ডেফকন ছিল তার সময়ের একটা বৈপ্লবিক জিনিস এবং একে নতুন করে তৈরি করাও ছিল শক্ত কাজ। একে প্রাইম কম্পিউটারে চালানোর উপযোগী করে লেখা হয়েছিল এবং প্রাইমে কিভাবে প্রোগ্রাম লিখতে হয় সেই জ্ঞান বেশীরভাগ হ্যাকারেরই ছিল না। বস্তুত, বড় বড় কমার্শিয়াল মেশিনগুলোর জন্য যেকোন ধরণের প্রোগ্রামিং শেখাই যেকোন হ্যাকারের পক্ষে একটা কঠিন কাজ ছিল। সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নির্দেশিকাগুলো যোগাড় করা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার এবং বেশীরভাগ বড় বড় কোম্পানিই তাদের নির্দেশিকাগুলো ট্রেড সিক্রেটের মতোই আগলে রাখত। আপনি যদি ১,০০,০০০ ডলার মূল্যের কোনো মেশিন কিনতেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই কোম্পানি আপনাকে কিছু অপারেটিং ম্যানুয়াল দিত, কিন্তু সেগুলোও টিনেজ হ্যাকারদের হাতের নাগালে থাকত না। মোদ্দাকথা, কম্পিউটার প্রস্তুতকারণ, সিস্টেমের ক্রেতা বড় বড় কোম্পানি, সিস্টেমের এডমিনিস্ট্রেটররা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তথ্য কুক্ষিগত করে রাখত।

অন-লাইনে শেখার প্রক্রিয়াটা ছিল ধীর এবং যথেষ্ট কঠিন। বেশীরভাগ হ্যাকারই ৩০০ অথবা ১২০০ বডের মডেম ব্যবহার করত। নীতিগতভাবে এইসব বড় বড়, দামী মেশিনগুলোতে ঢোকা ছিল অবৈধ ব্যাপার। এক মুহূর্ত অন-লাইনে ঘুরে বেড়ানোও চরম বিপদজনক কাজ ছিল। এই ধরণের দামী মেশিন হাই স্কুলগুলোতেও ছিল না। যদিও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিস্টেম ছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য সময় দিতে এডমিনিস্ট্রেটরা কার্পন্য করত। শুধুমাত্র দ্বিতীয় বর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সময়ই তারা বড় কোনো মেশিনের একাউন্ট পেত। এমনকি তখনো, বেছে বেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরোনো, ধ্বজভঙ্গ মেশিনগুলোতেই শিক্ষার্থীদের একাউন্টের ব্যবস্থা করা হত। আর যদি কেউ কম্পিউটার-সায়েন্সের শিক্ষার্থী না হত, তাহলে সেই আশাটুকুও ছেড়ে দিতে হত। ভিএমএস সিস্টেম নিয়ে আপনার যাবতীয় আগ্রহের সবই দিবাস্বপ্নের গন্ডী আর পেরোতে পারত না।

বাধাবিপত্তি কোনোমতে ডিঙিয়ে এবং ভিএমএস সিস্টেমের প্রোগ্রামিঙের কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেও, বলতে গেলে, যেকোনো নেটওয়ার্কের সামান্যসংখ্যক মেশিনেই ঢোকা সম্ভব হত। এক্স.২৫ নেটওয়ার্কগুলো যে বিরাট সংখ্যক মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল সেগুলো বিভিন্ন ধরণের অপারেটিং সিস্টেমে চলত। অনেকগুলোতে, যেমন প্রাইম, ঢোকার কথা তো চিন্তাই করা যেত না। কাজেই, ভিএমএস শিখলেন আর সাথে সাথে প্রাইম মেশিনে আক্রমণ করলেন, নাহ, ব্যাপারটা মোটেও ততোটা সহজ ছিল না।

এজন্য, অবশ্যই, আপনাকে দ্য রেল্ম এর মত হ্যাকারদের ক্ল্যানের সদস্য হতে হবে। তখন আপনি বিবিএসে কল দিয়ে সাহায্যের জন্য পোস্ট করতে পারেন। ‘হাই, আমি দারুণ একটা প্রিমোস সিস্টেমের খোঁজ পেয়েছি। কিন্তু নেটলিংক কমান্ডের প্যারামিটারগুলো বের করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছি। কেউ কোনো বুদ্ধি দিতে পারেন?’ তাহলেই আপনার টিমের কেউ একজন হয়তো সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে।

