ডে এবং সেক্সটন জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধ করল এবং পিতা ও পুত্রকে আরেকটা ঘরে রেখে এল। তারা একাকী কথা বলার সুযোগ পাওয়ামাত্র, এনথ্রাক্স তার বাবার সাহায্য পাবার জন্য চেষ্টা করল। তার ভিতরের সত্তাটি অবশ্য তখনও তার হ্যাকিং সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে আলাপ না করার জন্য ব্যাকুল হয়ে বলছিল। এই কথাটিই সে অন্য কারও মুখ থেকেও শুনতে চাচ্ছিল।

তার বাবা নিশ্চিতভাবেই সেরকম লোক নন। তিনি কঠোর ভাষায় এনথ্রাক্স’র সমালোচনা করলেন। সে এতো বোকা কী করে হল? তুমি পুলিশকে বোকা বানাতে পারবে না। তারা জানে। দেরি হয়ে যাবার আগেই সবকিছু বলে দাও। দশ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতার পরে, এনথ্রাক্স আগের থেকেও খারাপ বোধ করতে শুরু করল।

দুজনে যখন সাক্ষাতকার কক্ষে ফিরে গেল, এনথ্রাক্স’র বাবা হঠাৎ করে পুলিশদের দিকে ঘুরে বললেন, ‘সে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে।’

এটা সত্য নয়। এনথ্রাক্স সেরকম কিছুই সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার বাবা এক মূর্তিমান বিস্ময়। প্রতিবারই তিনি তার মুখ খুললে, বেফাঁস কথা বলে বসেন।

কেন ডে এবং এন্ড্রু সেক্সটন ভীতু এনথ্রাক্সকে বিভিন্ন দলিলপত্র, তল্লাসির সময় জব্দ করা এনথ্রাক্স’র আঁকিবুকি করা কাগজপত্র, টেলিফোনে আড়িপাতা দেখিয়ে একটু প্রস্তুত করার চেষ্টা করল। এক পর্যায়ে, ডে ‘KDAY’ লেখা একটা হাতে লেখা নোটের দিকে নির্দেশ করল। সে এনথ্রাক্স’র দিতে তাকাল।

‘এটা কী? এটা আমি।’

এতোক্ষণ পর এই প্রথম এনথ্রাক্স হেসে ফেলল। বিষয়টা হাসার মতোই। মেলবোর্ন এএফপি’র কম্পিউটার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান স্বয়ং উপস্থিত, কাজেই তিনি যে বড়কিছু একটার পিছে লেগেছেন সেকথা নিশ্চিত। দিনের আলোর মত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জব্দকৃত একটা ছোট্ট কাগজে হ্যাকারের নিজহাতে লেখা অক্ষরে তার নামটা লেখা রয়েছে। ডে হয়তো এই থেকেই বড়কিছু একটার আশা করে বসে ছিলেন।

এনথ্রাক্স বলল, ‘আপনি যদি ওইখানে কল করেন তাহলে আবিষ্কার করবেন যে এটা একটা রেডিও স্টেশনের নাম।’ আমেরিকার একটা রেডিও স্টেশন। আমেরিকার কাপড়ের দোকান, আমেরিকা-ভিত্তিক আরও একটা রেডিও স্টেশনের নাম এবং কিনতে চাওয়া কয়েকটা রেকর্ডের নাম যে কাগজে সে লিখেছিল সেই কাগজে ওটাও লেখা ছিল।

‘বেশ তো,’ ডে তার এই ত্বরিত সিদ্ধান্তে নিজেই হেসে ফেলল। ‘আমার নামে তাহলে একটা রেডিও স্টেশনও আছে দেখছি।’

ডে এনথ্রাক্সকে জিজ্ঞেস করল সে এইসব কেন ডিরেক্টি পাথ, কোড, এরোর মেসেজ এইসব লিখে রাখে।

‘রেকর্ড রাখার অংশ হিসেবেই রাখি। আমার মনে হয় এগুলো আমি তখন লিখেছিলেন যখন আমাকে প্রথম প্রথম ডায়াল-আপ দেয়া হয়েছিল এবং এভাবে বিভিন্ন জিনিসের নোট টুকে রাখলে আমার বুঝতে সুবিধা হত।’

‘এইসব কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যাপারে তখন আপনার পরিকল্পনা কী ছিল?’

