তবে, এইবার, ইলেক্ট্রন শপথ করল যে সে এই বিপদ না কাটা পর্যন্ত হ্যাকিং বন্ধ রাখবে — তাকে রাখতেই হবে। কাজেই সে তার বাবাকে শক্ত নির্দেশনা দিয়ে মডেমটা দিয়ে দিল, এবং তার হার্ডড্রাইভ এবং ডিস্কগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করল। তার হ্যাকিং ফাইলগুলোকেও লুকাবার দরকার ছিল। ওগুলোতে অনেক বেশী বিপদজনক আলামত আছে। সে কিছু ফাইল মুছে দিল এবং বাদবাকিগুলো ডিস্কে ভরে এক বন্ধুর বাড়িতে রেখে এলো। ফাইলগুলো ডিলিট করতে গিয়ে ইলেক্ট্রনের বুকটা দুঃখে ফেটে যাচ্ছিল, কিন্তু কোনো উপায় নাই। ফিনিক্স তাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে ফিনিক্স মার্চের এক রৌদ্রোজ্জ্বল বিকালে ইলেক্ট্রনকে ফোন করল।

‘আন্দাজ করো তো কী?’ ফিনিক্স ফোনের অপরপ্রান্তে যেন এক অতি উৎসাহি কুকুরের মত লাফাচ্ছিল। ‘আমরা তো পুরো আমেরিকায় রাতারাতি খবর হয়ে গেছি!’

‘উহহ,’ ইলেক্ট্রন বিরক্ত নিয়ে উত্তর দিল।

‘ইয়ার্কি মারছি না!’ আমাদেরকে নিয়ে সারাদিন টিভিতেও সংবাদ হয়েছে। আমি এরিককে ফোন করেছিলাম, সে-ই বললো।

‘মমম,’ ইলেক্ট্রন বলল।

‘আমরা অনেক কাজ করেছি, বুঝতেই পারছ। যেমন হারভার্ড। আমরা হারভার্ডের প্রতিটা সিস্টেমে ঢুকেছিলাম। ওইটা দারুণ কাজ ছিল। হারভার্ডের কারণেই আমাদের আজকেই এই নামডাক।’

ইলেক্ট্রন নিজের কানকে বিশ্বস করতে পারল না সে কি শুনছে। তার কোনো নামডাক দরকার ছিল না — এবং এইভাবে ধরা খাওয়ারও কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। সেই আলাপটা–খোদ ফিনিক্সের মতোই — তাকে মহা বিরক্ত করে তুলছিল।

‘আর হ্যাঁ, ওরা তোমার নাম জানে,’ ফিনিক্স লাজুক স্বরে বলল।

এইবার প্রতিক্রিয়া এলো। ইলেক্ট্রন কোনোমতে সামলে নিল।

‘হাহা! ইয়ার্কি মারছিলাম!’ ফিনিক্স বলতে গেলে চিৎকার করে বলল। ‘চিন্তা কোরো না! ওরা আসলেই কারও নাম বলেনি।’

‘ভাল,’ ইলেক্ট্রন কাঠখোট্টা উত্তর দিল। ভিতরে ভিতরে তার মেজাজ ধাঁইধাঁই করে চড়ছিল।

‘তাইলে, তুমি কি কখনো ভাবতে পেরেছিলে যে আমরা টাইম বা নিউজউইকের কভারে যাব?’

হায় খোদা! ফিনিক্স কি থামবে না? যেন অতি উৎসাহি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে জানাতে একটা দেশের ভোর ৬টার জাতীয় সংবাদের শিরোনাম হওয়াই যথেষ্ট নয়। বা নিউ ইয়র্ক টাইমসে আসাও যথেষ্ট নয়। এবার তাকে কিনা সাপ্তাহিকগুলোকেও ধরতে হল।

