অধ্যায় ৫ — দ্য হলি গ্রেইল

So we came and conquered and found

Riches of Commons and Kings

— মিডনাইট অয়েল’র ব্লু স্কাই মাইনিং এলবামের ‘রিভার রানস রেড’ গান থেকে

পত্রপত্রিকায়ও বিষয়টি উঠে এলো। ১৯৮৯ সালের জানুয়ারিতে দ্য অস্ট্রেলিয়ানে হেলেন মেরেডিথ’র দুটি আর্টিকেল বেরোল।[২] অস্ট্রেলিয়ার পুরো কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ড সংবাদগুলো পড়ে নড়েচড়ে বসল।

প্রথম আর্টিকেলটি প্রকাশিত হয় ১৪ জানুয়ারি:

সিটিব্যাংক হ্যাকাররা ৫০০,০০০ ডলার লুটে নিয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার একদল দুর্ধর্ষ হ্যাকার আমেরিকা’র সিটিব্যাংক থেকে ৫০০,০০০ মার্কিন ডলার (৫৮০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) লুট করেছে যা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ লুটের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল রাতে পাওয়া সংবাদে জানা যায়, মেলবোর্ন এবং সিডনিতে হ্যাকারদের ব্যাপারে তদন্ত চালানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল সংস্থা, মার্কিন সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

এরা হলেন দুর্ধর্ষ ‘ফ্রিকার’ যারা হোয়াইট কলার ক্রাইমের সাথে জড়িত…

জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় হ্যাকারদের দলটি ২৬০০ হার্টজের সিগনাল পাঠাতে মেলবোর্নের ১৯৯ উইলিয়াম স্ট্রিটে অবস্থিত টেলিকম সদর দপ্তরের একটি টেলিফোন ব্যবহার করে। এর ফলে তারা একটি ট্রাংক লাইনের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় এবং অবশেষে, সিটিব্যাংকের ম্যানেজারিয়াল এক্সেস কোডেরও নাগাল পায়।

একাধিক সূত্র মারফত জানা যায়, গতরাতে হ্যাকাররা মার্কিন ব্যাংকটি থেকে ৫৬৩,০০০ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে এবং বিভিন্ন একাউন্টে স্থানান্তর করেছে। সেইসব অর্থ ইতিমধ্যে উত্তোলনও করা হয়েছে…

এরমাঝে, ভিক্টোরিয়ান পুলিশ’র বরাতে জানা যায়, কম্পিউটার হ্যাকারদের ধরতে তারা সুপরিকল্পিতভাবে ডজনখানেক সন্দেভাজক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাসি চালাচ্ছে…

এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’র অফিসাররা সার্চ ওয়ারেন্ট সহযোগে হ্যাকিং কমুনিটির জিনিসপত্র তল্লাসি করছেন এবং আশা করছেন তারা হাজার হাজার ডলারের জিনিসপত্র জব্দ করতে পারবেন।

দ্বিতীয় আর্টিকেলটি বের হয় দশদিন পরে:

হ্যাকারদের তালিকা প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক হ্যাকিং এবং ফ্রিকিং চক্র এবং তাদের অস্ট্রেলিয়ান অংশের হাল খবরবের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী চুপচাপ রয়েছে।

গতকালও, মেলবোর্নভিত্তিক বুলেটিন বোর্ডগুলোতে এই সংক্রান্ত আলামত দেখা গেছে।

বুলেটিন বোর্ডের সর্বশেষ কার্যকলাপ থেকে জানা যায়, ক্যাপ্টেন ক্যাশ নামক জনৈক মার্কিন হ্যাকার অস্ট্রেলিয়ার চক্রটিকে স্থানীয় হ্যাকারদের দেয়া নতুন নতুন অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডের সন্ধান দিতেন এবং মার্কিন হ্যাকাররা প্রায় ৩৬২০১৮ মার্কিন ডলার (৪১৬১১২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের অর্থ অবৈধ উপায়ে ব্যবহার করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ান চক্রটির ব্যাপক ব্যবহৃত প্যাসিফিক আইল্যান্ড নামক একটি কম্পিউটার বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম থেকে এসব তথ্য নেওয়া হয়।

বার্তাটি হল: ‘আচ্ছা, ৫৩৫৩ সিরিজের আজকের সর্বশেষ কার্ড হল — মাস্টারকার্ড ১০৯ ৪০০.৫০ ডলার। আর ৪৫৬৪ সিরিজের – ভিসা কার্ড, যেটা আমি এক সপ্তাহের জন্য চালু রাখব ২০৯৪১৭.৯০ ডলার। এবং, এমনে সর্বনিম্ন ৪৩ ২০০ ডলার ঘরে তোলা যেতে পারে।

[1] 

‘সর্বমোট ৩৬২০১৮.৪০ ডলার!