‘ওই সময়, আমি শুধু ঘেঁটেই দেখতাম, কৌতুহল থেকে।’

‘ওই সময়ে সেটা কি এমন কৌতুহল ছিল – “ও আল্লাহ! এইটা তো মজার” নাকি বলা যায় “ভিতরে ঢুকতে পারলে বেশ হয়” এমন কৌতুহল ছিল?’

‘আমি বলতে পারব না তখন আমার মনের ভিতরে কি ছিল। তবে প্রথমে আমি কোনো সিস্টেমে ঢুকে পড়লে – আমি নিশ্চিত আপনারা এসব আগেও শুনেছেন – তবে, কোনো সিস্টেমে প্রথমবার ঢুকতে পারলে, আরও একটা, আরও একটা, আরও একটা, এভাবে একটার পর একটায় ঢোকার নেশা চলতেই থাকে, তবে কিছুদিন পর আর….’ এনথ্রাক্স ব্যাখ্যা শেষ করার জন্য যুতসই শব্দ খুঁজে পেল না।

‘নিষিদ্ধ ফল একবার খাওয়ার পর যে দশা হয়েছিল?’

‘একদম। এটা একটা ভাল উপমা।’

ডে এনথ্রাক্স’র হ্যাকিং নিয়ে আরও প্রশ্ন করার জন্য উঠেপড়ে লাগল। সে ওই হ্যাকারের কাছ থেকে সফলভাবে স্বীকারোক্তি আদায় করে নিলো। এনথ্রাক্স ডে’কে যেকোন পুলিশ অফিসারের চেয়ে অনেক বেশীকিছু দিয়েছে, তবে ততোটা নয় যতোটা পেলে সে খুশী হত।

তবে, এতোটুকুই যথেষ্ট। এনথ্রাক্স’র মা’কে না জড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সেইসাথে এনথ্রাক্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্যও।

[  ]

১৯৯৫ সালের ২৮ আগস্টের আগে এনথ্রাক্স তার বিরুদ্ধে আনীত চূড়ান্ত অভিযোগপত্রের কোনো খবর পেল না। পুরো মামলাটাই যেন অগোছালো মনে হচ্ছিল। তার আইনগত সহায়তাকেন্দ্রের আইনজীবি কম্পিউটারের ব্যাপারের সামান্য জানতেন, আর কম্পিউটার সংক্রান্ত অপরাধের ব্যাপারে তথৈবচঃ। তিনি এনথ্রাক্সকে বললেন যে তিনি মূলতবি রাখার অনুরোধ করবেন কারণ এতোদিনেও চূড়ান্ত অভিযোগপত্র তিনি পাননি, কিন্তু এনথ্রাক্স চাচ্ছিল পুরো বিষয়টা যত দ্রুত সম্ভব চুকে যাক। তারা একমত হয়েছিল যে এনথ্রাক্স অপরাধ স্বীকার করবে এবং একজন গ্রহণযোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আশা করবে।

এনথ্রাক্স বাদীপক্ষের দেওয়া হাতে তৈরি সংক্ষিপ্ত বিবরণটি দেখছিল যেখানে পুলিশকে দেওয়া সাক্ষাতকারের ব্যাপকভাবে সম্পাদিত একটা ট্রান্সক্রিপ্টও যুক্ত ছিল। এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল ‘সংক্ষিপ্তসার’, তবে এতে স্বাভাবিকভাবেই ওই সাক্ষাতকারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর সারবস্তু ছিল না। সাক্ষাতকার দিতে রাজি না হলে পুলিশ যে এনথ্রাক্স’র মা’কেও অভিযুক্ত করার হুমকি দিয়েছিল সেই বিষয়টিই হয় বাদীপক্ষ নাহয় পুলিশ বাদ দিয়েছে।

এনথ্রাক্স বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করল। হাতে লেখা এই সংক্ষিপ্ত বিবরণটিতে কী প্রাসঙ্গিক সবকিছুই যুক্ত থাকার কথা নয়? এগুলো তো তার মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ঘটনা, তবুও পুরো কাগজটায় এসবের কোনোকিছুরই উল্লেখ নাই। সে ভাবতে লাগলো পুলিশ ওই ট্রান্সক্রিপ্টটা এমনভাবে সম্পাদনা করেছে যাতে তারা সাক্ষাতকার থেকে ওই অংশটুকু বাদ দিতে পারে। হয়তো বিচারক একটা জানতে পারলে খুশী হবেন না। তিনি হয়তো ভাববেন, তার মায়ের সাথে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেসবের ব্যাপারে পুলিশ বোধহয় দায় এড়াতে চাইছে।

