এনথ্রাক্স বুঝতে পারল না তার কি বলা উচিত। যারা তার মাকে হুমকি দিয়েছে সেই লোকদেরকে সে এতো সম্মান দিয়ে কেন কথা বলবে?

জিজ্ঞাসাবাদের ঘরটি ছোট কিন্তু জিনিসপত্রে ভরা। ডজনখানে বাক্সের প্রতিটির উপরে লেবেল লাগানো।

সেক্সটন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল। ‘২৯ নভেম্বর ১৯৯৪, ৩৮৩ ল্যাটরোব স্ট্রিট, মেলবোর্নের অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিশ হেডকোয়ার্টারে এই জিজ্ঞাসাবাদ ধারণ করা হচ্ছে।’ সে উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম বলল এবং প্রত্যেককে পরবর্তীতে কণ্ঠ সনাক্তকরণের জন্য নিজের নিজের পরিচয় দিতে বলল।

‘যেমনটা আগেই বলেছি, ডিটেক্টিভ সার্জেন্ট ডে এবং আমি যৌথভাবে আপনার বিরুদ্ধে প্রাইভেট অটোমেটেড ব্র্যাঞ্চ এক্সচেঞ্জেস (পিএবিএক্স) এর ভিতরে টেলিকম ০০৮ নম্বর ব্যবহার করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনামূল্য ফোন কল করার কৌশলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আপনি কি এই অভিযোগ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছেন?’

‘জ্বী।’

সেক্সটন প্রয়োজনীয় এবং জরুরী প্রাথমিক কথাবার্তা বলে নিলেন। এনথ্রাক্স বুঝতে পেরেছে কিনা যে সেকোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে বাধ্য নয়? যে, আইনজীবির সঙ্গে যোগাযোগ করার অধিকার তার রয়েছে? যে, সে এই জিজ্ঞাসাবাদে তার নিজের ইচ্ছায় অংশগ্রহণ করেছে? যে, সে যেকোন সময় চাইলেই চলে যেতে পারে?

জ্বী, এনথ্রাক্স প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরে বলল।

সেক্সটন আরও কিছু আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা সেরে নিয়ে অবশেষে মূল আলোচনায় ঢুকে গেল – টেলিফোন সংক্রান্ত আলোচনা। সে বাক্সগুলোতে আতিপাতি খুঁজে অবশেষে একটা মোবাইল ফোন বের করল। এনথ্রাক্স নিশ্চিত করল যে সেটা তার ফোন।

‘ওই ফোনটা দিয়েই কি আপনি ০০৮ নম্বর সম্বলিত সংযোগগুলোতে কল করতেন?’ সেক্সটন বলল।

‘জ্বী।’

‘ওই ফোন নম্বরের সঙ্গে একটা পূর্ব-নির্ধারিত নম্বরও থাকত। আপনি একমত?’

‘জ্বী।’

‘এই ফোনটা থেকে ওইসব নম্বরের রেকর্ড উদ্ধার করতে গিয়ে আমি অনেক বেগ পেয়েছি।’ এনথ্রাক্স’র স্পিড-ডায়ালের নম্বরগুলোকে তার মোবাইল থেকে হ্যাক করতে পেরেছে বলে সেক্সটনকে খুবই খুশী দেখাল। ‘২২ নম্বর নম্বরটি আমার নজর কেড়েছে। এটা এরন নামে যুক্ত আছে। ইনি কি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সেই এরন যার কথা আপনি আগেও বলেছিলেন?’

‘জ্বী, কিন্তু সে সবসময়ই ঠিকানা পরিবর্তন করে। তাকে নজরে রাখা কঠিন।’

সেক্সটন আরও কয়েকটা নম্বরের কথা বলল, যেগুলোর বেশীরভাগই এনথ্রাক্স লুকিয়ে রেখেছিল। সে এনথ্রাক্সকে ফোন সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করা, বিশেষ করে যেভাবে সে অস্ট্রিলিয়ান কোম্পানিগুলোর ০০৮ বিশিষ্ট নম্বরগুলো থেকে বিদেশে ফোন করত সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করল।

এনথ্রাক্স এই ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বললে, সেক্সটন আরও কিছু স্পিড-ডায়াল নম্বরের কথা বলতে শুরু করল।

‘নম্বর ৪৩। আপনি চিনতে পারছেন এটা?’

