ফোনবক্সের বাইরে তখন তুমুল ঝড়। একেক সময় ছাদের একেক কোণা থেকে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছিল কারণ বাতাসের গতির মতিগতি ছিল পুরাই উল্টাপাল্টা। অন্ধকার রাস্তা ছিল জনশুন্য। বাতাসের তোড়ে গাছের ডালপালা মড়মড় করে ভেঙে পড়ছিল।  ছোট্ট ছোট্ট জলের ধারা বুথের ঢাল বেয়ে পড়ে কাঁচের গায়ে একটা দেয়ালের মত তৈরি করছিল। আর তখনই একটা ময়লার বাক্সো উল্টে গেল আর সমস্ত আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল।

এই অনাসৃষ্টি যথাসম্ভব উপেক্ষা করে, পার ফোনের হ্যান্ডসেটটা দুহাতের মাঝখানে ধরে বুকের উপরে নিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করল এবং ফোন বুথের এক কোণায় দাঁড়িয়ে রইলো। থিওরেমকে ক্যালিফোর্নিয়ার কথা, সেই আড়াই সপ্তাহের কথা স্মরণ করে দিয়ে দুজনে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো নিয়ে ভেবে একটু হেসে নিল।

একটা গাছের ডালের মড়মড় শব্দ শোনা গেল এবং বাতাসের তোড়ে ভেঙে পড়ল। ফোনবুথের কাছের ফুটপাথের উপর যখন সেটা আছড়ে পড়ল, থিওরেম পারকে সেই শব্দের কথা জিজ্ঞেস করল।

‘একটা হারিকেন আসতেছে’ সে জানালো। ‘হারিকেন হুগো। আজ রাতেই আঘাত করার কথা। আমার মনে হয় সেটা এসে গেছে।’

থিওরেমের আতংকিত গলা শোনা গেল এবং সে পারকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করতে লাগল।

পার দরজাটা খোলামাত্রই পানিতে ভেসে গেল। সে দ্রুত রাস্তা পার হয়ে, হারিকেনের বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে, এলোমেলো পায়ে মোটেলের ঘরে ঢুকেই উষ্ণতার জন্য বিছানায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। ঝড়ের শব্দ শুনতে শুনতেই সে ঘুমিয়ে পড়ল এবং থিওরেমকে নিয়ে স্বপ্ন দেখল।

হারিকেন হুগো তিনদিনেরও বেশী স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু তাদের মনে হল যেন সবথেকে নিরাপদ তিনটি দিন তাদের জীবনে এসেছিল।  নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সিক্রেট সার্ভিস হারিকেনের মধ্যে রেইড করবে না। সাউথ ক্যারোলিনায় হুগো’র তান্ডব চললেও নর্থ ক্যারোলিনাও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেটা ওই এলাকায় গত কয়েক দশকে আঘাত করা সবথেকে ভয়াবহ হারিকেনগুলোর একটি। এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দুই ক্যারোলিনার উপকূল অঞ্চলের দিকে মোড় নেওয়ায় ৬০ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝড় থেমে যাওয়ার কিছুদিন পর এক বিকেলে পার যখন মোটেল থেকে বাইরে বের হল, তখন তাজা এবং পরিষ্কার হাওয়া দিচ্ছিল। তার দোতলার পোর্চের রেলিং ধরে বাইরে বেরিয়ে তার গাড়ি পার্কিংয়ের কাছে একটা জটলার দিকে নজর গেল। প্রচুর গাড়ি। একটা ভ্যানও ছিল। উৎসুক লোকের ভীড়।

এবং, সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন।

সিক্রেট সার্ভিসের প্রতীক লাগানো নীলরঙা জ্যাকেট গায়ে কমছেকম আটজন এজেন্ট।

পার জমে গেল। তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। সবকিছু যেন স্লোমোশনে চলতে লাগল। মোটেলের একজন লোককে ঘিরে এজেন্টরা দাঁড়িয়ে আছে, জন নামের একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, যে দেখতে কিনা অনেকটা পার’র মত। জনকে মনে হল যেন তারা ধমকাচ্ছে, তার ওয়ালেট থেকে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখছে এবঙ তাকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেছে। তারপর তারা তাকে ভ্যানে নিয়ে গিয়ে তুললো, সম্ভবত তার বিস্তারিত তথ্য তুলে নিতে।

