নিঃসন্দেহে একটা শক্তিশালী প্রত্যয় এটা। সেই আমলের কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের একজন সদস্যের সামনে ‘টেলিকম’ শব্দটা একবার উচ্চারণ করেই দেখুন, তার কী প্রতিক্রিয়া হয়। তার মুখে সাথে সাথে একটা অবজ্ঞার ভাব ফুটে উঠবে। ক্ষণিক থেমে ঠোঁট বাঁকিয়ে টিটকারির মত মত ভঙ্গী নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলবেন, ‘টেলিস্কাম!’। অস্ট্রেলিয়ার এই সরকারি টেলিফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে তারা যতটা ঘৃণা করতো, এই প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগুলোকে তারা ঠিক ততোটাই ভালোবাসতো। তারা মনে করত টেলিকম একটা মান্ধাতার আমলের প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্মচারীরা জানেও না টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিকে কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল, টেলিকমও যেন বিসিএসগুলোকে প্রকাশ্যে অপছন্দ করতো।

লাইন নয়েজের জন্য মাঝে মাঝে মডেম দিয়ে কথা বলার মাঝে ছেদ পড়ত। কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের চোখে, লাইন নয়েজের জন্য দায়ী হল টেলিকম। কোনো হ্যাকার হয়তো পাইতে একটা বার্তা পড়ছেন, এর মধ্যে কোনো কারিগরি গণ্ডগোলের কারণে এলোমেলো সংখ্যা, যেমন: ‘২’২৮ভ১;ড>নজ৪’ – ভেসে উঠল। ওমনি শুরু হয়ে যেত, ‘লাইন নয়েজ! বালের টেলিস্কাম! এই একটা কাজই তারা ভালো পারে, নাকি?’ কখনো কখনো লাইন নয়েজ এত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করত যে বাধ্য হয়ে হ্যাকারকে লগ অফ করতে হত। এর মানে হল, তাকে আবার ৪৫ মিনিট ধরে বিসিএসে ডায়াল করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আসলে সংযোগে কোনো সমস্যা ছিল না। মডেমের গতি যত বেশী হবে, লাইন নয়েজের প্রভাব ততো কমতে থাকবে – সেটাই স্বাভাবিক। তাই, লাইন নয়েজ শুরু হওয়ার আগেই মেইল পড়া এবং বার্তা পোস্ট করার হুল্লোড় পড়ে যেত।

তবে একটা গুজব বারবার ছড়াতো। সেটা হল, টেলিকম সময়-নির্দিষ্ট স্থানীয় কলব্যবস্থা আনতে যাচ্ছে। আর সেই ক্ষোভে কানে তালা লাগার জোগাড় হল (এই লাইনটা কিন্তু ঠিক এমন না বইতে)। বিসিএস কমুনিটির ধারণা ছিল, মানুষ স্থানীয় কলের পয়সায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিবিএসে লগইন করে থাকায় সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। আরও উদ্ভট যেসব গুজব ছড়িয়েছিল সেগুলোর মধ্যে একটা হল, টেলিকম বিবিএসগুলোকে তাদের ইনকামিং কলের সময়সীমা আধাঘন্টায় বেঁধে দিতে বাধ্য করেছে। এতে আন্ডারগ্রাউন্ডে টেলিকমের আরেকটা নাম জুটলো: টেলিপ্রফিট।

টেলিকমের প্রটেক্টিভ সার্ভিস ইউনিটই ছিল বিবিএস কমুনিটির প্রধান শত্রু। এরা হল ইলেক্ট্রনিক পুলিশ। আন্ডারগ্রাউন্ড, প্রটেক্টিভ সার্ভিসকে ‘দমনকারী প্রতিষ্ঠানের’ চোখে দেখত। এরা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সরকারি বাহিনী, যারা বাড়ি ঘেরাও করতে পারে, ফোনে আড়ি পাততে পারে এবং যেকোনো সময় কম্পিউটারসামগ্রী জব্দ করতে পারে। টেলিকমকে ঘেন্না করার এটাই ছিল আসল কারণ।

