চ্যাপ্টারদ্য ফিউজিটিভ

XXXXXXXXXXXX

XXXXXXX

১৯৮৯ সালের ১০ জুলাই যখন পার স্যালিনাসের মন্টারি কাউন্টি জুভেনাইল কোর্টে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হল, সেদিন থেকেই সে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেল। ইতিপূর্বে কয়েক সপ্তাহে তার মধ্যে বেশ ঢিলেঢালা ভাবও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কেন তা কেউ জানত না। এমনকি তার আইনজীবিও নয়।

শুনানীর দশদিন আগে একটা মিটিঙে পার আসতে না পারায় রিচার্ড রোজেন বুঝতে পেরেছিলেন কিছু একটা সমস্যা তার হয়েছে, কিন্তু তারপরেও তিনি আশায় আশায় বসে ছিলেন। রোজেন পার’র জন্য একটা মধ্যস্থতা করেছিলেন: ক্ষতিপূরণ সাথে পনের দিন বা তারও কম কিশোর কারাবাস, তার বদলে পার সিক্রেট সার্ভিসকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

পারকে কয়েক সপ্তাহ ধরে যেন মনে হল এই নিয়ে দারুণ সমস্যায় আছে। ফেডারাল সরকারকে সে কেমন করে বিভিন্ন কম্পিউটারে ঢুকত সেসব বলে দিতে তার তেমন কোনো সমস্যা নাই বলে মনে হলেও, শুধুমাত্র ওইটুকুর জানার খোঁজ তারা করছিল না। তারা চাচ্ছিল তাকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করবে। এবং সবাইকে নজরদারিতে রাখবে। পার যে একজন নাটের গুরু সেকথা তারা জানত এবং সেই কারণে আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্যান্য খেলোয়াড়দেরও তার চেনার কথা। কিন্তু পার তো এভাবে পুলিশের ভূমিকা নিতে পারে না। আর সে যদি হাঁড়ির সব খবর ফাঁসও করে দেয়, তবুও কর্তৃপক্ষ তাকে জেলখানায় নিয়ে কি করবে সে সম্পর্কেও কিছু আন্দাজ করা যাচ্ছে না। গুম হয়ে যাওয়ার ভয়ই তার মনে সবচেয়ে বেশী উঁকি দিচ্ছিল।

কাজেই, এক সকালে, পার উধাও হয়ে গেল। পরিকল্পনাটা সে খুব হিসাব করেই করেছিল, চুপচাপ বাক্সো-প্যাটরা গুছিয়ে এবং রুমমেটদের বাইরের সার্কেলের বিশ্বস্ত একজন বন্ধুকে ধরে সব বন্দোবস্ত করল। তার রুমমেটরা যখন বাইরে তখন সেই বন্ধুটি এসে পারকে তুলে নিয়ে গেল। ঘুনাক্ষরেও তারা বুঝতে পারেনি যে আঠার বছর বয়সী পার তখন একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য উধাও হতে যাচ্ছে।

প্রথমেই, পার স্যান ডিয়েগোতে গেল। এরপর লস এঞ্জেলস। তারপর সে নিউ জার্সির দিকে এগোল। এরপর, সে রাডার স্ক্রিন থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে গেল।

ফেরারি জীবন খুব কষ্টে কাটাতে হল। প্রথম কয়েক মাস, পার’র সাথে দুটি মূল্যবান সম্পদ ছিল; একটা সস্তা ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং থিওরেম’র সাথে তোলা কয়েকটা ছবি। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুনিয়ায় ওইগুলোই ছিল তার জীবনীশক্তি এবং সে তার ব্যাগে ঐগুলো সবসময় সাবধানে আগলে রাখত, কারণ, তাকে এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়াতে হত, কখনো কখনো কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের কোনো বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাতে হত। হ্যাকারদের  দুর্বল নেটওয়ার্কটিকে বলা যায় ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকান ‘আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোড’, যেটা ব্যবহার করে দাসেরা দক্ষিণ থেকে  অপেক্ষাকৃত নিরাপদ উত্তরের প্রদেশগুলোতে পালানোর জন্য ব্যবহার করত।  পার্থক্যটা হল, পার’র তবুও কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছিল না।

