অধ্যায় ৬ — পৃষ্ঠা ১ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

পড়ুন           পড়ুন
আরেকটি খাসা দৃশ্য
যাতে নেই কোনো সন্দেহ

মিডনাইট অয়েল’র ১০,৯,৮,৭,৬,৫,৪,৩,২,১ এলবামের ‘রিড এবাউটইট’ গান থেকে নেওয়া

অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের জন্য প্যাড’র কাছে একটা জরুরী সতর্কবার্তা ছিল: কম্পিউটার নিরাপত্তা কমুনিটি তাদের পিছনে লেগেছে। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারির কথা, ফিনিক্স এবং ইলেক্ট্রনের জারডজ বাগানোর এবং ডেসজিপ নিয়ে ব্যর্থতার বেশীদিন পরের কথা নয়। প্যাড সর্তকবার্তাটা নিয়ে চিল্লাপাল্লা করেনি, সেটা তার স্টাইলও নয়। কিন্তু ইলেক্ট্রন বিষয়টা নিয়ে চিল্লাপাল্লা শুরু করে দিল।

‘ফিন, ওরা জেনে গেছে যে তুমিই স্প্যাফ’র মেশিনে ঢুকেছিলে,’ প্যাড ফিনিক্সকে বলল। ‘অন্যান্য সিস্টেমগুলোতেও যে তুমিই ঢুকেছিলে সেকথাও তারা জানে। তারা তোমার হ্যান্ডেলও জেনে গেছে।’

ইউজিন স্প্যাফোর্ড সেদিনই তার ভাবমূর্তির অনেকখানি হারায় যেদিন তার মেশিনে একজন হ্যাকার ঢুকেছিল, এবং, আহত ষাঁড় বিপদজনক শত্রু বটে।

নিরাপত্তাবাহিনীর লোকজন, খুবই স্পষ্ট স্টাইল হওয়ায়, ফিনিক্স নাম্নী একজন হ্যাকারের সঙ্গে জড়িত একাধিক অনুপ্রবেশের ঘটনার মধ্যে সামঞ্জস্য ও সংযোগ আবিষ্কার করতে পেরেছে। যেমন: যখনই সে নিজের জন্য –রুট একসেস– রুট শেল তৈরি করত, সে সেই ফাইলগুলোকে একই নামে এবং একই ঠিকানায় সংরক্ষণ করত। কখনো কখনো, সে ‘ফিনিক্স’ নামেও একাউন্ট তৈরি করত। এটাই তার ধারাবাহিক স্টাইল, যা এডমিনদের পক্ষে তার গতিবিধি সহজেই অনুমান করার পথ সুগম করে দিয়েছিল।

প্যাড, তার স্বভাবসিদ্ধ অস্পষ্ট কায়দায়, স্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিল। এবং, অস্ট্রেলিয়ানদেরকে তাদের সক্রিয়তাও একটু কমিয়ে নিতে বলাটাও খুব একটা খারাপ পরামর্শ ছিল না। পুরো বার্তাটার অন্তঃপ্রবাহ যেহেতু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

‘তারা বলেছে যে, কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী, যাদের বিষয়টা ‘দেখভাল’ করার কথা, তারা অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগও করেছে।’ প্যাড বলল।

‘তারা কি আমার সত্যিকার নাম জানে?’ ফিনিক্স জিজ্ঞেস করল, চিন্তিত মুখে। ইলেক্ট্রনও বেশ মনোযোগ দিয়ে এই কথোপকথনটা দেখছিল।

‘জানিনা। শ্যাটারের কাছ থেকে জেনেছি। তাকে সবসময় বিশ্বাস করা যায়না, কিন্তু…’

প্যাড উৎস হিসেবে শ্যাটারের গুরুত্বকে কমিয়ে দিয়ে খবরটাকে লঘু করার চেষ্টা করছিল। সে তার সতীর্থ এই ব্রিটিশ হ্যাকারটিকে বিশ্বাস করে না বটে, কিন্তু শ্যাটারের কিছু জোড়ালো, অথচ রহস্যজনক, যোগাযোগ আছে। এক পা কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের দুনিয়ায় আর আরেক পা কম্পিউটার নিরাপত্তা শিল্পে দুনিয়ায় রাখা রহস্যমানব শ্যাটার, প্যাড এবং গ্যান্ডাল্ফ’র কাছে, কখনো কখনো অস্ট্রেলিয়ানদের কাছেও বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করত।

