ফোর্সের পুরাতন জিনিসপত্র ঘাঁটার অভ্যাস গড়তে গেভিনের ভূমিকা ছিল। তারা যেদিন তার টার্মিনালে রাত কাটাতো না, সেই রাতগুলোতে গেভিন টেলিকম’র অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্তুপের মধ্যে তথ্যের রত্ন খুঁজে বেড়াত। একাউন্ট নাম, পাসওয়ার্ড, ডায়াল-আপ মডেম, এনইউএ– মানুষ যা কিছু বিভিন্ন টুকরো কাগজে টুকে রাখত এবং কাজ শেষে পরেরদিন ফেলে দিত।

ফোর্সের ভাষ্যমতে, গেভিন ঘনঘন অফিস পরিবর্তন করত, তাতে তার টিকিটিও ভালোভাবে লুকিয়ে ফেলা যেত। আরও সুবিধার জন্য, সে, যেসব অফিসে ডজনখানেক কর্মীদের সারাদিন শ’খানেক ফোনকল করতে হত সেসব অফিসে কাজ করত। গেভিন এবং ফোর্সের অবৈধ কাজকর্ম প্রতিদিনকার বৈধ কাজকর্মের মাঝেই চাপা পড়ে যেত।

এই দুই হ্যাকার পরস্পরকে বিশ্বাস করত; গেভিনই হল একমাত্র ব্যক্তি যার কাছে ফোর্স সিটিসৌদি মেশিনের সঠিক ঠিকানাটা বলেছিল। এমনকি, দ্য রেল্ম’র উঠতি তারকা, ফোর্স’র প্রিয়পাত্র, ফিনিক্সও ফোর্সের সিটিব্যাংক সম্পর্কিত যাবতীয় অর্জনের কোনোকিছুই জানত না।

ফোর্স অবশ্য পরে তার এই উজ্জ্বল কীর্তির কিছুটা ফিনিক্সকে জানিয়েছিল, তবে পুরোটা নয়। মাত্র কয়েকটা সিটিব্যাংক কার্ড — টোকেন ট্রফি — এবং সিটিব্যাংক নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত কিছু সাধারণ তথ্য। বিপুল পরিমাণ কার্ড নম্বর সংগ্রহ এবং ব্যবহার করার লোভে পড়লে তরুণ ফিনিক্সের মাথা বিগড়ে যাবার কথা চিন্তা রেখে, ফোর্স সিটিব্যাংক মেশিনের ঠিকানা গোপন রেখেছিল। সে জানত ফিনিক্স কোনো একদিন সিটিব্যাংক সিস্টেম নিজেই খুঁজে বের করবে, এবং এতে তার করার কিছুই নাই। কিন্তু ফিনিক্সকে সাহায্য করে নিজেকে ঝামেলায় না জড়াতে ফোর্স বদ্ধ পরিকর ছিল।

সিটিব্যাংক নেটওয়ার্ক ছিল সমৃদ্ধ সিস্টেমের ভান্ডার — যেগুলোও ফোর্স গোপন রেখেছিল। সেই নেটওয়ার্কে যতোই সে ঘুরে বেড়াত, ততোই সন্ধান পেত। সিটিসৌদি সিস্টেম আবিষ্কারের পরই, সে সিটিগ্রীস নামের আরেকটা মেশিনের সন্ধান পায় যেটা সৌদি-আমেরিকার অংশটির মতোই কার্ডের বিবরণ জমা করত। ওই সিস্টেমে প্রতি পনের বা তার বেশী ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে, ফোর্স মাত্র দুটি সঠিক নম্বর পেয়েছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে অন্যগুলো হল পরীক্ষামূলক কার্ড এবং সেটা ছিল সম্ভবত একটা নতুন সাইট। সিটিগ্রীস মেশিন আবিষ্কারের অল্পকিছুদিনের মধ্যেই সে আরও দুটি দেশের একইরকম ভ্রুণ-সাইটের সন্ধান পেয়েছিল।

ফোর্স ফিনিক্সকে পছন্দ করত এবং সে নবীশ হ্যাকারটির কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার উৎসাহ এবং উদ্দীপনা দেখে মুগ্ধ হত।

