পার এবং থিওরেম তার ব্যাগগুলো নিলো এবং ব্রায়ানের গাড়িতে গিয়ে উঠলো। ব্রায়ান, পার’র একজন বন্ধু যে এয়ারপোর্ট ট্যাক্সির দায়িত্বটা পালনের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ পার’র কোনো গাড়ি ছিল না, যদিও থিওরেমের এই নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। সে ছয় ফুট লম্বা ফরাসিভাষী সুইস মেয়ে। বিষয়টা অবশ্যই দারুণ। তারা পার’র বাড়িতে চলল। তারপর ব্রায়ান গল্প করার জন্য ঘরের ভিতরেও এলো্

ব্রায়ান থিওরেমকে সব ধরণের প্রশ্নই করল। তার সত্যিই দারুণ কৌতূহল হচ্ছিল, কারণ সে আগে কখনো ইউরোপের কারো সাথে পরিচয় হয় নাই। পার তার বন্ধুকে ভাগানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছিল কিন্তু ব্রায়ান সুইজারল্যান্ডের জীবনযাপন জানার জন্য কথা বলেই যাচ্ছিল। ওখানকার আবহাওয়া কেমন? লোকজন কি সবসময়ই স্কি করে?

পার একবার ব্রায়ানের চোখের দিকে তাকায় আর একবার দরজার দিকে কটমট করে তাকায়।

বেশীরভাগ সুইস কী ইংরেজি জানে? সে অন্যান্য কী কী ভাষা জানে? ক্যালিফোর্নিয়ায় অনেক মানুষ স্কি করে। আরেক পৃথিবীর একজন মানুষের সঙ্গে এভাবে কথা বলা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।

পার একবার মুখ ঘুরিয়ে দরজা দেখিয়ে দিলে অবশেষে ব্রায়ান ইশারাটা ধরতে পারল। পার তার বন্ধুকে চলে যেতে বলল। ব্রায়ান মাত্র দশ মিনিট ছিল, তাতেই মনে হচ্ছিল যেন এক বছর ধরে আছে। এরপর পার এবং থিওরেম একা ঘরে বসে কিছু কথাবার্তা বলল, তারপর পার প্রস্তাব দিল হাঁটতে যাবে।

এক ব্লকের অর্ধেকটুকু যেতেই, পার পরীক্ষাচ্ছলে তার হাতটা ধরল। মনে হল ব্যাপারটা তার পছন্দ হল। তার হাতটা ছিল উষ্ণ। আরও কিছু কথাবার্তা চলল, তারপর পার হঠাৎ থেমে গেল। তার দিকে মুখ ঘোরাল। একটু থেমে, তাকে এমন একটা কথা কথা বলল যেটা তারা টেলিফোনেও বলত, সেই কথাটা, যেটা তারা দুজনেই জানত।

থিওরেম চুমু খেল। পার চমকে গেল। সে একদম প্রস্তুত ছিল না। তারপর থিওরেম সেই কথাটা তাকে আবার বলল।

আসল অগ্রগতি শুরু হল ঘরে ফেরার পর। আড়াই সপ্তাহ তারা ঘনিষ্ঠ সময় কাটালো — ওই সপ্তাহগুলো ছিল চমৎকার, রোদে-ভেজা সময়। অনলাইন বা টেলিফোনের চেয়ে সাক্ষাত সম্পর্ক যে ঢের ভালো তা প্রমাণ হয়ে গেল। থিওরেম পারকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, এবং পার, জবাবে থিওরেমের মনে সর্বোচ্চ সুখের অনুভূতি দিতে চেষ্টা করল।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পার তার ছোট্ট জগতটাকে তাকে ঘুরে দেখাল। কয়েকটা পর্যটন এলাকায় তারা ঘুরে বেড়াল, কিন্তু বেশীরভাগ সময় তারা ঘরেই কাটিয়েছিল। রাত-দিন তারা প্রায় সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলত।

এরপর থিওরেমের যাবার সময় এলো, সুইজারল্যান্ডে নিজ জীবন এবং কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবার সময়। তার চলে যাওয়া ছিল বেদনাবিধুর — এয়ারপোর্টে যাওয়া থেকে প্লেনে ওঠা অবধি — সবকিছুই হৃদয় বিদারক। থিওরেমকে খুবই বিষন্ন দেখাল। পারও প্লেন উড়াল দেওয়া পর্যন্ত সেরকমই হয়ে থাকল।

আড়াই সপ্তাহের জন্য, থিওরেম পার’র মামলার জন্য কোর্টে যাওয়ার স্মৃতি ভুলিয়ে দিয়েছিল। তার চলে যাওয়ামাত্র, মামলার অন্ধকার বাস্তবতা তার উপরে আবার ভর করল।

[ ]