বেশীরভাগ সময়ই ব্রিটিশ হ্যাকাররা শ্যাটার’র উপদেশ অগ্রাহ্য করলেও কখনো কখনো তাকে মনোযোগ দিয়েও শুনত। একবার, ইলেক্ট্রন একটা মেইল উদ্ধার করেছিল যেখানে দেখা গেল জার্মানিতে রেইডের পর তার অবস্থা নিয়ে পেঙ্গু শ্যাটারের কাছে গেছে উপদেশ চাইতে। তার বিচার চলাকালীন সময়ে একফাঁকে, পেঙ্গু শ্যাটারকে জিজ্ঞেস করছিল ১৯৮৯ সালের গ্রীষ্মের ছুটিতে আমেরিকা ভ্রমণ করা নিরাপদ হবে কিনা। শ্যাটার পেঙ্গু’র জন্মতারিখ এবং অন্যান্য বিবরণ নিয়েছিল। তারপর সে এক অভ্রান্ত উত্তর পাঠাল: কোনোক্রমেই পেঙ্গু যেন আমেরিকায় না যায়।

এর পরপরই, খবর বেরোল যে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট পেঙ্গুকে আমেরিকার মাটিতে গোপনে ভুলিয়েভালিয়ে আনার ফন্দি আঁটছে যাতে তাকে সেখানেই আটকে রাখা যায়। তারপর তারা তাদের আদালতে তার বিচার করতে বলপ্রয়োগ করবে।

শ্যাটার কী এটা জানত? নাকি সে কমনসেন্স থেকেই পেঙ্গুকে আমেরিকা যেতে নিষেধ করেছিল? না – কেউ এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না, কিন্তু মানুষ শ্যাটারের কথাকে গুরুত্ব দিত।

‘শ্যাটার নিঃসন্দেহে স্প্যাফ’র মেশিন সংক্রান্ত সঠিক খবরই পেয়েছে। ১০০% সঠিক,’ প্যাড বলে চলল। ‘তুমি যেভাবে হ্যাক করেছিলে তা সে ঠিকঠাক জানত। আমিও বিশ্বাস করতে পারি নাই। তুমি যদি এখনো হ্যাক করতে থাকো, তাহলে সাবধান হয়ে যাও বন্ধু, বিশেষ করে আইনেটে।’ ‘আইনেট’ হল ইন্টারনেটের সংক্ষিপ্তরূপ।

আলটস হ্যাকাররা চুপ মেরে গেল।

‘শুধু তুমিই নও,’ প্যাড অস্ট্রেলিয়ানদের আস্বস্ত করার চেষ্টা করল। ‘গ্যান্ডাল্ফ নামের একজনকে খুঁজতে দুজন মার্কিন নিরাপত্তাকর্মী যুক্তরাজ্যেও আসছে। আর হ্যাঁ, গ্যান্ড’র ওই বন্ধুটাকেও, প্যাট্রিক নাম যার।’

প্যাড অবশ্য প্যাট্রিক বা প্যাডি থেকেই তার হ্যান্ডেল নামটি রেখেছিল, কিন্তু সেটাও তার সত্যিকার নাম নয়। কোনো বুদ্ধিমান হ্যাকারই হ্যান্ডেল নামের ক্ষেত্রে তার সত্যিকার নাম ব্যবহার করবে না। প্যাডি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রিয় একজন লেকচারারের নাম, একজন আইরিশ ভদ্রলোক যিনি বেশ হাসতেন। পার’র নামের মত, প্যাড’র হ্যান্ডেলেরও কাকতালীয়ভাবে আরেকটি অর্থ তৈরি করত, যখন এই ব্রিটিশ হ্যাকার এক্স.২৫ নেটওয়ার্কে ঘুরে বেড়াত তখন। এক্স.২৫ প্যাড হল একটি এসেম্বলার ডিসএসেম্বলার প্যাকেট, মডেম বা টার্মিনাল সার্ভার এবং এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের মধ্যকার ইন্টারফেস। একইভাবে, গ্যান্ডাল্ফ, প্রথমত দ্য লর্ড অফ দ্য রিংসের প্রথম এবং প্রধান জাদুকর হলেও, এটিও ছিল টার্মিনাল সার্ভারের একটি ব্র্যান্ডের নাম।