পার কিছুটা সম্বিত ফিরে পেল। সে মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে চেষ্টা করল। পালানোর সবথেকে ভাল বুদ্ধি কী? তাকে এখনি তার ঘরে ঢুকতে হবে। এতে সে একটু আড়াল পাবে যার সুযোগে সে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ভাবতে পারবে। থিওরেমের ছবিগুলো তার চোখে ভেসে উঠলো। সিক্রেট সার্ভিসের লোকদের হাতে ওগুলো সে কিছুতেই পড়তে দিবে না। ওগুলোকে কোথাও দ্রুত লুকিয়ে ফেলা দরকার।

সে দেখল সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন কম্পিউটারের কুঁড়েঘরটা তল্লাসি করছে। আল্লাহর রহম যে সে এবং নিবলার তাদের সব জিনিসপত্র আগেই সড়িয়ে রেখেছিল। অন্তত সেখানে তাদেরকে ফাঁসানোর মত কোনো জিনিসপত্র নাই এবং তারা তাদের সব জিনিসপত্র জব্দও করতে পারবে না।

পার বুক ভরে শ্বাস নিলো, অনেকটা জোর করে, এবং বহুকষ্টে নিজেকে রেলিং থেকে ঘরের দরজার দিকে সরিয়ে নিল। ঘরের ভিতর হুড়মুড়িয়ে ঢোকার ইচ্ছেটাকে সে বহুকষ্টে দমন করল, যাতে নিচতলার ঘটনাগুলোর শঙ্কা তার চেহারায় ফুটে না ওঠে। এলোমেলো চলন এজেন্টের নজরে পড়তে পারে।

পর যেইমাত্র সড়তে শুরু করল, একজন এজেন্ট উঠে এলো। সে দুইতলা মোটেল কমপ্লেক্সটা তল্লাসি করতে এসেছে এবং তার সতর্ক দৃষ্টি মুহূর্তেই পার’র উপর এসে পড়ল। সে সরাসরি পার’র চোখের দিকে তাকাল।

এই সেরেছে, পার ভাবলো। আমি তো শেষ। পালানর আর কোনো উপায় নাই। মাসের পর মাস ধরে দৌড়ের উপরে থাকার ফল হল নর্থ ক্যারোলিনার মত গন্ডগ্রামে ধরা খাওয়া। এরা আমার বারোটা বাজিয়ে দিবে। আমি আর কখনো দিনের আলো দেখতে পাব না। আত্মহত্যাই এখন একমাত্র পথ।

এইসব এলোমেলো চিন্তা যখন পার’র মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখনো সে ঠায় দাঁড়িয়েই ছিল, তার পা যেন সিমেন্টের মেঝের সঙ্গে আঠার মত লেগে গেছে, তার মুখ আটকা পড়ে গেছে সিক্রেট সার্ভিস এজন্টের স্থির দৃষ্টির দিকে। তার মনে হল যেন পুরা মহাবিশ্বে যেন তারাই দু্টিমাত্র প্রাণী অবশিষ্ট রয়েছে।

আর তখনই, আশ্চর্যজনকভাবে, এজেন্ট অন্যদিকে মন দিল। সে আরেকজন এজেন্টের সঙ্গে কথা বলার জন্য সে ঘুরে তাকালো। ভাবখানা এমন যেন সে পলাতক আসামীকে দেখতেই পায়নি।

পার শুন্যমনে এবং অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে রইল। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। সে তার ঘরে যাবার বাকি পথটুকু এবার অতিক্রম করতে গেল। আস্তে আস্তে, ঠান্ডা মাথায়, সে ঢুকে পড়ল এবং দরজা বন্ধ করে দিল।

তার মন ছুটে গেল থিওরেমের ফটোগুলোর দিকে এবং সে ঘরের ভিতরেই একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজতে শুরু করল। তেমন কোনো জায়গা ছিল না। সবথেকে ভালোবুদ্ধি চোখের নজরের বাইরে রাখা। ঘরের ভিতরে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে সে তাতে উঠে পড়ল এবং সিলিঙে ঠেলা দিল। চারকোণা প্লাস্টারবোর্ড প্যানেল সহজেই খুলে এলো এবং পার সেই গর্তের ভিতর ছবিগুলো রেখে আবার প্যানেলটা আটকে দিল। এজেন্টরা যদি তন্ন তন্ন করে খোঁজে তাহলে হয়তো ছবিগুলো পেতে পারে। তবে ছবিগুলো হয়তো দ্রুত তল্লাসি করলে নজর এড়িয়ে যাবে। তবে এই মুহূর্তে এরচেয়ে বেশীকিছু আশা করার কোনো উপায় নাই।