‘অসি বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু শুনতে চাই!

‘শুনেছি তারাও একইরকম করেছে!

‘২৩ তারিখে তারা আরও নম্বর পাঠাবে! দারুণ!

‘৩৬ ২০০.০০ ডলার থেকে তারা যথারীতি ১০% পাবে!’

বুলেটিন বোর্ডে ফ্রিকারদেরকে ১৯৯ উইলিয়াম স্ট্রিটে টেলিকম’র সদর দপ্তরের টেলিফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবং বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক কল করার জন্য মেলবোর্নের স্পেন্সার স্ট্রিটের গ্রীন ফোন ব্যবহার না করতে  হুঁশিয়ার করা হয়েছে…

জনৈক বুলেটিন বোর্ড ইউজার, ফিনিক্স, ‘ইএক্সটিসি’ ট্যাবলেটের মূল্যতালিকাও দিয়েছেন…

শুক্রবার রাতেই, ইউএস সিটিব্যাংক নেটওয়ার্কে দ্য রেল্ম নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের কর্তৃক অনুপ্রবেশের প্রমাণ দ্য অস্ট্রেলিয়ান’র হাতে আসে…

আমেরিকান চক্রটি সম্ভবত মিলওয়াকি এবং হিউস্টন ভিত্তিক। ইউএস ফেডারাল বাহিনী ইতিমধ্যেই সিটিব্যাংক অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত মার্কিন হ্যাকারদের বাড়িতে তল্লাসি চালিয়েছে।

ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স গোপন অভিযানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান চক্রটিকে নজদারীতে রাখে এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ড বোর্ড এবং তদসংশ্লিষ্ট  জেন এবং মেগাওয়ার্ক নামক বোর্ডগুলোতে ছয় মাস ধরে সংগ্রহ করা প্রমাণাদী সংগ্রহ করে…

অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের মধ্যে মেলবোর্নের কয়েকজন, কিছু কিশোর, জালিয়াতি, মাদক গ্রহণ এবং গাড়ি ছিনতাইয়ের মত অপরাধে সন্দেহভাজন বা সাজাপ্রাপ্ত্র কয়েকজন আছেন। এদের বেশীরভাগই ডিজিটাল ঈক্ষণকামী, বড় বড় অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান’র কাছে অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের ইউএস সিটিব্যাংক নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ এবং ফ্রিকিং সংক্রান্ত সতর্কবাণী…এবং ব্যাংকে অনুপ্রবেশের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি হতে এসব তথ্য জানা যায়।

নিম্নলিখিত অংশগুলো সরাসরি বুলেটিন বোর্ড থেকে নেওয়া হয়েছে… বোর্ডের একটি গোপন মেইলবক্সে এগুলো জমা করা ছিল এবং ইভান ট্রটস্কি নামের একজন হ্যাকার কিলার টমেটো নামের একজনকে পাঠিয়েছিল:

‘আচ্ছা, এসবই তাহলে ঘটছে…

‘কিছুদিন আগে, একজন সিসঅপ ফেডারাল বাহিনীর কাছ থেকে ফোন পেয়েছে, তারা দ্য রেল্ম’র করা কোনো হ্যাকিং এবং সম্ভবত কিছু কার্ডিঙের ঘটনার সঙ্গে ফোর্স, ফিনিক্স, নোম, ব্রেট ম্যাকমিলান এবং আমার নাম দিয়ে দিতে বলেছে।

‘তারপর কয়েকদিন ধরে আমি যেসব তথ্য জানতে পারি সেগুলো হল, দ্য হ্যাক ইউএস’র সিটিব্যাংেকে যে কান্ডটা করায় এই ধড়পাকড় শুরু হয়েছে তাতে ফোর্স এবং ইলেকট্রনও জড়িত…’