টেলিকম নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডের বাসিন্দাদের এতোই ঘৃণা ছিল যে, তারা প্রায়ই তাদের যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে নষ্ট করে দেওয়ার ফন্দিও করত। কেউ কেউ টেলিফোন লাইন দিয়ে ২৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ পাঠানোর চিন্তা করতো – আর এই কাজ করতে পারলে টেলিফোন এক্সচেঞ্জগুলো তাদের কর্মচারী সমেত বিস্ফোরণে উড়ে যেত। টেলিকমে বিদ্যুৎ প্রতিরোধী ফিউজ ছিল, যেসবের কাজ হল লাইনের গণ্ডগোলের সমাধান করা। কিন্তু, জনশ্রুতি ছিল যে, বিবিএস হ্যাকাররা এমন সার্কিট প্ল্যান তৈরি করেছে, যেটা দিয়ে উচ্চ কম্পাঙ্কের ভোল্টেজ পাঠানো সম্ভব। আর, বেচারা গোছের (এই ধরনের শব্দ রাখবেন?) আন্ডারগ্রাউন্ড সদস্যরা ভাবত টেলিফোন এক্সচেঞ্জগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিলে কী মধুর প্রতিশোধই না হবে!

এগুলোর কোনোটাই ফ্রিকিং সংস্কৃতির কারণ নয়। টেলিফোন সিস্টেম হ্যাক করাই হল ফ্রিকিং – এই সংজ্ঞা অত্যন্ত দুর্বল। কেউ কেউ মনে করেন ক্রেডিটকার্ড চুরি করে সেটা দিয়ে মাগনায় লং-ডিসট্যান্স কল করাও একধরনের ফ্রিকিং। পিওরিস্ট ধারার হ্যাকাররা আবার এর সাথে একেবারেই সাথে একমত নন। তারা বলেন, চুরি করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করাকে বরং কার্ডিং বলা যায়, ফ্রিকিং নয়। তাদের যুক্তি হল, ফ্রিকিঙের জন্য ন্যূনতম কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয় এবং টেলিফোন এক্সচেঞ্জে হস্তক্ষেপ করার দরকার পড়ে। আর, এই হস্তক্ষেপ হতে পারে কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট ব্যবহার করে টেলিফোনের বিশেষ টোন উৎপাদন করা, বা, ফোন লাইনের ভোল্টেজের পরিবর্তন করার মাধ্যমে। ফলাফল: বিনামূল্যে, আনট্রেসড কলসুবিধা। পিওরিস্ট ধারার হ্যাকারেরা ফ্রিকিং কে মাগনায় কল করার সুবিধা হিসেবে না দেখে বরং নজরদারী এড়িয়ে কল করার সুবিধা হিসেবেই দেখতে চাইত।

১৯৮৮ সালে ফ্রিকিঙের প্রথম সূত্রপাত। ধীরে ধীরে তা কার্ড জালিয়াতির দিকে মোড় নেয় এবং ছয় মাসের মধ্যে বিকশিত হয়ে ওঠে। পাই এবং জেনের প্রথমদিককার হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক কম্পিউটার সাইটগুলোতে ঘুরে বেড়াতে প্রধানত মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় আর টেলিকমের ক্লেটন অফিসের ডায়াল-আউটের উপরেই নির্ভর করত। সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াতে তারা আমেরিকা, সুইডেন এবং জার্মানি’র মত বিভিন্ন দেশের এক্স.২৫ ডায়াল আউটও ব্যবহার করার ঝুঁকি নিত।

আস্তে আস্তে, এইসব ডায়াল-আউট পরিচালনাকারীদের চোখ ফুটতে লাগল। ডায়াল আউটের আবেদন ফুরিয়ে যেতে থাকল। পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন হতে লাগল। সুবিধাগুলোও তুলে নেওয়া হল। কিন্তু হ্যাকাররা বিদেশী সিস্টেমে ঢোকা বন্ধ করতে চাইল না। তারা একবার যেহেতু  আন্তর্জাতিক কল করার স্বাদ পেয়েছিল, কাজেই তাদের সেই সাধও বেড়ে গিয়েছিল। একটা বিরাট আকর্ষণীয় ইলেক্ট্রনিক দুনিয়া ঐ প্রান্ত থেকে তাদের হাতছানি দিত। তারাও সেখানে যাবার জন্য নানান ধরনের পদ্ধতি খুঁজতে লাগল। এবং, এইভাবেই মেলবোর্ন আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্রিকিঙের দুনিয়ায় প্রবেশ করল।

