এনথ্রাক্স’র মোবাইলে বেজে উঠল। তার মা ফোন করেছেন। করারই কথা। পুলিশ তাকে ফোনটা ধরতে দিবে না।

লম্বা অফিসারটি ফোনটা ধরল, তারপর গাট্টাগোট্টা অফিসারকে দিয়ে দিল এবং ভারতীয় উচ্চারণের ব্যাঙ্গ করে বলল, ‘ভারতীয় উচ্চারণওয়ালা এক মহিলা কথা বলবেন।’ এনথ্রাক্স’র মনে হল চেয়ার ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে গিয়ে ফোনটা কেড়ে নেয়। আরও কিছু করার জন্য তার হাত নিশপিশ করলেও, ওসব করলে নিশ্চিতভাবেই তাকে জেলে যেতে হবে।

গাট্টাগোট্টা অফিসারটি লম্বা অফিসারটির দিকে মাথা নাড়লো, যে এনথ্রাক্সকে মোবাইলটা দিল।

প্রথমে, সে বুঝতেই পারছিল না তার মা কি বলছিলেন। তিনি ভয় পেয়ে সব গুলিয়ে ফেলছিলেন। এনথ্রাক্স তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তারপর তিনি এনথ্রাক্সকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।

‘চিন্তা কোরো না। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে,’ তিনি বারবার বলতে থাকলেন। এনথ্রাক্স যাই বলুক না কেন, তিনি মন্ত্রের মত ওই একই কথা বলতে থাকলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি যেন নিজেকেই সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। এনথ্রাক্স শুনলো তিনি তার চারপাশের হৈচৈ থামানোর জন্য চেষ্টা করছেন। সে পেছন থেকে হৈচৈয়ের শব্দও শুনতে পেলো এবং আন্দাজ করলো পুলিশই তার ঘরদোর তছনছ করছে। হঠাৎ তিনি যেতে হবে বলে ফোন কেটে দিলেন।

এনথ্রাক্স ফোনটা পুলিশের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! সে বিশ্বাসই করতে পারছে এতোসব তার সঙ্গে ঘটে যাচ্ছে। পুলিশ কেমন করে তার মাকে মেলবোর্নে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা চিন্তা করতে পারে? একথা সত্য যে সে বাড়ির অফিসিয়াল ফোন থেকে ফ্রিকিং করতো, কিন্তু তার মায়ের তো হ্যাক বা ফ্রিক সম্পর্কে কোনো ধারণাই নাই। তার মায়ের নামে অভিযোগ আনার মানেই হল তাকে মেরে ফেলার আয়োজন করা। তার এই মানসিক এবং শারীরিক অবস্থার মাঝে এমন হলে, তিনি একেবারে অচল হয়ে যাবেন, হয়তো আর কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।

তার হাতে খুব বেশী উপায় ছিল না। একজন পুলিশ তার মোবাইল ফোনটা স্বচ্ছ প্লাসিক ব্যাগের মধ্যে তুলে জব্দ করতে যাচ্ছিল। কোনো আইজীবির সঙ্গে যোগাযোগ করার পথও আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ, কারণ পুলিশ তাকে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে দিবে না আবার পে ফোনও ব্যবহার করতে যেতে দিবে না। তারা মেলবোর্নে গিয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বকতেই থাকল।

‘সহযোগিতা করাই আপনার জন্য সবচেয় ভাল হবে,’ একজন পুলিশ তাকে বলল। ‘আমাদের সঙ্গে যাওয়াই এখন আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে।’

কথাটা নিয়ে এনথ্রাক্স এক মুহূর্ত ভাবল, একজন পুলিশের মুখ থেকে এমন কথা শুনে তার হাসি পেল। এমন নির্জলা মিথ্যা কথা এতো সহজভাবে বলে দিল! তার মায়ের সাথে এমন ভয়ংকর ঘটনাগুলো না ঘটলে এইসব শুনতে খুবই হাস্যকর লাগত। সে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হল, তবে অন্যকোনো একদিন বসার শর্তে।

পুলিশ তার গাড়িতে তল্লাসি করতে চাইল। এনথ্রাক্স’র সেটা পছন্দ হল না,যদিও গাড়িতে কোনো অবৈধ জিনিসপত্র ছিল না। শীতের সকালে সে ঘরের বাইরে বের হওয়ামাত্র একজন পুলিশ তার পায়ের দিকে তাকাল। মুসলিম রীতি অনুযায়ী ঘরের মধ্যে জুতা খুলে রাখার নিয়ম মতে সে খালি পায়েই ছিল। পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করলো ঠান্ডা লাগছে কিনা।

অন্য আরেকজন পুলিশ এনথ্রাক্স’র মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল, ‘ নাহ। ফাংগাসই এদের পাকে গরম রাখে।’

