তথ্যগুলোর একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে, ফোর্সের মনে হল। তথ্যগুলো সাজানোর ধরণ দেখে মনে হচ্ছিল না যে সিটিব্যাংকের মেশিন শুধুমাত্র আরেকটা মেশিনে পাঠানোর জন্য সেগুলো জড়ো করেছে। মনে হচ্ছিল যেন টেক্সট ফাইল, যেগুলো কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডাম্প করা হচ্ছে।

সে যখন আরেকবার ডাটাগুলো ভালো করে দেখতে শুরু করল, তার মনে হঠাৎ একটা দুশ্চিন্তা ভর করল। সিটিব্যাংক একটা বিরাট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেটা গ্রাহকের আস্থার উপরে নির্ভর করে টিকে আছে। ফোর্স’র এই কান্ড যদি ফাঁস হয়ে যায় তাহলে প্রতিষ্ঠানটা তাদের বহু গ্রাহক হারাবে। ফলে, তারা তাকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবে না। আচমকা বিদ্যুচ্চমকের মত তার মনে একটাই ভাবনা এলো।

আমি তো আগুন নিয়ে খেলছি।

[  ]

‘ওই নম্বরগুলো কোত্থেকে পেয়েছ?’ সামনেরবার আলটসে পার ফোর্সকে জিজ্ঞেস করল।

ফোর্স থতমত খেয়ে গেল। পার কথা টেনেই চলল।

সে ফোর্সকে বলল, ‘আমি নম্বরগুলো যাচাই করে দেখেছি। সেগুলো সঠিক।’ আমেরিকানটি একটা ফন্দি এঁটেছে। তার ওই নেটওয়ার্ক এড্রেস চাই। লোভ। পরবর্তী কাজ, রহস্যজনক মেশিন। ‘তাইলে এবার, ঠিকানাটা বল?’

ফোর্স এই প্রশ্নটা কোনোভাবেই আশা করে নাই। তার এবং পার’র মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল, তারা মাঝেমাঝেই তথ্য আদান-প্রদান করত। কিন্তু, ওই পর্যন্তই। সে জানত, তথ্যকে পার কম বাঞ্ছনীয় ব্যবহার কাজে লাগাত। পার কার্ডিং করত কিনা সে ব্যাপারে ফোর্স নিশ্চিত ছিল না, কিন্তু সে নিশ্চিতভাবেই জানত তার বন্ধুরা এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই ফোর্স পারকে সেই রহস্যময় মেশিনের কথা জানাতে অস্বীকৃতি জানাল।

কিন্তু পারও সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। টাকা হাতানোর চেয়েও বড় কথা, রহস্যময় মেশিনটা ঘেঁটে দেখার আকর্ষণ। পার যা চায় তা না পাওয়া পর্যন্ত সে ফোর্সকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। হ্যাকারের কাছে কাঙ্খিত সিস্টেমের তথ্যের গন্ধমাখা বাতাসের মত উস্কানীমূলক আর কিছুই হতে পারে না। তাই পার ফোর্সকে ততক্ষণ দাবড়ে বেড়াবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারের মন পাওয়া যায়।

শেষমেশ ফোর্স পারকে কিভাবে ডেফকন দিয়ে স্ক্যান করার সময় হঠাৎ সিটিসৌদি মেশিনের সন্ধান পেয়েছে তার একটা মোটামুটি বর্ণনা দিল। ফোর্স কিছুতেই মূল ঠিকানা দিতে চাইল না, সে শুধু অলিগলির সন্ধান দিল। ডেফকন টেলনেট দিয়ে সিটিব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঢুকেছিল। টেলনেট হল এক্স.২৫ কমুনিকেশন্স প্রটোকল ব্যবহারকারী আমেরিকার অন্যতম বড় ডাটা নেটওয়ার্ক। সিটিব্যাংকের নেটওয়ার্কের অংশের সাব-প্রিফিক্সগুলো হল ২২৩ এবং ২২৪।

