প্রাইভেট সেকশনগুলো অনেকটা রাজদরবারের অনুকরণে চলত। রাজদরবারে যেমন বিভিন্ন জ্যেষ্ঠতা, আনুগত্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতার ভিত্তিতে উচ্চবংশীয় সভাসদদের পদক্রম দেখা যেত সেরকম। প্রাইভেট সেকশনে ঢুকতে চাইলে আপনাকে কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। জাতে ওঠার জন্য অভিজ্ঞদের দেখাতে হবে যে আপনার কাছে হ্যাকিং সংক্রান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। আবার, এতোটাও জাহির করা যাবে না যা দেখে তারা আপনাকে বাচাল আখ্যা দিয়ে দেয়। তাই, দরকষাকষির জন্য একটা মোক্ষম জিনিস হল মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াল-আউটের পুরাতন পাসওয়ার্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াল-আউট ছিল তখনকার জামানায় খুবই মূল্যবান জিনিস। হ্যাকার যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারে একবার লগইন করতে সমর্থ্য হত, তাহলে সে ওই মেশিনের মডেমের ডায়াল আউট ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে যেত। তখন সে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে ডায়াল করতে পারত এবং সেই ফোনের বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে গিয়ে চাপতো। ১৯৮০’র শেষভাগে, সস্তা ও সহজলভ্য ইন্টারনেটের যুগের আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এইরকম একটা ডায়াল-আউটের নিয়ন্ত্রণ থাকার মানেই হল হ্যাকারের পক্ষে জার্মানির আন্ডারগ্রাউন্ড বিবিএস থেকে আমেরিকার পানামার মিলিটারি সিস্টেম, সবকিছুতেই ঢুকতে পারার সামর্থ্য থাকা। আর তাই সেই ডায়াল-আউটের একটা পাসওয়ার্ডই তাকে হাতের মুঠোয় দুনিয়াকে এনে দিতে পারত।

পাইয়ের ইনার স্যাঙ্কটামে ঢোকার ফন্দিতে থাকা কোনো হ্যাকার ডায়াল-আউটের কোনো সক্রিয় পাসওয়ার্ড কোনো প্রকাশ্যে দিতে পারত না। বিশেষ করে সে যদি পেকিং অর্ডারে নিচু শ্রেণীর কেউ হয়ে থাকে তাহলে, তার কাছে এমন মূল্যবান তথ্য থাকারই কথা নয়। আর, যদি সে কোনোভাবে পেয়েও থাকে, প্রকাশ্যে সেটা জানানোও ছিল একটা বিপদজনক কাজ। প্রত্যেক উঠতি হ্যাকার এবং তাদের চ্যালারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেম একাউন্টের পিছনে লেগে থাকত। সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটররাও কম চালাক নয়। তারা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিলে হ্যাকারও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে তার প্রবেশাধিকার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে ফেলত। তারচেয়েও খারাপ ব্যাপার হত, যদি এদের কারণে অন্যান্য হ্যাকার — যারা হ্যাক, এলিট এবং ইনার স্যাঙ্কটাম চালায়, তারাও অনেকসময় প্রবেশাধিকার হারাত। আর, এদের কারণে এভাবে বিনা সতর্কতায় তাদের দখলকৃত একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হলে হ্যাকাররা দারুণ ক্ষেপে যেত। পাসওয়ার্ড যদি পরিবর্তন নাও হত, তবুও এরকম উঠতি হ্যাকারদের সবাই পেট-পাতলা পোলাপান হিসেবেই দেখত।

তবে পুরাতন পাসওয়ার্ড প্রকাশ করলে ভিন্ন কথা। সেই তথ্য তো ততদিনে প্রায় অচল হয়ে গেছে, তাই হ্যাকারদের এতে ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা থাকত না। কিন্তু, এইরকম একটা তথ্য একজন উঠতি হ্যাকারের জানা আছে তা দেখিয়ে সে বুঝাতে চাইতো সে কোনোভাবে এসব ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এতে কোনো কোনো হ্যাকার ধরে নিতো যখন পাসওয়ার্ডটা সক্রিয় ছিল তখন সে সেটা পেয়েছিল। তবে পুরাতন পাসওয়ার্ড দেখানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, এর মাধ্যমে সেই হ্যাকারের কাছে সক্রিয় পাসওয়ার্ড আছে এরকম ইঙ্গিত মিলত। ছু মন্তর ছু! এতেই রাতারাতি মিলে যেত সমীহ-সম্মান-গুরুত্ব।