এনথ্রাক্স ক্রোধ সংবরণ করল। বর্ণবিদ্বেষের সঙ্গে সে মানিয়ে নিয়েছিল, এবং বেশীরভাগ সময় এসব করতো পুলিশ। কিন্তু এবার সব ছাড়িয়ে গেল।

যে শহরে থেকে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত, সেখানকার সবাই ভাবত যে সে আদিবাসী। ওই ছোট্ট গ্রামের মত শহরটিতে শুধুমাত্র দুটি জাতিই বাস করত – সাদা এবং আদিবাসী। ভারতীয়, পাকিস্তানি, মালয়, বার্মিজ, শ্রীলংকানে কোনো পার্থক্য ছিল না। এরা সবাই আদিবাসী হিসেবেই বিবেচিত হত এবং সেইরকম ব্যবহারই পেত।

একবার যখন সে বাড়ির উল্টাপাশের পে ফোনে কথা বলতো, তখন পুলিশ তাকে বের করে জিজ্ঞেস করেছিল সে এখানে কী করছে। ফোনে কথা বলছি, সে তাদের বললো। স্বাভাবিক একটা ঘটনা। অথচ তারা পরিচয় জানতে চাইল, তার পকেট থেকে সমস্ত জিনিসপত্র বের করিয়ে নিল, যেখানে একটা ছোট্ট মোবাইল ফোনও ছিল। তারা তাকে বলল, তার মোবাইলটা নিশ্চয়ই চোরাই। পনের মিনিট এবং আরও বেশকিছু অভিযোগ এনে, তারা অবশেষে মৃদু দুঃখপ্রকাশ করে তাকে যেতে দিল। ‘আচ্ছা, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন,’ একজন পুলিশ বলল, ‘আমরা আপনার মত খুব বেশী মানুষকে এই অঞ্চলে দেখিনি তো, তাই।’

হ্যাঁ। এনথ্রাক্স বুঝেছিল। কালো-চামড়ার কোনো বাচ্চা পাবলিক টেলিফোন ব্যবহার করলে ব্যাপারটা খুবই সন্দেহজনক তো হবেই। মারাত্মক সন্দেহজনক।

তবে, এনথ্রাক্সই শেষ হাসিটা হেসেছিল। ওইসময় সে কানাডায় একটা ফ্রিক কলের মধ্যে ছিল এবং পুলিশ আসার পরও সে ফোনটা রাখার প্রয়োজন মনে করেনি। সে ফ্রিকারদের অপেক্ষা করতে বলেছিল। পুলিশ চলে যাবার পর, সে যেখানে রেখে গিয়েছিল সেখানে থেকেই আবার আলাপ শুরু করেছিল।

এই ধরণের ঘটনাগুলো তাকে শিখিয়েছে যে কখনো কখনো পুলিশদের সঙ্গে খেলাই সবথেকে ভালো বুদ্ধি। তাদেরকে তাদের খেলাটা খেলতে দাও। তাদের কথায় ভয় পেয়েছ এমন ভাব ধরো। তাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসতে পারো তবে তাদেরকে কোনো তথ্য দিও না। কাজেই সে ওই ফাংগাস সংক্রান্ত মন্তব্যটা গায়ে মাখলো না এবং পুলিশদেরকে তার গাড়ির কাছে নিয়ে গেল। তারা কিছুই পেল না।

অবশেষে পুলিশ যখন সবকিছু গুছিয়ে চলে যেতে ধরল, তখন তাদের একজন এসে এএফপি’র ফোন নম্বরওয়ালা একটা বিজনেস কার্ড ধরিয়ে দিল।

‘সাক্ষাৎকারের সময় ঠিকঠাক করার জন্য কল দিয়েন,’ সে বলল।

‘নিশ্চয়ই,’ এই বলে এনথ্রাক্স দরজা বন্ধ করে দিল।

[  ]

এনথ্রাক্স পুলিশকে ঘুরাতেই থাকলো। যখনই তারা কল করে সাক্ষাৎকারের জন্য পীড়াপীড়ি করে, সে বলে ব্যস্ত আছে। কিন্তু যখন তারা তার মায়ের কাছে ফোন করতে শুরু করল, তখন মুশকিলটা হয়ে গেল। তারা হুমকি দিলেও, পরক্ষণেই তার মাকে আস্বস্তও করছিল এবং ভদ্রভাবে, এমনকি ক্ষমা চাইবার ভঙ্গিতেও কথা বলছিল।

‘শুনতে খারাপ লাগলেও,’ এদের একজন বলল,‘আমরা আপনার বিরুদ্ধেও এনথ্রাক্স’র কৃতকর্ম, যেমন: হ্যাকিং, ফ্রিকিং এইসবের অভিযোগ আনতে বাধ্য হব, যদি না সে আমাদেরকে সহযোগিতা করে। বুঝতে পারছি কথাটা হাস্যকর শোনাচ্ছে, তবুও আমরা আমাদের ক্ষমতার মধ্যে থেকেই এই কাজটা করতে পারি। আসলে আইনে এরকমই বলা আছে কারণ ফোনটা তো আপনার নামেই নেওয়া হয়েছিল।’

