‘যখন সবাই একসাথে ফোন করতে শুরু করবে তখন তোমাদের এই যন্ত্রটা কাজে লাগবে,’ তিনি বললেন। ‘তোমাদের হয়তো কিছুক্ষণ কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগবে না।’

১৯৯০ সালে ধরা পড়ার কয়েকমাস পর ইলেক্ট্রন নিয়মিত গাঁজা খেতে শুরু করে। প্রথমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে খেত, সেটা ছিল একটা সামাজিক বিষয়। কয়েকজন বন্ধু মিলে মাঝেসাঝে  রাতে শহরে ঘুরতে বেরোলে একসাথেকয়েক ছিলিম টান দিত। তবে যখন সে সত্যিই হ্যাকিং করার মুডে থাকত, তখন কখনো ধুমপান করত না। মাথাটা পরিষ্কার রাখা খুব জরুরী বিষয়। তাছাড়া, হ্যাক করে সে যেরকম নেশাতুর হয়ে যেত, আর কোনো মাদক তাকে ততোটা ভাল নেশা এনে দিতে পারত না।

যেদিন নিউ ইয়র্ক টাইমস’র প্রথম পাতায় ফিনিক্সকে দেখা গেল, সেদিনই ইলেক্ট্রন হ্যাকিং ছেড়ে দিয়েছিল। আর যদিওবা সে ওই দুনিয়ায় ফিরতে ব্যাকুল হয়ে যেত, তবুও, পুলিশ তার একমাত্র কম্পিউটারটি জব্দ করায় সেই উপায়ও আর ছিল না। ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করল সে তার বাবার শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি নিয়ে দুশ্চিন্তা এড়াতে এবং হ্যাকিং ছাড়ার শুন্যতা পূরণের জন্য বিকল্প কিছু একটা খুঁজছে। একাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা সেই জায়গাটা নিতে পারছে না। ওইসব অনেক আগে থেকেই দারুণ অর্থহীন লাগত, এই পরিস্থিতিতে তো আরও লাগতে শুরু করল।

ধুমপান সেই শুন্যতা পূরণ করল। বাইরে ঘোরাঘুরিও। দারুণভাবে সেই শুন্যতা পূরণ হল।। তাছাড়া, সে নিজেকে বুঝালো, নিজের বাড়িতে বসে হ্যাক করার থেকে বন্ধুর বাড়িতে বসে নেশা করলে ধরা খাবার সম্ভাবনাও অনেক কম। সেই অভ্যাস ক্রমেই বেড়ে গেল। অল্পকিছুদের মাঝেই সে, নিজের বাড়িতেও নেশা করতে শুরু করল। তার নতুন বন্ধুরা বাড়িতে আসতে লাগল এবং তাদের কাছে যেন সবসময়ই নেশাপাতি থাকত — এবার মাঝেসাঝে, নিতান্তই মজা করার মাত্রাটা আর রইলো না।

ইলেক্ট্রন এবং তার বোন তাদের পারিবারিক বাড়িটা পেয়েছে এবং স্বচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য যথেষ্ট টাকাপয়সাও তাদের ছিল। ইলেক্ট্রন সেই পয়সা তার নতুন শখের পিছনে ঢালতে শুরু করল। ইলেক্ট্রন’র কয়েকজন নতুন বন্ধু তার বাড়িতে কয়েকমাসের জন্য এসে উঠল। তার বোন তাদের বাড়িতে ওইসব ছেলেদের নেশা করার ব্যাপারটা একদম পছন্দ করত না, কিন্তু তাকে নিয়ে কি ঘটছে সেই ব্যাপারে ইলেক্ট্রনের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। সে শুধু ঘরে বসে থাকত, স্টেরিওতে গান শুনত, নেশা করত, এলএসডি নিতো এবং দেয়াল গুণত।

