চ্যাপ্টারদ্য আমেরিকান কানেকশন [মার্কিনী যোগসাজোশ?]

[US Forces give the nid

It’s a setback for your country]

— XXXXXXXXX

ফোর্সের কাছে একটা গোপন জিনিস ছিল। আর, দ্য পারমাস্টারের সেটা চাই।

হ্যাকারদের অভ্যাসমত, দ্য পারমাস্টারও দরকারেই সেই রহস্যের পিছনে ছুটছিল, শুধু শুধু নয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য যেকোনকিছু করার যে একরোখা মানসিকতা সত্যিকার হ্যাকারদের মধ্যে দেখা যায় সেরকম রোখ তারও চেপেছিল। সে বিষয়টার মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

অবশ্য, এমন মুখরোচক তথ্যের পেছনে পারমাস্টারের এই প্রথম ছোটা নয়। এই ধরণের মোহগ্রস্ততার ব্যাপারে সে এবং ফোর্স উভয়ে ভালোমতোই ওয়াকিবহাল। সত্যিকার হ্যাকারদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবলভাবে দেখা যায়। তারা শুধু আন্দাজে হাতড়েই বেড়ায় না। একবার যদি কোনো সিস্টেমে ঢোকার গোপন রাস্তার সন্ধান পেয়েই যায়, নিরলসভাবে সেটার পিছনে ছুটতে থাকে। আর পারও একদম এই কাজটাই করছিল। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা না পাওয়া পর্যন্ত ফোর্সের পিছনে একাগ্রচিত্তে লেগে ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৮ সালের প্রথম ভাগে, আন্ডারগ্রাউন্ডের দুই মহপরাক্রমশালী হ্যাকারের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা চলার সময়। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত হ্যাকার এবং মেলবোর্নের এক্সক্লুসিভ বিবিএস দ্য রেল্ম’র মালিক, ফোর্স, জার্মানির এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের আমেরিকান ওস্তাদ পার’র সঙ্গে একদিন আলাপ করছিল। তাদের কেউই স্বশরীরে জার্মানিতে না থাকলে কি হবে, আলটস তো ছিল।

হামবুর্গের আলটস কম্পিউটার সিস্টেমসের একটা মেশিনে আলটস চ্যাট নামের একটা কনফারেন্স সুবিধা ছিল। এক্স.২৫ ডাটা কমুনিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এতে যেকোন জায়গা থেকে কল করা যেত। কল করলে কোম্পানির কম্পিউটার একটা সংযোগ চালু করে দিত। কয়েকটা বোতাম চেপে একবার সংযুক্ত হলে, সেই জার্মান মেশিন অন-লাইনে থাকা অন্যকারও সঙ্গে একটা রিয়াল-টাইম, অন-স্ক্রিন কথা চালাচালির সেশনে নিয়ে ছেড়ে দিত। কোম্পানির অন্যান্য কম্পিউটারগুলো যখন প্রতিদিনকার কাজে খেটে মরতো, মেশিনের এই অংশটাকে লাইভ অন-লাইন চ্যাটিঙের জন্য সংরক্ষণ করা হত। একদম বিনামূল্যে। এটা ছিল ইন্টারনেট রিলে চ্যাটের আদিরূপ। কোম্পানি একে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী হ্যাকারদের মিলনমেলা বানাতে না চাইলেও, ঘটনাটা শেষপর্যন্ত সেরকমই দাঁড়িয়েছিল।

আলটসকে প্রথম সার্থক আন্তর্জাতিক লাইভ চ্যাট চ্যানেল আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। হ্যাকারদের কাছে সে এক আশ্চর্য জায়গা। সারা দুনিয়ার বিভিন্ন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ঘুরে ভালো ভালো হ্যাকাররা এখানে আসতেন। তারা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতেন এবং চলতি বিষয় নিয়ে গল্পগুজব করতেন। কখনো কখনো মেসেজ পোস্ট করতে তারা বিদেশের বিবিএসগুলোতেও লগইন করতেন। কিন্তু, আলটস ছিল সেসব থেকে একদম অন্যরকম একটা জায়গা। অন্যান্য বিবিএসগুলোর হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল, কিন্তু, আলটসের তা ছিল না। আলটস ছিল সরগরম। সেখানে ছিল বিভিন্ন দেশের অসংখ্য হ্যাকারদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুবিধা। ইতালি। কানাডা। ফ্রান্স। ইংল্যান্ড। ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র। আর তারা সবাই শুধুমাত্র কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নিয়েই আগ্রহী ছিলেন না, সেইসাথে, যাবতীয় কর্তৃত্ববাদের প্রতিও তাদের ছিল গভীর অশ্রদ্ধা। যাকে বলে সোনায় সোহাগা, ইন্সট্যান্ট, রিয়াল-টাইম কলমবন্ধু, যাদের আবার আলাদা এটিচুডও আছে।