ফোর্স ফিনিক্সকে মির্নাভায় নিয়ে গিয়েছিল, ঠিক যেমনটি করে কয়েকবছর আগে ক্রেগ বাওয়েন ফোর্সকে নিয়ে গিয়েছিল। ফিনিক্স সবকিছু দ্রুত আয়ত্ত করে নিয়েছিল এবং আরও জানার জন্য এসেছিল। জানার ক্ষুধা তখন তার মাঝে জাগ্রত এবং, ফোর্সের মতে, খুবই উজ্জ্বল। বস্তুত, ফোর্স সেই তরুণ হ্যাকারের মধ্যে নিজের ছায়া দেখতে পেয়েছিল। তারা দুজনেই একই ধরণের সচ্ছল, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে। তারা দুজনেই মূলধারার কিছুটা বাইরে চিন্তা করে। ফোর্সের পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন গ্রহণ করেছিল। আর ফিনিক্সের পরিবারের কয়েকজন আগে ইসরায়েলে থাকতেন এবং তার পরিবার ছিল বেশ ধর্মপরায়ণ।

ফিনিক্স ভিক্টোরিয়ার সবচেয়ে রক্ষণশীল ইহুদী স্কুলে যেত, যারা নিজেদের ‘আধুনিক রক্ষণশীল জায়োনিস্ট’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবী করত। নবম বর্ষের অর্ধেক বিষয়ই ছিল জুয়িশ স্টাডিজ সংক্রান্ত, সব ছাত্রদের ইয়ারমুক পরতে হত এবং স্কুলের আশা ছিল ছাত্ররা স্নাতক করে বেরিয়ে যাবার আগে যেন হিব্রু ভাষা অনর্গল দক্ষতা নিয়ে বের হয়।

তাকে যে কেউ তলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারত যে, সোনালি-চুলের বাচ্চাটির ভবিষ্যতও সোনালি-রঙা উজ্জ্বল। স্কুলে এবং ম্যাট্রিকুলেশনে সাফল্য থাকা সত্ত্বেও, ফিনিক্স কিছু সমস্যার মধ্যে ছিল। প্রায় চৌদ্দ বছর বয়সে তার বাবা-মা’র বিচ্ছেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে।

বিচ্ছেদের পরে, ফিনিক্সকে ইসরায়েলে বোর্ডিং স্কুলে ছয়মাসের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেলবোর্নে ফেরার, সে তার ছোটবোন এবং মায়ের সঙ্গে নানীর বাড়িতে থাকতে শুরু করে। তার মেঝ ভাই, তার বাবার সাথে থাকত।

স্কুলের বন্ধুরা ফিনিক্সের বাড়িতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ত। তার একজন ভাল বন্ধু ফিনিক্সের মায়ের সাথে কথা বলতেও হিমশিম খেতো। তার উৎফুল্লতা মাঝে মাঝে যেন বায়ুগ্রস্থ এবং উগ্র পর্যায়ে চলে যেত। তার নানী ছিল একজন সদা-সন্ত্রস্ত্র মহিলা, যে ফিনিক্সকে বজ্রপাতের সময় ঘরের টেলিফোন লাইন ব্যবহার করতে দিত না বিদ্যুৎপিষ্ট হওয়ার ভয়ে। বাবার সাথেও ফিনিক্সের সম্পর্ক বিশেষ ভাল ছিল না। টেলিকমের ম্যানেজার ভদ্রলোকটিকে সবসময় নিস্পৃহ বা আবেগশুন্য এবং ভয়াবহ রাগ, এই দুই অবস্থাতেই দেখা যেত।

আর, ফিনিক্সের সবচেয়ে ছোট ভাইটিই ছিল পরিবারের গলগ্রহ। সে সতের বছর বয়সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় এবং নিজপায়ে দাঁড়ানোর আগেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ফিনিক্সের মত, তার ভাইয়ের সমস্যাগুলো সবার চোখে এতো ধরা পড়ত না। চরম দুঃসময়ে পতিত হয়ে সে ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য হয় এবং তার পরিস্থিতির পরিবর্তন করে।