ফ্রিকাররা মৌমাছির মত পিএবিএক্সগুলোর কাছে ভন-ভন করত। পিএবিএক্স বা প্রাইভেট অটোমেটিক ব্রাঞ্চ এক্সচেঞ্জ, ছোটখাটো টেলিকম এক্সচেঞ্জের মতই। পিএবিএক্স ব্যবহার করে কোনো বড় কোম্পানির কর্মচারী কোম্পানির ভিতরেই অপর কর্মচারীকে বিনা পয়সায় ফোন করতে পারতেন। তাছাড়া, কোনো কর্মচারী যদি শহর থেকে দূরের কোনো হোটেলে থাকেন, কোম্পানি সেক্ষেত্রে হোটেলের লং-ডিসটেন্স কলের বাড়তি বিল এড়ানোর জন্য তাকে তার সব কল কোম্পানির পিবিএক্স ব্যবহার করে করতে বলতে পারতো। যদি ওই কর্মচারী ব্যবসার কাজে ব্রিসবেনে অবস্থান করেন, তাহলে তিনি ব্রিসবেনের কোনো নম্বরে সিডনিতে রাখা কোম্পানির পিএবিএক্সের মাধ্যমে ডায়াল করতে পারতেন। সেখান থেকে তিনি যদি রোম বা লন্ডনেও ডায়াল করেন, সেক্ষেত্রে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকেই বিল কেটে নেওয়া হবে। আর, যা কর্মচারীর ক্ষেত্রে কাজ করে, সেটা ফ্রিকারের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই কাজ করবে।

পিএবিএক্সে ডায়াল করতে ফ্রিকারকে পাসওয়ার্ড হয় জানতে হত অথবা আন্দাজ করতে হত। এই পাসওয়ার্ডই তাকে ডায়াল-আউট করার সুযোগ করে দিত। কখনো কখনো অটোমেটেড মেসেজ অভ্যর্থনা জানিয়ে কাঙ্ক্ষিত কর্মচারীর টেলিফোন এক্সটেনশন জিজ্ঞেস করত – সেই নম্বরও অনেকসময় পাসওয়ার্ড হিসেবে কাজ করত। মোটকথা, কাজটা মোটামুটি সহজই ছিল। ফ্রিকার যথারীতি সঠিক নম্বর না পাওয়া পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নম্বর বলে যেত।

হঠাৎ হঠাৎ পাসওয়ার্ডবিহীন পিএবিএক্সও পাওয়া যেত। ঐসব পিএবিএক্সের ম্যানেজার বোধহয় ভাবতেন, ফোননম্বর গোপন রাখলেই যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিছু কিছু নির্দিষ্ট ব্র‍্যান্ড অথবা মডেলের পিএবিএক্সের নিরাপত্তার ত্রুটি খুঁজে বের করে সেটা কাজে লাগিয়েও কখনো কখনো ফ্রিকাররা বিনামূল্যে কল করতে পারত। নির্দিষ্ট কিছু বোতাম চেপেও অনেকসময় পাসওয়ার্ড, কর্মচারীর নাম এমনকি কোম্পানির নাম ছাড়াই ফ্রিকাররা ঢুকে পড়তে পারত।

সময় কাটানোর আকর্ষণীয় তরিকা হিসেবে ফ্রিকিং, হ্যাকিংকে পিছে ফেলে দিতে লাগল। পাই একটা প্রাইভেট ফ্রিকিং সেকশন খুলল। কিছুদিনের মধ্যে, নিজেকে হ্যাকার বলে পরিচয় দেওয়া পুরাতন ফ্যাশনে পরিণত হল। ফ্রিকিংই নতুন পথ দেখাতে শুরু করল।