হেডফোন, ইলেক্ট্রনকে ঘরের অন্যান্যদের থেকে এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, তার নিজের মাথার ভিতরকার যাবতীয় চিন্তা থেকে সরিয়ে রাখত। বিলি ব্র্যাগ। ফেইথ নো মোর। কসমিক সাইকোস। সেলিবাথ রাইফেলস। জেন’স এডিকশন। দ্য সেক্স পিস্তলস। দ্য র‌্যামোন্স। সংগীত ইলেক্ট্রনকে উজ্জীবিত করতে পারত, কপালের উপরে একটি দীপ্ত আলোকবিন্দু সৃষ্টি করত যা তার মনোসংযোগে সাহায্য করত। তার চেতনসত্তায় অনবরত চলতে থাকা অবোধ্য সব চিন্তাভাবনাকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে দিত।

তার মনে হত তার বাবা বেঁচে আছে। সে এই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিন্তই ছিল। প্রতিদিন সূর্য ওঠার মতোই একে সত্য বলে জানত। যদিও সে দেখেছে তার বাবা শুয়ে আছে, মৃত, হাসপাতালের বিছানায়। এইসবের কোনো অর্থ সে বুঝতে পারত না।

কাজেই সে কল্কে ধরে আরেক টান লাগাত, তারপর বিছানায় শুয়ে তার মনে হত সে যেন ধীরে ধীরে ভেসে বেড়াচ্ছে। তখন সে আস্তে করে কান থেকে ইয়ারফোন খুলে চোখ বন্ধ করত এবং ওসব ছেড়ে রেড হট চিলি পিপার্স কি বলেছে তা বোঝার চেষ্টা করত। এতেও যদি কাজ না হত, তাহলে সে সদরদরজা ধরে বেরিয়ে তার নতুন বন্ধুদের কাছে চলে যেত — সেইসব বন্ধু যাদের কাছে মাদকের ট্যাবলেট আছে। আর, তারপরেই আট ঘন্টার জন্য ওইসব উদ্ভট চিন্তা থেকে মুক্তি।

খুব দ্রুত মানুষগুলোও অদ্ভূত হয়ে যেতে লাগল। তারা হয়তো কিছু বলত, কিন্তু সেসব বুঝতে তার বেশ বেগ পেতে হত। ফ্রিজ থেকে দুধের কার্টন বের করে সেটা শুঁকে ইলেক্ট্রন’র বোন হয়তো বলল, ‘দুধটা নষ্ট হয়ে গেছে।’ কিন্তু ইলেক্ট্রন বুঝতেই পারল না এর মানে কি। সে হয়তো সতর্কচোখে সেদিকে তাকিয়ে রইলো। ভাবখানা এমন যেন সে মাকশড়া নিয়ে কিছু একটা বলেছে। যেন বিষ তৈরির জন্য মাকড়ড়ার দুধ দোহাচ্ছে।

ইলেক্ট্রনের মনের ভিতরে যখন এইসব আজগুবি চিন্তা চলতেই থাকত, সেসব তাকে প্রচণ্ড বিরক্ত করত, মনে হত যেন একটা টক গন্ধ তাকে অনবরত বিরক্ত করেই যাচ্ছে। কাজেই সে নিরাপদ আস্তানা তার নিজের ঘরে গিয়ে ঢুকে পড়ত এবং হেনরি রোলিন্স জাতীয় কারও গান শুনতে শুরু করত।

কয়েকমাস এইরকম ধোঁয়াটে কারাবাসে থেকে থেকে, ইলেক্ট্রন একদিন সকালে জেগে তার ঘরে ক্রাইসিস এসেসমেন্ট টিমকে আবিষ্কার করল — এরা হল একটা ভ্রাম্যমান মনস্তাত্তিক দল। তার তাকে অনেক প্রশ্ন করল, তারপর তাকে এক ধরণের নীল ট্যাবলেট খাওয়ানোর চেষ্টা করল। ইলেক্ট্রন সেই ট্যাবলেট খেতে চাইলো না। ওই নীল ট্যাবলেটগুলো প্লাসিবো নয়তো? সে একপ্রকার নিশ্চিত ছিল ওগুলো প্লাসিবোই। বা কে জানে, তারচেয়েও ভয়ংকর কিছু কিনা।