নিরাপত্তা কমুনিটি নাকি তাদের চারপাশের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিচ্ছে এমন সংবাদের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, কোন হ্যাকারই তাদের বদখৎ রসিকতা বন্ধ করল না।

‘জানো তো,’ প্যাড বলে চলল, ‘স্প্যাফ নাকি তার মেশিন হ্যাক হওয়ার সময় দেশের বাইরে ছিল।’

‘আসলেই? কোথায়?’ গ্যান্ডাল্ফ সবেমাত্র এসেই জিজ্ঞেস করল।

‘ইউরোপে।’

ইলেক্ট্রন সামলাতে পারল না। ‘স্প্যাফ কোথায় ছিল, গ্যান্ডাল্ফ এমনভাবে জিজ্ঞেস করলা যেন তোমার দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছে….’

‘হাহাহা,’ গ্যান্ডাল্ফ হাসল।

‘<ঠক><ঠক>’ ইলেক্ট্রন বলে চলল, বারবার।

‘ওহ! এ যে, জনাব স্প্যাফোর্ড,’ গ্যান্ডাল্ফ মজা করে লিখল।

‘আরে, আমি জীন এবং আমি খুবই কৃপন!’

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নিজ নিজ ঘরে একা একা বসে, চার হ্যাকার খুব হেসে নিলো।

‘ওহে, আর এই লোকটির নাম কী প্যাট্রিক?’ প্যাড লাফিয়ে এলো।

‘তো, জনাব স্প্যাফোর্ড, এফটিপি’র প্যাচিং না করায় আপনাকে আমার বোকাচোকা মনে হচ্ছে ।’ গ্যান্ডাল্ফ দাবি করল।

‘সিএইচএফএন বাগের কথা আর বোলো না ভাইটু — একজন সিকোয়েন্ট ব্যবহারকারীও এটা পুষে রেখেছে! ওহ তুমি নিশ্চয়ই খুবই বিব্রত হচ্ছো,’ ফিনিক্স যুক্ত করল।

ফিনিক্সও হাসছিল, কিন্তু প্যাড’র সতর্কবার্তা নিয়েও তার একটু ভয় লাগছিল এবং সে আলাপটাকে আবার আগের গাম্ভীর্যে নিয়ে গেল।

‘তো, প্যাড, শ্যাটার আর কি কি বলেছে?’ ফিনিক্স চিন্তিতস্বরে জিজ্ঞেস করল।

‘তেমন কিছু নয়। ওই ইউসিবি নিয়ে কিছু নিরাপত্তা তদন্ত হতে পারে।’

ইউসিবি মানে হল ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া এ্যাট বার্কলে। সম্প্রতি ফিনিক্স বার্কলে এবং এলএলএনএল দুটি জায়গার মেশিনেই এতোবেশী ঢুকছে যে এডমিনরা তাকে শুধুই লক্ষ্যই করেনি, বরং তারা তার হ্যান্ডেলকেও চিহ্নিত করেছে। একদিন সে dewey.soe.berkeley.edu তে টেলনেট করেছিল — ডিউয়ে মেশিন নামেই সেটা পরিচিত ছিল — এবং প্রতিদিনকার বার্তা হিসেবে নিচের লেখাটা তার মুখের সামনে ভেসে উঠতেই সে যারপরনাই আঁতকে উঠেছিল:

ফিনিক্স,

ডিউয়ে থেকে এইমুহূর্তে বেরিয়ে যাও!

আর, কখনো কোনো ‘এসওই’ মেশিন ব্যবহার কোরো না।

ধন্যবাদ,

ড্যানিয়েল বার্জার

এই প্রকাশ্য বার্তাটি পেয়ে ফিনিক্সের সম্বিত ফিরে পেতে কিছুটা সময় লেগে গেল। সিস্টেমে বারবার ঢুকতে আর বেরোতে গিয়ে, সে এতোদিন লগইন স্ক্রিনটাকে এড়িয়েই চলে যেত। তারপর, সম্বিত ফিরে পেতেই, সে বুঝতে পারল যে লগইন বার্তাটি তাকে সম্বোধন করেই লেখা।