ডিপিজি নজরদারী সংস্থার মুখপাত্র, জনাব স্টুয়ার্ট গিল, বলেন তার ধারণা দ্য প্যাসিফিক আইল্যান্ড থেকে প্রাপ্ত মালমশলা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।

তাঁর ভাষ্যে, ‘ওরা পুলিশের চেয়েও অনেক বেশী সংগঠিত।’

‘সবাই এদের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে এবং এদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন না করা হলে, আমাদের বছর বছর একই কাহিনী শুনে যেতে হবে।’

গতকাল, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বুলেটিন বোর্ডগুলোর কার্যকলাপকে নজরদারীতের রাতে অভিযান শুরু করে।

এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায়, দুটি রাজনৈতিক দলই একমত পোষণ করে বলেছেন যে, তাদের যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা কম্পিউটার হ্যাকিং বিষয়ক তদন্ত চালিয়ে যাবে।

ভিক্টোরিয়া পুলিশের জালিয়াত স্কোয়াড গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে তারা কম্পিউটার ক্রাইম স্কোয়াড খুলেছে যেটি কম্পিউটারে জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর তদন্ত করবে।

বেশীরভাগ আন্ডাগ্রাউন্ড সদস্যদের জন্য এই আর্টিকেলটা পাঠ করা কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়াল।

ক্যাপ্টেন ক্যাশটা আবার কে? কিলার টমেটো-ই বা কে? অনেকেরই ধারণা হয় স্টুয়ার্ট গিল নিজেই অথবা গিলই বাওয়েন’র বোর্ডের অন্যকাউকে দিয়ে জোর করে ওইসব মেসেজ পাঠাতে বাধ্য করেছে। আন্ডারগ্রাউন্ডে কী সত্যিই ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে ছয়লাপ হয়ে গেছে? না। তারা এই কমুনিটির খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। মেলবোর্নের হ্যাকাররা কী সিটিব্যাংক থেকে অর্ধ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নিয়েছে? অবশ্যই না। এর পরবর্তী এক পুলিশী তদন্তেই অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট হিসেবে প্রমাণিত হয়ে যায়।

পাই এবং জেন’র প্রায় ছয় মাসের মেসেজগুলো কেমন করে ভিক্টোরিয়া পুলিশের হাতে গেল? আন্ডারগ্রাউন্ডের সদস্যদের মধ্যেই সন্দেহভাজন কেউ আছে।

কারো কারো কাছে, আন্ডারগ্রাউন্ডে স্টুয়ার্ট গিল’র ভূমিকা তথ্য ব্যবসায়ী হিসেবে মনে হয়েছিল। সে পুলিশের কোনো একটা এজেন্সিকে তথ্য দেয়, এবং তার বদলে সামান্য কিছু নতুন তথ্য পায়। সে তখন নতুন এবং পুরাতন মালমশলা একত্রিত করে এবং সেগুলোকে আবার পুলিশের অন্যকোনো এজেন্সিকে দেয়, যারা আবার তাকে সামান্য কিছু নতুন তথ্যের সন্ধান দেয় যা সে আবার যুক্ত করে। গিল আন্ডারগ্রাউন্ডেও সম্ভবত এই খেলাটাই খেলে।

আন্ডারগ্রাউন্ডের কয়েকজন সদস্য, বিশেষ করে পাই এবং জেন’র নিয়মিত সদস্য মেন্টাট এবং ব্রেট ম্যাকমিলান, এই ধান্ধাবাজীটার ব্যাপারে সন্দেহ করেছিলেন এবং তাদের বক্তব্য প্রমাণ করতে বিবিএস-ভিত্তিক গ্যাঞ্জামেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৯৮৯ সালের শুরুতেই, ম্যাকমিলান এক বার্তায় লিখেছিলেন যে হ্যাকওয়াচ, ভিক্টোরিয়ান বিজনেস এফেয়ার্স অফিসে স্টুয়ার্ট গিল’র নামে নিবন্ধিত কোনো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান নয়। এরপর, তিনি বলেছিলেন, ডিপিজি মনিটরিং সার্ভিসেসও কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত নয়। ম্যাকমিলান তারপর আন্ডারগ্রাউন্ডের সবাইকে তাজ্জব বানিয়ে দিয়েছিলেন যে, স্টুয়ার্ট গিল’র হ্যাকওয়াচ মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া বন্ধ করতে তিনি নাকি নিজেই হ্যাকওয়াচ নামটি নিবন্ধন করিয়েছেন।