শেষমেশ, সিএটি’র লোকেরা ইলেক্ট্রনকে স্টেলাজাইন ট্যাবলেট খাওয়াতে রাজি করাতে পেরেছিল। কিন্তু, তারা চলে যাবার পরই, ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। ইলেক্ট্রনের চোখ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেন উল্টে যেতে লাগল। তার মাথা বামদিকে বেঁকে গেল। চোয়াল খুলে গেল বিরটা বড় হাঁ করে। বহু চেষ্টা করেও সে সেটা বন্ধ করতে পারল না। এমনকি সে তার মাথাও সোজা করতে পারল না। ইলেক্ট্রন আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে গেল। তাকে দেখতে লাগছিল ভৌতিক ছবির কোনো চরিত্রের মত।

তার ঘরের নতুন সঙ্গীসাথীরা তার এই নতুন অদ্ভূত ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রনের মনোস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করতে বসল, যার না ছিল কোনো আগা, না ছিল মাথা। এমনকি তারা এমনভাবে কথা বলতে লাগল যেন সে সেখানে উপস্থিতও ছিল না। তার নিজেকে যেন একটা ভূতের মত মনে হল, ক্ষুদ্ধ এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কেউ একজন আবারও সিএটি টিমকে ডেকে আনল। এইবার তারা তার কাছ থেকে আত্মহত্যা না করার প্রতিশ্রুতি পাওয়া পর্যন্ত যেতে অস্বীকৃতি জানাল।

ইলেক্ট্রন তাদের সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। কাজেই, তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করল।

প্লেন্টি হাসপাতালের (অধুনা এনইএমপিএস নামে পরিচিত) মানসিক রোগীদের বদ্ধ ওয়ার্ডের  ভিতরে থাকার সময়, ইলেক্ট্রনের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল, যদিও সে পাগল হয়েই গেছে, তবুও, সে আসলে কোনো পাগলাগারদের ভিতরে নাই। জায়গাটা দেখতেই শুধু ওইরকম। এসবই আসলে তার বাবার সাজানো কান্ড।

তার কাছে প্রমাণও ছিল। ইলেক্ট্রন দেয়ালো টাঙানো রোগীদের নামের একটা তালিকা পড়ে এবং ট্যানাস নামের একজনকে খুঁজে পায়। ওই নামটার একটা বিশেষ অর্থ ছিল। ওইটা মূলত ‘স্যান্টা’ শব্দটারই একটা এ্যানাগ্রাম। কিন্তু স্যান্টা ক্লজ তো আসলে একটা মিথ, কাজেই হাসপাতালের তালিকার সেই ট্যানাস নামটা থেকেই তার কাছে যেন সবকিছু প্রমাণ হয়ে যায় এবং সে ধরেই নেয়, আর কারও কথায় সে কর্ণপাত করবে না।

ইলেক্ট্রন সাধারণত নিঃশব্দে খাবার খেত, সবসময় চেষ্টা করত খাবার হলের চারপাশের ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক রোগীদের সংস্পর্শ যতোটা পারা যায় এড়াতে। একবার দুপুরের খাবারের সময়, এক অচেনা লোক ইলেক্ট্রনের টেবিলে বসল এবং তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে ইলেক্ট্রনের তখন অসম্ভব রকমের যন্ত্রণা বোধ হত এবং সে মনে মনে এই আপদ জলদি বিদায় নেবার কামনাই করছিল।

সেই অচেনা লোকটি হাসপাতালে মাদক কতো ভাল সেই বর্ণনাই দিচ্ছিল।

‘হুমম,’ ইলেক্ট্রন বলল। ‘আমি অনেক নেশা করতাম।’

‘অনেক মানে কত?’

