বাওয়েন আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল, চাকরি বাঁচাতে হলে টেলিকম ব্যবহার করে কোনো অবৈধ কাজ না করাই উচিত হবে। তবে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল কারিগরি জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে সুবিধাজনক উৎস। উদাহরণস্বরূপ, কাজের জন্য টেলিকমে তার একটা একাউন্ট ছিল যেখান থেকে টেলিকমের এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে সহজেই জানা যেত। কিন্তু, সে কখনোই হ্যাকিঙের কাজে ঐ একাউন্ট ব্যবহার করেনি। বেশীরভাগ স্বনামধন্য হ্যাকারই একইধরণের দর্শন মেনে চলত। এদের কারও কারও বিভিন্ন কোর্সের কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ কম্পিউটার একাউন্টও ছিল, কিন্তু তারা ওইসব একাউন্ট সবসময় পরিষ্কার রাখত। জনৈক হ্যাকারের ভাষ্যে, আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্যতম সাধারণ নিয়ম হল, ‘নিজের পায়ে কখনো কুড়াল মেরো না।’

পাইতে একটা পাবলিক সেকশন এবং একটা প্রাইভেট সেকশন ছিল। পাবলিক সেকশনটা অনেকটা পুরাতন দিনের পানশালার মত। যেকেউ সেখানে ঢুকতে পারত, পানশালার মত বসতে পারত এবং স্থানীয়দের সাথে আলাপও জুড়তে পারত। এজন্য মডেম দিয়ে সিস্টেমে কল করে বিস্তারিত তথ্য — আসল নাম, হ্যান্ডেল, ফোন নম্বর এবং অন্যান্য প্রাথমিক তথ্য দিলেই হয়ে যেত।

অনেক বিবিএস ব্যবহারকারীই তাদের সত্যিকার পরিচয় লুকাতে ভুয়া তথ্য দিতেন, আর অনেক অপারেটর তা নিয়ে মাথাও ঘামাতেন না। তবে, বাওয়েন ঘামাত। হ্যাকারদের বোর্ড চালানোর কিছু অনিবার্য ঝুঁকি ছিল, এমনকি ফেডারাল কম্পিউটার ক্রাইম সংক্রান্ত আইনগুলো তৈরি করার আগেও ছিল। পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা বরাবরই বেআইনী ছিল। বিদেশী কম্পিউটার থেকে তথ্য হ্যাক করে সংরক্ষণ করে রাখাও অবৈধ ছিল। পুলিশ আর মিডিয়া গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতেই বাওয়েন, ব্যবহারকারীদের বাড়িতে বা কাজের জায়গায় ফোন করে পাইতে দেওয়া ব্যক্তিগত বিবরণী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করত। বেশীরভাগ সময়ই মিলে যেত। আবার কখনো কখনো যেত না।

পাইয়ের পাবলিক সেকশনটা আইবিএম, কমোডর, অ্যামিগা, অ্যাপল এবং আটারির মত বড় বড় কম্পিউটার ব্র্যান্ড নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে। লোনলি হার্টস নামের জনপ্রিয় গ্রুপটির পরেই ছিল এর অবস্থান। লোনলি হার্টসে গড়ে বিশজন নিয়মিত বসত। এদের বেশীরভাগই বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ভুগছিল। কেউ কেউ হয়তো ভালোবাসার মেয়েটার মন পায়নি। তারচেয়েও খারাপ হলে হয়তো মেয়েটা ওই লোকের মনের কথা জানতেই পারেনি বলে সে বিপর্যস্ত বোধ করছে । আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে ঘুরতেথাকা টিনেজাররা। সেখানকার লেখাপত্রগুলো ছিল একেবারেই অজ্ঞাতকূলশীল। পাঠকেরা লেখকের হ্যান্ডেলের নামও জানতে পারতো না। এবং, এই ব্যবস্থার কারণেই সবাই একেবারে মনের ভেতরের যন্ত্রণাগুলোও খুলে বলতে পারতো এবং নিশ্চিন্তে মনের সত্যিকার কথা ভাগাভাগি করে নিতে পারতো।