ফিনিক্স নিজের এই প্রচারণা নিয়ে খুব ফুর্তিতে ছিল। তার মনে হচ্ছিল যেন সে দুনিয়ার সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে গেছে, এবং সেখান থেকে চিৎকার করে সবাইকে বলছে। অনেক রুই-কাতলা গোছের লক্ষ্যবস্তুকে হ্যাক করার পর এবং খাপে খাপ মিলে গেলে ইলেক্ট্রনেরও একই ধরণের উত্তেজনা কাজ করত, কিন্তু সে শুধুই নিজেকে নিয়েই বা বড়জোড় প্যাড বা গ্যান্ডাল্ফ’র মত লোকদের সাথে নিয়েই সুখী ছিল এবং ওইসব অর্জন নিঃশব্দেই উপভোগ করত। তার এইটুকু ভেবেই খুব ভালো লাগত যে, সে এমন একটা অন্যতম কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, যা নতুন, নিরীক্ষণবাদী এবং সবথেকে বড়কথা, আন্তর্জাতিক। তান কখনো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিককে ডেকে বা ক্লিফোর্ড স্টোল’র মত হোমড়া-চোমড়াদের অপদস্থ করে হাসাহাসি করার প্রয়োজন পড়েনি।

‘বলো না, ভাবতে পেরেছিলে?’ ফিনিক্স অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকল।

‘না,’ ইলেক্ট্রন উত্তর দিল।

‘না? তোমার কি কখনো মনেও হয়নি যে আমরা পারব?’ ফিনিক্স যেন একটু মর্মাহত হল।

‘না।’

‘ঠিক আছে, আমিই চাইব!’ ফিনিক্স হেসে বলল, ‘যেমনেই হোক, আমরা নিউজউইক এর কভারে যেতে চাই, আর কিছু না।’ তারপর, আরও গম্ভীরস্বরে বলল, ‘আমি চেষ্টা করছি এর মধ্যদিয়ে সত্যিকার অর্থেই বড় কোন লক্ষ্যটা আমাদের অনুকূলে এসে পড়ে।’

‘আচ্ছা, ঠিক আছে, যাইহোক,’ ইলেক্ট্রন উত্তর দিল, আবারও একটা দূরত্ব বজায় রেখে।

কিন্তু ইলেক্ট্রন মনে মনে ভাবছিল, ফিনিক্স, তুমি একটা আস্ত বোকা। সে কি সতর্ক সংকেতগুলো দেখে নাই? প্যাড’র সতর্কবার্তা, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ধরপাকড়, আমেরিকানরা ব্রিটিশদের খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই প্রতিবেদন। এই ধরণের রিপোর্টগুলোর কারণেই তো ফিনিক্স আজ বড়াই করছে, দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গার মালিকরা তাদের কম্পিউটার ম্যানেজারদের তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে যাবে এবং তাদের কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঘাড় মটকানোর বন্দোবস্ত করবে।

নির্লজ্জ হ্যাকাররা কম্পিউটার নিরাপত্তা শিল্পের লোকেদের সাংঘাতিকভাবে নাখোশ করেছে, যার ফলাফল বোঝা যাবে তাদের পদক্ষেপে। এই ধারাবাহিকতায়, ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন আবার জনপ্রিয়তা অর্জনের দারুণ মওকাও পেয়ে যাবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথাও বলেছে, যারা এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করে দিয়েছে এবং সব পথ দ্রুত বন্ধ করার চেষ্টায় আছে। বিশ্বব্যাপী ইলেক্ট্রনিক দুনিয়ার ষড়যন্ত্রীরা এখন বড় বড় ফন্দি ফিকির করছে।

‘আমরা স্ফ্যাফকে আবারও হ্যাক করতে পারি,’ ফিনিক্স আগ বাড়িয়ে বলল।

‘সাধারণ মানুষ ইউজিন স্প্যাফোর্ডের বিষয়টা পুছেও না,’ ইলেক্ট্রন এই বলে ফিনিক্সের উদ্ভট উৎসাহকে কিছুটা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করল। সে শুধু হোমড়াচোমড়াদের একহাত দেখে নেবার ধান্ধায় আছে, কিন্তু এইটা এইভাবে করার জিনিসই না।

‘কোর্টে গেলেও কেমন মজা হবে দেখো। উকিল হয়তো স্প্যাফকে ডেকে জিজ্ঞেস করবে, “তাহলে, জনাব স্প্যাফোর্ড, এটা কী সত্য যে আপনি একজন বিশ্ববরেণ্য কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ?” আর যেইমাত্র সে বলবে,”হ্যাঁ” ওমনি আমি বলব, “আমি আপত্তি জানাচ্ছি, মহামান্য আদালত, এই লোকটা কিছুই জানেনা,’ কারণ আমি তার মেশিন হ্যাক করেছিলাম এবং সেই কাজটা ছিল হাতের ময়লা!”’