‘আমি ২৮০০ ডলারের মাদক চারমাসে সাবাড় করেছি।’

‘বাহ,’ সেই অচেনা লোকটি মুগ্ঘ হবার ভঙ্গীতে বলল। ‘অবশ্যই তোমাকে এখানে মাদকের জন্য খরচ করতে হবে না। তুমি চাইলেই সবসময় বিনামূল্যে পেতে পারো। যেমনটা আমি পাই।’

‘তাই নাকি?’ ইলেক্ট্রন কিছুটা বিহবল হয়ে জিজ্ঞেস করল।

‘নিশ্চয়ই! সব সময়,’ সেই অচেনা লোকটা জোরেশোরে বলল। ‘কোনো সমস্যা নাই। দ্যাখো খালি।’

অচেনা লোকটি শান্তভাবে ট্রে’র উপরে কাটাচামচটি রেখে, সতর্কতার সাথে উঠে দাঁড়াল এবং তারপর পুরোদমে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দিল। সে উন্মাদের মত হাত-পা ছুঁড়তে লাগল এবং অন্য রোগীদের উদ্দেশ্যে কটূবাক্যও বলতে লাগল।

দুইজন নার্স ছুটতে ছুটতে পর্যবেক্ষণ ঘর থেকে ছুটে এলেন। তাদের একজন অচেনা লোকটিকে শান্ত করতে চেষ্টা করলেন এবং অন্যজন দ্রুত বিভিন্ন ঔষধপত্র মেপে লাগলেন এবং এককাপ পানি নিয়ে এগিয়ে এলেন। সেই অচেনা লোকটি  মুখভর্তি পানি নিয়ে সেই ওষুধগুলো গিলে ফেলল এবং আস্তে করে বসে পড়ল। নার্সেরা বারবার পিছে ফিরে তাকাতে তাকাতে চলে গেল।

‘দেখলে?’ অচেনা লোকটি বলল। ‘আচ্ছা থাকো, ঔষুধগুলো কাজ শুরু করার আগেই কেটে পড়ি। পরে দেখা হবে।’

ইলেক্ট্রন দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল, কারণ অচেনা লোকটি তার ব্যাগ নিয়ে, খাবার হলের সদর দরজা  দিয়ে হেঁটে গিয়ে মানসিক রোগীদের ওয়ার্ড থেকে সোজা বেরিয়ে গেল।

এর একমাস পর, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ইলেক্ট্রনকে কুইন্সল্যান্ডে তার নানীর সঙ্গে থাকার জন্য হরহামেশাই ছেড়ে দিত। তবে তাকে নিয়মিত একজন মনোরোগ বিশেজ্ঞের সঙ্গে দেখা করতে হত। কুইন্সল্যান্ডে থাকার সময় প্রথম কয়কবছর ধরে সে নিজেকে যীশু খ্রিস্ট বলে মনে করত। কিন্তু, সেই ধারণা সে বেশীদিন ধরে রাখেনি। তার পুনরুত্থানের সঙ্গে মেলাতে কয়েক সপ্তাহ ধৈর্য সহকারে আসন্ন কেয়ামতের জন্য অপেক্ষা করে এবং সেসবের লক্ষণ খোঁজার চেষ্টা করার পর অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিলো যে, সে আসলে বুদ্ধের একজন অবতার।