পার পুরো দেশ চষে বেড়াল, ভবঘুরের মত। এক সপ্তাহ এখানে। কয়েকরাত ওখানে। ইলেকট্রনিক আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোডে আবার মাঝে মাঝে ছেদ পড়ত, শুরু আর শেষের মাঝে। এই ছেদগুলো ছিল সবচেয়ে কঠিন। এর মানেই হল খোলা আকাশের নিচে, কখনো হিম ঠান্ডার মধ্যে, না খেয়ে এবং একাকী কাটানো।

ক্ষ্যাপাটে ফেরারি জীবনেও সে হ্যাকিং চালিয়ে গেল কারণ, তখন তো সে বলতে গেলে অদৃশ্য। আইনশৃংখলা বাহিনীরই বা করার কী আছে? তাকে ধরবে? সে তো পালিয়েই বেড়াচ্ছে এবং এরচেয়েও খারাপ আর কীই বা হতে পারে? তার মনে হত যেন এই দৌড় আর কোনোদিন থামবে না, এবং, সে যেন জীবনভর দৌড়ের উপরেই আছে, যদিও মাত্র কয়েকমাস হল এই অবস্থা হয়েছে।

কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকেদের সঙ্গে থাকার সময়ই বরং পার চোখ-কান খোলা রাখত। আর খুপরি মোটেলের ঘরে বা অপরিচিত লোকেদের সঙ্গে থাকার সময়ই বরং সে নির্ভয়ে হ্যাক করতে পারত।  স্থূল, বেপরোয়া ভাব। তার সমস্ত ব্যাপারই তো তাহলে সিক্রেট সার্ভিসের জানার কথা। এমনকি তার অবৈধ ভয়েস মেইলবক্সেও তার পেছনে লেগে থাকা টিকটিকিদের উদ্দেশ্যে ছিল বাণী:

ঠিক ধরছো, আমি পার বলতেছি। সিক্রেট সার্ভিসের বোকাচোদারা, যারা কল করতেই আছো, শোনো, শুভ কামনা রইল। ইয়ার্কি না, কারণ, আমি সত্যিই বলতেছি, তোমরা আস্ত বোকাচোদা।

তোমরা যদি আমার ব্যাপারে এপল কম্পিউটারের [বিশ্লেষণের জন্য] কাছে জানতে চাও, তাইলে এইটা বুঝা যাবে যে তোমরা শুধু বোকাচোদাই না, হতাশাজনকও। তোমরা হয়তো ভাবতেছ আমার কাছে ব্লু-বক্সিঙের জিনিসপাতি আছে [ফ্রিকিঙের জন্য]। আমার ভেবে হাসি পাচ্ছে যে, তোমরা ব্লু বক্সের চেয়ে বেশীকিছু চিন্তাও করতে পারতেছ না। তোমরা এতোই করুণ।

ও আচ্ছা, যদি আর কারও আমাকে কিছু বলবার থেকে থাকে, চালায়া যাও। সবাই মাথা ঠান্ডা রাখো আর আমাকেও মাথা ঠান্ডা রাখতে দাও। ঠিক আছে। পরে কথা হবে।

এই ধরণের বীরপনা দেখালেও, প্যারানয়া পারকে এমনভাবে ছেয়ে ফেলেছিল যা আগে কখনো হয়নি। রাস্তায় যদি সে কোনো পুলিশকেও দেখে, তার দমবদ্ধ হবার যোগাড় হয় এবং সে উল্টো ঘুরে পালাতে উদ্যত হত। যদি কোনো পুলিশ তার দিকে এগিয়ে আসে, পার তাহলে রাস্তা পার হয়ে কাছাকাছি গলির ভিতরে ঢুকে পড়ত। পুলিশ দেখলেই সে হতবুদ্ধি হয়ে যেত।