এইরকম একটা রূপান্তরের মাঝেই ফ্রিকার্স ফাইভের উদয় হয়। পাইয়ের একটা স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে হ্যাকার থেকে ফ্রিকার হয়ে ওঠা পাঁচজনের একটা দল আত্মপ্রকাশ করল। মাঝরাতে তাদের পডিং অভিযানের গল্পগুলো বিবিএসের অন্যান্য এলাকাগুলোতেও ফাঁস হয়ে গেল এবং উঠতি-ফ্রিকারদের তা রীতিমত ঈর্ষান্বিত করতে শুরু করল।

ফ্রিকাররা প্রথমেই টেলিফোন পড খুঁজে বের করত। ছাইরঙা, গোলাকার বাক্সগুলো সাধারণত বিভিন্ন রাস্তার উপরে বসানো থাকত। রাতেরবেলা যেসব জায়গা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়, সেসব জায়গার পডগুলো ফ্রিকিঙের জন্য আদর্শ। যেমন: পার্ক বা কোনো প্রকাশ্য জায়গা। শহরতলীর বাসাবাড়ির একদম সামনে বসানো পডগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ – এইসব বাড়িতেই সাধারণত ঘাঘু মহিলারা থাকে যারা একটু বেগড়বাই দেখলেই ফট্ করে পুলিশে ফোন দেয়। এরা দড়ি দেখলে সেটাকে সাপ বানিয়ে তুলকালাম বাঁধাবেই।

শুরুতেই দলের কেউ একজন ভ্যান থেকে নেমে গিয়ে টেলিকম টেকনিশিয়ানের কাছ থেকে ধার করা অথবা চুরি করা চাবি দিয়ে পড খুলত। এই চাবিগুলো জোগাড় করা মোটামুটি সহজই ছিল। কোনো মিস্ত্রীর কাছ থেকে বৈধভাবে অথবা ছয় বোতল বিয়ারের বিনিময়ে টেলিকমের মূল্যবান জিনিসপত্র, যেমন: ৫০০ মিটার তার অথবা পড-কি ইত্যাদি সংগ্রহ করার গল্পে বিবিএসের মেসেজবোর্ডগুলো মশগুল থাকত।

এরপর সেই ফ্রিকার পডের ভেতর হাতড়ে হাতড়ে ফোন লাইন খুঁজে বের করত। যদি ভয়েজ কল করা তার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে সে তারটাকে ছিঁড়ে এলিগেটর ক্লিপ দিয়ে প্রথমে বাঁধত। এরপর টেলিকম থেকেই ধার করা, কেনা, অথবা চুরি করে নিয়ে আসা লাইনম্যানদের হ্যান্ডসেট বের করে লাগিয়ে দিত। আর যদি কথা না বলে অন্য কোনো কম্পিউটারে কল করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে একগোছা তার দিয়ে সে সংযোগটাকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করত। এই কাজ করতেই টেলিকমের ৫০০মিটার তার দরকার হত। লম্বা তার হলেই পাঁচজন উত্তেজিত তরুণকে তাদের ফিসফিসানি আর এক দঙ্গল যন্ত্রপাতি নিয়ে পডের নীচে ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হত না। কারণ, এই ধরনের দৃশ্য রাতেরবেলা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হতেই পারে।

যদি সম্ভব হত, তাহলে ফ্রিকার রাস্তার ওপর দিয়ে তার টেনে এক কোণায় চলে যেত। তারপর সেটাকে গাড়ির ভিতর ঢুকিয়ে কম্পিউটার মডেমের সঙ্গে জুড়ে দিত। ওই পাঁচজনের অন্তত একজনের ইলেক্ট্রিক হার্ডওয়্যারের ব্যাপারে ভাল দক্ষতা থাকত। সে গাড়ির ব্যাটারির সঙ্গে কম্পিউটার এবং মডেম জুড়ে দিত। আর ফ্রিকার্স ফাইভ তখনই বিল এবং হদীস ছাড়াই যেকোনো কম্পিউটারে কল করতে পারত। টেলিকম তখনো বাসাবাড়ির টেলিফোনের জন্য আলাদা বিলব্যবস্থা তৈরি করেনি। সেইসব দিনগুলোতে মাঝরাতে হাতে এলিগেটর ক্লিপ, ব্যাটারি এডাপ্টর আর কম্পিউটার নিয়ে শহরতলীর রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়ানো সত্যিই একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার ছিল, কিন্তু, তাতে কারো কিছু আসত-যেত না। আসলে, গুপ্তচরদের মত এইরকম অভিযানের রোমাঞ্চ হ্যাকিঙের চেয়ে কোনো অংশে কম মজাদার ছিলনা। কাজটা নিষিদ্ধ। কিন্তু, ফ্রিকারদের চোখে, জিনিসটা যথেষ্ট কুশলী। তাই, করতেও মজা।