বার্তাটিকে অগ্রাহ্য করে, সে রুট পাবার আশায় বার্কলে মেশিনের দিকে হাত বাড়াল এবং বার্জারের ফাইলগুলোকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখল। তারপর চুপচাপ বসে, এই সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায় নিয়ে ভাবতে লাগল। শেষমেশ, সে ঠিক করল যে সে চিরতরে সিস্টেম ছেড়ে চলে যাচ্ছে মর্মে একটি নোট লিখে এডমিনদের পাঠিয়ে দিবে।

কয়েকদিন পরই, ফিনিক্স আবার ডিউয়ে মেশিনে গিয়ে ঢুকল, ক্রমাগত এমনভাবে ঢুকতে আর বেরোতে লাগল যেন আগে কিছুই ঘটেনি। যাহোক-তাহোক, সিস্টেমটায় সে তো নিজের চেষ্টায় ঢুকেছে এবং নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সে রুটও অর্জন করেছে। কাজেই এই কম্পিউটারে ঢোকার একটা অধিকার সে অর্জন করেছে। সে বড়জোড় এডমিনকে আশ্বস্ত করে একটা নোট পাঠাতে পারে, কিন্তু ড্যানিয়েল বার্জার বেজার হবে ভেবে ফিনিক্স তো আর বার্কলে’র কম্পিউটারে ঢোকা বন্ধ রাখতে পারে না।

‘দেখো,’ পার বলে চলল, ‘আমার মনে হয় ইউসিবি’র লোকজন তাদের সিস্টেমে এমন জিনিসপত্র রাখে যেগুলো সেখানে রাখার কথা নয়। মানে গোপন জিনিসপত্র আরকি।’

গোপন সামরিক জিনিসপত্র কোনো অরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কে রাখার কথা নয়। তবুও, প্যাড’র সন্দেহ ছিল যে কখনো কখনো গবেষকরা নিয়মের বাইরে গিয়ে থাকে এবং এই শটর্কাটটি ব্যবহার করে থাকে কারণ তাদেরকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নয় বরং গবেষণা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্থ থাকতে হয়।

‘কিছু কিছু অবৈধ জিনিসও হয়তো থাকতে পারে,’ প্যাড তার মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলল। ‘আর তারপর তারা তোমাদের কয়েকজনকে আবিষ্কার করল যারা ভিতরে ঢুকে বসে আছো…’

‘সারছে,’ ফিনিক্স বলল।

‘তাই, যদি দেখা যায় যে কেউ একজন ভিতরে ঢুকে ওইসব গোপন জিনিসপত্র হাতানোর চেষ্টা করছে…’ প্যাড বিরতি দিল। ‘তাহলে বুঝতেই পারছো এর পরিণাম কি হতে পারে। মনে হয় তারা সত্যিই জানতে চায় কে তাদের মেশিনে ঢুকেছে।’

প্যাড’র কথা হজম করতে গিয়ে অন্যান্য হ্যাকারদের কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে কেটে গেল। আলটসের একজন বাসিন্দা হিসেবে, প্যাড এতোদিন অন্যান্য হ্যাকারদের থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখেই চলত, এমনকি অস্ট্রেলিয়ানদের থেকেও, যাদের কিনা সে বন্ধু বলে মনে করত। তার এই চাপা স্বভাবই যেন এবারের সতর্কবার্তাটির একটা বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করল, যেটা সেদিন আলটসের প্রতিটা স্তর ভেদ করে একেবারে মর্মে গিয়ে বিঁধল।

ইতিমধ্যেই, ইলেক্ট্রন ফিনিক্সের প্রতি ইঙ্গিত করে প্যাড’র সতর্কবার্তা নিয়ে একটা মন্তব্য করে ফেলল, ‘আমি তোমাকে বলেইছিলাম নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে কথা বললে বিপদ ছাড়া আর কিছুই আসবে না।’

ফিনিক্স যে নিরাপত্তা জগতের রুই কাতলাদের সাথে কথা বলতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিল এই ঘটনায় ইলেক্ট্রন বারবার বিব্রত হতে লাগল। ইলেক্ট্রনের মতে, তার নিজের প্রতি যাবতীয় মনোযোগ কাড়ার পরিকল্পনাটা ছিল সবথেকে বড় ভুল এবং ফিনিক্সের অহম দেখতে দেখতে সে খুবই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। আলটসে ফিরিক্স’র লাফালাফি দেখে সে ইঙ্গিতে অনেকবার বলেছিল, ‘আমার মনে হয় মানুষের নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে কথা বলা ঠিক হচ্ছে না।’