ইনার স্যাঙ্কটামের নিমন্ত্রণ জিতে নেওয়া যে কারও জন্য বেশ কৌশলের ব্যাপার ছিল; ধীরে ধীরে এগুতে হত। যদিও সবসময় খুব বেশী ঝুলে থাকতে হত না। কিছুদিনের মধ্যেই সেসব কৌশল ভিতরের কারও না কারও নজরে পড়ে যেত। তখন সে বাওয়েনের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে কথা বলত। এরপরই নিমন্ত্রণ পাওয়া যেত।

সত্যিকার অর্থেই অধ্যবসায়ী হলে এবং প্রথম ইনার লেয়ার অতিক্রম করতে যথেষ্ট আগ্রহী হলে, তারপর সত্যিকার খাটুনি শুরু করার প্রশ্ন আসত। সেখানে প্রকাশ্য জায়গার মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারীর দোহাই বা মূল্যবান হ্যাকিং তথ্য গাধা লোকজন অপব্যবহার করবে এমন ওজুহাত দেখানোর সুযোগ ছিল না।

বাঘা বাঘা সব হ্যাকাররা কাজের মূল্যায়ন করত। কম্পিউটার বা ফোন সিস্টেমে অনুপ্রবেশের জন্য আপনি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তার বিচার হত। তারা তথ্যের যথাযথতাও যাচাই করে দেখত। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমের স্টুডেন্ট একাউন্টের পুরাতন লগইন নাম এবং পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করা কোনো কঠিন কাজ ছিল না। তবে নিউজিল্যান্ডের বন বিভাগের ভিএমএস সিস্টেমের সঠিক একাউন্ট প্রকাশ করতে পারলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত নজর কাড়া যেত।

কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের দুনিয়ায় বাচ্চা থেকে বড় মানুষ হয়ে ওঠার গ্রেট রাইট অফ প্যাসেজ হল মিনার্ভা। ওটিসি অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন সরকারী ওভারসিজ টেলিকমুনিকেমন্স কমিশন[1] মিনার্ভা চালাত। এটা হল সিডনির প্রধান তিনটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটা সিস্টেম। মেনড্যাক্সের মত হ্যাকারদের জন্য মিনার্ভাতে অনুপ্রবেশ করা ছিল পরীক্ষার অংশ।

১৯৮৮’র শুরুতে, মেনড্যাক্স হ্যাকিং দুনিয়ায় ঘোরাঘুরি সবে শুরু করেছিল। সে পাইয়ের পাবলিক সেকশন থেকেই প্রাইভেট সেকশনে অনুপ্রবেশ করার উপায় বের করেছিল। হ্যাকারদের আভিজাত্যের জগতে দ্য ফোর্স এবং দ্য উইজার্ডের মত উঠতি মেধাবী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে যেকোন হ্যাকারের জন্য মিনার্ভা সিস্টেমের পেছনে সময় ব্যয় করাটা ছিল একপ্রকার বাধ্যতামুলক। মেনড্যাক্সও তাতে অনুপ্রবেশের জন্য কাজ শুরু করেছিল।

অনেকগুলো কারণে মিনার্ভা বিশেষ গুরুত্ব পেত। জিনিসটা সিডনিতে থাকলেও তার এক্স.২৫ নামের এন্ট্রি কম্পিউটারের ফোন নম্বর ছিল বিনামূল্য। সেইসময় মেনড্যাক্স মেলবোর্নের থেকে দূরের গ্রাম, এমারাল্ডে থাকত। মেলবোর্নের বেশীরভাগ নম্বরে কল করলেই দূর-পাল্লার কলের পয়সা কেটে নিত, তাই সেখান থেকে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার সিস্টেমগুলোতে অনুপ্রবেশের জন্য মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াল-আউট ব্যবহার করার আশা ছিল দূরাশা।

