অধ্যায় ৭ – বিচারের দিন

তোদের স্বপ্নের রাজ্য ধ্বংসের পথে

— from ‘Dreamworld’, on Diesel and Dust by Midnight Oil

পৃথিবীর আরেক প্রান্তে বসে, ব্রিটিশ হ্যাকার প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ মহা উৎকণ্ঠায় জানতে পারল যে অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রেল্ম’র তিনজন হ্যাকারকে ধরেছে। অকস্মাৎ একদিন ইলেক্ট্রন গুম হয়ে গেল। এর কিছু সময় পরে ফিনিক্সও। তখনই খবরের কাগজগুলোতে এবং লুৎজিফার নামের আলটসের মত আরেও একটি জার্মান বোর্ডের অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের মাধ্যমে এই খবর চাউর হয়ে গেল।

অন্য আরেকটা বিষয় প্যাডকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিল। একবার এক আচমকা আক্রমণের সময়, সে একটা ফাইল আবিষ্কার করেছিল, যেটা আপাতদৃষ্টে দেখে মনে হয়েছিল ইউজিন স্প্যাফোর্ড’র লেখা, যেখানে লেখা ছিল যে, তিনি এমন কয়েকজন ব্রিটিশ হ্যাকারদের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল — যাদের নাম প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ — যারা আরটিএম ওয়ার্ম এর উপর ভিত্তি করে একটা নতুন ওয়ার্ম তৈরি করবে এবং ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে। তখন অজ্ঞাতনামা এই ব্রিটিশ হ্যাকাররা হাজার হাজার ইন্টারনেট সাইটগুলোর সর্বোচ্চ ক্ষতি করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

এটুকু সত্য যে গ্যান্ডাল্ফ এবং প্যাড, দুজনেই বিভিন্ন ওয়ার্মের সোর্স কোড সংগ্রহ করত। ফাদার ক্রিসমাস ওয়ার্ম’র একটা কপি না পাওয়া পর্যন্ত তারা স্প্যান’র ভিতরেই ওঁৎ পেতে বসে ছিল। ফাদার ক্রিসমাস ওয়ার্ম। অবশেষে, এলএলএনএল’র রাসেল ব্র্যান্ড’র  কম্পিউটারটা হ্যাক করার পর, তার সুদক্ষভাবে ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম’র একটা কপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ব্র্যান্ড’র মেশিনে তারা একটা লেখা পেয়েছিল যেখানে বলা ছিল কেমন করে একদল অজানা লোক ওয়াঙ্ক ওয়ার্মের কোড খুঁজতে স্প্যানে ঢোকার চেষ্টা করেছিল কিন্তু শেষমেশ পায়নি। স্মৃতি হাতড়ে গ্যান্ডাল্ফ, প্যাডকে হেসে বলছিল, ‘আরে, স্প্যানে তো আমিই ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম।’

তাদের ওয়ার্ম কোডের লাইব্রেরিটা ভরাট করা ছাড়া প্যাডের আর নতুন করে কোনো ওয়ার্ম লেখার ইচ্ছা ছিল না। নতুন কিছু জানার আশায় তারা শুধুমাত্র ওয়ার্মগুলো অনুপ্রবেশ করার জন্য কি কি পদ্ধতি প্রয়োগ করত তা জানার জন্যই সেগুলোর কোড সংগ্রহ করত। কোনো সিস্টেমে ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম না করার জন্য ব্রিটিশ হ্যাকাররা গর্ববোধ করত। যেসব জায়গায় তারা বুঝতে পারত যে তাদের কার্যক্রম ধরা পড়ে গেছে — যেমন বাথ, এডিনবার্গ, অক্সফোর্ড এবং স্ট্রাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে — সেসব জায়গায় তারার ৮১গ্রাম এর তরফ থেকে এডমিনদেরকে চিঠি পাঠাত। শুধুমাত্র অহমবোধ থেকেই তারা এই কাজটা করত না — তারা যে সিস্টেমে কোনো খারাপ কাজ করবে না, এডমিনদের সেকথা বলার জন্যও তারা এটা করত।