‘মমম।’

‘ওই, আমরা দুইজনে যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধরা না খাই সেইটাই বরং একটা বিরাট আশ্চর্য ব্যাপার হয়ে যাবে,’ ফিনিক্স মজায় মজায় বলতে থাকল।

‘আশা করি এমন হবে না।’

‘দারুণ মজা, বলো!’ ফিনিক্স বিদ্রুপের হাসি হাসল। ‘আমরা ধরা খেতে যাচ্ছি! আমরা ধরা খেতে যাচ্ছি!’

ইলেক্ট্রনের চোয়াল ঝুলে গেল। ফিনিক্স পাগল হয়ে গেছে। একমাত্র পাগলের পক্ষেই এমন আচরণ করা সম্ভব। খুবই ক্লান্ত লাগছে – এই গোছের কিছু একটা বলে ইলেক্ট্রন বিদায় জানিয়ে কেটে পড়ল।

২ এপ্রিল ১৯৯০, ভোর ৫টার সময়, ইলেক্ট্রন ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে নামল এবং বাথরুমে গেল। যাবার পথে হঠাৎ বাতি নিভে গেল।

কী অদ্ভুত। ইলেক্ট্রন ভোরের আবছা আলোয় চোখ বড় করে মেলে তাকিয়ে রইল। সমস্যাটা খতিয়ে দেখবার আগে শোবার ঘরে ফিরে সে জিন্স পড়ে নিল।

হঠাৎ, ব্যায়ামের জামা পরিহিত দুইজন লোক হেঁচকা টানে তার জানালা খুলে লাফিয়ে ঘরে প্রবেশ করল এবং চিৎকার করে বলতে শুরু করল, “মেঝেতে শুয়ে পড়ুন!’

এরা কারা? অর্ধনগ্ন, ইলেক্ট্রন তার ঘরের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে, নড়াচড়া করতেও ভুলে গেছে। সে আঁচ করতে পারছিল যে পুলিশ হয়তো তাকে ধরতে আসবে, কিন্তু তারা সাধারণত পুলিশের পোশাক পড়ে আসে না? তারা কি নিজেদের পরিচয় দেয় না?

লোকদুটি ইলেক্ট্রনকে জাপটে ধরল, তার মুখটা মেঝের দিকে ঠেসে ধরে হাতদুটোকে পিছনদিকে টেনে ধরল। হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দিল – শক্ত করে — তাতে কেটেকুটে একাকার। তারপর কেউ একজন তার পেটে সজোরে লাথি মারল।

‘ঘরে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র আছে?’ একজন জিজ্ঞেস করল।

ইলেক্ট্রন উত্তর দিতে পারছিল না কারণ তখন তার দমবন্ধ। লাথিটা তাকে কাবু করে ফেলেছে। সে বুঝতে পারল কেউ একজন তাকে মেঝে থেকে ছেঁচড়ে নিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। চারিদিকে বাতি জ্বলে উঠল এবং সে দেখলে ছয় বা সাতজন লোক ঘরের চারপাশে ঘুরছে। তারা নিশ্চয়ই অন্যকোনো পথে ঘরের ভিতরে ঢুকেছে। ঘরের সকলেই গায়ে একটা করে বিব পড়া, যার গায়ে তিনটি অক্ষর লেখা রয়েছে: এএফপি।

ইলেক্ট্রন কিছুটা সম্বিত ফিরে পেলে, বুঝতে পারল কেন পুলিশ কেন তাকে আগ্নেয়াস্ত্রের কথা জিজ্ঞেস করছিল। একবার সে ফিনিক্ম’র সাথে ইয়ার্কি মেরে বলছিল সে কেমন করে পুলিশকে ঠেকাতে তার বাবার, .২২ বন্দুক চালানোর অভ্যাস করছে। নিশ্চয়ই পুলিশ তখন তার ফোনে আড়িপেতে ছিল।