বিবরণটার বাকি অংশটুকু আর তেমন ভালো হয়নি। সত্যিকার ‘প্রতক্ষ্যদর্শী’ হিসেবে যার জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে সে হল এনথ্রাক্স’র রুমমেট, যে দাবী করেছে যে সে এনথ্রাক্সকে নাসা’র একটা কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করতে এবং ‘কম্পিউটার সিস্টেমটির যে অংশে মহাকাশযানদের অক্ষাংশ/দ্রাঘিমাংশ দেখায় সেই অংশে’ ঢুকতে দেখেছে।

মহাকাশযানের আবার অক্ষাংশ/দ্রাঘিমাংশ থাকে নাকি? এনথ্রাক্স জানেনা। কোনো রুমমেটের সামনে সে অবশ্য কোনোকালেই কোনো নাসা কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করে নাই। উদ্ভট কল্পনা। ছেলেটা মিথ্যা বলছে। এনথ্রাক্স ভাবল, কোনো পাকা আইনজীবি পাঁচ মিনিট জেরা করলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। এনথ্রাক্স’র মন বলছে কয়েকটি অভিযোগের ব্যাপারে বাদীপক্ষের ক্ষীণ সন্দেহ আছে, কিন্তু চতুর্দিক থেকে আসা চাপে সে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে – পরিবার, আদালতক্ষের হৈচৈ, এমনকি তার নিজের আইনজীবির কাগজপত্র না দেখেই হঠকারী সিদ্ধান্ত, সবকিছুর কারণেই।

এনথ্রাক্স ঘরের চারপাশটা দেখে নিলো। বাবার দিকে তার চোখ পড়ল, যিনি বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছিলেন। শাস্তিপ্রদানের সময় এনথ্রাক্স’র আইনজীবি তাকে দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ানোর কথা ভেবেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে পরিবারের কারো উপস্থিতি থাকলে সেটা দেখতে ভাল দেখাবে। এনথ্রাক্স সেই পরামর্শটা মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু সে বুঝতে পারেনি আদালত কীভাবে কাজ করে, কাজেই সে তার আইনজীবির পরামর্শমত কাজ করছিল।

এনথ্রাক্স’র মা তার এপার্টমেন্টেই ছিলেন, খবরের অপেক্ষায়। তিনি রাত্রিকালীন দায়িত্বে ছিলেন এবং তখন তার ঘুমিয়ে থাকার কথা। ওখানে উপস্থিত না থাকার এটাই দৃশ্যমান কারণ। এনথ্রাক্স ভাবছিল এই চাপটা তার উপরে বাড়াবাড়ি আছর ফেলেছে। কারণ যেটাই হোক, তিনি সারাদিন ঘুমোলেন না। তিনি ঘরটা পরিষ্কার করলেন, বাসনপত্র পরিষ্কার করলেন, কাপড় ধুলেন, এবং ওই ছোট্ট ঘরটা তাকে যতোটুকু ব্যস্ত থাকার সুযোগ দিতে পারে তিনি নিজেকে ততোটুকুই ব্যস্ত রাখলেন।

এনথ্রাক্স’র প্রেমিকা, সুশ্রী, চাঁদপনা তুর্কি বালিকাটিও আদালতে এসেছে। সে কখনো হ্যাকিং দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তার পেছনে বসা স্কুলের একদল বাচ্চাকাচ্চা, বিশেষ করে মেয়েরা, গল্প করছিল।

এনথ্রাক্স বাদীপক্ষের দেওয়া চার পৃষ্ঠার ঘটনার সারসংক্ষেপ পড়ছিল। শেষ পাতায় পৌঁছানোমাত্র তার হৃদয় যেন বন্ধ হবার দশা হল। শেষ প্যারাগ্রাফে লেখা:

৩১. দণ্ড

ধারা 85ZF(a) – ১২ মাস, ৬০০ ডলার অথবা উভয় দণ্ড

ধারা 76E (a) – ২ বছর, ১২০০ ডলার অথবা উভয় দণ্ড

শেষ প্যারাগ্রাফটা দেখিয়ে, এনথ্রাক্স তার আইনজীবিকে সেসবের অর্থ জিজ্ঞেস করল। তার আইনজীবি তাকে বললেন যে সে হয়তো কারাদণ্ড পাবে তবে, অতোটা খারাপকিছুও হবে না এবং তাকে ‘এতোটুকু’ সহ্য করতেই হবে। সে, বড়জোড়, এক বা দুই বছরের মধ্যেই ছাড়া পাবে।

কখনো কখনো একজন ধর্ষকও এরচেয়ে কম সাজা পায়। এনথ্রাক্স বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে বাদীপক্ষ তাকে জেল খাটানোর বন্দোবস্ত করেছে। এতো সহযোগিতা করার পরেও, ওই ভয়ানক সাক্ষাতকারের পরেও। তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু যা হবার তাতো হয়েই গেছে। ম্যাজিস্ট্রেট এসে আদালত শুরু করলেন।

এনথ্রাক্স ভাবলো এখন আর সে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না এবং সে ইতিমধ্যেই ২১টি অভিযোগের বিপরীতে দোষ স্বীকার করে নিয়েছে, যার মধ্যে তথ্য সংযোজনের একটি এবং বিশটি প্রতারণা অথবা প্রতারণা চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

তার আইনজীবি মামলাটা এমনভাবে উপস্থাপন করলেন যাতে কম শাস্তি হয়। তিনি এনথ্রাক্স’র বাবাকে ডেকে নিলেন এবং তাকে তার পুত্রের ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। তার বাবা ভালোর চেয়ে ক্ষতিই করলেন বেশী। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, তার পুত্র আবার অপরাধ করবে কিনা, তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি জানিনা।’

এনথ্রাক্স’র মুখটা পাংশুবর্ণ হয়ে গেল। তাছাড়া আরও উদ্ভট কিছু ব্যাপারও ছিল। বিচারের খুব বেশীদিন আগে নয়, মাত্র দুইদিন আগে এনথ্রাক্স অবিষ্কার করল যে তার বাবা দেশের বাইরে যাবার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বিদেশে যাচ্ছেন, সেকথা স্ত্রীকে জানালেন, কিন্তু, মামলার শুনানির আগেই যাচ্ছেন সেকথা বললেন না। হঠাৎ করেই তিনি তার আগেভাগেই চলে যাবার গোপন পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন। হয়তো তিনি হয়তো তার পুত্রের মামলাটাকে বিপাকে ফেলতেই এই কাজ করতে যাচ্ছিলেন। এনথ্রাক্স’র মা তাকে থাকতে জোরাজুরি করলেন এবং ঝগড়াঝাঁটি করেই তার যাবার সময় পিছিয়ে দিলেন।

তার বাবা এনথ্রাক্স এবং তার আইনজীবির থেকে সামান্য দূরে বসে ছিলেন। তার আইনজীবি বাদীপক্ষের তুলনায় বেশ রঙচঙে। তিনি তার বেঞ্চে পায়ের উপর পা তুলে বসে, হাঁটুর উপর কনুই রেখে লম্বা দাড়িতে হাত বুলাচ্ছিলেন। বেশ দর্শনীয় দাড়ি, এক ফুটেরও সামান্য বেশী হবে লম্বায় এবং ঘন লালচে বাদামী কোঁকড়া ধাঁচের। এটা তার দুইরঙা চকলেট-বাদামী রঙের স্যুট এবং সোনালি রঙের উদ্ভট প্যাটার্নের একটা দমবন্ধকর টাইয়ের সঙ্গে কেমন করে যেন মানিয়েও গিয়েছিল। স্যুটটা আকারে বেশ ছোট। তিনি আদালতের প্রচলিত ভঙ্গিতে শুরু করলেন – শুধু শুধু অনেক কথা বললেন। তারপর তিনি আসল কথাটি পাড়লেন।

‘ধর্মাবতার, এই বাচ্চা ছেলেটি সব ধরণের জায়গায়ই গিয়েছিল। নাসা, মিলিটারি সাইট, এমন আরও অনেক জায়গা যা আপনার বিশ্বাসও হতে চাইবে না।’

‘সে কোথায় কোথায় গিয়েছিল সেসব জানার প্রয়োজনও বোধহয় আমার নাই।’ ম্যাজিস্ট্রেট একটু ঝুঁকে জবাব দিলেন।