একবার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিনরা ভেবেছীল যে ৮১গ্রাম হয়তো কোনো বিচিত্র পদ্ধতিতে লেখাবেলজিয়ান ভাষার কোনো শব্দ এবং যেসব হ্যাকার রাতের পর রাত তাদের সিস্টেমে ঢুকত তারা হয়তো বেলজিয়ামের লোক। আরেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিনরা তো পুরোই আলাদা অর্থ বের করেছিল। সকালে যখন তারা কাজে বসলো এবং দেখল যে সারারাত ধরে হ্যাকাররা তাদের সিস্টেম নিয়ে খেলেছে, তারা তখন মুষড়ে পড়ে ভাবল, ‘আটটি কচি বাচ্চা আবার এখানে এসেছিল।’

ইউনিভার্সিটি অফ ল্যানচেস্টারে, হ্যাকাররা এডমিনদের একটা চিরকুট দিয়েছিল যেখানে লেখা ছিল: ‘দুষ্টুমি করো না। সারা দুনিয়ায় আমাদের সুনাম আছে, কাজেই, দয়াকরে সেই নামটা নষ্ট করো না বা সিস্টেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গল্প ছড়িয়ো না। তোমাদের হ্যাক করে নিব এই ভেবে দমবদ্ধ করে থেকো না, কিন্তু আমাদের মনে রেখো।’ যেখানেই তারা যেত, এই বার্তাটিই পাঠাত।

যাহোক, প্যাড’র চোখে ভেসে উঠল স্প্যাফ কম্পিউটার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তোড়জোড় চালাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তটস্থ করে রেখেছে এবং ব্রিটিশ হ্যাকারদের ধরার জন্য যা-তা বলে বেড়াচ্ছে, যার কোনোকিছুই তারা করেনি। আন্ডারগ্রাউন্ড দুনিয়া হ্যাকারদের বিরুদ্ধে, বিশেষত আরটিএম ওয়ার্ম কাহিনীর উপর ভিত্তি করে স্প্যাফ’র এই অতিশয় ক্ষিপ্ততা লক্ষ্য করল। তার উপরে গ্যান্ডাল্ফ স্প্যাফ’র মেশিনও হ্যাক করেছিল।

অস্ট্রেলিয়ানদের উপরে এই দুর্যোগ, সেইসাথে স্প্যাফ’র সেই ফাইলটা আবিষ্কার, দুয়ে মিলে প্যাডকে ভালোই কাবু করে ফেলেছিল। সদা সতর্ক সেই ছেলে ঠিক করল হ্যাকিং ছেড়ে দিবে। সিদ্ধান্তটা কঠিন, এবং রাতের পর রাত নিজেকে বিভিন্ন সিস্টেমে ঘুরে বেড়ানো থেকে সামলে রাখা কোনো সহজ কর্ম নয়।  তবে, ইলেক্ট্রন এবং ফিনিক্স’র যে হাল দেখা যাচ্ছে, তাতে হ্যাকিং চালিয়ে বিপদ বাড়ানোর কোনো মানেই হয় না।

প্যাড যখন হ্যাকিং ছেড়ে দিল, তখন সে তার নিজের এনইউআই কিনে নিলো যাতে সে আলটসের মত জায়গাগুলোতে বৈধভাবেই ঢুকতে পারে। এনইউআই বেশ ব্যয়বহুল — ঘন্টায় প্রায় ১০ স্টার্লিং — কিন্তু সে খুব বেশী সময় থাকত না। একসময় আলটসে সে যে বহু সময় ধরে চ্যাট করত এখন তা করার প্রশ্নই আসে না, তবে অন্তত থিওরেম বা গ্যান্ডাল্ফ’র মত বন্দুদের মেইল তো করতে পারবে। গ্যান্ডাল্ফ’র সাথে বন্ধুত্ব চালিয়ে যাওয়া তেমন কোনো দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল না, কারণ সে লিভারপুলেই থাকত, তার এলাকা থেকে মাত্র একঘন্টার রাস্তা। কিন্তু এইরকম মজা তো আর হত না। প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ কখনো দেখা করেনি, এমনকি ফোনেও কখনো কথা বলেনি। তারা অন-লাইনে কথা বলত, মেইল করে। এইভাবেই তারা সম্পর্ক চালিয়ে যেত।