এরপর সে পালানোর ছক কষতে বসলো। সব ব্যাপারেই স্থানীয়রা বেশ ভাল, এবং পার ভাবল কর্মচারীরা হয়তো তার অবস্থান সম্পর্কে সিক্রেট সার্ভিসকে বলবে না। এসব ভেবে কিছু সময় পাওয়া গেলেও সে নজর এড়িয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পেল না। তাছাড়া, বেরিয়া যাবার সময় সে যদি নজরে পড়ে যায়, তাহলে তাকে যে আটকানো হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তা নিশ্চিত।

এমনকি সে যদি মোটেলের নিচতলা থেকে কোনোমতে বেরোতেও পারে, তাতেও খুব একটা লাভ হবে না। এতো বড় শহর নয় যে চিরুনী অভিযানের সময় সে লুকিয়ে থাকতে পারবে এবং তার সেরকম বিশ্বস্তও কেউ নাই যে তাকে লুকিয়ে রাখবে। যে দুনিয়ায় সবাই গাড়িতে করে ঘোরাঘুরি করে সেখানে একজন তরুণ যুবক পায়ে হেঁটে মোটেল ছেড়ে পালাচ্ছে এমন দৃশ্য অবশ্যই সন্দেহজনক মনে হবে। হিচহাইকিংয়ের কথাও ভাবা যাচ্ছে না। কপালে হয়তো হয়তো আছে ওই রেইড থেকে ফেরা এজেন্টদের গাড়িতে করেই ফিরতে হবে। নাহ, আরও লাগসই একটা পরিকল্পনা চাই। তার একইসাথে ওই এলাকা এবং ওই স্টেট থেকেই পালিয়ে যাওয়া দরকার।

ক্লাস ধরার জন্য জন অ্যাশভিলে যেত এবং খুব ভোরে রওনা দিত সেকথা পার’র জানা ছিল। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুদিন মোটেলে নজরদারী চালিয়ে থাকে তাহলে, তাদের জানার কথা যে তার ভোর ৫টায় রওনা দেওয়া একটা নিত্য নৈতিমত্তিক ঘটনা। তাছাড়া ভোরে রওনা দেওয়ার আরও একটা সুবিধাও আছে। তখনও চারিদিকে অন্ধকার থাকে।

পার যদি অ্যাশভিল পর্যন্তও যেতে পারে, তাহলে সেখান থেকে সে শার্লোট পর্যন্ত লিফট পাবে। এবং, সেখান থেকে বিমানে সে দূরে কোথাও উড়ে যেতে পারবে।

পার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আরও ভাবলো। মোটেল রুমের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে হল। মোটেলের বিভিন্ন রুমে যাবার অভ্যাস তার আছে, কাজেই, তাকে দেখে সাধারণ অতিথির মতোই মনে হতে পারে। যদি কপাল ভাল থাকে তাহলে সিক্রেট সার্ভিস শুধুমাত্র কুঁড়েঘরের দিকেই বেশী মনোযোগ দিবে, সেখানকার কম্পিউটার সামগ্রীগুলো খুঁজে বের করার জন্য তছনছ করে ফেলবে। এইরকম ভাবনা যখন তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল তখন ফোন বেজে উঠল। পার লাফিয়ে উঠল। সে বিস্ফারিত নয়নে সেদিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল ধরা উচিত হবে কিনা।

অবশেষে সে ফোনটা তুললো।

‘নিবলার বলছি,’ ফিসফিসিয়ে কেউ বলল।

‘হ্যাঁ, বল,’ পারও ফিসফিসিয়ে উত্তর দিল।

‘পার, সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন চলে এসেছে, মোটেল তল্লাসি করছে.’

‘জানি। দেখলাম।’

‘তারা ইতিমধ্যেই তোমার পাশের ঘরে তল্লাসি করেছে।’ পার’র হার্টফেলের উপক্রম হল। সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে দুই মিটারেরও কম দূরত্বে এজেন্ট দাঁড়িয়ে আছে এবং একথা সে বুঝতেও পারেনি। ওই ঘরেই জন থাকত। একটা দরজা দুইটা ঘরের ভিতরের দেয়ালে ছিল, কিন্তু, সেটার দুইদিক থেকেই খিল দেওয়া।

নিবলার আচমকা বলে ওঠে, ‘জন’র ঘরে যাও এবং চুপচাপ দেখে এসো। যাও।’