দ্য রেল্মে, ফোর্স অস্ট্রেলিয়ার সেরা হ্যাকার, যাদের বিভিন্ন ধরণের দক্ষতা ছিল তাদের জড়ো করতে চেয়েছিল। আর প্রাইম কম্পিউটারের ওস্তাদ হিসেবে সে তো সবসময় ছিলোই।

অবশ্য ফোর্স দ্য রেল্ম’র বাইরে অন্যকাউকে ডেফকন না দিলেও, অবিবেচক ছিল না। যদি কেউ তার দলের লোক নাও হত, কিন্তু, ইন্টারেস্টিং কোনো নেটওয়ার্কের সন্ধান পেতো, তাহলে তার ফরমায়েশে স্ক্যান করে দিত। ফোর্স স্ক্যান করা নেটওয়ার্ক ইউজার এড্রেসগুলোকে ‘এনইউএ স্প্রিন্টস’ বলে ডাকত। এই ধরণের এনইউএ স্প্রিন্টের কপি সে ফরমায়েশদাতাকে দিত। আর দ্য রেল্মের জন্যও এক কপি রেখে দিত। বেশ কার্যকরী উপায়। ফোর্স’র প্রিয় কাজ হল দ্য রেল্মের জন্য সিস্টেম এবং নেটওয়ার্কের ডাটাবেজ তৈরি করা। কাজেই সে সেই ডাটাবেজে নতুন তথ্যগুলো যুক্ত করে দিত।

নতুন নেটওয়ার্ক ম্যাপ করা ছিল ফোর্সের নেশা। আর অসংখ্য মিনি-নেটওয়ার্ক প্রতিনিয়ত এক্স.২৫ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হত। বিএইচপি’র মত বড় বড় কর্পোরেশনগুলো কখনো কখনো তাদের নিজেদের ছোটখাট নেটওয়ার্ক তৈরি করত। সেগুলো হয়তো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড, ভিক্টোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যে তাদের অফিসগুলোকে সংযুক্ত করত। এই মিনি-নেটওয়ার্কগুলো কখনো কখনো অস্টপ্যাকের মত নির্দিষ্ট কিছু এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকত। কাজেই, অস্টপ্যাকে ঢুকতে পারলেই যেকোন কোম্পানির সাইটে ঢোকার সম্ভাবনাও বেড়ে যেত।

এই ধরণের আনচার্টেড নেটওয়ার্কে ঘুরে ঘুরেই ফোর্সের বেশীরভাগ সময় খরচ হয়ে যেত। নতুন নেটওয়ার্ক খোঁজা এবং সেগুলো জোড়াতালি দিয়ে বড়সড় অন্তর্জালিক সম্পর্কের ছবি তৈরি করার মধ্যে সত্যিকার একটা রোমাঞ্চ এবং অভিনব কাজ করার মজা পাওয়া যেত। সে বিশদ ছবি এবং ডায়াগ্রাম আঁকিয়ে দেখাতে পারত কেমন করে নতুন আবিষ্কৃত নেটওয়ার্ক অন্য নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এইসব কোনোভাবে তার ইন্দ্রীয়গুলোকে দারুণ নাড়া দিত অথবা কে জানে সে জন্মগতভাবেই রোমাঞ্চপ্রিয় ছিল কিনা। তার অদম্য স্পৃহার উৎস যাই হোক, এই ম্যাপগুলো দ্য রেল্মের মহামূল্যবান সম্পদ হিসেবেই সমাদৃত হত।