হ্যাকিং ছেড়ে দেওয়ার পেছনে প্যাড’র আরও কারণ ছিল। ব্রিটেনে এই অভ্যাস ধরে রাখা বেশ ব্যয়বহুল ছিল কারণ ব্রিটিশ টেলিকম স্থানীয় ফোনকলের জন্যও সময়ের ভিত্তিতে টাকা কাটত। অস্ট্রেলিয়াতে, যেকোন হ্যাকার একটিমাত্র স্থানীয় কলের দামেই ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে থাকতে পারত, ডাটা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ঘুরতে পারত। অস্ট্রেলিয়ানদের মত, প্যাডও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা এক্স.২৫ ডায়াল-আপ দিয়ে হ্যাকিঙের কাজকর্ম চালাতে পারত। তবে, সময় ভিত্তিক দাম ধরার কারণে একটিমাত্র ফোনকলের পয়সায় সারারাত ধরে হ্যাকিং চালানোর জন্যও তার খরচ পড়ে যেত ৫ স্টার্লিং বা তারও বেশী — যা তার মত বেকার মানুষের পক্ষে বেশ বড়সড় একটা অংক। এইসব কারণে, আগেও হাতখরচ ফুরিয়ে গেলে প্যাডকে মাঝে মাঝেই হ্যাকিংও বন্ধ রাখতে হত।

যদিও প্যাড কখনো ভাবেনি যে ১৯৯০ সালের শুরুতেই তাকে ব্রিটিশ হ্যাকিং আইনের অধীনে মামলার মোকাবেলা করতে হবে, সে শুধু জানত যে আগস্টে ব্রিটেন কম্পিউটারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিজস্বর আইন তৈরি করতে যাচ্ছে — যার নাম কম্পিউটার মিসইউজ এক্ট ১৯৯০।

এবং সে, শেষবারের মত একবার ফিরেছিল। জুলাই ১৯৯০ এর আগেই, যেদিন, তার দুই বছরের ছোট, গ্যান্ডাল্ফ, নতুন আইন আসার আগেই শেষ একটা হ্যাক চালানোর জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। জুলাইতে শেষবারের মত করে, প্যাড আবারো হ্যাকিং ছেড়ে দিল।

কম্পিউটার মিসইউজ এক্ট ১৯৯০ সালের আগস্টে পাশ হয়, তাতে আইন কমিশনের দুটি বিষয়ে রিভিউ গ্রহণ করা হয়। স্কটিশ ল কমিশনের ১৯৮৭ সালে প্রণীত রিপোর্টে প্রস্তাব রাখা হয়েছিল যে তথ্যে অনধিকার প্রবেশ অবৈধ করা হোক, তবে শুধুমাত্র সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে হ্যাকার ‘নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করবার উদ্দেশ্যে, অথবা অন্যের ক্ষতি করবার উদ্দেশ্যে’ কাজ করে — যার মধ্যে বেপরোয়া ক্ষতিসাধনও যুক্ত ছিল।[২] রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী শুধুমাত্র দেখার উদ্দেশ্যে হ্যাক কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়বে না। তবে, ১৯৮৯ সালে দ্য ল কমিশন অফ ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস তাদের নিজস্ব রিপোর্টে প্রস্তাব রাখে যে উদ্দেশ্য যাই হোক, শুধুমাত্র অনুপ্রবেশ করলেই তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে — এই সুপারিশটি পরবর্তীতে আইনে সন্নিবেশিত হয়েছিল।

১৯৮৯ এর শেষের দিকে, কনজার্ভেটিভ এমপি মাইকেল কলভিন ব্রিটিশ সংসদে ব্যক্তিগত ক্ষমতাবলে একটি বিল উত্থাপন করেন। ভদ্রমহিলার বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে, অপর একজন কনজার্ভেটিব এমপি, ঝানু হ্যাকার-সমালোচক এমা নিকোলসন সেই বিষয়ে একটি প্রকাশ্য বিতর্কের সূচনা করেন এবং শেষপর্যন্ত বিলটি তারা সংসদ থেকে সফলভাবে পাশ করিয়ে আনেন।