সেই বিখ্যাত ‘আপনার পুত্রের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি সে আমাদেরকে সহযোগিতা করে’ লাইনটার কথাই তার মনে পড়ে গেল, এটা মহা উৎসাহে তারা দিয়েছিল।

এনথ্রাক্স ভেবে আশ্চর্য হল যে তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোনো কথা কেন বলা হচ্ছে না, যার নামে বাড়ির আসল টেলিফোন নম্বরটা রয়েছে। সেই লাইনটা দিয়েও বেশকিছু অবৈধ কল করা হয়েছিল।

তার মা দুশ্চিন্তা করছিলেন। তিনি তার পুত্রকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বললেন। এনথ্র্যাক্স বুঝতে পারল তার মাকে তার রক্ষা করা উচিত, আর তাই সে শেষমেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার পর পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসতে রাজি হল। পুলিশ তার মাকে হুমকি দেওয়ার কারণেই শুধুমাত্র সে এটা করতে বাধ্য হয়েছিল। তারা যদি তার মাকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাহলে সে নিশ্চিত ছিল যে, তার স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে এবং অকালে মৃত্যু হবে।

নভেম্বর মাসের সুন্দর একটা দিনে এনথ্রাক্স’র বাবা তাকে গাড়িতে তুলে নিলেন এবং মেলবোর্নে নিয়ে এলেন। তাঁকে তার মা জোর করে সাক্ষাতকারের সময় থাকার জন্য পাঠিয়েছেন, যেহেতু তিনি আইন এবং পুলিশের ব্যাপারগুলো জানেন। এনথ্রাক্স তাঁকে সাথে নিতে আপত্তি করেনি: সে ভেবেছিল যে একজন সাক্ষী থাকলে পুলিশের হম্বিতম্বি হয়তো কিছুটা আটকানো যাবে।

শহরের দিকে যাবার সময়, জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টা কিভাবে সামলানো যেতে পারে তাই নিয়ে আলোচনা করে নিল। সুসংবাদ হল এএফপি জানিয়েছে তারা শুধুমাত্র তার ফ্রিকিং বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, হ্যাকিং নিয়ে নয়। শুধুমাত্র তার ‘সমসাময়িক বিষয়’, অর্থাৎ, ফ্রিকিং নিয়েই কথা বলবে এই ভেবেই সে সাক্ষাতকার দিতে যাচ্ছে। তার হাতে দুটি পথ ছিল। সে সবকিছু স্বীকার করে পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে, যেমনটা তার প্রথম আইনজীবি বলেছিলেন। অথবা সে সহযোগিতার ভাণ করতে পারে এবং সবকিছু চেপে যেতে পারে, যেটা করতে তার সহজাত প্রবৃত্তি উস্কানি দিচ্ছে।

তার বাবা দ্বিতীয় চিন্তাটা উড়িয়ে দিলেন। ‘সবধরণের সহযোগিতা করাই ভাল হবে। তুমি মিথ্যা বললে তারা ধরে ফেলবে। তারা মিথ্যা ধরতে ওস্তাদ। তাদেরকে সবকিছু বল, তাহলেই তারা তোমার প্রতি নরম হবে।’ আইন এবং শৃঙ্খলাই আসল কথা।

‘ওদেরকে তোমার কি মনে হয়? শুয়োর।’ এনথ্রাক্স বাইরে তাকিয়ে, পুলিশের তার মায়ের মত মানুষদের উত্যক্ত করার কথা চিন্তা করল।

‘ওদের শুয়োর বলো না,’ তার বাবা ফোঁস করে বললেন। ‘ওরা পুলিশ অফিসার। তুমি কখনো কোনো বিপদে পড়লে, সবার প্রথমে এদেরই কাউকে কল করবে।’

‘ওহ হ্যাঁ। আমি কি এমন বিপদে পড়তে পারি যার জন্য আমাকে প্রথমেই এএফপিকে কল করতে হবে?’ এনথ্রাক্স জবাব দিল।