অপরদিকে, ফিনিক্স তার বিদ্রোহ প্রকাশের জন্য কম গোচর উপায় খুঁজে নেয়। এগুলোর মধ্যে আছে আছে ক্ষমতা প্রকাশক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন – মার্শাল আর্টস, অস্ত্রের মধ্যে তলোয়ার এবং অন্যান্য ছোট অস্ত্র এবং সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং। সেকেন্ডারি স্কুলের শেষ বছরে, তখনও নানীরবাড়িতেই থাকার সময়, ফিনিক্স হ্যাকিং শুরু করে। সে মেলবোর্নের অনেকগুলো বিবিএসে ঘুরে বেড়াত, আর তখনই অনলাইনে ফোর্সের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব তৈরি হয়।

ফোর্স ফিনিক্সের হ্যাকিং দক্ষতার উন্নতি আগ্রহভরে দেখত এবং কয়েকমাস পরে সে তাকে দ্য রেল্মে আমন্ত্রণ জানায়। সবথেকে কম সময়ে রেল্ম সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণের ঘটনা এটি এবং নতুন হ্যাকারটিকে দলে যুক্ত করে নিতে সকলে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেয়। রেল্ম’র ডাটাবেজের জন্য বিভিন্ন সিস্টেম এবং নেটওয়ার্কের নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করে ফিনিক্স একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে। হ্যাকিং কার্যক্রমের শীর্ষে থাকাবস্থায়, ফোর্স এবং ফিনিক্স প্রায় প্রতিদিন ফোনে কথা বলত।

ফিনিক্সের এই নতুন গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে ইলেকট্রনের অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ইলেকট্রন ১৯৮৮ সালের কয়েকমাস দ্য রেল্মে নিয়মিত আসত। ফোর্স’র সম্মতিতে ফিনিক্স যখন আপ্লুত, আঠার বছর বয়সী ইলেকট্রন তখন তার প্রতি বাড়তে থাকা অবজ্ঞা টের পেতে শুরু করল।

ফোর্স অবশেষে ইলেকট্রন এবং তার বন্ধু, পাওয়ারস্পাইককে তার এক্সক্লুসিভ মেলবোর্ন ক্লাব অফ হ্যাকার্স থেকে তাড়িয়ে দিল। ফোর্স এই ভাষাতেই বলছিল। সে দ্য রেল্ম’র অন্যান্য সদস্যদের বলেছিল ইলেকট্রন দুটি ঘোরতর পাপ করেছে। প্রথমটি হল সে ওটিসি’র মিনার্ভা সিস্টেমের একাউন্ট ব্যবহার করে আলটসে কানেক্ট করে মূল্যবান সংস্থানটি নষ্ট করছে। কারণ, এভাবে সংযুক্ত হওয়ার অর্থই হল একাউন্টগুলোর যেকোন মুহূর্তে অনুসৃত হওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া।

মিনার্ভা এডমিনরা যেমন মাইকেল রোজেনবার্গ — দ্য রেল্ম’র চিরশত্রু — আলটস এনইউএ চিনে ফেলেছিল। রোজেনবার্গই ছিল হ্যাকারদের বিরুদ্ধে ওটিসির সবচেয়ে বড় ভরসা। সে মিনার্ভা থেকে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করত কারণ সে তাদের চরিত্র পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পেরেছিল: হ্যাক কর, তারপর আলটসে গিয়ে বন্ধু হ্যাকারদের জানাও, তারপর আরও হ্যাক করো।

মিনার্ভার বেশীরভাগ একাউন্ট চালাতো বিভিন্ন কর্পোরেশন। এএনজেড ব্যাংকের কতোজন বৈধ ব্যবহারকারীই বা আলটসে যেতে পারে? কেউ না। সুতরাং, রোজেনবার্গ যখন কোনো একাউন্টকে আলটসে যুক্ত হতে দেখত, তখন সে হ্যাকারটি কি করে তা চুপটি করে দেখত — যদি সে জার্মান চ্যাট বোর্ডে ঢুকে পড়ে — সেক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিতেন এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দিতেন, যাতে হ্যাকারকে চিরতরে বিদায় করা যায়।