১৯৯০ সালের নভেম্বরের একদিন প্যাড গ্যান্ডাল্ফ’র সাথে অনলাইনে কথা বলছিল। আর তখন তার বন্ধুটি তাকে আর একটিবারের মত হ্যাক করতে অনুরোধ করেছিল। মাত্র একটিবার, পুরোনোদিনের খাতিরে। ঠিক আছে, প্যাড ভাবল, আর মাত্র একবার — শেষবারের মত– তাতে এমন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না নিশ্চয়ই।

অচিরেই, প্যাড আবার নিয়মিত হ্যাকিং শুরু করে দিল এবং এবার গ্যান্ডাল্ফ যখন হ্যাকিং ছাড়ার চেষ্টা করল, তখন প্যাড তাকে আবার সময় কাটাবার এই প্রিয় কাজটায় ফিরতে প্রলুব্ধ করতে শুরু করল। তারা যেন স্কুলের সেই বাচ্চা মানিকজোড়, যারা সবসময় একজন আরেকজনকে বিপদে ফেলে — যে ধরণের বিপদ এইরকম মানিকজোড়দের হামেশাই হয়ে থাকে। যদি প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফের পরিচয় না থাকত, তাহলে হয়তো তারা ১৯৯০ সালেই যার যার হ্যাকিং কার্যক্রম ছেড়ে দিতে পারত।

যেহেতু তারা আবার একই নেশায় ঢুকেই পড়েছে, তাই তারা ধরা খাবার ঝুঁকি যতোটা কমানো যা সেই চেষ্টাও করল। গ্যান্ডাল্ফ একদিন অনলাইনে ইয়ার্কি মেরে বলেওছিল, ‘ওই, শোনো, আমাদের কোনোদিন দেখা হলে বোধহয় সেটা প্রথমবার পুলিশ স্টেশনেই হবে।’

পুরোপুরি উদাসীন এবং সদা প্রফুল্ল, গ্যান্ডাল্ফ বরাবরই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে এসেছে। বাস্তব জীবনে এমন সঙ্গী প্যাড কমই পেয়েছে, অনলাইনের কথা তো ছেড়েই দিলাম। অন্যান্যরা — বিশেষ করে আমেরিকান হ্যাকাররা — যেটাকে ফোঁড়ন কাটা মনে করত, প্যাড সেটাকেই অসাধারণ রসবোধ বলে তারিফ করত। প্যাডের মতে, গ্যান্ডাল্ফ হল এম৮-এ তার সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু।

যেসময় প্যাড হ্যাকিং এড়িয়ে চলছিল, গ্যান্ডাল্ফের তখন আরেকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব চলছিল, এক অনুজ হ্যাকার, নাম ওয়ান্ডি, যার বাড়িও ছিল উত্তর ইংল্যান্ডে। আন্তর্জাতিক কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডে ওয়ান্ডি’র তেমন কোনো নামডাক না থাকলেও,  ইউরোপিয়ান কম্পিউটারগুলোতে হ্যাক করার পেছনে সে বিরাট সময় ব্যয় করেছিল। ওয়ান্ডি এবং প্যাড’র মাঝে সুসম্পর্ক ছিল কিন্তু ততোটা ঘনিষ্ঠ তারা ছিল না। আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যান্ডাল্ফের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদেই তারা একে অপরকে চিনত।