‘ওটা সুইডিশ পার্টি ফাইনের নম্বর।’

‘আর এইগুল? যেমন ৭৮? এবং ৩০?’

‘আমি নিশ্চিত নই। এগুলোর কোনোটার ব্যাপারেই আমি বলতে পারব না। অনেকদিন হয়ে গেছে,’ বলেই এনথ্রাক্স থামলো, টেবিলের অপরপ্রান্ত থেকে আসা চাপটা বোঝার চেষ্টা করল। ‘এইখানকার নম্বরগুলো, আমার শহরের নম্বর। কিন্তু আমি জানিনা কাদের। প্রায়ই, যেহেতু আমার কাছে সবসময় কাগজ কলম থাকতো না, তাই আমি ফোনে বিভিন্ন নম্বর টুকে রাখতাম।’

সেক্সটনকে অখুশী দেখালো। সে ঠিক করলো আরেকটু শক্ত হবে।

‘আমি খুবই আবছা উত্তর পাচ্ছি। ০০৮ নম্বরগুলোর ব্যাপারে যতোটুকু আপনি স্বীকার করেছেন, আমার মনে হয়, আপনি এইধরণের অপরাধমূলক কাজটি আপনার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা দিয়েই আত্মস্থ করেছেন।’ এ কথা বলে নিজেই ধরা খেলেন। ‘ঠিক অপরাধ নয়। বরং, এইসব কাজে আপনার সংশ্লিষ্টতা…আমার ধারণা আপনি আরও বেশীকিছু জানেন…আমি বলছি না আপনি মিথ্যা বলছেন, আমাকে ভুল বুঝবেন না, কিন্তু আপনি যতোটুকু জানেন তার সবটুকু প্রকাশ না করে যেন এড়িয়ে যাচ্ছেন। এবং সেইসঙ্গে অন্যেরাও আপনাকে কেমন করে খুঁজেছে সেসবও।’

আর এভাবেই টেবিলে যেন হাতমোজাটা খুলে ফেলা হল। আর এনথ্রাক্স সেটা তুলে নিল।

‘তারা আমাকে খুঁজেছে? এটা শুধু একটা সন্দেজমাত্র। সত্যি বলতে, আমি বিশেষ কিছুই জানিনা। তাই, আমি আপনাকে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বা এইরকম কোনোকিছুর ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না। আগে, অন্যেরা আমাকে খুঁজে বেড়াত আমার ধারণা তারা আমার মধ্যে নেতৃত্বের কোনো আভাস পেয়েছিল কারণ, আপনারা হয়তো জানেন, বহুকাল আগে আমি কাজটা করতাম এবং সেইজন্য আমার একটু নামডাক তৈরি হয়েছিল। তখন থেকেই আমি ঠিক করি যে আমি আর এসব করব না।’

‘তখন থেকেই?’ সেক্সটন দ্রুতই লক্ষ্যচ্যূত হলেন।

‘না। তারও আগে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, “আমি আরে এসব নিয়ে কিছু করব না। এটা খুবই বোকার মত কাজ।” আমার প্রেমিকার সাথে যখন বিচ্ছেদ হল…আমি আবারো ফিরে এলাম। আমি এটা বলতে চাচ্ছিনা যে আমি এসবের জন্য বেশী দায়ী নই তবে আমি বলব আমি ০০৮ নম্বর সম্বলিত কোনো নম্বরই নিজে তৈরি করিনি। এগুলো অন্য লোকেদের স্ক্যান করা নম্বর। কিন্তু আমি কল করেছি এবং স্বীকার করছি আমি অসংখ্যবার এইরকম বোকামি করেছি।’