নেটওয়ার্ক ম্যাপিং যখন বন্ধ থাকত, ফোর্স তখন অস্ট্রেলিয়ার আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রথম হ্যাকিং পত্রিকা, গ্লোবট্রটার প্রকাশ করত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুলপঠিত, গ্লোবট্রটার আন্ডারগ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের প্রতিপত্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু সেইসময়, গ্লোবট্রটারের কোনো কপি পাওয়ার অথবা ফোর্সকে কোনো নেটওয়ার্ক স্ক্যান করানোর চিন্তাও পার’র ছিল না। সে শুধু ওই গোপন বিষয়টার কথাই ভাবছিল। ফোর্স’র নতুন গোপন জিনিস। যে গোপন জিনিস পারমাস্টারের চাই-ই চাই।

ফোর্স আলটসে পার’র সঙ্গে গল্প করতে করতে ডেফকন দিয়ে আধা ডজন নেটওয়ার্ক স্ক্যান করছিল। স্ক্যান করতে করতে সে একটা অন্যরকম কানেকশনের সন্ধান পেল। কাজেই সে কথা ফেলে সেটাকে ঘেঁটে দেখতে গেল। অচেনা সেই কম্পিউটারে কানেক্ট করার পর ফোর্সের মেশিনে অনেকগুলো সংখ্যা গুলির মত উড়ে উড়ে আসতে লাগল। ফোর্স ডেস্কে বসে বসে স্ক্রিনে বিভিন্ন অক্ষরের দৌড়াদৌড়ি দেখতে লাগল।

উদ্ভট ঘটনা। সে তো কিছুই করেনি। রহস্যময় এই কম্পিউটারকে সে কোনো কমান্ডও দেয়নি। মেশিনটায় ঢোকার সামান্যতম চেষ্টাও করেনি। তবুও সেটা অসংখ্য সংখ্যা ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছে। এইটা আবার কী ধরণের কম্পিউটার? স্ক্রিনে সবসময় একটা হেডার থাকে যেটা দেখে কম্পিউটারকে সনাক্ত করা যায়, কিন্তু অপ্রত্যাশিত ডাটা ডাম্প হয়ে সেটা এতো দ্রুত চলে গেছে যে ফোর্স লক্ষ্য করতে পারেনি।

ফোর্স আবার আলটসে পার’র সঙ্গে চ্যাটিঙে ফিরে গেল। সে পারকে পুরোপুরি বিশ্বাস করত না, ভাবত তার আমেরিকান বন্ধুটি একটু বেশীই স্রোতে গা ভাসায়। কিন্তু পার ছিল এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের ওস্তাদ এবং তার কাছে এইরকম নম্বরের কিছু একটা ব্যাখ্যা থাকতে বাধ্য। তাছাড়া, তারা যদি শেষমেশ কোনো স্পর্শকাতর বিষয় খুঁজেই পায়, সেক্ষেত্রে সেগুলো সে কোথায় পেয়েছে পার’র কাছে সেই ব্যাখ্যা না করলেই হল।

‘আমি একটা উদ্ভট ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি। সে এক অদ্ভুত সিস্টেম। আমি যেইমাত্র কানেক্ট করলাম, আমার দিকে সংখ্যার গুলি ছুঁড়তে লাগল। এই দেখো।’

ফোর্স জানতো না নম্বরগুলো আসলে কিসের, কিন্তু, পার নিশ্চিতভাবেই জানত। ‘ওইগুলো মনে হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডের নম্বর,’ পার লিখে পাঠাল।

‘ওহ।’ বলেই ফোর্স চুপ হয়ে গেল।

পার ভাবল বাচাল অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকার বোধহয় আশ্চর্য হয়ে গেছে। সামান্য বিরতি দিয়ে, এবার কৌতুহলী পার নিজেই কথা পাড়ল, ‘আমার কাছে বুদ্ধি আছে। আমি যাচাই করতে দেখতে পারব ওগুলো সঠিক কিনা। কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু, আমার ধারণা আমি পারব। আমি তোমাকে জানাচ্ছি, থামো।’

‘আচ্ছা।’ ফোর্স বিব্রত গলায় বলল।

‘ওকে।’

