল।

হ্যাকিঙের প্রত্যয়টি তাকে বরাবরই মুগ্ধ করত। টিনেজার হিসেবে, ওয়ার গেমস চলচ্চিত্রটি তার চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল। টেলিফোন লাইন ব্যবহার করে প্রতিটি কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ করার ধারণাটা তখন সেই ষোল-বছর বয়সী বাচ্চার মনে নতুন চিন্তার উন্মেষ ঘটিয়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। এর কিছুকাল পরেই সে একটা টেলিভিশন রিপোর্ট দেখে যেখানে একদল হ্যাকার দাবী করে যে তারা তাদের হ্যাকিং দক্ষতা প্রয়োগ করে মহাশুন্যে ভাসমান স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তন দিয়েছে। এই একই রিপোর্ট ইলেক্ট্রন’র কল্পনার জগতকেও নড়িয়ে দিয়েছিল।

প্যাডের বেড়ে ওঠা বৃহত্তর ম্যানচেস্টারে। প্রায় শতবর্ষ পূর্বে, সেই এলাকাটি বয়নশিল্পসমৃদ্ধ নগর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জনগণের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি। ১৮৪০ এর গোড়াতে, ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস এই এলাকাতেই তার বাবার তুলার কারখানায় কাজ করতেন এবং সেইসময় তিনি যেসব ভোগান্তি স্বচক্ষে দেখেছিলেন সেসবই ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত লেখা, দ্য কমুনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে উঠে এসেছিল।

ম্যানচেস্টারের গায়ে শ্রমজীবির ব্যক্তিত্ব লেগে ছিল, এটা এমন জায়গা যেখানে মানুষ এস্টাবলিশমেন্টকে ঘৃণা করত এবং শাসক শ্রেণীর প্রতি তাদের ছিল অবিশ্বাস। ১৯৭০ এবং ১৯৮০’র দশক ম্যানচেস্টারের ভাগ্যের প্রতি সদয় ছিল না, বেকারত্ব এবং সভ্যতার পচন এক সময়ের গর্বিত বয়নশিল্পের কেন্দ্রকে নষ্ট করে ফেলেছিল। কিন্তু এই পচন আবার শ্রমজীবি সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশকে ক্ষমতাচক্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে শক্তি জুগিয়েছিল।

প্যাড কোনো আকাশচুম্বী বাড়িতে থাকত না। সে শহরের উপকণ্ঠে মধ্যবিত্তদের এলাকায় বেড়ে উঠেছিল, নগরের ভিতরকার বিষন্নতাকে পাশ কাটিয়ে চলা পুরোনো, শ্রমজীবি সম্প্রদায়ের সে শহর। কিন্তু, উত্তরের বহু মানুষের মতোই, সেও ভন্ডামী অপছন্দ করত। বস্তুত, তার ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণে সংশয়বাদ বেশ ভালোভাবে লালিতপালিত হয়েছিল, যেখানে সে কিনা এমন একটা সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখেছে যেখানে তার বন্ধুদেরই প্রিয় কাজ ছিল পাবে গিয়ে একে অপরকে ল্যাঙ মারার চেষ্টা।

সংশয়বাদ তার মনে পুরোদমে গেঁড়ে বসলেও, হ্যাকাররা কেমন করে স্যাটেলাইটগুলোকে মহাশুন্যের মধ্যে নড়িয়ে দিয়েছিল তা কোনো কারণে তার মনের ভিতরকার সতর্ক নজর পেরিয়ে তার চিত্তকে ছেয়ে ফেলতে পেরেছিল, ঠিক যেমনটা ঘটেছিল ইলেক্ট্রনের বেলাতেও। ব্যাপারটার সত্যতা যাচাই করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার মনে দানা বেঁধেছিল এবং সে হ্যাকিঙে মহা উৎসাহে লেগে গিয়েছিল। প্রথম দিকে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মনে হওয়া কোনো সিস্টেম তার শিকার হত। তারপর সে নামকরা সিস্টেমগুলোতে–বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটারগুলোতে ঢুকতে শুরু করল। কালক্রমে, অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে, সে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে শিখল। আর সেইখানেই, আসলে, সত্যিকার গুপ্তধন লুকিয়ে ছিল।