এ দৃশ্য যেন মাছেরাও পছন্দ করত।

ধার করা একটা কম্পিউটারের সামনে রাতের অন্ধকারে পার বসে থাকত, ঘরের মধ্যে আলো বলতে থাকত শুধু মনিটরের হাল্কা আলো, এবং তখন মাছগুলো ট্যাংকের একটা কোণায় এসে জড়ো হত এবং তাকে সঙ্গ দিতো। অনলাইন যখন নিরব হয়ে যেত, পার’র চোখ তখন গিয়ে পড়ত ঈল এবং লায়ন ফিসের উপর। কম্পিউটার স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো বোধহয় ওদের চোখে কৌতূহল জাগাতো। যে যাই হোক, তারা যে ওইদিকে দেখতে পছন্দ করত তা স্পষ্ট বোঝা যেত। ভয়াবহ ব্যাপার।

সিগারেটে আরও কয়েকটা টান দিয়ে, আরও কিছুক্ষণ মাছ দেখে, কোক খেয়ে তারপর পার আবার কম্পিউটারের দিকে মনোযোগ দিল।

সেই রাতে, পার যা দেখার নয় তাই দেখে ফেলল। মামুলি হ্যাকিঙের জিনিস নয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের ব্যাপারস্যাপারও নয়। এমনকি কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্যীয় শেখদের ব্যক্তিগত লেনদেনের তথ্যও নয়।

সে দেখল এক ধরণের কিলার স্পাই স্যাটেলাইট — অন্যান্য হ্যাকারদের কাছে সে এই কথাগুলো বলেই জিনিসটার বর্ণনা দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল স্যাটেলাইটটা অন্য স্যাটেলাইটদের গুপ্তচরবৃত্তি ধরতে পারলে সেগুলোকে গুলি করতে পারে এবং সে দেখেছিল জিনিসটা টিআরডব্লিউ’র স্পেস এন্ড ডিফেন্স বিভাগের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটা মেশিনের ভিতরে জিনিসটা পেয়েছিল।  স্ক্যান করতে করতে ফোর্স যেমন হঠাৎ সিটিসৌদি মেশিনের খোঁজ পেয়েছিল, অনেকটা সেভাবেই সে এটার খোঁজ পেল। এর বেশীকিছু পার আর কিছু বলেনি কারণ এই আবিষ্কার নিয়ে সে যারপরনাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

হঠাৎ, তার মনে হল, সে একটু বেশীই জেনে ফেলেছে। অনেক সামরিক সিস্টেমের ভিতরেই যে যাওয়া-আসা করেছে, অনেক স্পর্শকাতর জিনিসপত্রই সে দেখেছে যে, এইসব তার কাছে এখন মামুলী বিষয় হয়ে গেছে। এইসব তথ্য পড়তে মজা, কিন্তু খোদা সাক্ষী, সে কখনো এসব ব্যবহার করে কিছু করতে চায় নি। এসব শুধুমাত্রই পুরষ্কার, একজন ঝানু হ্যাকার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের ট্রফির মত। কিন্তু, এই আবিষ্কারটা তাকে চমকে দিল, গালে সজোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিল, সে আসলে কি বের করেছে সেই বোধন উদ্বোধন করল।

সিক্রেট সার্ভিস যদি বিষয়টা বুঝতে পারে তাহলে তার কী হবে? ‘৫০২গ’ লেখা আরেকটা ট্রাফিক টিকিট সদৃশ কাগজ ধরিয়ে দিবে? ভাবা যাচ্ছে না। বিচারে জুরিবোর্ডের সামনে তাকে সবকিছু খুলে বলতে দেওয়া হবে? পত্রপত্রিকায় ছাপানো হবে? স্বপ্নেও ভাবা যাচ্ছে না।

তখন ছিল রোনাল্ড রিগ্যান এবং জর্জ বুশের সময়, স্পেস প্রতিরক্ষা কর্মকান্ডের যুগ, বিরাট প্রতিরক্ষা বাজেটের সময় এবং ক্ষ্যাপাটে মিলিটারি কমান্ডারদের যুগ যারা পৃথিবীটাকে দুষ্ট রাজ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখত।

আমেরিকা সরকার কি তাকে জেলে পুরে গুম করে রাখবে? তাকে কি অন্যান্য কয়েদীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়ার ঝুঁকি তারা নেবে — সেইসব অপরাধী যারা এইধরণের তথ্য থেকে কেমন করে ডলার কামাতে হয় সেই খবর জানে, তাদের সঙ্গে? অবশ্যই না।

তাহলে তো একটাই রাস্তা বাকি থাকল। হত্যা।

এই চিন্তাটা বিশেষ সুখকর ছিল না। কিন্তু সতের বছর বয়সী একজন হ্যাকারের কাছে এরকম হওয়া খুব একটা অসম্ভব ঘটনাও ছিল না। পার তার করণীয় ভাবতে চেষ্টা করল এবং শেষপর্যন্ত একটাই সমাধান পেল।

পালাও।


+salimrezanewton@gmail.com, এই জায়গাটা বুঝতে পারছি না।

_Assigned to Salim Reza Newton_

দেখিচ্চি…

+salimrezanewton@gmail.com, এই জায়গাটা দেখো। ইংরেজিটা হল:

Count 2, for ‘defrauding a telephone service’, had no fine: the charges were for a continuing course of conduct, meaning that they applied to the same activity over an extended period of time.

_Assigned to Salim Reza Newton_