প্রশান্ত মহাসাগরের ওপার থেকে, ফোর্স ঘটনার তাৎপর্য বোঝার চেষ্টা করল। সেগুলো যদি সঠিক ক্রেডিট কার্ড নম্বর হয়ে থাকে, তাহলে তো জবর ব্যাপার। এর কারণ এই না যে, সেও ইভান ট্রটস্কির মত ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করতে চাইত। কারণ হল, ফোর্স তাহলে লং-ডিসট্যান্স ফোনকল করার কাজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে। আর সংখ্যাগুলোর পরিমাণও চোখ ধাঁধাঁনো। হাজার হাজার সংখ্যা। হয়তো ১০,০০০ হবে। তার মাথাতে একটাই ভাবনা ছিল, আরেব্বাস! তারমানে সারাজীবন ধরে মাগনায় কানেকশন পাওয়া যাবে।

ফোর্সের ঘরানার হ্যাকারদের কাছে কার্ড ব্যবহার করে বিদেশী কম্পিউটারে কল করা একটু অরুচিকর ব্যাপার হলেও, গ্রহণযোগ্য ছিল। কার্ডের মালিককে অবশ্য বিল দিতে দিতে ফতুর হয়ে যেতে হবে। The hackers figured that Telecom, which they despised, would probably have to wear the cost in

the end, and that was fine by them.(হ্যাকাররা হিসাব করে দেখল, তাদের সবচেয়ে বিতৃষ্ণার জিনিস, টেলিকম শেষ পর্যন্ত যতো টাকা চাইবে……..)[1] [2]  কার্ড ব্যবহার করে হ্যাক করা তো জিনিসপত্র অর্ডার করার মতোই ব্যাপার। এইটা সত্যিকার ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। এবং, ফোর্স কখনো এই ধরণের কাজ করে হাত নোংরা করবে না।

তাই, ফোর্স ওইসব নম্বরের মামলা থেকে সড়ে আসতে চাইল। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখা গেল, আপাতদৃষ্টিতে পর্যায়ক্রমে সাজানো কিছু হেডারের লিস্ট আছে। তাদের একটার নাম, ‘সিটিসৌদি’।

সে রহস্যজনক মেশিনটার ঠিকানার প্রেফিক্স আবারও পরীক্ষা করে দেখল। আগের স্ক্যানগুলো থেকে জানা গিয়েছিল যে ওটা হল পৃথিবীর অন্যতম বড় একটা ব্যাংকের ঠিকানা। সিটিব্যাংক।

তিন ঘন্টা ধরে ডাটা ডাম্প চলতে লাগল। এরপর, সিটিব্যাংকের মেশিনটা মনে হল যেন নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। একটা ফাঁকা স্ক্রিন ছাড়া আর কিছু রইল না, কিন্তু, তবুও সে কানেকশনটা খোলা রাখল। এই পর্যায় থেকে আর ফিরে আসার উপায় নাই। সে ভাবল এটা নিশ্চয়ই কোনো পাগলা কানেকশন হবে — ভুল করেই হয়ত তাকে সংযুক্ত করে ফেলেছে। কারণ, ডেফকন দিয়ে সিটিব্যাংকের যেসমস্ত নেটওয়ার্কে সে ঢোকার চেষ্টা সে করেছিল এটা সেই এড্রেস নয়।

এছাড়া আর কী হতে পারে? সিটিব্যাংক নিশ্চয়ই এমন কোনো কম্পিউটারে ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বোঝাই করে রাখবে না যেখানে যেকেউ রিং করে ‘হ্যালো’ বলতে পারে? এইরকম মেশিনের তো টনকে টন নিরাপত্তা বলয় থাকার কথা। কিন্তু এই মেশিনের তো একটা পাসওয়ার্ড পর্যন্ত নাই। এমনকি এতে কোনো বিশেষ শব্দের কমান্ডও লাগে না।

এক্স.২৫ নেটওয়ার্কে পাগলা কানেকশনের ঘটনা আকছারই ঘটে। ভুল নম্বরে কল করার মতোই নৈমিত্তিক ঘটনা এটা। কোনো বন্ধুর নম্বরে ফোন করলেন — সঠিক নম্বরই আপনি দিলেন — কিন্তু তার আর এক্সচেঞ্জের দঙ্গলে প্যাঁচ লেগে আপনার কলটা অন্য একটা নম্বরে চলে গেল। অবশ্য, কোনো এক্স.২৫ হ্যাকারের ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটলে সে সবার প্রথমে বোঝার চেষ্টা করত ঘটনাটা কী ঘটল। মেশিনের আসল ঠিকানা জানার জন্য সে মেশিনের সব ধরণের উপাত্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে দেখত। এরকম ঘটনা যেহেতু দৈবাৎ ঘটে, তাই তাদের ধারণা, ছেড়ে দিলে আর কোনোদিন এই মেশিনের দেখা পাবে না।