বাদবাকি নম্বরগুলোর জন্য পার ফোর্সকে আরও কিছুক্ষণ বিরক্ত করল, কিন্তু সেই অস্ট্রেলিয়ান বান্দা তার সিদ্ধান্তে অটল। ফোর্স খুবই সাবধানী খেলোয়াড়, খুঁতখুঁতে হ্যাকার। কাজেই পার’র সঙ্গে স্রোতে গা ভাসানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।

ঠিক আছে, সতের বছর বয়সী পার ভাবল, তোকে ছাড়াই দেখে নিব। পার হিসাব করে দেখল ২০০০০ টি সম্ভাব্য ঠিকানা আছে, যেগুলোর যেকোন একটা হল সেই রহস্যময় মেশিনের ঠিকানা। তার অনুমান মেশিনটা নেটওয়ার্কের কোনো শুরুর দিকের ঠিকানায় থাকার সম্ভাবনা বেশী, কারণ, সাধারণত শুরুর দিকের সংখ্যাগুলো প্রথমে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং শেষের দিকেরগুলো বিশেষ কাজকর্মের জন্য রেখে দেওয়া হয়। সেই ধারণা থেকেই তার খোঁজ লাগানোর ব্যাপ্তি কমে সম্ভাব্য ২০০০ ঠিকানায় এসে ঠেকল।

পার গ্লোবাল টেলিকমুনিকেশন্স নেটওয়ার্কে (জিটিএন) সিটিব্যাংকের রহস্যময় মেশিনের খোঁজে একে একে স্ক্যান করতে শুরু করল। এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সে একটা সুবিধাজনক নম্বর বেছে নিয়ে শুরু করল। সে লিখল ২২৩০১, ২২৩০২, ২২৩০৩। চলতেই থাকল, একদম ২২৩১০০০০ পর্যন্ত। ঘন্টার পর ঘন্টা, আস্তে আস্তে, অনেক পরিশ্রম সয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে পার নেটওয়ার্কের একেকটা অংশ বা রেঞ্জ স্ক্যান করছিল। ২২৩ প্রেফিক্স দিয়ে সে যখন বিরক্ত হয়ে গেল, একটু বৈচিত্রের জন্য ২২৪ দিয়ে শুরু করল।

দীর্ঘ একরাত কম্পিউারের সামনে বসে থেকে কড়কড়ে চোখ নিয়ে বিধ্বস্ত পার’র মনে হল সব ছেড়েছুঁড়ে দেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার, স্যালনাসের এপার্টমেন্টের জানালায় সূর্য উঁকি দিয়েছে ঘন্টাখানেক হল। তার শোবার ঘর এলোমেলো, এপল টু-ই ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে আছে বিয়ারের খালি ক্যান। পার কিছুক্ষণের জন্য ক্ষান্ত দিল, একটু ঘুমিয়ে নিল। সে সম্ভাব্য সব ঠিকানাই পরীক্ষা করে দেখেছে, সব দরজায় কড়া নেড়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন পর সে আবার নেটওয়ার্ক স্ক্যান করতে শুরু করল। সে আরও পদ্ধতিগতভাবে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিল এবং দ্বিতীয়বারের মত সবকিছু প্রথম থেকে শুরু করল।

দ্বিতীয়বার স্ক্যান করার মাঝপথে ঘটনা ঘটে গেল। পার’র কম্পিউটার কিছু একটার সঙ্গে সংযুক্ত হল। সে কৌতুহল নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালো। কী হল? ঠিকানাটা পরীক্ষা করে দেখল। ওই ঠিকানায় যে সে আগেও একবার চেষ্টা করেছিল সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল, কিন্তু তখন কিছুই হয়নি। মহা বিদঘুটে ব্যাপার তো! কম্পিউটারের দিকে সে তাকিয়েই রইলো।

স্ক্রিনের উপরে একটা মিটমিটে কার্সার ছাড়া আর কিচ্ছু ছিল না। এখন কী করতে হবে? ফোর্স কম্পিউটারটারের মুখ খোলাতে কী এমন জাদুমন্ত্র করেছিল?