ইলেকট্রনের দ্বিতীয় পাপ, ফোর্সের মতে, সে নাকি গ্রুপের অন্যান্যদের থেকে হ্যাকিঙের তথ্য গোপন করত। এক্ষেত্রে ফোর্সের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ না থাকলেও তার মতটা ছিল, একজন দোষ করা মানে তার দলবল সহ দোষী হওয়া।

পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয় প্রকাশ্যে। পাওয়ারস্পাইক এবং ইলেকট্রন পরস্পরকে জানায় যে, এই নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নাই। তারা যেমনটা ভেবেছিল তা হল, তারা তো দ্য রেল্ম বিবিএসে মাঝে-সাঝে যেত এবং নিশ্চিতভাবেই তারা দ্য রেল্ম’র সদস্য ছিল না। ইলেকট্রন পাওয়ারস্পাইককে ইয়ার্কি মেরে বলেওছিল, ‘দ্য রেল্ম’র মত মাথামোটাদের দলে কে যেতে চায়?’ তবুও, এসব কথায় সবাই কষ্ট পেয়েছিল বৈকি। ১৯৮৮-৯০ এর সময়কার হ্যাকাররা তথ্যের জন্য পরস্পরের উপর নির্ভর করত। তারা তাদের দক্ষতা এইরকম কমুনিটি, যারা বুদ্ধির আদান-প্রদান করত, সেখানেই শানিয়ে নিত এবং তথ্যের উৎসের উপরে অভ্যস্থ হয়ে যেত।

মাসখানেক পরে, ফোর্স নিতান্ত অনিচ্ছায় ইলেকট্রনকে আবারো দ্য রেল্মে যোগ দিতে সায় দিল, কিন্তু সম্পর্কটা বিরক্তির। ইলেকট্রন যখন আবারো লগইন করল, সে বিবিএসে একটা ফাইল খুঁজে পেল যার শিরোনাম ছিল ‘ইলেকট্রনের কাছ থেকে চুরি করা স্ক্যানার’। ইলেকট্রন যখন নির্বাসনে ছিল এবং দ্য রেল্মকে খোঁচানোর ব্যাপারে তার মনে যখন কোনো পরিতাপ ছিল না, সেই সময়টায় ফোর্স ইলেকট্রনের ভিএমএস স্ক্যানারের একটা কপি বিদেশের একটা কম্পিউটারে খুঁজে পায়।

তবে জিনিসটা কোনো স্ক্যানার ছিল না। ওটা ছিল একটা ট্রোজান। এবং, এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। জিনিসটা নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোর ঠিকানা স্ক্যান করত না। কেউ যখন তার ভিএমএস কম্পিউটার দিয়ে এক্স.২৫ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য মেশিনে সংযুক্ত হয় তখন এটি সেখান থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। ইলেকট্রন যখন তাকে জানাল তখন পাওয়ারস্পাইক হাসিতে ফেটে পড়ল। ‘আচ্ছা,’ সে পাওয়াস্পাইককে বলল, ‘জনাব বিগশট ফোর্স হয়তো প্রাইম কম্পিউটারগুলোর ব্যাপারে কিছু জানেন, কিন্তু তিনি ভিএমএস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না।’

ইলেকট্রনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়া সত্ত্বেও, ফিনিক্স এই পতিত হ্যাকারের সঙ্গে কথা বলত কারণ তাদের নেশার জায়গাটা সমানই ছিল। ইলেকট্রনের শেখার আগ্রহও তখন উর্ধ্বমুখী এবং, ফিনিক্সের মতোই, সেও খুব দ্রুত আয়ত্ত করছিল — মেলবোর্নের যেকোন হ্যাকারদের তুলনায় অনেক দ্রুত।