সেক্সটনকে দেখে মনে হল যেন মওকা গেছে।

‘আমার কিন্তু মনে হয়েছে আপনি এতে অভ্যস্থ…আমি জানিনা, আপনার বাবা এখানে উপস্থিত থাকার কারণেই কিনা বা…আমি এমন কথাও জেনেছি যে “এনথ্রাক্স এইসব ব্যাপারে যেন প্রবাদপুরুষ, এবং সে নিজেই যেন একজন স্ক্যানার, আর এক্স.২৫, টাইমনেট, হ্যাকিং, ইউনিক্স এইসব ব্যাপারে কথা বলার সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ। একেবারে যাকে বলে সর্ববিদ্যায় পারদর্শী”।’

এনথ্রাক্স এই টোপটা গিললো না। পুলিশেরা সবসময়ই এই লাইনে চেষ্টা করে। হ্যাকারদের ইগো নিয়ে খেলে, অহংকারী হয়ে উঠতে উস্কানি দেয়। একেবারে জলের মত স্বচ্ছ।

‘এসব সত্য নয়,’ সে উত্তর দিল। ‘আমি এসব কিছুই জানিনা…আমি প্রোগ্রাম করতে জানিনা। আমার একটা এক মেগাবাইটের মেমোরিওয়ালা এ্যামিগা আছে। কম্পিউটারের উপরে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও নাই।’

এই কথাগুলো অবশ্যই সত্য। সবকিছুই নিজে নিজে শেখা। তবে, সবটুকু নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সে প্রোগ্রামিঙের একটা ক্লাস করেছিল, কিন্তু সেখানে সে ফেল করেছিল। লাইব্রেরিতে গিয়ে সে বাড়তি কিছু গবেষণাও করেছিল, সেগুলো তার কোর্সের ফাইনাল প্রজেক্টে ব্যবহারও করেছিল। তার বেশীরভাগ সহপাঠীই সামান্য কিছু সুবিধা সম্বলিত সাদামাটা ২০০ লাইনের প্রোগ্রাম লিখেছিল, তারটা ছিল ৫০০ লাইনের এবং এতে বেশকিছু বিশেষ সুবিধা ছিল। কিন্তু লেকচারার বাগড়াটা দিল। তিনি বললেন, ‘তোমার প্রোগ্রামের বিষয়গুলো তো কোর্সে শেখানো হয়নি।’

সেক্সটন জিজ্ঞেস করল এনথ্রাক্স কার্ডিঙের সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা, যেটা সে বিনীতভাবে অস্বীকার করল। এরপর সেক্সটন আবার স্ক্যানিঙের ব্যাপারে ফিরে গেল। এনথ্রাক্স কতোটুকু করেছে? সে কি হ্যাকারদের নম্বর দিতো? এনথ্রাক্স ছল করছিল, এবং দুজন পুলিশই ক্রমে অধৈর্য্য হয়ে পড়ছিল।

‘আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল আমার মনে হয়, আপনার স্ক্যানিঙের মাধ্যমেই, আপনি অন্যান্যদের আইন ভাঙতে সাহায্য করতেন বা এইরকম কিছু।’ সেক্সটনের তুরুপের তাস বেরিয়ে গেল।

‘একটা টেলিফোন ডিরেক্টরি একজনকে যতোটুকু সাহায্য করতে পারে আমিও ঠিক ততোটুকুই সাহায্য করতাম, কারণ এগুলো আসলেই একটা তালিকার মতোই জিনিস। আমাকে আসলে অনুপ্রবেশ করতে হত না। আমি শুধু এগুলোর ভিতরে ঘুরে দেখতাম।’

‘এই ভয়েস মেইলবক্স সিস্টেমগুলো অবশ্যই মানুষের জিনিস। আপনি যখন এরকম কোনো ভিএমবি পেতে তখন কী করতেন?’

‘শুধু নেড়েচেড়ে দেখতাম। কাউকে দিয়ে বলতাম, ‘জিনিসটা দেখো। মজার জিনিস,” এইসবই।’

‘যখন আপনার ভাষ্যমতে আপনি নেড়েচেড়ে দেখেন, তখন তো ভিএমবি’র কোড ভাঙতে হয়?’

