‘আচ্ছা, ঠিকাছে,’ ফিনিক্স আস্তে করে লিখল, ‘শুধুমাত্র আর একটি সমস্যা রয়েছে। এডমিন এখনো সেখানে লগইন করে রয়েছে।’

‘বাআআআআল!’ ইলেক্ট্রন চিৎকার করে উঠল।

‘করে ফ্যালো তো।,’  প্যাড বলল। ‘চিন্তা করার সময় নাই।’

ফিনিক্স গ্যান্ডাল্ফকে গোপনে নাসা’র মেশিনটার ইন্টারনেট আইপি ঠিকানা বলে দিল।

‘ঠিক আছে, বন্ধু, আমি নাসায় গোপন এফটিপি করছি। আমি এখানেই আবার আসব এবং তোমাকে নতুন ফাইলের নামটা বলে দিব। তারপর তুমি গিয়ে সেটাকে ডিক্রিপ্ট এবং আনকম্প্রেস কোরো। আমার জন্য এখানেই অপেক্ষা করো।’

দশ মিনিট পর, গ্যান্ডাল্ফ ফিরে এলো। ‘কার্য সমাধা হয়েছে। ফাইলটা ওইখানে চলে গেছে!’

‘এখন, যাও যাও ফিনি!’ ইলেক্ট্রন বলল।

‘গ্যান্ড, ফাইলের নামটা আমাকে গোপনে বলো’ ফিনিক্স বলল।

‘ঠিক আছে, বন্ধুরা। চলো এইবার!’ ফিনিক্স এই বলে লগ অফ করল।

ফিনিক্স নাসা কম্পিউটারে পড়িমড়ি করে ঢুকল, লগ ইন করল এবং ‘ডি’ নামের ফাইলটা খুঁজতে লাগল। কিন্তু খুঁজে পেল না। এমনকি সে পাবলিক ডিরেক্টরিটাও খুঁজে পেল না। সে ফাইল সিস্টেমের অন্যান্য অংশেও খুঁজতে শুরু কর। বালটা গেল কোথায়?

ওহহো। ফিনিক্স সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরকে দেখতে পেল, শ্যারন বেসকিন্স, তখনো লগইন করেই আছে। সে নাসা’র আরেকটি মেশিন, ফোব থেকে সংযুক্ত ছিল। সে ছাড়া আর মাত্র একজন সিএসএবি মেশিনে লগইন করে ছিল, নাম ক্যারি। সেই নামটা যেহেতু খুব একটা বাজে নয়, তাই ফিনিক্সের নিজের ইউজার নামটাই বিদঘুটে লাগতে শুরু করল। এডমিন যদি দেখতে চায় কারা অন-লাইনে আছে তাহলে দেখবে, ক্যারি এবং তার নিজের জন্য তৈরি করা‘ফ্রেন্ড’ নামের আরেকজন ব্যবহারকারী। নাসা কম্পিউটারগুলোতে ওইসব কতগুলো বৈধ একাউন্ট ছিল?

তারচেয়েও খারাপ কথা, ফিনিক্স লক্ষ্য করে দেখল যে সে তার লগইনের আলামত মুছে দিতে ভুলে গেছে। ‘ফ্রেন্ড’ নামের একাউন্টটা নাসা কম্পিউটারে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস থেকে টেলনেটিং করছে। না, না, সে ভাবল, এভাবে থাকা যাবে না। সে নাসা থেকে বেরিয়ে এল, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকল এবং আবার নাসাতে লগইন করল। বড় যন্ত্রণা হল তো। এখন নাসা মেশিন দেখাচ্ছে ‘ফ্রেন্ড’ নামের দুইজন মানুষ লগইন করেছে। কম্পিউটার তার আগের লগইনটাকে ঠিকমতো বন্ধ করেনি। প্যারা।

ফিনিক্স পাগলের মত চেষ্টা করতে লাগল  প্রসেস নম্বরটা বন্ধ করে তার প্রথম লগইনটা মুছে দিতে। নাসা কম্পিউটার জানাল ওইরকম কোনো প্রসেস নম্বরই নাই। ক্রমেই ভীত হতে থাকা ফিনিক্স নিজেকে বুঝাতে লাগল যে, সে নিশ্চয়ই ভুল নম্বর দিয়েছে। অপ্রকৃতস্থ অবস্থায়, সে অন্য প্রসেস নম্বরগুলো ধরে ধরে বন্ধ করে দিতে লাগল।

