আর গেভিন যা জানত না তা হল সিক্রেট সার্ভিস শুধুমাত্র সিক্রেট সার্ভিসই প্যাসিফিকের ওপার থেকে চাপ দিচ্ছিল এমনটি নয়। এফবিআইও অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল পুলিশকে রহস্যময় কিন্তু গোলমেলে অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকার, যারা আমেরিকান কম্পিউটার সিস্টেমগুলোতে ঢুকত, তাদের ব্যাপারে জানিয়েছিল [৫] এবং এএফপি সেই তথ্য মোতাবেক কাজও করেছিল।

১৯৮৯ সালের শেষের দিকে, এএফপি’র ডিটেক্টিভ সুপারইন্টেন্ডেন্ট কেন হান্ট মেলবোর্নের হ্যাকারদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ফেডারাল এন্টি-হ্যাকিং আইন চালু হওয়ার পর ধারণা করা হয় যে, কম্পিউটার বিষয়ক অপরাধের বিরুদ্ধে এটাই সবচেয়ে বড় তদন্ত। অন্যান্য দেশের বেশীরভাগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতোই, এএফপিও কম্পিউটার বিষয়ক অপরাধ দমনে আনাড়ি খেলোয়াড়ই ছিল। কম সংখ্যক অফিসারেরই কম্পিউটারে দক্ষতা ছিল, কম্পিউটার বিষয়ক অপরাধ তো দূরের কথা, কাজেই তাদের ক্ষমতার প্রমাণের জন্য একটা জরুরী মামলা ছিল এটি। [৬]

এই সংবাদ গেভিন ফাঁস করামাত্র, ফোর্স তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়। সে ফোনে ফিনিক্সকে ডাকে, তাকে যতো দ্রুত সম্ভব সামনাসামনি দেখা করার জন্য পীড়াপীড়িও করে। তাদের বন্ধুত্ব যেহেতু অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিল, তাই তারা অন-লাইনে কথা বলার পাশাপাশি টেলিফোনেও বলতে শুরু করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা একসাথে ঘুরে বেড়ানো অবধি গড়িয়েছিল। ফিনিক্সকে ফোর্স একা বসিয়ে রেখে একটা শক্ত সর্তকবার্তা দিল। কিভাবে সে এই তথ্য পেয়েছে তা জানালো না, তবে এটুকু বুঝিয়ে দিল যে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই খবরটা সে পেয়েছে।

ঘটনাটা হল পুলিশ কাউকে ধরার জন্য ওঁৎ পেতে আছে। ব্যাপারটা নিয়ে তড়িঘড়ি শুরু হয়েছিল যখন মার্কিন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বারবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে বলছিল, ‘তোমরা যদি দ্রুত এ ব্যাপারে কিছু না করো, তাহলে কিন্তু আমরাই কিছু একটা করব।’ তবে, আমেরিকানরা কিভাবে পদক্ষেপ নিবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানোর বদান্যতা দেখায়নি, তার প্রয়োজনও বোধ করেনি।

ফিনিক্সকে হঠাৎ ম্লান হয়ে গেল। সে অবশ্য খুবই সরব ছিল এতোদিন এবং বলতে গেলে সবসময়ই কোনো না কোনো সিস্টেমে অনুপ্রবেশও করে আসছিল। যেগুলোর অনেকগুলো আবার মার্কিন সিস্টেম।

পশ্চিম জার্মানির হ্যাকার হ্যাগবার্ড’র মত পরিণতি সে চায় না। ১৯৮৯ সালের জুনে ওই হ্যাকারের পেট্রোল-পোড়া দেহাবশেষ জার্মানির একটা জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়।

পেঙ্গু’র ডানহাত হিসেবে হ্যাগবার্ড একদল জার্মান হ্যাকার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল যারা ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে মার্কিন কম্পিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ব জার্মানির একজন কেজিবি এজেন্টের কাছে বিক্রি করত।