ফিনিক্স যখন স্বীকার করল যে সে ইলেকট্রনের সাথে নিয়মিত কথা বলে, ফোর্স তাকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করল কিন্তু ব্যর্থ হল। ফোর্সের পিতৃসুলভ আচরণের প্রতি অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকিং দুনিয়ায় কিছুটা বিরাগ সৃষ্টি হয়েছিল। সে নিজেকে অনেকটা হ্যাকিং জগতের গডফাদার মনে করত। তবে, ফোর্স নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং এডমিনদের নিয়ে ফিনিক্স’র ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া উন্নাসিকতার ব্যাপারে চিন্তিত ছিল। এক ঘটনায়, ফিনিক্স জানত যে কয়েকজন সিস্টেম এডমিন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তার কানেকশনে ওঁৎ পেতে বসে আছে তাকে ধরবে বলে। জবাবে সে করেছিল কি, সন্তর্পণে তাদের কম্পিউটারগুলোতে ঢুকে চুপ করে প্রত্যেক এডমিনকে লগ-অফ করিয়ে দিয়েছিল। সেবার এই কান্ড শুনে ফোর্স হেসে ফেলেছিল বটে, কিন্তু এই ঘটনা গোপনে তাকে সামান্যের চেয়ে একটু বেশীই ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।

কম্পিউটার নিরাপত্তাব্যবস্থা শিল্পের দুনিয়ার রুই-কাতলাদের সঙ্গে প্রতিযোগীতা করতে ফিনিক্স পছন্দ করত। সে সবসময় নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে চাইত এবং মাঝেমাঝেই সে মানুষকে এ ব্যাপারে মর্মাহত করতে পারত, কারণ, সে ছিল সত্যিই সেরা। অদ্ভূত হলেও, ফোর্সের এই পোষ্যটি ভাবত যে সে যদি এইসব বিশেষজ্ঞদের তাদের সিস্টেমের কিছু ত্রুটির ব্যাপারে জানিয়ে দেয় তাহলে হয়তো তাদের সমর্থন আদায় করা যাবে। হয়তো তখন তারা তাকে ভিতরের অনেক তথ্যও দিয়ে দিতে পারে, অনুপ্রবেশের নয়া কৌশল এবং, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, কোনো বিপদ ঘটলে তারা তাকে দেখেও রাখতে পারে। ফোর্স ভেবে অবাক হয় ফিনিক্স কেমন করে দুটি বিপরীত চরিত্রের চিন্তাকে মনের মধ্যে রেখে কোনোটার যুক্তিকেই পািত্তা না দিয়ে থাকতে পারে।

১৯৮৯ এর শেষের দিকে গেভিন ফোর্সকে যে জরুরী সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল তা ওই ধারণাটির সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তা হিসেবে প্রতিয়মান হয়। গেভিন জানতে পেরেছিল যে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল পুলিশ মেলবোর্ন থেকে হ্যাকারদের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছিল। মেলবোর্নের হ্যাকিং কমুনিটি বেশ গোলমাল পাকাচ্ছিল এবং পুরো পৃথিবীর বিভিন্ন ডাটা নেটওয়ার্কগুলোতে তাদের অবস্থান ছড়িয়ে যাওয়ায় সব জায়গায় তাদের চিহ্ন থেকে যাচ্ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার বাইরেও অন্যান্য হ্যাকিং কমুনিটি ছিল — উত্তর ইংল্যান্ডে, টেক্সাসে, নিউ ইয়র্কে। কিন্তু মেলবোর্নের হ্যাকাররা যে-সে গোলমেলে নয় — তারা আমেরিকান কম্পিউটারগুলোতেও গ্যাঞ্জাম পাকাতো। আমেরিকান সিস্টেমগুলোতে শুধু আমেরিকান হ্যাকারাই ঢোকার চেষ্টা করত সেরকম নয়। বিদেশী লোকেরাও আমেরিকান কম্পিউটারগুলোতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করত। এবং অন্য আরও একটা কারণে অস্ট্রেলিয়ার হ্যাকাররা লক্ষ্যবস্তুে পরিণত হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানতে পেরেছিল ফিনিক্স নামের একজন অস্ট্রেলিয়ান আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সিটিব্যাংকের ভিতরে ঢুকেছে।

ফোর্সকে দেওয়ার মত খুব বিস্তারিত তথ্য গেভিনের কাছে ছিল না। সে শুধু জানত আমেরিকান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী — সম্ভবত সিক্রেট সার্ভিস — অস্ট্রেলিয়ার সরকারের উপর এই লোকজনগুলোকে ধরার জন্য অসম্ভব চাপ প্রয়োগ করছিল।