এমারাল্ডে শহরের ছোঁয়া ছিল না। ষোল বছর বয়সী বুদ্ধিমান একজন বালকের জন্য এইরকম একটা জায়গা অসম্ভব বিরক্তিকর হওয়ার কথা। মেনড্যাক্স সেখানে তার মায়ের সঙ্গে থাকত; এমারাল্ডে কেউ থাকার জন্য আসতে চাইত না, সেখানকার এক ডজন পরিবারের একটি ছিল তাদের পরিবার। কারণ, তার মা তার উন্মাদ সাবেক স্বামীর হাত থেকে বাঁচার জন্য সারাদেশে পালিয়ে বেড়াতেন। ছুটে বেড়ানো পরিবারগুলোর জন্য তাদের বাড়িটা ছিল অস্থায়ী একটা বাসস্থান। জায়গাটা নিরাপদও হওয়ায়, মেনড্যাক্স আর তার ক্লান্ত পরিবার লুকাবার নতুন জায়গা হিসেবে ওই বাড়ি বেছে  নিয়েছিল। আবার সব ছেড়েছুঁড়ে পালানো অব্দি তারা  সেখানেই থাকতে শুরু করেছিল।

মেনড্যাক্স স্কুলে যেত। কখনো কখনো যেত না। স্কুল তার বিশেষ আগ্রহের জায়গা ছিল না। ওই জায়গা তার মনের খোরাক জুটাতে পারত না, যেটা মির্নাভা পারত। গ্রামের হাই স্কুলের চেয়ে সিডনি কম্পিউটার সিস্টেম  গুঁতাগুঁতি করার জন্য ঢের ভাল জায়গা।

মির্নাভা ছিল একটা প্রাইম কম্পিউটার এবং প্রাইম কমপিউটার হল সেরা। ফোর্স, অস্ট্রেলিয়ার কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের ১৯৮৭-৮৮ সালের অন্যতম প্রভাবশালী হ্যাকার, প্রিমোসে পারদর্শী ছিল। প্রিমোস হল প্রাইম কম্পিউটারগুলোতে ব্যবহৃত বিশেষ অপারেটিং সিস্টেম। সে নিজেই পোটেন্ট হ্যাকিং টুলস নামের একটা প্রোগ্রাম লিখেছিল। সেটা সক্রিয় ব্যবহারকারীদের নাম এবং পাসওয়ার্ড বের করতে পারত। এতে, কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডে এ ধরণের সিস্টেম আরও সহজলভ্য হয়ে গিয়েছিল।

প্রাইম কম্পিউটারগুলো ছিল যেমনই বিশাল তেমনই ব্যয়বহুল এবং কোনো হ্যাকারের পক্ষে সেগুলো কিনে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু, মিনার্ভার মত উচ্চগতি এবং গাণিতিক দক্ষতাসম্পন্ন সিস্টেমে হ্যাকারদের নিজেদের প্রোগ্রাম চালাতে সুবিধা হত। এজন্য এতে প্রবেশ করার বুদ্ধি বের করতে পারলে সেটা মূল্যবান অর্জন হিসেবে বিবেচিত হত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় নেটওয়ার্ক স্ক্যানারের কথা। এটা এমন একটা প্রোগ্রাম যা এক্স.২৫ নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোর ঠিকানা সংগ্রহ করতে পারত। এরপর সেই কম্পিউটাগুলোকে হ্যাকিঙের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঠিক করা হত। এই প্রোগ্রাম অন্যান্য তথ্যও সরিয়ে ফেলতে পারত। মিনার্ভার মত বিরাট মেশিনের পক্ষে ওইধরণের প্রোগ্রাম চালানো ছিল খুবই সহজ কাজ। মিনার্ভা দুনিয়া ধরে বিভিন্ন কম্পিউটারকে এক্স.২৫ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করার কাজও করত। সবচেয়ে বড় কথা, মিনার্ভার একটা বেসিক ইন্টারপ্রেটারও ছিল। সেটা ব্যবহার করে যেকেউ বেসিক প্রোগ্রামিং ভাষায় প্রোগ্রাম লিখতে পারত এবং মিনার্ভাতে তা চালাতেও পারত। বেসিক ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা। ওটিসি কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লিখতে এবং চালাতে ফোর্সের মত প্রিমোস-পাগলা হওয়ার দরকার ছিল না। তাই, মিনার্ভা মেনড্যাক্সের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিল।