১৯৯১ সালের জুনের মধ্যভাগে, প্যাড, গ্যান্ডাল্ফ এবং ওয়ান্ডি তখন তুঙ্গে অবস্থান করছে। তাদের প্রত্যেকেই অন্তত একটি — বা কখনো তারও বেশী — কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। লুক্সেমবার্গের ইউরোপিয়ান কমিউনিটি, দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস (এফটিএসই এর ১০০ শেয়ার ইনডেক্স এর মালিক), ব্রিটিশ মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্স, ফরেন অফিস, নাসা, লন্ডনের এসজি ওয়ারবার্গ নামের বিনিয়োগ ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার ডাটাবেজ প্রস্তুতকারণ প্রতিষ্ঠান ওরাকল এবং জ্যানেট নেটওয়ার্কের আরও অগুণতি মেশিনে যেগুলোর অনেকগুলো হয়তো তারা নিজেরাও মনে করতে পারবে না। প্যাড ন্যাটো’র সিস্টেমের একটা গোপন নেটওয়ার্কেও ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তারা টাইমনেট এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের অনুরূপ, ব্রিটিশ টেলিকম’র প্যাকেট সুইচড স্ট্রিম নেটওয়ার্ক (পিএসএস) ব্যবহার করত, অবিশ্বাস্য সহজ এক উপায়ে। [৩]

গ্যান্ডাল্ফ’র নীতি ছিল, ‘তেড়িবেড়ি করলেই, হ্যাক কর’।

[  ]

১৯৯১ সালের ২৭ জুন, প্যাড বৃহত্তর ম্যানচেস্টারে তার পৈতৃক বাড়িতে আরামে বসে বছরের সবচেয়ে বড় দিনটার শেষ আলোটুকু ফুরিয়ে যাওয়া দেখছিল। গরমকাল তার পছন্দের সময়, ঘরের পর্দা গলে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়া দেখতে দেখতে তার চোখ মেলতে দারুন লাগত। সে মাঝেমাঝেই ভাবত, এরচেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর হয় না।

রাত প্রায় ১১টার দিকে, ঘরে বসে সে তার মডেম এবং আটারি ৫২০ এসটি কম্পিটারখানা চালু করল। বাড়িতে দুটো আটারি কম্পিউটার ছিল — তার অন্যান্য ভাইবোন বা বাবা-মা কারোরই প্রোগ্রামিং নিয়ে কোনো আগ্রহ না থাকলেও তার আগ্রহের কমতি ছিল না। বেশীরভাগ সময়ই অবশ্য প্যাড পুরোনো আটারিটা চালাত না। তার তরুণ কেমিস্ট বড় ভাই, সেটাকে তার পিএইচডি থিসিস লেখার কাজে ব্যবহার করত।

ডায়াল করার আগে,  প্যাড বাড়ির অন্যকেউ একমাত্র টেলিফোন লাইনখানা ব্যবহার করছে কিনা দেখে নিল। ফাঁকা পেয়ে, সে মেইল চেক করতে লুৎসিফারে গেল। জার্মান বোর্ডে তার মেশনিটা সংযুক্ত হবার কয়েকমিনিট পরপরই সে একটা কড়কড় শব্দের পর ধুপ করে একটা মৃদু শব্দ শুনতে পেল। টাইপ করা বন্ধ করে প্যাড মেশিন থেকে মাথা তুলে তাকাল এবং শোনার চেষ্টা করল। সে বোঝার চেষ্টা করল যে, উপরতলায় পড়তে বসা তার ভাই, বা তার লাউঞ্জ রুমে টেলিভিশন দেখতে থাকা তার বাবা-মা’ও সেই কড়কড় শব্দটা শুনতে পেয়েছে কিনা।

শব্দটা ক্রমেই স্পষ্ট হতে লাগল এবং প্যাড এদিক-ওদিক ঘুরে সদর দরজায় তাকাল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, চাড় দিয়ে তালা ভেঙে সদর দরজা ভেঙে খুলে গেল। গাড়ির জ্যাক জাতীয় কিছু একটা ব্যবহার করায় দরজার কাঠ উপড়ে গিয়েছিল। দেখে মনে হল যেন দরজাটা না ভাঙা পর্যন্ত কেউ অবিরাম পাম্প করেছে।

হঠাৎ, একদল লোক ঘরের বাইরে থেকে হুড়মুড়িয়ে ঢুকল, দীর্ঘ সদর ফটকের রাস্তায় অবস্থান নিল এবং প্যাড’র শোবার ঘরের কার্পেট বিছানো সিঁড়িতে গুলি করল।