১৯৮৯ সালের হেমন্তে, পার নথর্ ক্যারোলিনার একটা ছোট্ট শহরে এসে পৌঁছল। থাকার জন্য সে একটা জায়গা খুঁজে নিল এবং দ্য নিবলার হ্যান্ডেল নামের একজন বন্ধুর সঙ্গে থাকতে লাগল এবং ওর পরিবারের একটা মোটেলও ছিল। একটানা কয়েক সপ্তাহ একই জায়গায়, একই বিছানায় থাকা অনেকটা স্বর্গে থাকার মত। তাছাড়া মাগানায় থাকা যাচ্ছিল, তারমানে, থিওরেমের কাছ থেকে টাকা ধারও করতে হচ্ছিল না। থিওরেম তার ভবঘুরে জীবন চালাতে সাহায্য করছিল।

রাতে পার যে ঘর পেত সেই ঘরেই শুয়ে পড়তো, কিন্তু বেশীরভাগ সময় কাটাতো মোটেলের একটা কুঁড়েঘরে, যেটাকে নিবলার অফ-সিজনে কম্পিউটার রুম হিসেবে ব্যবহার করত। তারা নিবলার’র কম্পিউটার থেকে হ্যাক করে দিন কাটাত। নর্থ ক্যারোলিনায় যেতে পলাতক পারকে তার সস্তার ল্যাপটপখানাও বিক্রি করে দিতে হয়েছিল।

মোটেলে কয়েক সপ্তাহ থাকার পরও, সে নজরদারীতে থাকার অনুভূতি পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে পারল না। বিপুল সংখ্যক অপরিচিত মানুষ সেখানে আসতো-যেতো। তার মনে হত, এই বুঝি গাড়িতে অপেক্ষমান হোটেলের অতিথিরাও তার উপরে গোয়েন্দাগিরি করতে শুরু করে দেয় এবং এই ভেবে সে সবসময়ই তটস্থ থাকত। তার মনে হত, এই বুঝি সিক্রেট সার্ভিসের লোকেরা তার অবস্থান ধরে ফেলে।

পার বিষয়টাকে আরও গভীরভাবে তলিয়ে দেখার উপায় নিয়ে ভাবছিল।

আটলান্টা থ্রি হ্যাকারদের একজন, দ্য প্রফেট, হ্যাকিং বিষয়ক তথ্য, বিশেষ করে ইউনিক্স সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটির ব্যাপারে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কখনো কখনো নিবলারকে ডাকত। এরকম একটা সাক্ষাতের সময়, প্রফেট পারকে ফোন কোম্পানির একটা নেটওয়ার্কে নতুন নিরাপত্তা ত্রুটির ব্যাপারে জানিয়েছিল।

দ্য আটলান্টা থ্রি হল দ্য লিজিয়ন অফ ডুম’র জর্জিয়া-ভিত্তিক একটা শাখা। তারা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফোন কোম্পানী বেলসাউথ ব্যবহার করে স্বাচ্ছ্যন্দে সময় কাটাত। পার যেমন টাইমনেট’র সুইচিং স্টেশনগুলো জানত তেমনি তারাও বেলসাউথের সুইচিং স্টেশনগুলো জানত। সিক্রেট সার্ভিস ১৯৮৯ সালে সেই হ্যাকারদের ঘেরাও করলেও এদের এখনো ধরতে পারেনি। কাজেই, সেপ্টেম্বরেও দ্য প্রফেট’র এই প্রিয় লক্ষবস্তুুর ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল।

বেলসাউথ’র নেটওয়ার্কের ত্রুটি এবং সেই সুযোগে তাদের সিস্টেমে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারটা পারকে যথেষ্ট আকৃষ্ট করেছিল। কোম্পানির নেটওয়ার্কে ডায়াল কর, গুঁতাগুঁতি কর, দেখে বেড়াও। সচরাচর যা হয়, আরকি।