‘না। শুধু নেড়েচেড়েই দেখি। আমি ভিএমবি’র কোড ভাঙতে তেমন একটা পারদর্শী নই।’

সেক্সটন ভিন্ন পথ অনুসরণের চেষ্টা করল। ‘১-৯০০ দিয়ে শুরু নম্বরগুলো কী? ওই কাগজের শেষের দিকে ১-৯০০ওয়ালা একটা নম্বর আছে। এগুলো দিয়ে কী হয় সাধারণত?’

সহজ প্রশ্ন। ‘আমেরিকায় ওগুলোর দাম বোধহয় প্রতি মিনিট ১০ ডলার। ওগুলো দিয়ে বোধহয় কল করা যায়, এবং সব ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা যায়, যেমন: পার্টি লাইন ইত্যাদি।’

‘এটা কনফারেন্স কল জাতীয় কিছু?’

‘জ্বী।’

‘আরেকটা কাগজ, প্লাস্টিকের খাপে ঢুকানো, গায়ে লেখা এএস/এবি/এস/১। এটা কি কোনো স্ক্যান? আপনি কি আপনার হাতের লেখা চিনতে পারছেন?’

‘জ্বী, এটা আমারই হাতের লেখা। এটাও আগের মত একটা স্ক্যান। কয়েকটা বাণিজ্যিক নম্বরে কল করেছিলাম এবং টুকে রেখেছিলাম।’

‘আর আপনি যখন কোনোকিছু পেয়ে যেতেন, তাহলে কী করতেন?’

কোনো স্ক্যানিং গ্যাঙের মাথা হবার কোনো খায়েশ এনথ্রাক্স’র ছিল না। সে একজন সামাজিক অথচ এককী লোক, কোনো দলের সাথে কাজ করে নাই।

‘আমি শুধুমাত্র দেখতাম, যেমন এই যে এই ৬৩০ নম্বরওয়ালা ঘটনার ক্ষেত্রে। আমি এলোপাতাড়ি কয়েকটা নম্বর দিয়েছিলাম এবং বলা হল ১১৩ অন্যকোথাও ডাইভার্ট করে দেয়, ১১৫ দিলে বিদায় জানায়, ইত্যাদি। আমি এইসবই করতাম এবং বার বার এইসবই করার জন্য ফিরে আসতাম।’

‘এবং আপনি বলতে চাচ্ছেন যে আমিও যদি ফোনবুক ঘাঁটতে বসি তাহলে আমিও এইসমস্ত তথ্য পাব?’

‘না। এগুলো হল অনেকটা টেলিফোনবুকের মতোই একগুচ্ছ নম্বরের তালিকা।’

‘আর ১-৮০০ নম্বরের বিষয়টা কী?’

‘ঠিক ০০১৪ এর মতোই।’

‘১-৮০০ নম্বরে কল দিলে কোথায় যাবে?’

এনথ্রাক্স ভাবতে লাগল কম্পিউটার ক্রাইমস ইউনিট তাদের কারিগরি দক্ষতা হ্যাকারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েই বাড়াতে চাচ্ছে কিনা।

‘আপনি ০০১৪ অথবা ১৮০০ যেকোনোটা ব্যবহার করতে পারেন। একই কথা।‘

‘এটা কি কানাডা – ০০১৪?’

‘এটা সবখানে।’ উপস। এতো আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলা যাবে না। ‘তাইনা?’

‘না, আমি পরিচিত না।’ এনথ্রাক্সও এতোক্ষণ এটাই ভাবছিল।

সেক্সটন বলেই চলল। ‘কাগজের শেষদিকে আরও কিছু স্ক্যান রয়েছে….’

‘সবগুলোই একই জিনিস। ভিতরে কি আছে শুধুমাত্র সেই বিষয়ে নোট নিন। এই যে এখানে, ৫৪৪ বক্সটি একজন মহিলার…’

‘তাহলে, এবারও আপনি এই ধরণের তথ্য ব্রিজে ছেড়ে দিয়েছিলেন?’