পার কন্ট্রোল কি এর সঙ্গে আরও কয়েকটি বোতাম চাপলো। নাহ, কোনো খবর নাই। হয়তো ঠিকানাটাই সঠিক না। সে মেশিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যত্ন করে ঠিকানাটা লিখে রাখল। পরে আবার দেখা যাবে ভেবে রাখল।

তৃতীয়বার ঢোকার পরেও ওই বিচ্ছিরি ফাঁকা স্ক্রিন ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। এইবার সে কন্ট্রোল কি এর সঙ্গে সবগুলো অক্ষরের বোতাম একে একে চেপে দেখল।

কন্ট্রোল এল।

এইটাই ছিল জাদুর চাবিকাঠি। এতেই সিটিসৌদির রহস্যময় ক্যাশ ভেসে উঠল। এই ঘটনায় পার’র শরীরে এড্রেনালিনের গতি বেড়ে গেল, সঙ্গে হাজার হাজার কার্ড। কাঁচা টাকা, তার স্ক্রিনে ভেসে বেড়াচ্ছে। সে স্ক্রিন ক্যাপচার চালু করে দিল যাতে ভেসে বেড়ানো সব তথ্য সংগ্রহ করা যায় এবং পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়। ১২০০ বডের মডেম দিয়ে ভেসে আসা সব ডাটা সংগ্রহ করে রাখতে পার কে এপল টু-ই কম্পিউটারের জন্য আরও অনেকগুলো ডিস্ক দিতে হল।

অদ্ভুত সুন্দর ঘটনা। ফোর্সকে রসিয়ে রসিয়ে ঘটনাটা বলতে তার কতো মজাই না লাগবে সেই মূহুর্তটা ভেবে পার’র মন ভরে গেল। কী মধুর ঘটনা। হেই অসি, তুমি একলাই বিরাট মাল না। সিটিব্যাংকে দেখা হবে, কেমন!

এর এক ঘন্টা বা তারও পরে, যখন সিটিব্যাংকের ডাটা ডাম্পিং শেষ হল, পার তার অর্জন দেখে থ হয়ে গেল। ঐগুলো কোনো পুরাতন কার্ডের নম্বর নয়। ডেবিট কার্ড, এবং সবগুলোই ধনকুবের আরবদের। এরা এদের টাকাপয়সা ব্যাংকে টুপ করে ফেলে দিয়ে চারকোণা প্লাস্টিকের কার্ড দিয়ে ওই একাউন্টের সঙ্গে লেনদেন করে। তাদের যাবতীয় খরচ সরাসরি ওই ব্যাংক ব্যালান্স থেকে কাটা পড়ে। ডাটা ডাম্প থেকে দেখা গেল ইস্তাম্বুলের এক লোক ৩৩০,০০০ ডলার মূল্যের মার্সিডিজ বেঞ্জ কিনেছে। এক টুকরা প্লাস্টিক দিয়েই যে অতোকিছু করা যায় পার তা কল্পনাও করতে পারেনি। অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় ওই প্লাস্টিকের টুকরাটা সঙ্গে থাকলে তাহলে ‘দাম কত!’ বলার সংজ্ঞাই পাল্টে যাবে।

লটারি জিতলে সবারই বন্ধুদের সাথে খবরটা শেয়ার করতে ভাল লাগে। পারও সেটাই করল। প্রথমেই, সে তার রুমমেটদের দেখাল। তারা বলল বিষয়টা দারুণ। কিন্তু আর দশজন হ্যাকার এবং ফ্রিকার, যারা টেলিফোন ব্রিজ করে বেড়ায় তাদেরকে যখন এক্স.২৫ ওস্তাদ পার অনেকগুলো কার্ডের নম্বর পড়ে শোনাল তখন আর বিষয়টা শুধু দারুণ থাকল না।