পার দেয়ালে কান পেতে শোনার চেষ্টা করল। কিছু নাই। সংযুক্ত দরজাটার তালা খুলে হাতল ধরে সে আস্তে করে মোচড় দিল। তাতে কাজ হল। তল্লাসির সময় কেউ অপরপ্রান্তের তালা খুলে দিয়েছে। পার দরজার ফাটল গলে দেখার চেষ্টা করল। নিস্তব্ধ ঘর। দরজা খুলে দেখল – নাহ – কেউ নাই। তার জিনিসপত্র গুছিয়ে দ্রুত জন’র ঘরে চলে এলো।

তারপর অপেক্ষা করতে লাগল। ইতস্তত পায়চারী করে, কান খাড়া করে সে বাইরের আওয়াজ শোনার চেষ্টা করতে লাগল। দরজা খোলা ও লাগানোর প্রতিটা শব্দই তার মনে ধ্বক করে লাগছিল। গভীর রাতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন চলে গেলে, নিবলার তাকে ঘরের ফোনে ফোন দিল এবং ঘটনা সবিস্তারে জানালো।

সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন যখন সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির হয় তখন নিবলার কম্পিউটারের কুঁড়েঘরেই ছিল। এজেন্টরা নাম, নম্বরসহ যা পারলো সংগ্রহ করল, কিন্তু হ্যাকিঙের কোনো আলামত তারা পেল না। শেষপর্যন্ত, তাদের একজন ঘর থেকে একটা ডিস্ক হাতে নিয়ে বিজয়ীর বেশে হাত নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে এলো। বাইরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনরা এবার যেন একটু খুশী হল, কিন্তু নিবলার’র পক্ষে কঠিন চেহারা ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। কারণ, তার ছোট ভাইটি কম্পিউটার গ্রাফিক্সের টুকিটাকি কাজ শেখার জন্য লোগো নামের একটা প্রোগ্রাম ব্যবহার করত। আর, ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস দ্রুতই বুঝে যাবে যে তারা আসলে একজন প্রাইমারি স্কুলছাত্রের আঁকা ছবি আবিষ্কার করেছে।

পার হেসে উঠল। এতে তার চাপ কিছুটা কমলো। তখন সে নিবলারকে তার পালানোর পরিকল্পনার কথা জানালো, এবং নিবলারও বন্দোবস্ত করতে সম্মত হল। তার বাবা-মা এতোসব ঘটনার পুরোটা জানতেন না, কিন্তু কিন্তু তারা পারকে পছন্দ করতেন এবং তাকে সাহায্যও করতে চাইতেন। নিবলার তার বন্ধুকে শুভকামনা জানালো।

পালানোর এতোবড় পরিকল্পনার পরে পার আর বিশ্রাম নেওয়ার কথা মাথাতে আনলো না। রেসের ঘোড়ার মতোই সে গেট পার হবার ব্যাপারে বিরাট দুশ্চিন্তায় ছিল। যদি সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন তখনো রেকি করতে থাকে তাহলে কি হবে? মোটেলের প্রধান বিল্ডিঙের সঙ্গে কোনো গ্যারেজও নাই যেখানে ভিতর থেকে ঢোকা যাবে। যদিও সে সেখানে এক থেকে দেড় মিনিটের বেশী থাকবে না, তবুও সে ধরা পড়তে পারে। রাতের কারণে গা ঢাকা দেওয়া সহজ হবে, কিন্তু পালানোর বুদ্ধিটা বোকামি বৈ কিছু নয়। এজেন্টরা যদি দূর থেকে মোটেলটার উপর তখনও নজর রাখতে থাকে, তাহলে তারা হয়তো তার ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারটা লক্ষ্য নাও করতে পারে। কিন্তু, অপরদিকে, ছদ্মবেশী এজেন্টরা অতিথি সেজে পুরো কমপ্লেক্সটায় নজরদারী চালাতেও পারে।

এইসব উদ্ভট চিন্তা সারারাত পারকে জ্বালিয়ে মারলো। ভোর ৫টা বাজার কয়েক মুহূর্ত আগে, সে জন’র গাড়ি বের হবার শব্দ শুনতে পেল। পার তার ঘরের বাতি জ্বালালো, তার দরজার ফুটোটা খুলল এবং মোটেলের নিচতলার অবস্থা ভালো করে দেখে নিলো। সব সুনসান, একটা গাড়ি আছে, যেটা ঘড়ঘড় আওয়াজ করছে, আর, ঠান্ডা বাতাস। বেশীরভাগ ঘরের বাতিই নেভানো। এখনই সময়।