১৯৮৯ সালের মার্চে, জার্মান পুলিশ্ল এই হ্যাকার দলটির সদস্যদের বাড়িতে এবং অফিসে তল্লাসি চালায় এবং অনেকজনকে ধরে নিয়ে যায়। পেঙ্গুর মত হ্যাগবার্ডও এই ধড়পাকড়ের মাসখানেক আগে গোপনে জার্মানির কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে এবং নিজেদেরকে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে পুরো হ্যাকিং চক্রটির ভিতরের খবরাখবর সরবরাহ করে।

আমেরিকান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এবং তাদের উকিলরা এই হ্যাকারদের কোনো ধরণের ছাড় দিতে উৎসাহী ছিল না। সিআইএ এবং এফবিআই সহ বেশকিছু মার্কিন এজেন্সি এই জার্মান গুপ্তচর চক্রকে দীর্ঘদিন ধরে ধাওয়া করে আসছিল এবং তারা এগুলোর কঠিন শাস্তিই চাচ্ছিল, সম্ভব হলে তা আমেরিকার জেলাখানাতে কার্যকর করারও পক্ষে ছিল।

হ্যাগবার্ড’র দেহাবশেষ যখন পাওয়া গেল তখন জার্মানির আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। সে কি আত্মহত্যা করেছিল নাকি খুন হয়েছিল? কেউ সেকথা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি, কিন্তু এই খবর কম্পিউটার আন্ডাগ্রাউন্ড জগতের বাসিন্দাদের দারুণভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। হ্যাকাররা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলাপও করেছীল। একদিকে, ১৯৮৭ সালের শুরু থেকেই হ্যাগবার্ড’র মানসিক অস্থিরতা এবং মাদকাসক্তি, মানসিক হাসপাতাল এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস তো ছিলোই। আরেকদিকে, যদি কেউ আত্মহত্যাই করে, তাহলে সে নিজেকে পুড়িয়ে মারার মত হিংস্র পদ্ধতি বেছে নেবে? নাকি কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে বা গুলি চালিয়েই কাজটা করবে?

আত্মহত্যা বা খুন, যাই হোক না কেন, হ্যাগবার্ড’র মৃত্যু ফিনিক্সের উপর দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় কোন মার্কিন সংস্থাটি লেগেছে কে জানে? তারা কি তাকেই খুঁজছে?

না। ফোর্স তাকে নিশ্চিত করে জানাল, তারা ইলেক্ট্রনের পিছনে লেগেছে। ফিনিক্সের সমস্যা হল সে ইলেক্ট্রনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে – কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে। ফিনিক্স যদি ইলেক্ট্রনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে সেও এএফপি’র জালে জড়িয়ে যাবে।

ফিনিক্সের কাছে এবার বার্তাটি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেল।

ইলেক্ট্রনের কাছ থেকে দূরে থাকো।

[  ]

‘এই ছোটলোকের বাচ্চা, শোন।’

‘হ্যাঁহ?’ একটু আনমনেই ফিনিক্স উত্তর দিল।

‘আকাইম্ম্যা মেশিন। আমি সব এডিটিং করছি এবং এই বালটা সেগুলোর কোনোকিছুই সেভ করে নাই।’ ইলেক্ট্রন তার শোবার ঘরের টেবিলের পাশে বসে ৫১২কে মেমোরির কমোডর এ্যামিগার দিকে তাকিয়ে রাগে গজরাতে গজরাতে বলল।

তখন ১৯৯০ সালের জানুয়ারি চলছিল এবং ফিনিক্স ও ইলেক্ট্রন দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে ছুটিতে বাড়িতেই ছিল।

‘হ। আমি যদি জিনিসটা ঠিক করতে পারতাম তাইলে তো হইতোই। বালের বাল। তুমিই করো!’ ফিনিক্স চোখ পাকিয়ে বলল। কথা বলার সময় ইলেক্ট্রন অপরপ্রান্তে টাইপ করার শব্দ শুনতে পেল। সে তার ম্যাকিনটস এসই৩০ এ ইউনিক্সের এপল সংস্করণ, এইউএক্স চালানোর জন্য বেশকিছুদিন ধরে মরিয়া হয়ে লেগেছে।

ফিনিক্সের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন আলাপ করার সুযোগ পাওয়া দুষ্কর। মেশিন যখন ঠিকঠাক চলে, ঠিক তখনই নানীজান তার ঘরের বাইরে থেকে এটাসেটা জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন।

‘লিস্টটা দেখতে চাও? ফাইলটা কতোবড়?’ ফিনিক্স জিজ্ঞেস করল, আলাপে আরও মনোযোগী হয়ে।

‘হ্যাঁহ? কোন ফাইল?’