হায় যীশু! ওইটা তো এডমিনের প্রসেস নম্বর। এইমাত্র ফিনিক্স শ্যারনকে তারই নিজের মেশিন থেকে বের করে দিয়েছে। কোনোকিছুই ঠিকঠাক চলছে না।

এইবার সে সত্যিকার চাপ বোধ করতে শুরু করল। লগআউট করতে তার সাহস হলো না, কারণ শ্যারন অবশ্যই তান ‘ফ্রেন্ড’ একাউন্টটা খুঁজে পাবে, বন্ধ করবে এবং যেখান দিয়ে সে ঢুকেছে সেই নিরাপত্তা ফোঁকরটা বন্ধ করে দিবে। ডেসজিপ যদি ওই বান্দা তার নিজের মেশিনে খুঁজে নাও পায়, তবুও সে হয়তো আর ওখানে ফিরে গিয়ে ওটা উদ্ধার করতে পারবে না।

সারা মেশিনে খুঁজে আরও একটা উথাল-পাথাল মিনিট চলে গেলে, শেষমেশ ফিনিক্স গ্যান্ডাল্ফ’র ডেসজিপের কপিটা খুঁজে পেল। এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

সে পাসফ্রেজটা দিল। কাজ হয়েছে! এখন শুধুমাত্র ডেসজিপ আনকম্প্রেস করে নিয়েই ওখান থেকে বের করে নিতে হবে। সে লিখল,’আনকম্প্রেস ডেসজিপ.টিএআর.জেড’, কিন্তু নাসা কম্পিউটার তার কমান্ডের যে উত্তর দিল তা তার মোটেও পছন্দ হল না:

ত্রুটিযুক্ত ইনপুট

কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে, মারাত্মক গন্ডগোল। ফাইলটার অংশবিশেষ নষ্ট হয়েছে মনে হচ্ছে। এই সম্ভাবনার কথা ভাবতেও খারাপ লাগছে। ডেসজিপের সামান্যতম অংশও যদি নষ্ট হয়ে থাকতো, তাহলেও পুরোটাই অচল হয়ে যেত।

কপাল থেকে দুহাতে ঘাম মুছে, ফিনিক্স নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করল যে, ফাইলটা হয়তো আনকম্প্রেস করতে গিয়ে এইমাত্র নষ্ট হয়েছে। সে আসল ফাইলটা রেখেছিল, কাজেই আবার সেখানে ফিরে গেল এবং আবার ডিক্রিপ্ট করে আনকম্প্রেস করার চেষ্টা করল। নাসা কম্পিউটারও সেই পুরোনো কুৎসিত ব্যবহারই করল। তাড়াহুড়ো করে, সে আবার চেষ্টা করল, কিন্তু এইবার ফাইলটা অন্য একভাবে আনকম্প্রেস করার চেষ্টা করল। একই সমস্যা।

 ফিনিক্স সবরকম চেষ্টাই করল। বড্ড বেশী বেশী হয়ে যাচ্ছে বিষয়টা। এখন যদ্দূর সে আশা করতে পারে যে, গ্যান্ডাল্ফ’র জ্যানেট মেশিন থেকে স্থানান্তর করার সময়ই ফাইলটা হয়তো কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সে নাসা থেকে বেরিয়ে আবার আলটসে ফিরল। বাকি তিনজন তখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।

ইলেক্ট্রন, আবারো সেই রহস্যময় গেস্ট নাম নিয়ে লগইন করে ঢুকে পড়ল। ‘কাজ হয়েছে?’

‘না। ডিপ্রিকপ্টেড হয়েছিল ঠিকঠাক, কিন্তু যখন ডিকম্প্রেস করতে গেলাম, বললো ফাইলটা নষ্ট হয়েছে।’

‘বাআআআআআআআআআল!!!!!!!!!’ গ্যান্ডাল্ফ চিৎকার করে উঠল।

‘বালবালবালবাল,’ ইলেক্ট্রন লিখল। ‘ ‘শেষমেশ হলোই না।’