ওটিসি সিস্টেমের আরও কিছু সুবিধা ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বেশীরভাগ বড় বড় কর্পোরেশনগুলোর ঐ সিস্টেমে একাউন্ট ছিল। সেসব একাউন্টে অনুপ্রবেশ করতে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হত; ইউজারনেম পাওয়া মানেই মোটামুটি অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়া। আর, মিনার্ভার একাউন্টের নামগুলোও সহজে অনুমান করা যেত। প্রতিটা নাম তিনটি বর্ণের পরে তিনটি সংখ্যার সমন্বয়ে তৈরি হত। এইরকম বিন্যাসের নাম না হলে সেই সিস্টেমটাকে ক্র্যাক করা কঠিন কাজ হয়ে যেত। প্রথম তিনটি বর্ণ অবশ্যম্ভাবীভাবে কোম্পানীর নামের আদ্যাক্ষর হত। যেমন: এএনজেড ব্যাংকের একাউন্টগুলোর নাম ছিল এএনজেড০০১, এএনজেড০০২ এবং এএনজেড০০৩। এই ধরণের বিন্যাস বেশীরভাগ কোম্পানীই অনুসরণ করত। বিএইপি০০১, সিআরএ০০১, এনএবি০০১। এমনকি ওটিসি০০৭। টিউবলাইট মার্কা আইকিউ নিয়েও যেকেউ মিনার্ভার বেশকিছু একাউন্টের নাম অনুমান করতে পারবে। তবে, পাসওয়ার্ডগুলো ভাঙা একটু শক্ত কাজই বটে, কিন্তু সেই বুদ্ধিও মেনড্যাক্সের ছিল। সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিঙের মাধ্যমে সে ক্র্যাক করত। সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং মানে হল দরকারি লোককে কথার জালে ফেলে কার্যসিদ্ধি করিয়ে নেওয়া। এজন্য নানাধরণের ছলনার আশ্রয় নিতে হত।

মেনড্যাক্স ভাবছিল কোনো একজন মিনার্ভা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে একটা পাসওয়ার্ড বের করে নেবে। সে মিনার্ভা ব্যবহারকারীদের একটা আংশিক তালিকা ডাউনলোড করেছিল। সেই তালিকা অপর একজন হ্যাকার পাইতে উদারচিত্তে প্রকাশ করেছিল যাতে মেধাবী লোকজন কাজে লাগাতে পারে। তালিকাটা প্রায় দুই বছরের পুরোনো এবং অসম্পূর্ণ হলেও, তাতে ৩০টি পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল মিনার্ভা একাউন্টের ইউজারনেম, কোম্পানীর নাম, ঠিকানা, কন্টাক্ট নাম এবং টেলিফোন আর ফ্যাক্স নম্বর। সেগুলোর কয়েকটা তখনো ঠিকঠাক থাকার সম্ভাবনাও নিশ্চয়ই ছিল।

ভাগ্যিস মেনড্যাক্সের গলাটা তার বয়সের তুলনায় কিছুটা ভারী ছিল; তা নাহলে সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং করার কথা চিন্তাও করা যেত না। উঠতি সোশাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কিশোর মার্কা ভাঙা ভাঙা গলা মরণ অভিশাপের মত। তার গলা থাকলেও ছিল না কোনো অফিস। তাছাড়া, কোনো শিকার যদি কলব্যাক করতে চাইতো সেক্ষেত্রে তাকে দেবার মত সিডনির কোনো ফোন নম্বরও তার ছিল না। ঘাঁটতে ঘাঁটতে সিডনি ফোন নম্বর সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের একটা রাস্তা পাওয়া গেল। সে সিডনির ০২ এরিয়া কোডওয়ালা একটা নম্বর খুঁজে পেল যেটা স্থায়ীভাবে এনগেজড হয়ে গিয়েছিল। তাহলে একটা সমস্যা গেল, রইলো বাকি এক।