পার’র মনে হল, ফোন কোম্পানির মোটেল রেকর্ডগুলোতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে কিনা তা একটু খতিয়ে দেখা যেতে পারে। সে মোটেল’র প্রধান ফোন নম্বর টাইপ করল এবং সিস্টেম তাকে মোটেলে’র ঠিকানা, নাম এবং আরও কিছু বিশদ টেকনিক্যাল তথ্য, যেমন: ফোন নম্বরে কোন তার এবং পেয়ার যুক্ত আছে সেই তথ্য পাঠাল। এরপর সে কম্পিউটার রুম হিসেবে ব্যবহার করা সেই কুঁড়েঘরের ফোন লাইন খুঁজে দেখল। একটা লাইন একটু অস্বাভাবিক লাগল।

হ্যাকিঙের জন্য সে এবং নিবলার যে লাইনটা বেশীরভাগ সময় ব্যবহার করত সেটার একটা বিশেষ স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে: ‘রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ অন লাইন’।

কোন রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ? নিবলার তো মোটেলের কোনো লাইনের ব্যাপারে কোনো সমস্যার কথা জানায়নি, কিন্তু পার তবুও তাকে জিজ্ঞেস করে নিল। টেলিফোন নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না।

পার ঘাবড়ে গেল। ফোন কোম্পানির নেটওয়ার্কে ভেজাল পাকানো ছাড়াও, সে কম্পিউটার রুমের কুঁড়েঘর থেকে একটা রাশিয়ান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করেছিল। সেই সোভিয়েত নেটওয়ার্কটা অনেকটা নতুন খেলনার মত আকষর্ণীয় জিনিস ছিল। সেটা দিয়ে বাদবাকি দুনিয়ার সব গ্লোবাল প্যাকেট-সুইচড নেটওয়ার্কের সঙ্গে মাসখানেকের জন্য যুক্ত হওয়া গিয়েছিল। এই কারণে সেটা ছিল একটা আকর্ষণীয় আনকোরা নতুন দুনিয়া।

নিবলার তার এক বন্ধুকে মোটেলের ফোনগুলোকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য ডেকে নিয়ে এলো। সেই বন্ধুটি, একজন সাবেক টেলিফোন কোম্পানি টেকনিশিয়ান এবং ফ্রিলান্সার হিসেবে কাজ করতেন। সে সব জিনিসপত্র পরীক্ষা করে দেখতে লাগল। মোটেলের ফোন লাইনে উদ্ভট কিছু একটা চলছে বলে সে নিবলার এবং পারকে জানাল। লাইনে ভোল্টেজ ছিল না।

পার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ধরে ফেলল। সিস্টেমটাকে কেউ নজরদারীতে রেখেছে। ইনকামিং, আউটগোয়িং – সবগুলো লাইনেই আড়িপাতা হচ্ছে, যার অর্থ একটাই। কেউ একজন — ফোন কোম্পানি, স্থানীয় পুলিশ, এফবিআই বা সিক্রেট সার্ভিস — তাদের পিছনে লেগেছে।

নিবলার এবং পার, দুজনে মিলে নিবলার’র কম্পিউটারের সব জিনিসপত্র, সেইসাতে পার’র হ্যাকিং নোট প্যাকেট করে ফেলল এবং শহর ছেড়ে অন্য একটা মোটেলে চলে গেল। তাদের সব ধরণের হ্যাকিং বন্ধ করতে হল এবং সব  আলামত মুছে ফেলতে হল।

লইগন করামাত্র মানুষের পাসওয়ার্ড এবং লগইন নাম লাগাতার হাতিয়ে নিতে পারে সেরকম একটা প্রোগ্রাম চালু করেই রেখে এসেছিল পার, তারপর সে সব তথ্য একটা ফাইলে পুরে একটা হ্যাকড মেশিনে জমা করে রাখল। সে প্রায় প্রতিদিন সেই ফাইল খুলে দেখত। সে যদি প্রোগ্রামটা বন্ধ না করত, তাহলে লগ ফাইলটা আয়তনে বাড়তে থাকত, যতদিন না কোনো সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেট উৎসাহিত হয়ে আমলে না নেয়। যখনই সে আবিষ্কার করবে যে তার সিস্টেম হ্যাক হয়েছে তখনই সে নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে দিবে। পারও ওই সিস্টেমে আবার ঢুকতে সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবে।