এই বুদ্ধিটা  ছিল এনথ্যাক্স’র। ভেবেছিল, সে যে বিভিন্ন স্পর্শকাতর সিস্টেমে ঢুকেছিল একথা তাকে দিয়ে বলিয়ে দায় স্বীকার করে বলবে যে, তবে সে ওইসব জায়গায় কোনোটারই কোনো ক্ষতিসাধন করেনি।

বুদ্ধিটা কাজ করল এবং ম্যাজিস্ট্রেট ঘোষনা দিলেন যে এই বাচ্চা হ্যাকারকে জেলে পাঠাবার কোনো ইচ্ছা তাঁর নাই।

বাদীপক্ষকে দারুণ আশাহত দেখাল এবং তারা একটা পাল্টা প্রস্তাব পেশ করল – ১৫০০ ঘন্টার সামাজিক কর্ম। এনথ্রাক্স দমবদ্ধ করে অপেক্ষা করছিল। উদ্ভট প্রস্তাব। পুরো সময় শেষ হতে নয়মাসেরও বেশী সময় লেগে যাবে। ঘরবাড়ি রং করা, টয়লেট পরিষ্কার করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা মাথায় উঠবে। এটা জেলের মতোই বাজে ব্যাপার হবে।

এনথ্রাক্স’র আইনজীবি প্রতিবাদ করলেন। ‘ধর্মাবতার, এই দণ্ডটা যেন সাইবার দুনিয়ার বাইরের আবদার।’ এনথ্রাক্স ওই অদ্ভুত শব্দে কুঁকড়ে গেল, কিন্তু তার আইনজীবিকে বেশ খুশী দেখাল।

ম্যাজিস্ট্রেট বাদীপক্ষের দেওয়া সময়সীমাকে নাকচ করে দিলেন। এনথ্রাক্স’র প্রেমিকা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি মুগ্ধ হয়ে গেল। আইন বা আদালতের ব্যাপারে তার তেমন কোনো ধারণা ছিল না, কিন্তু তাঁকে বেশ নিরপেক্ষ লোক বলেই মনে হল। তিনি এনথ্রাক্সকে কোনো কঠিন শাস্তি দিতেই নারাজ। কিন্তু তিনি বললেন যে এনথ্রাক্স, বেঞ্চে বসা স্কুলের বাচ্চাদের এবং সাধারণ মানুষকে তাঁর এই কথাই বলার আছে যে, আইনের চোখে হ্যাকিং অপরাধ। এনথ্রাক্স শিক্ষার্থীদের দিকে পেছন ফিরে তাকালো। তাদের দেখে মনে হল তেরো-চৌদ্দ বছর বয়স হবে, ঠিক সেই বয়সটাই, যে বয়সে সে হ্যাকিং এবং ফ্রিকিঙে জড়িয়ে পড়েছিল।

ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড শোনালেন। ২০০ ঘন্টার সামাজিক কর্ম এবং টেলিকম এবং কানাডার টেলিগ্লোব টেলিকম কোম্পনিকে ৬১১৬.৯০ ডলারের জরিমানা দিতে হবে। জেল হয়নি ঠিকই, তবে যেকোন শিক্ষার্থীর জীবনটা নষ্ট করার জন্য টাকার অংকটা বিরাট। জরিমানা পরিশোধ করার জন্য তার হাতে এক বছরের সময় রয়েছে, এবং অনিবার্যভাবেই এরচেয়ে বেশী সময় লাগবে। তবে, অন্তত সে মুক্তি পেয়েছে।

এনথ্রাক্স’র প্রেমিকা ভাবলো খিলখিল করে হাসতে থাকা স্কুলের বাচ্চাদের পেছনে বসা আজকের দিনে একদম উচিত হয়নি। তারা হাসাহাসি করে এবং এদিক ওদিক দেখিয়ে ফিসফিস করে। আদালত যেন একটা খেলার জায়গা। ম্যাজিস্ট্রেটের সতর্কবাণীকেও তারা গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছে বলে মনে হয় না। তারা হয়তো তাদের পরবর্তী পার্টি নিয়েই গল্প করছে। কিংবা হয়তো নতুন স্নিকার বা নতুন কোনো সিডির ব্যাপারে কথা বলছে।

এবং হয়তো তাদেরই কেউ একজন বা দুজন বিড়বিড় করে বলছে নাসাতে অনুপ্রবেশ করা না জানি কতোই মজার ব্যাপার।