‘সবটুকু নয়। বেশীরভাগই আমার কাছেই রাখতাম এবং কখনো সেগুলো ফিরে দেখাও হত না। আমি একেবারে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। স্ক্যান করা কী বেআইনী?’

‘আমি বলছি না বেআইনী। আমি শুধু দেখাতে চাচ্ছি যে আপনি সত্যিই এসবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমি একটা ছবি দাঁড় করাবার চেষ্টা করছি এবং ধীরে ধীরে একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং ছবিটা আমি দাঁড় করাচ্ছি এটা দেখানোর জন্য যে…’ সেক্সটন এরপর নিজেকে সংবরণ করে মুখটা এমনভাবে রাখলো যাতে সরাসরি তাকাতে না হয়। ‘আমি বলছি না যে আপনি এসব এখন করেন, কিন্তু আগে এইসব অপরাধ যখন আপনি করতেন, তখন সত্যিই আপনি টেলিফোন সিস্টেম বা ভয়েস মেইলবক্স স্ক্যানিঙের কাজটাও করতেন… আমি এমন দাবীও করছি না যে আপনিই ০০৮ সিরিজের নম্বরগুলো বের করেছিলেন কিন্তু আপনি…টেলিকমের ক্ষতি করতে কিছু করেছিলেন। আপনি অবশ্যই তাতে জড়িত ছিলেন এবং অন্যদেরও সাহায্য করেছিলেন।’

এনথ্রাক্স অভিযোগ স্বীকার করল। ‘টেলিকমের ক্ষতি করার জন্য আমি কোনোকিছু করি নাই।’

সেক্সটন টীপ্পনী কেটে বলল, ‘কথাটা বোধহয়…অনেক দুর্বল শোনাচ্ছে।’

সে হ্যাকিঙের বিষয়টা ধীরে ধীরে সামনে নিয়ে আসতে লাগল, পুলিশের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি যে, এসব ব্যাপারে যে কোনো আলাপ হবে কিনা। এনথ্রাক্স একটু ঘাবড়ে গেল, এমনকি কেঁপেও উঠল।

এনথ্রাক্স বিরতি দিতে চায় কিনা তা জিজ্ঞেস করল ডে।

‘না।’ সে উত্তর দিল। ‘আমি শুধু এসব দ্রুত শেষ করে উঠতে চাই, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে। আমি মিথ্যা বলব না। আমি ‘মন্তব্য করব না’ কথাটিও বলব না।’ আমি সবকিছু স্বীকার করে নিব কারণ ‘আমাকে বলা হয়েছে যে এসবকিছুই আমার ভালোর জন্যই আমাকে করতে হবে।’

পুলিশেরা একটু থামল। শেষের মন্তব্যটা তারা বোধহয় আশা করেনি। ডে সব বিষয় পরিষ্কার করতে শুরু করল।

‘আলাপ আরও এগোবার আগে, আপনাকে যে কথা বলা হয়েছিল যে, সত্য বলাই নাকি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। এই কথাটা কী এএফপি’র কেউ আপনাকে বলেছিলেন?’

‘জ্বী।’

‘কে?’ ডে প্রশ্নটা দ্রুত ছুঁড়ে দিল।

এনথ্রাক্স তাদের নাম মনে করতে পারল না। ‘যারা আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমার যদ্দূর মনে পড়ে এন্ড্রুও এই কথা আমাকে বলেছিলেন’ লাল-চুলো কনস্টেবলের দিকে মাথা নাড়িয়ে সে জবাব দিল।

এই পুলিশেরা হঠাৎ করেই এমন অস্বস্তিতে পড়ে গেল কেন? তারা যে এনথ্রাক্স এবং তার মাকে বারবার বলেছিল যে জিজ্ঞাসাবাদে সত্য বলাই তার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, এতো কোনো গোপন কথা নয়।

ডে সামনে ঝুঁকে এলে, এনথ্রাক্স’র দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই কথার অর্থ আপনি কি বুঝেছেন?’