যাহোক, আলটস আন্ডারগ্রাউন্ড বিবিএস’র চেয়েও বেশী আকর্ষণীয় জায়গা ছিল। তবে, এক্স.২৫ নেটওয়ার্ক বিলের পদ্ধতির কারণে উঠতি হ্যাকারদের পক্ষে সেখানে পৌঁছানো একটু কঠিন ব্যাপারই ছিল। কোনো কোনো সিস্টেম রিভার্স-চার্জ কানেকশন গ্রহণ করত — যেমন: ১-৮০০ নম্বর — আবার কোনো কোনটা, যেমন: আলটস, তা করত না। তাই আলটসে সংযুক্ত হতে হলে দরকার হত কোনো কোম্পানির নেটওয়ার্ক ইউজার আইডেন্টিফায়ার। এগুলো অনেকটা কলিং কার্ডের নম্বরের মত, এক্স.২৫ নেটওয়ার্কে অন-লাইনের বিল দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হত। অথবা, থাকতে হত মিনার্ভা’র মত এমন কোনো সিস্টেমে প্রবেশাধিকার, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব কানেকশনের ব্যয় বহন করে।

অপেক্ষাকৃত পরের উদ্ভাবন হওয়ায় অনেকদিক থেকেই এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইন্টারনেটের পার্থক্য ছিল। এক্স.২৫ নেটওয়ার্ক ভিন্ন ধরণের কমুনিকেশন প্রটোকল ব্যবহার করত। ইউজার-লেভেলে ইন্টারনেটের মত অক্ষর ব্যবহার না করে সংখ্যা ব্যবহার করত। ডাটা নেটওয়ার্কে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটা তথ্য-প্যাকেটকে বিশেষ ধরণের খামে ভরতে হত। তাই, বলা যায়, এক্স.২৫ নেটওয়ার্ক দিয়ে কোনো ‘চিঠি’ পাঠাতে হলে এক্স.২৫ এর ‘টিকিট লাগানো’ খামই লাগত, ইন্টারনেটের ‘টিকিট লাগানো’ খাম হলে চলত না।

টেলনেট এবং টাইমনেট’র মত গুটিকয়েক রাঘব বোয়ালদের হাতে এক্স.২৫ নেটওয়ার্কগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। অপরদিকে, আধুনিক ইন্টারনেট ছিল ছোট-বড়-মাঝারি অসংখ্য সাইটের সমষ্টি।

আলটস যেভাবে আন্তর্জাতিক হ্যাকিং দুনিয়াকে এক পাটাতনে নিয়ে আসতে পেরেছিল তেমন করে আর কেউ পারেনি। নিজ দেশের কম্পিউটারের তথ্য এবং নেটওয়ার্ক শেয়ার করার ব্যাপারে হ্যাকাররা যদ্দুর পারত একে  অপরকে সাহায্য করত। আলটসে অস্ট্রেলিয়ানরা বেশ সুনাম কুড়িয়েছিল। তারা তাদের কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানত। সবচেয়ে বড়কথা, ডেফকন তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ডেফকন হল একটা প্রোগ্রাম যেটা আলিপিবদ্ধ নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করে সেখানকার সিস্টেমগুলোর একাউন্ট খুঁজে বের করার চেষ্টা করত। ফোর্স তার বন্ধু এবং গুরু, ক্রেইগ বাওয়েনের (থান্ডারবার্ড১) দেওয়া একটা সিম্পল অটোম্যাটিক স্ক্যানিং প্রোগ্রামের উপর ভিত্তি করে ডেফকন বানিয়েছিল।