অন্য ঘরে তার বাবা যখন অফিসারদের সঙ্গে কথা বলছিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি পড়ছিল, ইলেক্ট্রন তখন দেখল পুলিশ তার যাবতীয় কম্পিউটারসামগ্রী — প্রায় ৩০০০ ডলার মূল্যের — বস্তাবন্দী করছে এবং ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাখছে। শুধুমাত্র একটা জিনিস যেটা তারা খুঁজে পায়নি তা হল মডেম। তার বাবা ওটা লুকাতে এমনই ওস্তাদ হয়ে গিয়েছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল পুলিশও তা খুঁজে পায়নি।

বেশ কয়েকজন অন্য অফিসার ইলেক্ট্রনের শোবার ঘর তল্লাসি করতে শুরু করল, যে অবস্থায় সেটা ছিল তাতে কাজটা মামুলি নয়। পুরো মেঝে এলোমেলো জিনিপত্রে ঠাসা। আধা মোচড়ানো ব্যান্ডের পোস্টার, অসংখ্য পাসওয়ার্ড এবং এনইউএ লেখা নোট, কলম, ধোয়া-অধোয়া টি-শার্ট, জিন্স, স্নিকার জুতা, একাউন্টিঙের বই, ক্যাসেট, ম্যাগাজিন, নোংরা কাপ। পুলিশের পুরো ঘরটা তল্লাসি শেষ হলে দেখা গেল ঘরটা বরং আগের চেয়ে পরিষ্কারই হয়ে গেছে।

তল্লাসি শেষে তারা অন্য একটা ঘরে চলে গেছে, ইলেক্ট্রন মেঝে পড়ে থাকা একটা পোস্টার তুলে নিতে উবু হয়ে বসল। একটা পুলিশ ড্রাগ আইডেন্টিফিকেশন চার্ট — বন্ধুর বাবার দেওয়া উপহার — এবং, তার ঠিক মধ্যখানে এএফপি’র একটি আসল ফুটপ্রিন্ট। একটা সৌখিন জিনিস। ইলেক্ট্রন সাবধানে নিজমনে একটু হাসল এবং তারপর পোস্টারটা ভাল জায়গায় সরিয়ে রাখল।

যখন সে বসার ঘরে গেল, দেখল একজন পুলিশের লোক অনেকগুলো কোদাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাই দেখে তার আবার হাসি পেল। ইলেক্ট্রন একবার ফিনিক্সকে বলেছিল যে তার যাবতীয় হ্যাকিং ডিস্ক সে পেছনের উঠানের মাটিতে পুঁতে রেখেছে। এখন পুলিশ সেটা খুঁড়ে এমন জিনিসের জন্য তল্লাসি চালাতে যাচ্ছে যা কিছুদিন আগেই সে ধ্বংস করে ফেলেছে। কি যে মজার কান্ডকারখানা।

পুলিশ ইলেক্ট্রনের হ্যাকিঙের সামান্যকিছু আলামতই খুঁজে পেয়েছিল কিন্তু তাতেও কিচ্ছু যায়-আসে না। ইতিমধ্যেই তারা দরকারি সবকিছুই পেয়ে গেছে।

পরদিন সকালে, পুলিশ ২০ বছর বয়সী ইলেক্ট্রনকে একটা অচেনা গাড়িতে তুলে নিয়ে তাকে ৩৮৩ লাটরোব স্ট্রিটে এএফপি’র অতিকায় হেডকোয়ার্টারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল।

দুপুরে, অবিরাম প্রশ্নবান থেকে ইলেক্ট্রন কিছুটা অবসর পেলে, সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো। আঠারো বছর বয়সী নিতান্ত বালক-চেহারার ফিনিক্স এবং রেল্মে তার আরেক সহযোগী, ২১ বছর বয়সী নোম তখন পুলিশের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে হলের অপর প্রান্ত দিয়ে ঢুকছিল। কথা বলবার মত দূরত্ব তাদের মাঝে ছিল অনেক বেশী, তবে ইলেক্ট্রন তাকিয়ে একটু হাসল। নোমকে চিন্তিত দেখাচ্ছিল। ফিনিক্সকে মনে হল যেন বিরক্ত।