জেন ছিল, বলা চলে, পাইয়ের উন্নততর ছোটবোন। পাই চালু করার দুই বছরের মাথায় বাওয়েন জেন চালু করে। এটা একাধিক টেলিফোন লাইনওয়ালা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম কয়েকটি বিবিএসের একটি। জেন চালু করার প্রধান কারণ হল গ্রাহকদের বিরক্তির হাত থেকে বাঁচা। পাইতে লগইন করে তারা প্রথমেই যে কাজটি করত তা হল, সিস্টেম অপারেটরের সঙ্গে অনলাইন চ্যাট করার অনুরোধ। পাইয়ের অ্যাপল ২ই আজকের দিনের তুলনায় খুবই সাধারণ একটা মেশিন ছিল, যেখানে বাওয়েন একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারত না। কোনো দর্শনার্থী পাইতে লগইন করলে তার পক্ষে আর মেইল দেখা বা অন্যকোনো কাজ করা সম্ভব হতো না।

জেন অস্ট্রেলিয়ার বিবিএস কমুনিটিতে নতুন যুগের সূচনা করল। জেন একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারত। সেই মেশিনে একই সময়ে চারজন মানুষ রিং করতে এবং লগইন করতে পারত। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ব্যবহারকারীরা অনলাইনে থাকলেও বাওয়েন তার কাজকর্ম করতে পারত। আরও একটা বড় সুবিধা হল, এতে ব্যবহারকারীরা তাকে বিরক্ত না করে নিজেরাই আলাপ করতে পারত। এইরকম একাধিক ফোন লাইনওয়ালা মাল্টি-টাস্কিং মেশিনে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে থাকা মানে একদঙ্গল বাচ্চাকাচ্চার সঙ্গে থাকা। বেশীরভাগ সময়ই জায়গাটা সরগরম থাকত।

উপরে উপরে মেইনস্ট্রিম এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা দেখালেও, আন্ডারগ্রাউন্ডের অনেকের মতো বাওয়েনও এন্টি-এস্টাবলিশমেন্ট দর্শনকে তলে তলে ধারণ করত। জেন নামটা পছন্দ করার মধ্যেই তা প্রকাশ পায়। জেন শব্দটা এসেছে ভবিষ্যতের দুনিয়া সংক্রান্ত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর টিভি সিরিজ ‘ব্লেক ৭’ থেকে। সেখানে একদল বিদ্রোহী একটা স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়। বিদ্রোহীদের স্পেসশীপের কম্পিউটারের নাম ছিল জেন। প্রিজন শীপে পরিচয় হওয়ার পর বিদ্রোহীরা একসাথে দল গঠন করে; তাদের সবাইকে শাস্তি হিসেবে অন্য গ্রহে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই গল্পটার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান আন্ডারগ্রাউন্ডের মানুষ নিজেদের মেলাতে পারতেন। এদের অন্যতম প্রধান চরিত্র একজন বীর হলেও খলনায়ক। কারণ, তাকে হ্যাকিঙের অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তার সহযোগী বিদ্রোহীদের তিনি বলতেন যে, অন্যদের উপর নির্ভর করাই তার বড় ভুল ছিল। তাদের তিনি বিশ্বাস করতেন। কিন্তু, তার একা কাজ করা উচিত ছিল।

ক্রেইগ বাওয়েন ঘুনাক্ষরেও টের পাননি মাত্র কয়েকমাসের ঘটনার মধ্যেই এই উপলব্ধি কতোখানি সত্যি হয়ে ধরা দিবে তার জীবনে।