আন্ডারগ্রাউন্ডের অনেকেই এতে প্রতারিত বোধ করেছিলেন, তবে শুধু তারাই নন। খুব দ্রুতই সাংবাদিক এবং পুলিশও একইভাবে প্রতারিত বোধ করতে লাগল। স্টুয়ার্ট গিল এমনকি তার আসল নামও ছিল না।

গিল আসলে যা চেয়েছিল তা হল, আন্ডারগ্রাউন্ডের কয়েকজন নাগরিককে বুঝানোর জন্য একটা পাবলিক প্লাটফরম যেটা ব্যবহার করে সে হ্যাকারদের উত্থান দমন করতে পারবেন এবং তারপর হ্যাকিং-বিরোধী আইনের দাবী তুলতে পারবেন। ১৯৮৯ এর মাঝামাঝি, কমনওয়েলথ সরকার প্রথম ফেডারাল কম্পিউটার ক্রাইম আইন প্রণয়ন করে ঠিক সেই কাজটিই করেছিল।

সাংবাদিকদেরও দোষ ছিল না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এক ঘটনা হেলেন মেরেডিথ গিলকে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে তিনি তাকে ভিক্টোরিয়া পুলিশের টনি ওয়ারেনের কাছে পাঠান, যিনি তাকে সমর্থন দিত। একজন রিপোর্টারের পক্ষে তো এরপরে আরও পরিচয় তলব করার এক্তিয়ার ছিল না।

আর ওয়ারেন বা গিলকে সমর্থন কেন করবেন না? একজন রেজিস্টার্ড আএসইউ ইনফরমার হিসেবে পরিচয়দানকারী, গিল পরামর্শদাতা, উপদেষ্টা, বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবেও ভিক্টোরিয়া পুলিশের সঙ্গে কাজ করত। সে ওয়ারেন এবং পরবর্তীতে ইন্সপেক্টার ক্রিস কসগ্রিফেরও খুব কাছের লোক হয়ে গিয়েছিল।  ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মাঝের সময়টায়, ওয়ারেন ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্সে (বিসিআই) চাকরী করত। এরপর, সে ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিপার্টমেন্টে (আইআইডি) বদলী হয়ে যায়, যেখানে সে ক্রসগ্রিফের সঙ্গে কাজ করত যে ১৯৮৮ সালে আইআইডিতে যুক্ত হয়।

১৯৯২ সালের ছয় মাসের মধ্যে, টনি ওয়ারেন স্টুয়ার্ড গিল’র কাছ থেকে ২০০ এরও বেশী ফোনকল পেয়েছিল — তারমধ্যে ৪৫টি তার বাসার নম্বর থেকে পেয়েছিল। ১৯৯১-৯২ সালের আট-মাসের মাঝে, ক্রিস কসগ্রিফ কমপক্ষে ৭৬ বার গিল’র বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছে এবং তার সঙ্গে ৩১৬টি ফোনকলের রেকর্ড আছে।[৩]

দ্য ইন্টারনাল সিকিউরিটি ইউনিট (আইএসইউ) পুলিশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি তদন্ত করত। কাজেই কারও যদি আইএসইউতে ঢোকার সুযোগ থাকে, তাহলে তার পক্ষে ভিক্টোরিয়া পুলিশ অভ্যন্তরে বিভিন্ন পদের যতো দুর্নীতির ব্যাপারে তারা ওয়াকিবহাল তার সব খবরই পাওয়া সম্ভব ছিল। এর সব তথ্যই সাংঘাতিক স্পর্শকাতর, বিশেষ করে এতে একজন পুলিশ অফিসার আরেকজন অফিসারকে ল্যাং মারার সুযোগ থাকে। যাহোক, ১৯৯৩ সালের একটি ভিক্টোরিয়ান ন্যায়পালের রিপোর্টে আসে যে কসগ্রিফ বিপুল পরিমাণ গোপন আইএসইউ দলিল গিল’র কাছে ফাঁস করে দেয় এবং গিল’র সাথে ওয়ারেন’র সম্পর্কও সুবিধার নয়। [৪]