উত্তরে তিন মাসের মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পর, ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, এক ব্যাগ ঔষধপত্র নিয়ে ইলেক্ট্রন মেলবোর্নে ফিরে গেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া আবার শুরু করল। প্রোজাক, কয়েকজটা বড় বড় ট্রাঙ্কুলাইজার, লিথিয়াম। কিছুদিন নিয়মমাফিক চলল। ছয়টা প্রোজাক — দুইটি সকালে, দুইটি দুপুরে এবং দুইটি রাতে। রাতে আরও একটা এন্টি-ডিপ্রেশান্ট। তাছাড়াও, রাতে, এন্টি-ডিপ্রেশান্টের কারণে অনিয়ন্ত্রিত চোখ-ঘুরানো, চোয়াল ঝুলে যাওয়অ এবং ঘাড় বেঁকে সমস্যার জন্য একটা করে এন্টি-সাইড ইফেক্ট ট্যাবলেটও ছিল।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটা দীর্ঘ তালিকা থেকে যাকিছু পাওয়া গেছে সেসব মোকাবেলার জন্যই এই সমস্ত আয়োজন। ক্যানাবিস সাইকোসিস। সিজোফ্রেনিয়া। ম্যানিক ডিপ্রেশন। ইউনিপোলার ইফেক্টিভ ডিসঅর্ডার। সিজোফ্রেনাফর্ম। এম্ফেটামাইন সাইকোসিস। মেজর ইফেক্টিভ ডিজঅর্ডার। এটিপিক্যাল সাইকোসিস। এবং তার ব্যক্তিগত পছন্দের জিনিস — ফ্যাক্টিশাস ডিসঅর্ডার, বা হাসপাতালে থাকার জন্য ভুয়া অভিনয়। কিন্তু ঔষধপত্রে তেমন একটা কাজ হচ্ছিল না। ইলেক্ট্রন তবুও নিজেকে অসহায় মনে করত এবং মেলবোর্নে আবার একগাদা সমস্যার মধ্যে ফিরে যাওয়ায় সেসব আরও বেড়ে গিয়েছিল।

অসুস্থতার কারণে, ইলেক্ট্রন তার মামলার অগ্রগতি থেকে অনেকদূর পিছিয়ে পড়েছিল। সানি কুইন্সল্যান্ডে তার এসব এড়িয়ে থাকার সুযোগ ছিল। এবার ভিক্টোরিয়ায় ফিরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভয়াবহ একাউন্টিং কোর্স মোকাবেলা করতে হচ্ছে, মানসিক অসুস্থার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে, ফেডারাল সরকারের অভিযোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে যার জন্য দশ বছরের নিশ্চিত জেল হতে পারে এবং যার জন্য ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম সবচেয়ে বড় হ্যাকিং মামলার কল্যাণে পাওয়া খ্যাতিও জুটেছে। এবারের শীতটা যেন বড়ই কঠিন হয়ে পড়ছে।

পুরো ঘটনাটাকে আরও খারাপ করার জন্যই বোধহয়, ইলেক্ট্রন’র ঔষধপত্রও তার প্রতিদিনকার পড়াশোনায় দারুণ ব্যাঘাত করতে লাগল। এন্টি-সাইড ইফেক্টের বড়ি তার চোখের মাংসপেশীগুলোকে হালকা করে দিত বটে, কিন্তু তাতে মনোযোগ দেবার ক্ষমতাও নষ্ট হত। ফলে লেকচার হলের সামনের ব্ল্যাকবোর্ডের যাবতীয় লেখাও কিছু ঝাপসা জিনিসপত্র ছাড়া কিছু মনে হত না। কাজেই, নোট করা একটা বড়সড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। ঔষধপত্রের কারণে তার হাতও কাঁপত, কাজেই সে ঠিকমতো লিখতেও পারত না। লেকচার শেষে দেখা যেত, ইলেক্ট্রনের নোটগুলোও ওই ব্ল্যাকবোর্ডের মতোই অপাঠ্য হয়ে গেছে। হতাশ ইলেক্ট্রন অবশেষে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিল, আবারও নেশা নিতে শুরু করল এবং দ্রুতই একটু ভাল বোধ করতে লাগল। নেশাতেও যখন আর কাজ হল না, তখন সে ম্যাজিক মাশরুম এবং হ্যালুসিনোজেনিক ক্যাকটাসের দিকে মন দিল।

হ্যাকিং মামলা ঝুলেই রইল।  ১৯৯১ সালের ৬ ডিসেম্বর, মানসিক হাসপাতাল ছাড়ার পর কিন্তু কুইন্সল্যান্ডে আসার আগে, ডিপিপি অফিস ইলেক্ট্রনের বিরুদ্ধে পনেরটি এবং নোম’র বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ সম্বলিত একখানা আর্জি ভিক্টোরিয়ান কাউন্টি কোর্টে পেশ করল।