টেলিফোন সিস্টেমের মতোই, এক্স.২৫ নেটওয়ার্কগুলোতেও বিপুল পরিমাণ ‘ফোন নম্বর’ থাকত, যেগুলোকে বলা হত নেটওয়ার্ক ইউজার এড্রেসেস (এইইউএএস)। অবশ্য বেশীরভাগই অব্যবহৃত। সেগুলো তখনো কাউকে দেওয়া হয়নি, তাই। এসব নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোতে অনুপ্রবেশের জন্য সবার প্রথমে ওই নম্বরগুলো জানা চাই। এর মানে হল, হয় বন্ধু হ্যাকারদের কাছ থেকে সেগুলো সংগ্রহ করতে হবে অথবা স্ক্যান করে বের করতে হবে। খড়ের গাদার মধ্য সুঁচ খোঁজার চেয়েও জঘন্য কাজ হল সম্ভাব্য ঠিকানা স্ক্যান করে উদঘাটন করা। ০২৬৪-৫৮৯০০৪-০০০৪. তারপর শেষের ডিজিটটা একে একে বাড়াতে থাকো। ০০০৫, ০০০৬, ০০০৭। যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো মেশিনের নম্বরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে ততক্ষণ চালিয়ে যাও।

১৯৮৭’র শেষে অথবা ১৯৮৮’র শুরুতে কোনো এক সময়, ফোর্স ক্রেইগ বাওয়েনের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্যাসিফিক আইল্যান্ডে লগইন করেছিল। ফোর্স আক্ষেপ করে হাতে স্ক্যান করার বিড়ম্বনার কথা বলছিল।

‘আচ্ছা, কাজটা ম্যানুয়ালি করছ কোন দুঃখে?’ বাওয়েন জবাব দিল। ‘তোমরা আমার প্রোগ্রামটা ব্যবহার করলেই তো পারো।’ এই বলে সে ফোর্সকে তার সিম্পল অটোমেটেড স্ক্যানিং প্রোগ্রামের সোর্স কোড নির্দেশনাসমেত দিয়ে দিল।

প্রোগ্রামটায় চোখ বুলিয়েই ফোর্স বুঝল এটা একটা কাজের জিনিস। কিন্তু, এর একটা বড় সীমাবদ্ধতা আছে।  প্রোগ্রামটা একসাথে শুধুমাত্র একটা কানেকশন সামলাতে পারে। তার মানে হল, সেটা নেটওয়ার্কের শুধুমাত্র একাংশ একবারে স্ক্যান করতে পারে।

তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, ফোর্স বাওয়েনের প্রোগ্রামটা নতুন করে লিখে সেটাকে আরও অনেক বেশী শক্তিশালী করে ডেফকনের সূচনা করল। এই প্রোগ্রাম অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের সুনামের মুকুটে আরও একটা রত্ন যুক্ত করল। ডেফকন দিয়ে, একজন হ্যাকার একইসাথে পনের থেকে বিশটা নেটওয়ার্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করতে পারত। যেমন: কম্পিউটারকে একইসাথে বেলজিয়ান, ব্রিটিশ এবং গ্রীক এক্স.২৫ কমুনিকেশন নেটওয়ার্কগুলো খুঁজে বের করার কমান্ড দেওয়াও সম্ভব ছিল। এর ফলে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত কম্পিউটারগুলোকে খোঁজা বাগান থেকে ফুল তোলার মত সহজ কাজ হয়ে গিয়েছিল।

তত্ত্বীয়ভাবে, পার্থক্যটা সামান্যই। যেমন, সাধারণ পিসিতে একসাথে একটা প্রোগ্রামের বেশী চালানো যায় না কিন্তু শক্তিশালী মেশিনে একাধিক প্রোগ্রামের উইন্ডো একসাথে খোলা যায়। আপনি হয়তো একটা উইন্ডোতে কাজ করবেন, ধরা যাক, একটা চিঠি লিখবেন, কিন্তু, এক্ষেত্রে কম্পিউটার অন্য একটা উইন্ডোতে, হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ডে স্প্রেডিশিটে হিসাব নিকাষের কাজও করতে পারবে। আপনি চাইলে এই দুটি প্রোগ্রামের মধ্যে অদলবদলও করতে পারবেন যেকোন সময়। তখন অপর প্রোগ্রামটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকবে।