১৯৮৯ সালে যখন ক্রেগ বাওয়েন (ওরফে থান্ডারবার্ড১) বুঝতে পেরেছিল যে গিল তাকে ল্যাং মেরেছে, তখন সে তখন অবিশ্বাসে এবং বিষন্নতায় ডুবে গিয়েছিল। পাই কমুনিটি তাকে বিশ্বাস করত। সে গিল সাথে নতুন জিনিস খোঁজার অনেক উচ্চাকাংখা নিয়ে খোলা মনে বন্ধুত্ব করেছিল। সে সেই বন্ধুত্বে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিল।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এবং জগতের নিষ্ঠুরতা দেখে, ক্রেইগ পাই এবং জেন চিরতরে বন্ধ করে দিল।

[  ]

১৯৮৯ সালের দ্বিতীয়ার্ধের কোনো এক সময় কম্পিউটারের সামনে বসে ফোর্স কখনো কখনো শুধু শুধু কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকত, মন পড়ে থাকত অনেক দূরের কোথাও। চারিদিকের পরিস্থিতি ভাল না, মোটেও ভাল না এবং চিন্তায় বুঁদ হয়ে, আনমনে মাউস নিয়ে খেলতে খেলতে সে ভাবত কেমন করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

সমস্যাটা হল মেলবোর্নের কেউ একজন ধরা খেতে যাচ্ছে।

ফোর্স গোপন সতর্কবার্তাটা আমলে নিতে চায়নি, আন্ডারগ্রাউন্ডে বিভিন্ন সময় এই ধরণের যতো গুজব ছড়াতো সেরকমই কিছু একটা ভেবেছিল, কিন্তু, সেরকম হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ এবার ছিল না মোটেও। সতর্কবার্তাটি শতভাগ সত্য; স্বয়ং গেভিন* সেটা পাঠিয়েছে।

ফোর্সের ভাষ্যে, তার বন্ধু গেভিন টেলিকম কোম্পানিতে দিনেরবেলা কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করে এবং রাতে হ্যাকার হয়ে যায়। সে হল ফোর্সের গোপন সূত্র, যার কথা সে দ্য রল্ম’র কাউকে বলত না। গেভিন স্বাভাবিকভাবেই বিবিএস হ্যাকারদের কেউ নয়। তার বয়স অনেক, তার কোনো হ্যান্ডেলও ছিল না এবং সে একাই হ্যাক করত, কখনো-সখনো ফোর্সের সাথে, কারণ, সে ভাবত দলবেঁধে হ্যাক করা বিপদজনক।

টেলিকম কন্ট্রাক্টর হিসেবে, গেভিনের এমন কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্কগুলোতে প্রবেশাধিকার ছিল যেগুলোতে ঢোকা বেশীরভাগ হ্যাকারদেরই স্বপ্ন। টেলিকমের ভিতরেও তার ভাল যোগাযোগ ছিল — বিশেষ করে তাদের সাথে, যাদের কাছ থেকে কায়দা করে টেলিফোনে আড়িপাতা অথবা পুলিশী তদন্তে টেলিকম’র কাছে যেসব সাহায্য চাওয়া হত সেসবের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে।

গেভিনের সাথে ফোর্সের পরিচয় ট্রেডিং পোস্টে কিছু সেকেন্ড-হ্যান্ড যন্ত্রপাতি কেনার সময়। তাদের ধাক্কা লেগেছিল, বন্ধুত্ব হয়েছিল এবং দুজনে একসাথে হ্যাকিংও শুরু করেছিল। রাতের আঁধারে যখন সবাই চলে যেত তখন তারা সন্তর্পণে গেভিনের অফিসে যেত এবং সারারাত হ্যাক করত। ভোর হলেই, সব গুছিয়ে তারা দালান থেকে বেরিয়ে যেত। বাড়ি ফিরে গেভিন স্নান করে নিত এবং এমন ভাব ধরত যেন সে কাজ থেকে ফিরেছে এবং তেমন কিছুই হয়নি।