এনথ্রাক্স সাক্ষাতকারের সময় তার বাবাকে ততক্ষণই সহ্য করবে যতক্ষণ তিরি তার মুখ বন্ধ রাখবেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই সেখানে তাকে সাহায্য করতে যান নাই। তাদের মাঝে অনেক দূরত্ব বজায় রেখে বড়জোড় একটা ক্ষীণ সম্পর্ক আছে বলা যায়। এনথ্রাক্স যে শহরে থেকে পড়াশোনা করত তার বাবা যখন সেই শহরেই কাজ করতে শুরু করলেন, তখন তার মা তাদের মধ্যে বনিবনা করতে চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তার বাবাকে বলেছিলেন এনথ্রাক্সকে যেন তিনি সপ্তাহে অন্তত একবার রাতের খাবার খেতে নিয়ে যান, যাতে বোঝাপড়াটা একটু ভালো হয়। একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা একসাথে বেশ কয়েকবার রাতের খাবার খেয়েছে এবং এনথ্রাক্স তার বাবার লেকচারও শুনেছে বহুবার। স্বীকার করে নাও তুমি ভুল ছিলে। পুলিশকে সহযোগিতা কর। জীবনটাকে ঠিক কর। সবকিছুকে সাজিয়ে নাও। বড় হও। দায়িত্বশীল হও। অপদার্থ হয়ো না। বোকামি কোরো না।

লেকচারগুলো শুনতে ভালোই, এনথ্রাক্স’র মনে হয়েছিল, তার বাবার কথাগুলো শুনলে তার হ্যাকিং দক্ষতা হয়তো আরও বাড়তো। যখন তিনি জানতে পারলেন এনথ্রাক্স’র সংগ্রহে বিশাল সংখ্যক খবরের কাগজের কাটিঙের সংগ্রহ আছে, তখন তিনি সেখান থেকে ‘জেলখানা’ শব্দটা আছে এমন সব প্রতিবেদন আলাদা করতে বলেছিলেন। তারপর তিনি নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলো আলাদা করতে বলেছিলেন। এই খোঁজাখুঁজি করতে হয়তো বিরাট খরচা হত, হয়তো হাজার হাজার ডলার লেগে যেত। কিন্তু তার বাবা তাকে কোনো পয়সা দিলেন না, শুধু এনথ্রাক্সকে ধন্যবাদ দিলেন। এবং এরপর থেকে তিনি এনথ্রাক্সকে হ্যাকিঙের ভয়ংকর দিকগুলো নিয়ে লেকচার দেওয়াও কমিয়ে দিলেন।

তারা যখন এএফপি সদর দপ্তরে পৌঁছাল, তখন এনথ্রাক্স চামড়ার সোফায় আরাম করে দুই পা তুলে বসার সুযোগ পেল এবং সাথে করে নিয়ে আসা কোকের ক্যানটা খুলল। তার বাবা এতে মনক্ষুণ্ন হলেন।

‘সোফা থেকে পা নামাও। তোমার এই কোকের ক্যানটা আনা উচিত হয়নি। এতে খুব পেশাদার দেখায় না।’

‘হেই, আমিতো এখানে কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছি না,’ এনথ্রাক্স জবাব দিল।

কনস্টেবল এন্ড্রু সেক্সটন, লালচুলো, কানে দুটো বাহারি দুল পরিহিত, এনথ্রাক্স এবং তার বাবার দিকে এগিয়ে এলেন এবং তাদের কফি খাওয়াতে দোতলায় নিয়ে গেলেন। কম্পিউটার ক্রাইম ইউনিট এর ডিক্টেটিভ সার্জেন্ট কেন ডে তখনো একটা মিটিঙে থাকায়, সেক্সটন বললে, সাক্ষাৎকার শুরু হতে সামান্য দেরি হবে।

এনথ্রাক্স’র বাবা এবং সেক্সটন আবিষ্কার করলেন যে আইন শৃঙ্খলার ব্যাপারে তাদের দুজনেরই আগ্রহের জায়গা আছে। তারা পুনঃবাসনব্যবস্থা এবং কয়েদিদের নিয়মশৃঙ্খলার ব্যাপারে আলাপ করলেন। পরস্পর ইয়ার্কি মারলেন। হাসলেন। ‘যুবক এনথ্রাক্সকে’ নিয়ে কথা বললেন। যুবক এনথ্রাক্স এই করেছে। যুবক এনথ্রাক্স সেই করেছে।

এদিকে যুবক এনথ্রাক্স’র অসহ্য লাগছিল। শক্রুপক্ষের সঙ্গে তার নিজের বাবা এমন দহরম মহরম করছে, এমনভাবে কথা বলছে যেন সে সেখানে উপস্থিত নাই।

যখন সেক্সটন ডে’র মিটিং শেষ হয়েছে কিনা দেখতে গেল, এনথ্রাক্স’র বাবা খেঁকিয়ে উঠলেন,‘ওই আসামীমার্কা চেহারা মুছে ফেল, ছোঁড়া। এইরকম চেহারা আর ব্যবহার যদি তুমি দেখাও তাহলে দুনিয়ার কোথাও তুমি পাত্তা পাবে না, ওরা তোমার উপরে মণখানেক ইটের টনকে টন ঢেলার মত তেড়ে আসবে।’