বাওয়েনের বাড়িটা ছিল কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের জগতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের অগ্রগামী লোকেদের মিলনস্থল। দ্য উইজার্ড। দ্য ফোর্স। পাওয়ারস্পাইক। ফিনিক্স। ইলেকট্রন। নোম। প্রাইম সাসপেক্ট। মেনড্যাক্স। ট্রেইন ট্র্যাক্স। কেউ কেউ, যেমন প্রাইম সাসপেক্ট, খুব কম আসত, কালেভদ্রে খোঁজখবর নিতে ঢুঁ মারত এবং বন্ধুদের কুশল জিজ্ঞেস করত। অন্যদের মধ্যে, যেমন নোম, পাই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল। নোম, বাওয়েনকে পাই তৈরিতে সাহায্যও করেছিল। আন্ডারগ্রাউন্ডের অনেক পুরাতন সদস্যদের মত তাদেরও অ্যাপল ইউজারস সোসাইটি ইন মেলবোর্ন বা এইউএসওম-এ পরিচয় হয়েছিল। সেসসময় বাওয়েন আসকি এক্সপ্রেস চালু করতে চাচ্ছিলেন। এটা হল একটা পোগ্রাম, যা মানুষকে নিজেদের কম্পিউটার এবং পাইয়ের মধ্যে ফাইল আদান-প্রদানের সুবিধা দেয়। কিন্তু, যথারীতি, তার এবং তার চেনাজানা সবার কাছেই শুধুমাত্র পাইরেটেড কপি ছিল। কোনো নির্দেশিকাও কারো কাছে ছিল না। তাই, নোম এবং বাওয়েন একটা সপ্তাহান্তে নিজেরাই একসাথে প্রোগ্রামটার খুঁটিনাটি ঘেঁটে দেখতে বসে। তারা দুজনেই দুটি কপি নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে, নিজেদের মেশিনে বসেই কাজটা করছিল। আর ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রোগ্রামটার কার্যপ্রণালী নিয়ে আলাপ করছিল। আন্ডারগ্রাউন্ডের যারা এতোদিন নির্দেশিকার অভাবে ভুগছিল তাদের জন্য তারা একটা নির্দেশিকাও বানিয়েছিল। তারপর জিনিসটা তৈরি হয়ে গেলে সেটা পাইতে চালানো হয়েছিল।

বিবিএসে পাই এবং জেনের মতো বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত থাকলে হ্যাকিং সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি আরও কিছু সুবিধাও পাওয়া যেত। অজ্ঞাতপরিচয়ের পর্দাটি সরিয়ে দিলেই ঘনিষ্ঠ একদল বন্ধু পাওয়া সম্ভব ছিল। উদাহরণস্বরূপ, পাইয়ের ছোট্ট একটা দল ছিল দ্য ব্লুজ ব্রাদার্স ফিল্মটার পাগলা সমর্থক। প্রতি শুক্রবার রাতে, সেই দলটা ব্লুজ ব্রাদার্সের কস্টিউম পড়ত – কালো স্যুট, সাদা শার্ট, সরু টাই, রেবন সানগ্লাস এবং অবশ্যই সাথে স্ন্যাপ-ব্রিমড হ্যাট। এক দম্পতি তো তাদের বাচ্চাকেও মিনি-ব্লুজ ব্রাদার্সের পোশাক পরিয়ে নিয়ে আসতেন।

সেই নিয়মিত গ্রুপটা প্রতি শুক্রবার রাত ১১:৩০ মিনিটে নর্থকোর্টের ভ্যালহালা থিয়েটারে (যেটা এখনকার ওয়েস্টগার্থ) জমায়েত হত। থিয়েটারটার বিশাল আয়তন আর সঙ্গে হালকা পুরাতন আবহ যেন মধ্যরাতে বিকল্প সংস্কৃতির সেই ধারাটাকে প্রাণ এনে দিত। ফিল্মের মধ্যেই স্টেজের উপরে উঠে তারা বিভিন্ন অভিনেতাদের নকল করত। এই ফুর্তিটা মজার এবং সস্তাও ছিল। যারা কস্টিউম সঠিকভাবে পড়ে নিয়মিত আসতো ভ্যালহালার লোকজন তাদের বিনা পয়সায় ঢুকতে দিতেন। মাঝ-বিরতিতে গ্রুপের সদস্যদের শুধুমাত্র পানীয়র জন্য পয়সা দিতে হত।