এরপর থেকে পার অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠল। মহান পার যেন অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ডের রবিনহুড। সবাই তার সাথে কথা বলতে ব্যাকুল। নিউ ইয়র্কের হ্যাকার থেকে ভার্জিনিয়ার ফ্রিকাররা পর্যন্ত। আর, সান ফ্রান্সিসকোর গোয়েন্দা সংস্থাও।

[  ]

পার থিওরেমের প্রেমে পড়তে চায়নি। ওইটা ছিল একটা দুর্ঘটনা এবং প্রেমে পড়ার জন্য এরচেয়ে খারাপ আর কাউকে সে খুঁজে পায়নি। উল্লেখ্য, সেই মেয়ে সুইজারল্যান্ডে থাকত। তার বয়স ২৩ এবং পার’র মাত্র সতের। মেয়েটার আগেও একটা সম্পর্ক ছিল — এবং, সেটা ইলেকট্রনের সঙ্গে, যে কিনা ১৯৮০’র শেষ কোঠার সেরা অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের একজন। কিন্তু পার নিজেকে সামলাতে পারেনি। সেই মেয়েে মধ্যে দুর্দমনীয় কিছু একটা ছিল, যদিও তাদের কখনোই দেখা হয়নি। থিওরেম একটু অন্য ধরণের ছিল। এমনিতে স্মার্ট এবং হাসিখুশী, কিন্তু, ইউরোপিয়ান মেয়েদের মতোই অহংকারী।

১৯৮৮ সালে আলটসে তাদের পরিচয় হয়।

থিওরেম কম্পিউটার হ্যাক করত না। তার সেই দরকার ছিল না, কারণ, সে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন একাউন্ট দিয়েই আলটসে ঢুকতে পারত। ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সে প্রথম আলটসের সন্ধান পায়। দুইটা কারণে সেই দিনটা সে মনে রেখেছিল। প্রথমত, আলটসের ক্ষমতা দেখে সে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল — দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের এতোজন মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়! আলটস তার কাছে পুরো নতুন দুনিয়ার মত লেগেছিল। দ্বিতীয় কারণ, ওইদিন তার ইলেকট্রনের সঙ্গে পরিচয় হয়।

ইলেকট্রন থিওরেমকে খুব হাসাতো। তার ব্যাঙ্গাত্বক, চাঁছাছোলা রসবোধ তার মনে খুব লাগত। চিরায়ত সুইস সমাজ তার দমবদ্ধ এবং সংকীর্ণ মনে হত, কিন্তু, ইলেকট্রন যেন তাজা বাতাসের দম নেওয়ার মত একজন। থিওরেম সুইস হলেও সেখানে খাপ খাওয়াতে পারত না। স্কি করতে তার ভাল লাগত না। সে ছিল ছয় ফুট লম্বা। সে কম্পিউটার পছন্দ করত।

অন-লাইনে তাদের যখন পরিচয় হয়, ২১ বছরের থিওরেম তখন সবে যৌবনে পা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সে গণিত নিয়ে দেড় বছর পড়াশোনাও করেছে। কিন্তু, লেখাপড়া ভাল চলছিল না। সত্যি বলতে, তাকে দ্বিতীয় বর্ষ ছেড়ে দিয়ে আবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারেই এক সহপাঠী তাকে আলটসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ইলেকট্রনের সঙ্গে বিচ্ছেদের অল্পকিছুদিনের মধ্যেই সে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপআউট হয়ে যায় এবং কোনো এক সাচিবিক বিদ্যার কোর্সে ভর্তি হয়। এরপর সে কোনো একটা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সেক্রেটারির কাজ নেয়।