পরবর্তী সমস্যা: অফিসের আবহের কিছু সত্যিকার শব্দ তৈরি করতে হবে। যে গ্রামদেশের টাটকা বাতাসে পাখির গানই হল একমাত্র শব্দ, সেই জায়গা থেকে ওটিসির কর্মচারী সেজে ভুজুংভাজুং দিয়ে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া দুঃসাধ্য কাজই বটে।

তার যে ডাউনটাউন সিডনির হট্টগোলের মত শব্দই চাই। মেনড্যাক্সের ছিল একটা টেপ রেকর্ডার, কাজেই সে চাইলেই একটা অফিসের শব্দ রেকর্ড করে নিতে পারে এবং মিনার্ভা লিস্টের কোম্পানীগুলোকে কল করার সময় সেটা চালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু, এ কাজের জন্য একটা জুতসই অফিস খুঁজে বের করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। এমনকি স্থানীয় পোস্ট অফিসের কোলাহলও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য হবে না। উপায়ন্তর না পেয়ে সে ঠিক করলো নিজেই অফিসের হইচই তৈরি করবে। কাজটা সহজ ছিল না অবশ্য। সিঙ্গেল ট্র্যাক রেকর্ডিং যন্ত্রে ডাব করে একটার উপরে আরেকটা শব্দ জুড়ে দেওয়ার উপায়ও ছিল না: কাজেই তাকে সব শব্দ একই সময়েই তৈরি করতে হবে।

প্রথমেই, সে টিভিতে সংবাদ ছেড়ে দিল, একদম হালকা শব্দে, যাতে পেছন থেকে অনেকটা গুণগুণের মতো শুনতে লাগে। তারপর সে তার কমোডর এমপিএস ৮০১ প্রিন্টারে একটা লম্বা লেখা প্রিন্ট করতে দিল। পেছনে ক্ল্যাকি-ক্ল্যাক জাতীয় শব্দ তৈরির জন্য সে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারটার ঢাকনাটাও খুলে দিল। কিন্তু, এরপরেও আরও কিছু জিনিসের দরকার ছিল। জনাকীর্ণ ঘরের ভিতরে অপারেটরের গলার আধো আধো শব্দ চাই। এটা সে নিজেনিজে ফিসফিসিয়েই তৈরি করতে পারতো। কিন্তু সে দেখলো যে, একটা ঘরের মধ্যে বিনা কারণে নিজের সঙ্গে পনের মিনিট বকবক করা সহজ কম্মো নয়। তাই, সে শেকসপিয়রের একটা খন্ড তুলে নিলো এবং জোড়ে জোড়ে পড়তে লাগল। গলা শুনতে পাবার মতো উচ্চগ্রামে সে পড়ছিল, তবে এতোটা উচ্চগ্রামেও নয় যাতে শিকার ম্যাকবেথের লাইনগুলো ধরে ফেলতে পারে। ওটিসি অপারেটরদের কিবোর্ড থাকত, তাই সেও কিবোর্ডে আবোল-তাবোল টিপতে থাকল। কখনো কখনো একটু বৈচিত্র আনার জন্য সে উঠে টেপ রেকর্ডারের কাছে গিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতো এবং তারপর নিজেই গলার স্বর পাল্টে তার উত্তর দিতো। কখনো কখনো শব্দ করে রেকর্ডারের কাছ থেকে ঘরের ভিতরে হেঁটে যেত এবং তারপর নিঃশব্দে কিবোর্ডের কাছে গিয়ে আরও টাইপ করার শব্দ করত এবং ম্যাকবেথ আওড়াতো।

[1] ওটিসি টেলিকমের সঙ্গে একীভূত হয়ে টেলস্ট্রায় পরিণত হয়।