কখনো কখনো বাওয়েন অন্যান্য নবীন পাই এবং জেন ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন করত। সাধারণত তারা মেলবোর্নের ডাউনটাউনে মিলিত হত, আবার, কখনওবা সিটি স্কয়ারে। বাওয়েনের বোন, যার হ্যান্ডেল নাম ছিল সিন, সেও মাঝেসাঝে আসত। বিবিএসের একাধিক হ্যাকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এবং, সে-ই এরকম একমাত্র নয়। সেই ঘনিষ্ঠ গ্রুপের মাঝে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড বদলাবদলি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গ্রুপটা সিনেমা দেখে সিটি স্কয়ারে হৈ-হল্লা করে বেড়াত, বেশীরভাগ সময়ই ভূতের ছবিই দেখা হত। নাইটমেয়ার ২। হাউজ ৩। এই ধরণের ছবির শিরোনামগুলোর প্রথম অংশ নামবাচক শব্দ এবং অপর অংশ সংখ্যা দিয়ে শেষ হত। কখনো, একটু ভিন্ন স্বাদের জন্য তারা বোলিং খেলতে যেত এবং রাস্তার লোকদের জ্বালাতো। এইসব হৈ-হুল্লোড় শেষে তারা ম্যাকডোনাল্ডের সস্তা বার্গার খেত। ঠাট্টা-মশকরা আর হাসাহাসি চলত, আর চলত রেস্টুরেন্টের দেয়ালে শসা ছুঁড়ে মারার খেলা। শেষ বাস বা ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরা অব্দি এইসবই চলত।

পাই এবং জেনের সামাজিক অংশটা কারিগরি অংশটার চেয়েও সফল ছিল, কিন্তু, প্রাইভেট হ্যাকিং সেকশন ছিল এসবের চেয়েও সফল। হ্যাকিং সেকশন ছিল গোপন। মেলবোর্ন আন্ডারগ্রাউন্ডের উঠতি কেউ এলে শুরুতে শুধুমাত্র জায়গাটার গন্ধ টের পেত কিন্তু সেটার অবস্থানটা ঠিক কোথায় সবাই তা ধরতে পারত না।

সেই গোপন এলাকায় প্রবেশের নিমন্ত্রণ পাবার জন্য থাকতে হত হ্যাকিং দক্ষতা অথবা দিতে হত তথ্য। এবং, সাধারণত ভিতরের কোনো সদস্যের মাধ্যমে বাওয়েনের কাছে সুপারিশও করতে হত। গোপন হ্যাকিং এলাকাটাকে ‘ইনার স্যাঙ্কটাম’ নামেই ডাকা হত। সেখানে সদস্যরা নির্বিঘ্নে বিভিন্ন বিষয়, যেমন: নতুন কম্পিউটারসামগ্রী এবং হ্যাকিঙের কৌশল নিয়ে আলাপ-আলোচনা, কোম্পানিগুলোর নতুন খোলা সাইটগুলোর কোনটাকে হামলা করা যেতে পারে তার পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন গুজব নিয়ে ব্যস্ত সেসব কথা চালাচালি করতে পারত।

তবে, ইনার স্যাঙ্কটামই একমাত্র গোপন জায়গা ছিল না। এলিট এবং হ্যাক নামেও দুটি হ্যাকিং গ্রুপ ছিল; যারা তাদের সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ জায়গাটা গোপনে লুকিয়ে কড়া নজরদারিতে রাখত। ইনার স্যাঙ্কটামে তাও কোনোমতে ঢোকা যেত। কিন্তু এলিট বা হ্যাকের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেকের কিচ্ছুটি না জানাও বিচিত্র ছ। আপনি বড়জোড় আঁচ পারবেন যে, আপনার জায়গার চেয়েও এক্সক্লুসিভ একটা জায়গার অস্তিত্ব আছে। কিন্তু আপনি এবং সেই এক্সক্লুসিভ এলাকার মাঝে পেঁয়াজের খোসার মত ঠিক কতগুলো বলয় যে রয়েছে তা কল্পনাও করতে পারবেন না। এই বইয়ের জন্য যতোজন হ্যাকারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তাদের কেউ সেখানকার ভিতরের লোক না হওয়ায় প্রত্যেকেই অস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তারাও এরকম জায়গার অস্তিত্ব আছে বলে জানতেন। কিন্তু জায়গাটা কেমন ছিল তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণাও তাদের ছিল না।

বাওয়েন মাঝেসাঝেই ইনার স্যাঙ্কটামে ঢোকার রাস্তা খুঁজছে এমন উঠতি হ্যাকারদের ফোনকল পেত। তারা চিঁ-চিঁ করে বলত, ‘আমি আপনার পাইরেট সিস্টেমে ঢুকতে চাই।’

‘কিসের পাইরেট সিস্টেম? আমার সিস্টেমে পাইরেট সিস্টেম আছে এসব কথা আপনাকে কে বলেছে?’