থিওরেম এবং ইলেকট্রন আলটসে এক নাগাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলত। জীবন, পরিবার, সিনেমা, হৈ-হল্লা সবকিছু এবং আলটসে বেশীরভাগ মানুষ যে জিনিসটা নিয়ে কথা বলত না — সেই হ্যাকিং নিয়েও কথা হত। আস্তে আস্তে, ইলেকট্রন থিওরেমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার প্রস্তাব দেওয়া সাহস সঞ্চয় করল। সে সানন্দে সায় দিয়েছিল এবং ইলেকট্রন তার লুজানের বাড়িতে কল দিয়েছিল। কথা চলতেই থাকল, চলতেই থাকল, চলতেই থাকল। এরপর দেখা গেল তারা সারাক্ষণ টেলিফোনেই কথা বলছে।

সতের বছর বয়সী ইলকট্রনের আগে কোনো প্রেমিকা ছিল না। রোমান্সের বেলায় তার হাইস্কুলের কোনো মেয়েই তাকে সময় দিত না। তবুও তো, মেধাবী, প্রাণোচ্ছ্বল একজন তরুণী যে কিনা গণিত পড়েছে – তার সঙ্গে ফরাসি উচ্চারণে অন্তরঙ্গভাবে কথা বলছে। সবচেয়ে বড় কথা, সে সত্যিই তাকে পছন্দ করত। তার মুখের সামান্য কিছু কথাতেই মেয়েটা যেন হেসে গড়িয়ে পড়ত।

ফোনের বিল এলো ১০০০ ডলার। ইলেকট্রন সবার অজান্তে সেটা সংগ্রহ করেছিল এবং শোবার ঘরের ড্রয়ারের শেষ তাকে লুকিয়ে রেখেছিল।

থিওরেমকে বললে সে ইলেকট্রনকে বিল দিতে সাহায্য করার প্রস্তাব করল। কয়েকদিনের মধ্যেই ৭০০ ডলারের একটা চেক চলে এলো। এতে বাপের কাছে টেলিকম’র রিমাইন্ডার নোটিশের কারণ ব্যাখ্যা করা সহজ হল।

সেই রোমান্টিক সম্পর্কটা ১৯৮৭’র পুরোটা এবং ১৯৮৮’র অর্ধেক বছর ধরে চলল। ইলেকট্রন এবং থিওরেম চিঠি লিখত এবং ১৬০০ কিলোমিটার পেরিয়েও কম্পিউটার নেটওয়ার্কে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা চলছিল, কিন্তু একসময় লং-ডিসটেন্স সম্পর্কে ফাটল দেখা দিল। মানে যখন তার পেঙ্গুর সাথে বেশ কয়েকমাস ধরে সম্পর্ক চলছিল। পেঙ্গু একজন প্রতিথযশা জার্মান হ্যাকার যার জার্মান হ্যাকিং গ্রুপ ক্যঅওস কম্পিউটার ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। সে ইলেকট্রনের একজন বন্ধু এবং গুরুও ছিল। থিওরেমের থেকে পেঙ্গুর দূরত্ব ছিল সামান্য সময়ের একটা ট্রেন জার্নির ব্যাপার। আলটসে তার পেঙ্গুর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং মাঝেসাঝে তারাও দেখাও করত। সেখান থেকেই সবকিছুর সূচনা।

থিওরেম ইলেকট্রনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপার সৎ থাকলেও কোথায় যেন একটা অব্যক্ত কথা ছিল, একটা লুকাছাপা ছিল। সম্পর্কটা শেষ হওয়ার পরেও, থিওরেম পেঙ্গুর সঙ্গে ভাল ব্যবহারই করত, যেমনটা প্রতিটা মেয়েই হাজারজনের সঙ্গে শোবার পরেও তার প্রথম প্রেমের প্রতি দুর্বল থাকে সেরকম।

এতে ইলেকট্রন দুঃখ পেল এবং রেগে গেল, কিন্তু সে তার দম্ভকে দমন করে থিওরেমকে অবলীলায় মাফ করে দিল। কালক্রমে, পেঙ্গুও দৃশ্য থেকে বিদায় নিল।