ফিনিক্স অন-লাইনেই  ইলেক্ট্রনের প্রতি একপ্রকার ভক্তিভাব দেখিয়ে উত্তর দিল। ‘ঠিক আছে, আমি আর কোনোদিন নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে আলাপ করব না।’

ইলেক্ট্রন আগেও এইসব শুনেছে। এসব যেন  মাতালের আর মদ না খাওয়ার কসম। অন্যদের বিদায় জানিয়ে ইলেক্ট্রন চলে গেল। ফিনিক্সের কথা শোনার আর কোনো আগ্রহ তার নাই।

অন্যরা অবশ্য শুনল। শত শত কিলোমিটার দূর থেকে, ক্যানবেরা’র একটি বিশেষত্বহীন গোপন ভবনের বিশেষ একটা ঘরে বসে, সার্জেন্ট মাইকেল কোস্টেলো এবং কনস্টেবল উইলিয়াম এপ্রো ফিনিক্স’র ফোনে আসা প্রতিটা ইলেক্ট্রনিক সংকেত যথানিয়মে ধারণ করছিলেন। দুই কর্মকর্তা কম্পিউটার থেকে যাবতীয় ডাটার আদানপ্রদান রেকর্ড করছিলেন। তারপর তারা এই রেকর্ডিংটাও তাদের নিজস্ব মডেম এবং কম্পিউটারে চালিয়ে দিলেন এবং একটা টেক্সট ফাইল তৈরি করে নিলেন যাতে সেটাকে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এএফপি’র কম্পিটার ক্রাইম ইউনিটে কাজ করতে এই দুই কর্মকর্তা  উত্তরাঞ্চল থেকে মেলবোর্নে এসেছেন। অস্থায়ী চেয়ার টেবিলে তাদের পিসি এবং ল্যাপটপ বসিয়ে, কর্মকর্তা দুজন ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সাল থেকে তাদের গোপন আড়িপাতার কাজ শুরু করেন।

এএফপি এই প্রথমবারের মত ডাটাট্যাপ করছে। তারা ফিনিক্সের কখনো বার্কলে, কখনো টেক্সাস, কখনো নাসা, কখনো দুনিয়ার আরও ডজনখানেক কম্পিউটারে হ্যাক করে বেড়ানো নিয়মমাফিক উপায়ে রেকর্ড করতে পেরে যারপরনাই খুশী। ফোন আড়িপাতার পরোয়ানা ৬০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে, যেটা প্রচন্ড দাম্ভিক রেল্ম হ্যাকারদের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ সাক্ষ্য সংগ্রহের জন্য যথেষ্টের চেয়েও বেশী সময়। সময় এখন তাদের পক্ষে।

কর্মকর্তারা অপারেশন ড্যাবল’র কাজকর্ম বিভিন্ন শিফটে করতেন। কনস্টেবল এপ্রো এএফপি’র টেলিকমুনিকেশন ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চে আসতেন রাত ৮টা নাগাদ। এর ঠিক দশ ঘণ্টা পরে, ভোর ৬টার সময়, সার্জেন্ট কোস্টেলো এসে এপ্রোকে ছুটি দিলে তিনি আরামে একটা ঘুম দেবার সময় পেতেন। এপ্রো রাতের শিফট শুরু করত আবার রাত ৮টার সময় আসতেন।

সর্বক্ষণ তারা থাকতেন। প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টা। সপ্তাহের সাতদিন। অপেক্ষা করতেন এবং শুনতেন।

বিষয়টা খুবই হাস্যকর। টেক্সাসের অস্টিনে বসে এরিক ব্লাডএক্স আর হাসি থামাতে পারে না। মেলবোর্নের ফিনিক্স’র তো হাসতে হাসতে পেটে খিল লাগার জোগাড়।

ফিনিক্স ফোনে কথা বলতে খুব ভালোবাসত। সে প্রায়ই এরিককে কল করত, কখনো কখনো প্রতিদিন, এবং তারা বহু সময় ধরে কথা বলত। ফিনিক্সকে পয়সা নিয়ে চিন্তা করতে হত না; কারণ পয়সাটা তাকে দিতে হত না। কলটা কোনো বেচারা এসওডি’র বিলের সঙ্গে গিয়ে যুক্ত হত এবং সে ফোন কোম্পানির সঙ্গে বসে সেটা বেছে বেরও করতে পারবেন।