তেমনিভাবে, ডেফকন যখন স্ক্যান করায় ব্যস্ত থাকত, ফোর্স তখন অন্যান্য কাজও করতে পারত, যেমন: আলটসে কথা বলা। সে ডেফকনের আরও উন্নয়ন করার কাজ অব্যাহত রাখল, প্রোগ্রামটার চারটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ সে বানিয়েছিল। এরপরে, ডেফকন শুধুমাত্র একসাথে বিশটা কানেকশনই স্ক্যান করতে পারত না; সে ওইসব কানেকশনে যতোগুলো কম্পিউটার খুঁজে পেত সেগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুপ্রবেশেরও চেষ্টা করতে পারত। যদিও প্রোগ্রামটা শুধুমাত্র সাধারণ ডিফল্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করত, তবুও, একসাথে অনেকগুলো কম্পিউটারে আক্রমণ করতে পারত বলে তার সাফল্যের হারও ছিল সন্তোষজনক। তাছাড়া, নতুন সাইট এবং মিনি-নেটওয়ার্কগুলো এতো দ্রুত যুক্ত হয়ে যেত যে সেখানে ঢোকার হুড়োহুড়িতে সিকিউরিটি পর্যন্ত বানচাল হয়ে যেত। ঠিকানাগুলো অপ্রকাশিত থাকায়, যেসব কোম্পানি এই ধরণের দুর্বোধ্য সমস্যায় পড়ত তারা আরও বেশী নিরাপত্তা চাইত।

ডেফকন আক্রমণ করার উপযোগী হাজার হাজার কম্পিউটারের লিস্ট তৈরি করেছিল। ফোর্স একটা হ্যাক করা প্রাইম কম্পিউটার ব্যবহার করে স্ক্যান করার কাজটা করত। এভাবে একদিন বা দুইদিনের মধ্যেই সে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ৬০০০ ঠিকানার একটা আউটপুট ফাইল পেয়ে যেত। লিস্টটায় চোখ বুলাতে গিয়ে যেসব ঠিকানা তার নজর কাড়ত সেগুলো বেছে রাখত। যদি কোনো নজরকাড়া ঠিকানা প্রোগ্রামটা সংগ্রহ করতে পারত তাহলে সে এক্স.২৫ নেটওয়ার্ক দিয়ে সেই সাইটে যেত এবং সেই ঠিকানার কম্পিউটারে ঢোকার চেষ্টা করত। কখনো কখনো, ডেফকন হয়তো ডিফল্ট পাসওয়ার্ড নিয়ে সফলভাবে ঢুকেও পড়তো, সেক্ষেত্রে ফোর্সের জন্য একটা লগ ফাইলের মধ্যে ঠিকানা, একাউন্ট নাম, পাসওয়ার্ড সাজানোই থাকত। তখন তার কাজ ছিল শুধু প্রবেশ করা।

আলটসের সবার ডেফকন চাই, কিন্তু ফোর্স প্রোগ্রামটা কারও হাতে ছাড়তে রাজি নয়। অন্য হ্যাকারদের আনকোরা নতুন নেটওয়ার্কগুলোকে ভাঙার কোনো সুযোগ দিতেই সে রাজি নয়। এমনকি আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী হ্যাকিং গ্রুপ, লেজিওন অফ ডুম(এলওডি) এর নেতা এরিক ব্লাডএক্সও ডেফকন চেয়ে পায়নি। এরিক তার হ্যান্ডেলের নাম রেখেছিল একজন ভাইকিং রাজার নামে যে এখনকার ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহরে রাজত্ব করত।  এরিক যদিও অস্ট্রেলিয়ান হ্যাকারদের প্রতি বন্ধুবৎসল আচরণ করত, কিন্তু, তবুও ফোর্স তার সিদ্ধান্তে অটল থাকল। সে তার রত্নটাকে ওই লোকের হাতে তুলে দিবে না।

১৯৮৮’র দিককার এইরকম অস্থির সময়েও পার ডেফকন চায়নি। ফোর্স যে গোপন জিনিসটা সবে আবিষ্কার করে পেটের মধ্যে রেখে দিয়েছিল তার সেই জিনিসটা চাই। এবং, অস্ট্রেলিয়ানরা তাকে সেটা দিতে চায়নি।