‘সেই ডিকশনারি ফাইল। পাসওয়ার্ড ক্রাকারকে যেটা শব্দের যোগান দেয়,’ ফিনিক্স উত্তর দিল।

ইলেক্ট্রন সেই ডিকশনারির লিস্ট তুলে ধরল এবং তার দিকে নজর দিল। লিস্টটাকে একটু কাটছাঁট করা যেতে পারে, সে ভাবল। এই ডিকশনারিটা পাসওয়ার্ড ক্রাকিং প্রোগ্রামের একটা অংশ। ডিকশনারি যতো বড় হবে, কম্পিউটারেরও পাসওয়ার্ডের তালিকা ভাঙতে ততো বেশী সময় লাগবে। সে যদি দুর্বোধ্য শব্দ — যেসব শব্দ মানুষ সচরাচর পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করে না — সেগুলো বেছে ফেলে দেয় তাহলে তার ক্র্যাকারটা হয়তো দ্রুত কাজ করবে।

যেকোন কার্যকরী পাসওয়ার্ড ক্র্যাকারের কদর অনেক বেশী। ইলেক্ট্রন এখন তার কম্পিউটারকে টার্গেট কম্পিউটার, ধরা যাক, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার থেকে বের করে আনা পাসওয়ার্ড ফাইল উদ্ধার করতে দিয়ে ঘুমাতে যাবে। প্রায় বারো ঘন্টা পরে, সে তার মেশিনের অগ্রগতি পরীক্ষা করে দেখবে।

কপাল ভালো থাকলে সে ছয় বা তারও বেশী একাউন্ট পেয়ে যাবে — যেগুলোর ইউজার নাম এবং পাসওয়ার্ড — তার জন্য একটা ফাইলে সংরক্ষিত থাকবে। এই প্রক্রিয়াটা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়। এরপর ইলেক্ট্রন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ওইসব ক্র্যাক করা একাউন্ট ব্যভহার করে লগইন করতে পারবে, যেগুলোর প্রত্যেকটিকেই তখন লোকাল কলের পয়সায় অন্যান্য সিস্টেমে হ্যাকিঙের জন্য জাম্পিং-অফ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

ইউনিক্স পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়, যদি প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশ, যেমন ডিকশনারি, ঠিকঠাক কাজ করে তাহলে। তবে, পুরো ব্যাপারটাই সময়সাপেক্ষ। পদ্ধতিটা খুবই সহজ। পাসওয়ার্ডগুলো, নিজ নিজ ইউজার নামের সঙ্গে পাসওয়ার্ড ফাইলে এনক্রিপ্টেড আকারে সংরক্ষিত থাকে। ডিমের ঝুরিভাজাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার মতোই এনক্রিপশনকে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে আসা একটা অসম্ভব ব্যাপার। তাই, তার বদলে, একটা নতুন এনক্রিপশন প্রক্রিয়া তৈরি করে তার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সহজ।

এরজন্য তিনটি প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথম ধাপ, একটা কম্পিউটারকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্থির করতে হয় এবং তার থেকে পাসওয়ার্ড ফাইল বের করে আনতে হয়। দ্বিতীয় ধাপ, সাধারণভাবে ব্যবহার হয় এমন পাসওয়ার্ডগুলোর একটা তালিকা তৈরি করতে হয়, যেমন: পাসওয়ার্ড ফাইলের ইউজার নাম বা কোনো অভিধান থেকে শব্দ নিয়ে এবং সেগুলোকে দ্বিতীয় আরেকটা ফাইলে এনক্রিপ্ট করতে হয়। তৃতীয় ধাপ, দুটো লিস্টকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করতে হয়। যখনই কোনোটা মিলে যাবে, বুঝে নিতে হবে কাঙ্খিত পাসওয়ার্ড মিলে গেছে।