হ্যাক করা সিস্টেমটাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে শেষ করে তারা পার’র সবগুলো নোট এবং নিবলার’র কম্পিউটারের জিনিসপত্র আরেকবার জড়ো করল এবঙ সেগুলোকে একটা ভাড়া করা স্টোরেজ স্পেসে জমা করে রাখল। তারপর তারা মোটেলে ফিরে গেল।

পা’র তখনো অন্যত্র চলে যাবার সাধ্য ছিল না। তাছাড়া, এমনও হতে পারে, টেলিফোন কোম্পানি শুধুমাত্র মোটেলটার ফোন সিস্টেমের ব্যাপারেই আগ্রহী। মোটেলের ফোন থেকে পার টেলিফোন কোম্পানির কম্পিউটার সিস্টেমে বহুবার গুঁতাগুতি করেছে, কিন্তু সবই সে নাম-পরিচয় গোপন রেখেই করেছিল। বরং, বেলসাউথ হয়তো এই তথ্য চুরি নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছে। ঘটনা যদি এরকমই হয়ে থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সম্ভবত জানে না, ফেরারি পার, সেই মোটেলে লুকিয়ে আছে।

মোটেলের পরিবেশ ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে উঠছিল। লোকজনের গতিবিধির ব্যাপারে পার আরও সজাগ দৃষ্টি রাখছিল। জানালা দিয়ে সে প্রায়ই উঁকি দিয়ে দেখত, এবং পায়ের আওয়াজও সে খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করতে শুরু করল। কতোজন অতিথি আসলে টুরিস্ট? পার অতিথিদের তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিলো এবং নিউ জার্সি থেকে আসা এক লোকের নাম পেলো। সেই লোক বেল সিস্টেমস আলাদা হওয়ার পর এটি এন্ড টি’র কোনো একটা কর্পোরেশনে চাকরি করে। দুনিয়ায় এতো জায়গা থাকতে এটি এন্ড টি’র কর্মচারী কেন নর্থ ক্যারোলিনার এই খুপরী মোটেলে এসে উঠবে? হয়তো একদল সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট গোপনে মোটেলে ঢুকেছে এবং কুঁড়েঘরটা নজরে রেখেছে।

পার’র এই প্যারানয়া নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার ছিল। তার একটু খোলা বাতাস চাই, তাই সে হাঁটতে বরোলো। আকাশের অবস্থা ছিল খারাপ আর বাতাসও বইছিল জোরে, আর তাতে হেমন্তের পাতাগুলো কাঁপছিল। দ্রুতই বৃষ্টি শুরু হল এবং পার রাস্তার পে-ফোনের ভিতর ঢুকে আশ্রয় নিলো।

কয়েকমাস ধরে দৌড়ের উপর থাকা সত্ত্বেও, পার থিওরেমকে প্রায় প্রতিদিন কল করত। বেশীরভাগ সময়ই সে বড় বড় টেলিকমুনিকেশন কোম্পানির মাধ্যমে ফ্রিকিং কল করে যোগাযোগ করত। এভাবে ডায়াল করে কিছুক্ষণ কথা চলত। সেদিন পার তাকে মোটেলের পিএবিক্স’র ভোল্টেজ কেমন করে নাই হয়ে গেছে তা বলছিল। এও বলছিল যে সেগুলোতে হয়তো আড়িপাতাও হচ্ছে। সে জিজ্ঞেস করেছিল এতোকিছু কীভাবে সামলাচ্ছে। তাদের আবার কবে দেখা হতে পারে সেসব নিয়ে তারা কথা হল অনুচ্চস্বরে।