ক্রেগ বাওয়েন কখনো ফ্রিকার্স ফাইভ স্টাইলে ফ্রিকিঙয়ের কথা ভাবেনাই। সত্যি বলতে, সময় কাটানোর জন্য ফ্রিকিংয়ের উদ্ভব তাকে কিছুটা হতাশই করেছিল। তার মনে হত, ওই কাজটার জন্য সত্যিকার হ্যাকিং দক্ষতার কোনো দরকার নাই। তার চোখে হ্যাকিং হল, কম্পিউটারের আনকোরা নতুন দুনিয়ার অনুসন্ধান চালানো। আর ফ্রিকিং, হ্যাকারদের চেয়ে একটু নীচুমানের কাজ। কোনোভাবে এটা হাতের কাজকে ছোট করে ফেলে।

তবুও, সে বুঝতে পারত, হ্যাকিং অব্যাহত রাখার স্বার্থেই কখনো কখনো ফ্রিকিঙও জরুরী হয়ে পড়ত। আন্ডারগ্রাউন্ডের বেশীরভাগ সদস্যই ন্যূনতম ফ্রিকিঙ শিখে নিতে শুরু করেছিল, যদিও বাওয়েনের মত লোকেদের চোখে বিষয়টা ইধারকা মাল উধার করার চেয়ে বেশীকিছু ছিলনা। তবুও, সে পাইয়ের প্রাইভেট সেকশনে ফ্রিকিং বিষয়ক আলোচনায় সায় দিয়েছিল।

তবে সে ক্রেডিটকার্ড জালিয়াতি নিয়ে আলোচনাকে প্রশ্রয় দিত না। কার্ড জালিয়াতি বাওয়েনের কাছে গর্হিত কাজ বলে মনে হত, এবং, কোনো কোনো সদস্য ফ্রিকিং থেকে কার্ড জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ছিল দেখে সে খুবই ভয় পেয়েছিল।

হ্যাকিংয়ের প্র‍্যাকটিস ফ্রিকিংয়ে রূপান্তরের মতই, কার্ড জালিয়াতির চল হওয়াও অত্যন্ত যৌক্তিক ঘটনাই ছিল। ১৯৮৮ সালের ছয়মাসের মধ্যেই রাতারাতি এসব রূপান্তর ঘটতে থাকে এবং বরাবরের মত এবারও এসবের পেছনে বাচ্চাকাচ্চারাই জড়িত ছিল।

অনেক ফ্রিকারই এটাকে আরেক ধরনের ফ্রিকিং হিসেবেই নিয়েছিল। সত্যি বলতে, কোম্পানির পিবিএক্সে ঢোকার চেয়ে এই কাজটা বহুগুণে সহজ। অতো হ্যাপার বদলে শুধুমাত্র একজন অপারেটরকে কল দিয়ে বিল পরিশোধের জন্য অপরিচিত কয়েকজন মানুষের ক্রেডিটকার্ড-নম্বর দিয়ে দিলেই হয়ে যেত। অবশ্যই, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পিএবিএক্সের চেয়েও বড় বড় কাজ করা যেত। কার্ডিঙের সুবিধা হল, এতে আপনি আমেরিকা বা যুক্তরাজ্যের মত দেশেও বন্ধুদের কল করতে পারবেন এবং প্রত্যেকের সঙ্গেই একই সময়ে ভয়েজ কনফারেন্সে কথাও বলতে পারবেন – যেটা পিএবিএক্স দিয়ে করা খুবই কঠিন কাজ। আরো অনেক সুবিধা ছিল। সেই ক্রেডিটকার্ড দিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দামও মেটানো যেত। বিভিন্ন পণ্য অর্ডারও করা যেত।