তবে, একটা গুরুত্বপূর্ণ জটিলতার কথা মাথায় রাখতে হবে: সল্ট। সল্ট ডিইএস এনক্রিপশনের এলগরিদমের কার্যপ্রণালী বদলে দিয়ে পাসওয়ার্ডের এনক্রিপশনের ধরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ‘Underground’ শব্দটা দুটি আলাদা সল্ট দিয়ে দুটি আলাদা উপায়ে এনক্রিপ্ট করা হল, যথাক্রমে: ‘kyvbExMcdA0VM’ অথবা ‘1hFaTmw4Ddrjw’. এক্ষেত্রে প্রথম দুটি অক্ষর সল্ট এবং অন্যান্যগুলো পাসওয়ার্ডকে নির্দেশ করে। কিন্তু কম্পিউটার যখন কোনো ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করে করে তখন এলোমেলোভাবে সল্ট বাছাই করে। এখানে শুধুমাত্র একটি উপায় দেখানো হল। তবে আরও ৪০৯৬ টি ভিন্ন ভিন্ন সল্টও এখানে থাকতে পারে। প্রতিটা ইউনিক্স কম্পিউটারই তাদের পাসওয়ার্ড এনক্রিপশনের ক্ষেত্রে সল্ট ব্যবহার করে।

পাসওয়ার্ড ক্র্যাকিংকে আরও জটিল করার জন্যই সল্টের অবতারণা করা হয়েছে, যাতে কোনো হ্যাকার কোনো অভিধানকেই একেবারে এনক্রিপ্ট করতে না পারে এবং তারপর তার হ্যাকিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এনক্রিপ্টেড পাসওয়ার্ডের সবগুলো তালিকা সেটার সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারে। ৪০৯৬ টি সল্ট থাকার মানে হল একজন হ্যাকারকে আভিধানিক শব্দ সম্বলিত পাসওয়ার্ড উদ্ধার করতে হলে ৪০৯৬টি অভিধান ব্যবহার করতে হবে — যার প্রতিটা ভিন্ন ভিন্ন সল্ট দিয়ে এনক্রিপ্টেড।

কোনো একটা সিস্টেমে ইলেক্ট্রন যদি অনুপ্রবেশ করে, তাহলে সেখানে মাত্র ২৫জন ব্যবহারকারী থাকতে পারে, এবং মাত্র ২৫টি পাসওয়ার্ড থাকার কথা, যেগুলোর প্রতিটি হয়তো ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন সল্ট ব্যবহার করে থাকে। যেহেতু পাসওয়ার্ডের পাশেই সল্ট অক্ষরগুলোও সংরক্ষিত থাকে, তাই তার পক্ষে অনায়াসে দেখা সম্ভব যে কোন সল্ট কোন পাসওয়ার্ডের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজেই এক্ষেত্রে তাকে ২৫ বার কোনো অভিধানকে এনক্রিপ্ট করতে হবে।

তবুও, কোনো বড়সড় অভিধান ২৫ বার আলাদা আলাদা সল্ট দিয়ে এনক্রিপ্ট করতেও যেকোন সাধারণ গৃহস্থালী কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে প্রচুর জায়গা লাগত। আর শুধু অভিধানের জন্যই এতোখানি লাগত। সবথেকে দক্ষ ক্র্যাকিং প্রোগ্রামগুলোতে ‘বুদ্ধি খাটিয়ে পাসওয়ার্ড অনুমান’ করার ব্যবস্থাও থাকত। উদাহরণস্বরূপ, প্রোগ্রামটা হয়তো ইউজার নামটা নিয়ে সেটার বড় হরফ এবং ছোট হরফ দিয়ে চেষ্টা করল। তারপর সেটার শেষে ‘১’ বসিয়ে আবার চেষ্টা করল। সংক্ষেপে, প্রোগ্রামটা পারমুটেশন, শাফলিং, রিভার্সিং করে এবং প্রাথমিক তথ্যগুলোকে, যেমন: ইউজার নামের সঙ্গে নানাভাবে সাজিয়ে ‘শব্দ’ তৈরি করে অনুমান করতে পারত।