ফোর্স খুবই সাবধানী হ্যাকার। অন্যান্য হ্যাকারদের তুলনায় তার শোবার ঘরটা ছিল অত্যন্ত পরিপাটি। একদম ঝাঁ তকতকে।  সামান্য কয়েকটা জিনিসপত্র দিয়ে ঘরটা নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল: কালো এনামেলের লোহার খাট, আধুনিক কালো পাশ-টেবিল এবং দেয়ালে টাঙানো একটামাত্র ছবি – কাঁচের ফ্রেমে বাঁধানো বজ্রপাতের ফটোগ্রাফিক পোস্টার। সবচেয়ে বড় আসবাব বলতে রিটার্নসহ একটা নীলাভ-ধূসর ডেস্ক, যার উপরে কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং একতাড়া প্রিন্ট করা কাগজ রাখা ছিল। বইয়ের আলমারিটা ছিল আধুনিক ডিজাইনের লম্বা, অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে একদম মানানসই। তাতে ফ্যান্টাসি ফিকশন দিয়ে ভর্তি ছিল, আপাতদৃষ্টে মনে হত ডেভিড এডিংসের সবগুলো বই-ই সেখানে আছে। নিচের তাকে ছিল বাছাইকরা কেমিস্ট্রি আর প্রোগ্রামিঙের বই। শেলফে শোভা পাচ্ছিল একটা কেমিস্ট্রি এওয়ার্ড, সাথে ছিল ডাঞ্জিওনস এন্ড ড্রাগন্স সিরিজের কিছু বই।

সে তার হ্যাকিং নোটগুলো প্লাস্টিক ফোল্ডারে তুলে বইয়ের আলমারির একদম নিচের তাকে সাজিয়ে রাখত। পরিপাটি করে প্রিন্ট করা প্রতিটা নোটের চারপাশে ছোট্ট, পরিষ্কার হাতের লেখায় হাল তথ্য, ছোটোখাটো সংশোধনী জুড়ে দেওয়া থাকত। ছাতা পড়া, দাগ লাগা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটারই নিজস্ব প্লাস্টিক কভার ছিল।

ফোর্স ভেবেছিল ডেফকন হাতছাড়া করলে এবং একই নেটওয়ার্কে একসাথে দশজন স্ক্যান করতে শুরু করলে একটা ভজঘট লেগে যাবে। এতে সময় এবং শ্রম দুটোই অপচয় হবে। তাছাড়া, অস্ট্রেলিয়ায় মিনার্ভার মত প্রধান এক্স.২৫ সাইটগুলোতে ঢোকা আজকাল কঠিন হয়ে পড়ছে। আর স্ক্যানিং হল এমন ধরণের কাজ যেখানে সিস্টেম এডমিনের নজরে পড়ার সম্ভাবনা শতভাগ এবং এর অনিবার্য ফল হল একাউন্ট বিনষ্টকরণ। যতো বেশী মানুষ স্ক্যান করতে শুরু করবে, ততো বেশী একাউন্টও বিনষ্ট হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার হ্যাকাাদের প্রবেশাধিকার ততোই কমতে থাকবে। তাই ফোর্স দ্য রেল্ম এর বাইরের কাউকে ডেফকন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই কারণেই ওই গ্রুপটাও শক্তিশালী গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

ডেফকন দিয়ে স্ক্যান করার মানেই হল নেটলিংক ব্যবহার করা। নেটলিংক হল একটা প্রোগ্রাম যেটা বৈধ ব্যবহারকারীরা বিশেষ ব্যবহার করত না। কাজেই, হ্যাকার ধরতে এডমিনরা প্রথমেই খুঁজত, কারা নেটলিংক ব্যবহার করছে অথবা কোন সিস্টেমে ব্যবহারকারী সাধারণত সংযুক্ত হয়ে থাকে। যেমন: যদি কোনো হ্যাকার কোনো অন্তবর্তী বিশ্বাসযোগ্য মেশিন, যেমন: বিদেশী কোনো কর্পোরেট মেশিন, দিয়ে সংযুক্ত না হয়ে সরাসরি মিনার্ভা দিয়ে আলটসে সংযুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ধরে নিতে হবে মিনার্ভা এডমিনরা তার একাউন্ট নষ্ট করে ফেলবে।