বাওয়েন এভাবে বোঝার চেষ্টা করত ফোনদাতা বিষয়টা সম্পর্কে কদ্দুর জেনেছে এবং তাকে কে এসব বলেছে। তারপর সে সবকিছু বেমালুম অস্বীকার করত।

এই ধরণের অনুরোধ এড়াতে, বাওয়েন বেশীরভাগ গ্রাহকদের কাছ থেকে তার ঠিকানা, সত্যিকার নাম এবং ফোন নম্বর লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, সে পুরোপুরি পেরে ওঠেনি। তাই, হঠাৎ যেদিন মাস্কড এভেঞ্জার তার দরজায় এসে কড়া নাড়লো সেদিন সে ভড়কে গিয়েছিল। মাস্কড এভেঞ্জার তার ঠিকানা কিভাবে পেয়েছিল তা এক রহস্য। তারা অনলাইনে বন্ধুর মতই কথা বলত, কিন্তু, বাওয়েন কখনো তাকে বিস্তারিত ঠিকানা দেয়নি। তাই, মস্ত হেলমেট পড়া পিচ্চি একটা বাচ্চা বাওয়েনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে  – এমন দৃশ্যের জন্য সে প্রস্তুতও ছিল না। বাচ্চাটা চিৎকার করে বললো, ‘হাই! আমি মাস্কড এভেঞ্জার!’

মাস্কড এভেঞ্জার — বয়স পনের বছরের বেশী হবে না — বাওয়েনের ঠিকানা পাবার মতো যথেষ্ট রসদ সে নিশ্চয়ই পেয়েছিল। বাওয়েন তাকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তার সিস্টেম দেখাল। তাদের বন্ধুত্বও হয়ে গেল। কিন্তু, সেই ঘটনার পরে, বাওয়েনকে তার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোড়দার করার কথা চিন্তা করতে হল। তার ভাষ্যে, সে ‘পুরোপুরি অজ্ঞাতকুলশীল হওয়ার চেষ্টা করল’। সে ক্রেইগ বাওয়েন নাম ধারণ করল, এবং, আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রত্যেকেই তাকে ঐ নামে অথবা তার হ্যান্ডেল থান্ডারবার্ড১ নামে চিনতে শুরু করল। সে পাইয়ের জন্য পাঠানো ডোনেশন সংগ্রহের জন্য বাওয়েন নাম ব্যবহার করে একটা ভুয়া ব্যাংক একাউন্টও খুললো। অবশ্য, বিরাট অংকের টাকা কখনোই পাওয়া যেত না। বেশীরভাগ সময়ই ৫ বা ১০ ডলার পাওয়া যেত। ছাত্রদের হাতে কতোই বা পয়সা থাকত। তবে, সেসব পয়সা সে পাইয়ের পেছনেই খরচ করত।

ইনার স্যাঙ্কটামে ঢুকতে চাওয়ার পেছনে মানুষের নানাবিধ উদ্দেশ্য থাকত। কেউ কেউ নতুন নতুন সফটওয়্যারের বিনামূল্য কপি, বিশেষ করে আমেরিকান বিভিন্ন গেমের পাইরেটেড কপির জন্য ঢুকতে চাইতেন। অন্যরা কম্পিউটারে অনুপ্রবেশের বিভিন্ন তথ্য ও উপায় আদান-প্রদানের জন্য ঢুকতে চাইতেন। সেসব কম্পিউটারগুলোর বেশীরভাগই ছিল বিভিন্ন স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন। এছাড়া কেউ কেউ টেলিফোন লাইন ম্যানিপুলেট করাও শিখতে চাইতেন।