‘২৪০০০ শব্দ। অনেক বেশী,’ ইলেক্ট্রন বলল। অভিধান মিলানোর কাজ হল অসম জিনিসের মাঝে সামঞ্জস্যতা আনার চেষ্টার নামান্তর। ক্র্যাকিং ডিকশনারিতে যতো কম শব্দ থাকবে, এনক্রিপ্টেড পাসওয়ার্ড ভাঙতে কম্পিউটারের ততো কম সময় লাগবে। তবে, ডিকশনারি যতো ছোট হবে, অনুমানও ততো কম হবে, আর তাই, একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভাঙার সম্ভাবনাও কমতে থাকবে।

‘হুমম। আমার ২৪৩২৮। দুজনে একসাথে মিলানোই সবথেকে ভালো বুদ্ধি।’

‘হ। ঠিকাছে। একটা অক্ষর বলো।’

‘সি। সি দিয়ে শুরু করা যাক।’

‘সি কেন?’

‘সি। কারণ আমার নানীর ক্যাট, কোকো.’

‘ও। আচ্ছা। এই নাও। ক্যাব, ক্যাবাল, ক্যাবালা, ক্যাব্বালা.’ ইলেক্ট্রন থামলো। ‘ক্যাব্বালা আবার কি জিনিস?’

‘কি জানি। আচ্ছা। আগেরগুলো বুঝেছি। কিন্তু ক্যাব্বালা বুঝি নাই। যাহোক, ক্যাবারেট, ক্যাবেজ। বাল, আমি ক্যাবেজ দেখতেই পারি না। ক্যাবেজ কোন শালায় পাসওয়ার্ড রাখবে?’

‘বোকাচোদায়,’ ইলেক্ট্রল উত্তর দিল।

‘হহ,’ ফিনিক্স হেসে আবার শুরু করল।

ফোর্স’র সতর্কবাণীকে ফিনিক্স কখনো কখনো মন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাচ্ছিল, কিন্তু, সে যতোই দমিয়ে রাখতে চাচ্ছিল, ততোই যেন চিন্তাটা তার মাথায় ফিরে ফিরে আসছিল। তবুও, তার চিন্তা হচ্ছিল। ফোর্স বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই বিষয়টা দেখছে। সে শুধু ইলেক্ট্রনের সঙ্গ ত্যাগই করেনি, আপাতদৃষ্টে একদম শান্তশিষ্ট হয়ে গেছে বলেও মনে হচ্ছে।

আসলে, ফোর্স তার নতুন ভালোবাসার সন্ধান পেয়েছে: সংগীত। সে নিজে গান লিখে সেসব গাইছিল। ১৯৯০ এর গোড়ার দিকে তাকে সংগীত নিয়ে এতোই ব্যস্ত হয়ে যেতে দেখা গেল যে দ্য রেল্মকে সে ধীরে ধীরে হিমশীতল জায়গায় পরিণত করল। এর সদস্যরা কয়েকমাসের জন্য আরেকজন রেল্ম সদস্য, নোম’র মেশিনে জড়ো হতে লাগল।

তবে, ফিনিক্স, কোনোভাবে জানতে পেরেছিল যে, ঘটনা এতোটুকুই নয়। কোনো হ্যাকার এভাবে হঠাৎ করে সব ছেড়েছেঁড়ে চলে যায় না। বিশেষ করে ফোর্স। ফোর্স হ্যাকিঙে মশগুল ছিল। তাই, তার এসব আচরণের কোনো অর্থই থাকতে পারে না। অবশ্যই অন্যকোনো ঘটনা আছে। ফিনিক্স ভেবে স্বস্তি পেলো যে সে ফোর্স কথামতো কাজ করতে পেরেছে এবং ইলেক্ট্রনের কাছ থেকে দূরে সড়তে পেরেছে। অবশ্য, কিছুদিনের জন্য।