‘হায় হায় হায় রে,’ প্যাড লিখল।

গ্যান্ডাল্ফ এবং ইলেক্ট্রন ফিনিক্সের ব্যবহৃত প্রতিটা কমান্ড নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে ফেলল, কিন্তু শেষমেশ শুধুমাত্র একটাই আশা রাকি রইলো। যুক্তরাজ্যের জ্যানেট কম্পিউটারেই একখানা ডিক্রিপশন প্রোগ্রাম নিয়ে সেখানেই বরং ডেসজিপটা ডিক্রিপ্ট এবং আনকম্প্রেস করা যেতে পারে।

ফিনিক্স গ্যান্ডাল্ফকে ক্রিপ্ট এর একটা কপি দিল এবং সেই ব্রিটিশ হ্যাকার কার্য সমাধা করতে আবার জ্যানেট কম্পিউটারে গেল। সামান্য কিছুক্ষণ পরেই সে আবার আলটসে ফিরে এলো।

ফিনিক্স এতোক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়েছিল। ‘গ্যান্ড! কাজ হয়েছে???’

‘হুম, আমি তোমার দেওয়া প্রোগ্রামটা দিয়ে জিনিসটা ডিক্রিপ্ট করেছি….’

‘তারপর তারপর তারপর???’ ইলেক্ট্রন এবার সত্যিই তার কম্পিউটারের চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠেছিল।

‘আনকম্প্রেস করারও চেষ্টা করলাম। কিন্তু অনেক সময় লাগছিল। ওইভাবেই চলছিল — ৮ মেগাবাইটেরও বড় হয়ে গেল।’

‘আহ না। খুব খারাপ খুব খারাপ খুব খারাপ,’ ফিনিক্স গোঙাতে লাগল। ‘৩ মেগাবাইটের বেশী হওয়ার কথা নয়। যদি মিলিয়ন মিলিয়ন ফাইল তৈরি হতে থাকে, তাহলে নষ্ট হয়ে গেছে।’

‘ও যীশু,’ প্যাড লিখল। ‘এই যন্ত্রণা আর নেওয়া যাচ্ছে না।’

‘আমি বুঝতেই পারছি না জিনিসটার সমস্যাটা কী। <মরাকান্না>’ ফিনিক্স লিখল।

‘যন্ত্রণাযন্ত্রণাযন্ত্রণা,’ ইলেক্ট্রন গর্জে উঠল। ‘জিনিসটা কোনোদিনই কাজ করবে না।’

‘অন্যকোথাও থেকে কি আরেকটা কপি পাওয়া যাবে না?’ গ্যান্ডাল্ফ জিজ্ঞেস করল।

‘পারডিউ সেই এফটিপি বাগটা ঠিক করে ফেলেছে,’ প্যাড উত্তরে লিখল। ‘ওই পদ্ধতিতে আর ঢোকা সম্ভব না।’

আলটসের আবহাওয়ায় হতাশা গ্রাস করে ফেলল।

তবে, ডেসজিপের আরও কিছু সম্ভাব্য প্রাপ্তিস্থানও ছিল। ফিনিক্স এবং ইলেক্ট্রন ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লাইভমোর ন্যাশনাল ল্যাবসের কম্পিউটারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে। তারা গ্যামম৫ মেশিনেরর রুট সুবিধা পেয়েছে এবং এই জায়গাটাকেই এলএলএনএল-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাসেল ব্র্যান্ড’র কম্পিউটার, উথেল-এ ঢোকার জন্য ব্যবহার করবে বলে মনস্থ করেছে। তারা নিশ্চিত ব্যান্ড’র কম্পিউটারে ডেসজিপ রয়েছে।

তবে কাজটা করতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হবে, এবং সম্ভবত আবারো চাওয়া-পাওয়া এবং হতাশার দোলাচালে দুলতে হবে। এখনকার মত, ডেসজিপের খোঁজে এই চার হ্যাকার, তাদের ব্যর্থতার ক্ষত মুছতে চলে ক্ষান্ত দেবার সিদ্ধান্ত নিলো।

‘আচ্ছা বেশ, আমি যাচ্ছি। পরে দেখা হবে,’ প্যাড বলল।

‘হ, আমিও যাচ্ছি,’ ইলেক্ট্রন যুক্ত করল।

‘ঠিক আছে। পরে কথা হবে, বন্ধুর!’ গ্যান্ডাল্ফ বলল।

তারপর, মজা করার জন্য, গ্যান্ডাল্ফ তার চিরাচরিত ভঙ্গিমায় বলল, ‘জেলে দেখা হবে!’


রিভিশন করতে হবে।