ভয়ে-আতঙ্কে উকিলের শরনাপন্ন হতে রাজি না হবারও উপায় ছিল না ইলেক্ট্রনের। তবে উকিল নিয়েই বা কি হবে? পরিষ্কারবোঝা যাচ্ছে যে টেলিফোনে আড়িপেতে পুলিশ যতোটুকু তথ্য পাবার তা পেয়ে গেছে। তারা ফোন থেকে পাওয়া মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি’র লগগুলোকেও দেখিয়েছে। ইলেক্ট্রন বুঝতে পারছিল, খেলা শেষ,কাজেই তার এবার পুরো কাহিনীটা বলবার পালাএসেছে — অথবা,অন্তত ততোটুকু, যেসব সে ফিনিক্সকেফোনে বলত।\

সেদিন এবং তারপরের দিন ইলেক্ট্রন এবং তার বোন বেশ কয়েকঘন্টা তার বাবার সঙ্গে কাটাল। তাদের বাবাকে সাহস দিতে আরও অনেকেই এসেছিল, তাদের মধ্যে আছেন তার ভাই, যিনি মৃত্যুর আগে যীশু খ্রিস্টকে তার ত্রাণকর্তা মেনে নিতে বারবার অনুরোধ করছিলেন। তাহলে শেষবিচারের দিন তাকে নরকে পুড়তে হবে না। ইলেক্ট্রন তার চাচার দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল। তার বিশ্বাস হচ্ছিল না মৃত্যুশয্যায় তার বাবাকে এই মহা উদ্ভট জিনিস গ্রহণ করতে হবে। তবুও, ইলেক্ট্রন ঠিক করল চুপচাপ থাকবে। একনজর বুলিয়ে, সে তার বাবার পাশে গিয়ে বসল।

তবে, ওই উদ্ভট কথাবার্তায় কিছু ফল হয়েছিল, ওই কথা উঠতেই ইলেক্ট্রন’র বাবা তার শেষকৃত্যের ব্যাপারে বলতে গিয়ে ভুল করে একটা শব্দ বলে ফেললেন। তিনি শেষকৃত্যের বদলে বললেন ‘বিয়ে’, তারপর ভুলটা বুঝতে পেরে একটু থেমে গেলেন। তারপর আস্তে আস্তে তার আঙ্গুলে তখনো লেগে থাকা বিয়ের সোনালি আংটিটার দিকে তাকিয়ে, কোনোমতে হেসে বললেন, ‘একদিন বিবেচনা করলে, আমার কাছে এটা তো বিয়ের মতোই।’

ইলেক্ট্রন এবং তার বোন তার বাবার পাশে বসে থাকতে পরবর্তী চারদিন টানা হাসপাতালে গেল।

পঞ্চম দিন ভোর ৬টার সময়, ফোন বেজে উঠল। যে পারিবারিক বন্ধুকে তার বাবা তাদেরকে দেখেশুে রাখতে বলেছিলেন, তিনি ফোন করেছেন। তার বাবার জীবনপ্রদীপ তখন নিভু নিভু, মৃত্যু দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত।

যখন ইলেক্ট্রন এবং তার বোন হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছাল, নার্স’র চেহারাই সবকিছু বলে দিচ্ছিল। তারা দেরি করে ফেলেছে। তাদের পৌঁছানোর দশ মিনিট আগে তাদের বাবা মারা গেছেন। ইলেক্ট্রন কান্নায় ভেঙে পড়ল। সে তার বোনকে জড়িয়ে ধরল। তাকে যেন, এক মুহূর্তের জন্য, সবথেকে আপন মনে হল। তাদেরকে বাড়ি পৌঁছে দেবার সময় সেই পারিবারিক বন্ধু ভদ্রমহিলা থামলেন এবং তাদের একটি এনসারিং মেশিন কিনে দিলেন।