কানেকশনটা জিইয়ে রাখতে আর ওই কম্পিউটারে সে কিভাবে পৌঁছাল সেই হিসাব মেলাতে ফোর্স দুইদিন স্কুলে না গিয়ে ঘরেই কাটালো। এই সময়ের মধ্যে সিটিব্যাংকের কম্পিউটার কয়েকবার চালু হল, আরও কিছু তথ্য ডাম্প করল এবং তারপর যথারীতি বন্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘ সময় ধরে কানেকশন জিইয়ে রাখার মানেই হল লঞ্চ পয়েন্টের এডমিনের নজরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা। কিন্তু, সেই ঝুঁকি সম্ভাব্য প্রাপ্তির তুলনায় কিছুই না।

হ্যাকিঙের জন্য স্কুল কামাই দেওয়ার ঘটনা ফোর্সের জন্য নতুন নয়। তার বাপ-মা তাকে প্রায়ই বলত, ‘তুই বরং এসব ছেড়ে দে, নয়তো একদিন বুড়ো হয়ে যাবি তাও স্কুল শেষ হবে না।’ অবশ্য, তারা যে খুব বেশী চিন্তিত ছিল তাও নয়, কারণ, পুত্র তাদের কম পরিশ্রম করেও বরাবরই ভাল করত। সেকেন্ডারি স্কুল শুরু করার সময় সে তাদের শিক্ষকদের বোঝাতে চেষ্টা করেছিল যে, তার ক্লাস নাইনে পড়ার দরকার নাই। কেউ কেউ তাতে সায় দেয় নাই। অনেক ঝামেলা পেরিয়ে, ক্লাস এইটে থাকতেই নাইনের পড়া সব শেষ করে শেষপর্যন্ত সে সেটা বুঝাতে পেরেছিল।

সিটিসৌদি থেকে শেষমেশ ডিসকানেক্ট করে একটা আরামের ঘুম দিয়ে উঠে সে ঠিক করল মেশিনটায় আবার ঢোকা যায় কিনা চেষ্টা করে দেখবে। প্রথমবারের চেষ্টায় কোনো উত্তর পাওয়া গেল না, কিন্তু একটুপরে যখন আবার চেষ্টা করল, কেউ একজন যেন বলল অল রাইট। এবং বারবার সেই বাচাল লোকটাই ধরতে লাগল। যদিও মনে হচ্ছিল যেন কিছু নির্দিষ্ট সময়েই লাইনটা সক্রিয় থাকত, তবে ঠিকানাটা সত্যিই সিটিব্যাংকেরই। সে আবার ঢুকে পড়ল।

ফোর্স সিটিব্যাংক হ্যাকের জিনিসপত্র পরীক্ষা করতে বসে দেখল সর্বশেষ ডাটা ডাম্পিঙে অন্য সময়ের মত কোনো ক্রেডিট কার্ডের নম্বর নাই। এবার মানুষের নাম পাওয়া গেল — মধ্যপ্রাচ্যের নাম — এবং সাথে লেনদেনের তালিকাও। রেস্টুরেন্টে খাওয়ার বিল। বেশ্যাপাড়ায় যাওয়ার বিল। সব ধরণের লেনদেন। কিছু কিছু নম্বর দেখে ক্রেডিট কার্ড লিমিট গোছের বলে মনে হল। কখনো কখনো একজন মানুষেরই অনেক বড় অংকের ক্রেডিট লিমিট পাওয়া গেল। একজন শেখ এবং তার স্ত্রীর দুজনেরই আলাদা করে ক্রেডিট লিমিট ছিল সম্ভবত ১ মিলিয়ন ডলার। আরেকজনের ছিল ৫ মিলিয়ন ডলার।