অধ্যায় ১১ – দ্য প্রিজনার্স ডাইলেমা

Harrisburg Oh Harrisburg

The plant is melting down

The people out in Harrisbug

Are getting out of town

And when this stuff gets in

You cannot get it out

— from ‘Harrisburg’, on Red Sails in the Sunset by Midnight Oil

এনথ্রাক্স ভেবেছিল সে কখনো ধরা পড়বে না। কিন্তু কোনো একটা বিচিত্র কারণে, সে ধরা পড়তেও চাইতো। ধরা পড়ার ব্যাপারে চিন্তা করলে তার মন এক গভীর আবেগে ভেসে যেত – যার নাম অস্থিরতা। অনিবার্য নিয়তি বয়ে নিয়ে আসা এবং তাকে মোকাবেলা করার অস্থিরতা। অথবা, তার প্রতিপক্ষ কতোটা অদক্ষ তাই ভেবে হতাশ হওয়া। তারা ক্রমেই তার খোঁজ হারিয়ে ফেলতে থাকল এবং তাদের এই অদক্ষতা তাকে অধৈর্য্যও করে তুললো। যোগ্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়া অনেক বেশী মজার।

অবশ্য, অনুসারিত হতে চাইলেও ধরা খাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা তার ছিল না। পুলিশ তাকে অনুসরণ করছে, সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরা তাকে অনুসরল করছে, এটা ভাবতে এনথ্যাক্স’র ভালো লাগত। মানুষের মেইলে এ সংক্রান্ত তদন্তের বিভিন্ন আলামতের খবর রাখতে সে পছন্দ করত। বিশেষ করে সে অনলাইনে থাকা অবস্থায়, নানাপ্রকারে তার সংযোগের উৎস অনুসন্ধান করার কসরত দেখে খুব মজা পেত। সে চালাকি করে এমনভাবে তাদের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত যা তারা দেখতেও পেতো না। তাদের টাইপ করা প্রতিটা অক্ষর, প্রতিটা বানান ভুল, প্রতিটা ভুল কমান্ড, ধরার জন্য প্রতিটা ব্যর্থ কসরত সে দেখতে পেত।

১৯৯১ সালের শুরুর আগে তাকে ধরা সম্ভব হয়নি, যখন শেষমেশ সবাই তার পিছে লাগল। এমনকি এনথ্রাক্স ততোদিনে হ্যাকিং এবং ফ্রিকিং পুরোপুরি ছেড়েই দিয়েছিল, তার ভাষ্যে, সে বছর ‘খোদাভীতি’ নামের বক্তৃতা শোনার পর।

গভীর রাতে, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে, আরেক হ্যাকারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে গেল। এটা এমন কোনো বিচিত্র ঘটনা নয়। কখনো কখনো, হ্যাকাদের তাদের জাতভাইদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। মাঝরাতে উদ্ভট জায়গা থেকে আসা উদ্ভট সংযোগ হল তার সূত্র। সেইসাথে প্রসেস নাম এবং আয়তনের মাঝে অসামঞ্জস্যতা। আক্কেলওয়ালা লোকদের জন্য এইটুকু সূত্রই যথেষ্ট।

দুইজন হ্যাকার একজন আরেকজনের ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখরো, চেষ্টা করলো এতো কম তথ্য দিয়ে ঢোকা বান্দাটা কে হতে পারে তা জানার। অবশেষ সেই রহস্যজনক হ্যাকার এনথ্রাক্সকে জিজ্ঞেস করল, ‘ তুমি কি সেই রোগ যেটা ভেড়াদের হয়?’

উত্তরে এনথ্রাক্স শুধুমাত্র টাইপ করল: ‘হ্যাঁ।’

অপর হ্যাকার নিজেকে ইন্টারন্যাশনাল সাবভার্সিভস এর একজন সদস্য, প্রাইম সাসপেক্ট নামে পরিচয় দিল। এনথ্রাক্স নামটা চিনতে পারল। বিবিএসগুলোতে সে প্রাইম সাসপেক্টকে দেখেছে, তার লেখা পড়েছে। এনথ্রাক্স একটু জমিয়ে আলাপ করার আগেই, সেই আইএস হ্যাকার একটা জরুরী সতর্কবার্তা পাঠাল।

ফেডারাল পুলিশ এনথ্রাক্সকে খুঁজছে এই তথ্য সম্বলিত একটা একটা এমেইল সে দেখাল। মিডেন প্যাসিফিক’র সিস্টেম এডমিনদের বক্স থেকে নেওয়া সেই মেইলে এনথ্রাক্স কোন কোন সিস্টেমে ঢুকেছিল সেগুলোর কথা বলা হয়েছে। যে ফোন সংযোগ দিয়ে সে ওইসব সিস্টেমে ঢুকেছিল সেগুলোরও উল্লেখ রয়েছে, যযেগুলোর কোনো কোনোটার ক্ষেত্রে টেলিকম আবার তার ফোন নম্বর পর্যন্ত খোঁজ পেয়ে গেছে। এদের একজন এডমিন লিখেছেন, ‘আমরা তাকে সনাক্ত করতে পেরেছি। আমার সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। তার বয়স মাত্র সতের বছর এবং তারা তাকে ধরতে যাচ্ছে এবং তার জীবনটা ধ্বংস করে দিতে যাচ্ছে।’ এনথ্রাক্স তার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যাওয়ার অনুভূতি পেল।

প্রাইম সাসপেক্ট বলে যেতেই লাগল। প্রথম যখন সে মেইলটা দেখেছিল, ভেবেছিল তার নিজের ব্যাপারে বলছে। দুইজন হ্যাকারের বয়সই এক এবং দুজনেই একই সিস্টেমে অনুপ্রবেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মেইল পেয়ে প্রাইম সাসপেক্ট ঘাবড়ে গিয়েছিল। সে অন্য আইএস হ্যাকারদের কাছে সেটা নিয়ে গিয়েছিল, এবং তারা একসাথে বিষয়টা নিয়ে আলাপও করেছিল। বেশীরভাগ বর্ণনাই মিলে যায় তবে, অল্পকিছু বর্ণনার কোনো মাথামুন্ডু বোঝা যায়নি। প্রাইম সাসপেক্ট একটা গ্রামের এক্সচেঞ্জ থেকে কল করেছিল। তারা যতোই মাথা ঘামালো, ততোই পরিষ্কার হয়ে উঠলো যে মেইলটায় অবশ্যই অন্যকারও কথা বলা হয়েছে। তারা যতোই অন্যভাবে ভাবলো সবভাবেই এনথ্যাক্স’র নামটাই বারবার উঠে এলো। আইএস হ্যাকাররা তাকে বেশকিছু সিস্টেম এবং বিবিএসে দেখেছে। এমনকি ট্র্যাক্স একবার একটা কনফারেন্সে আরও একজন ফ্রিকার সমেত তার সঙ্গে কথাও বলেছিল। তার সম্পর্কে তারা যাকিছু জেনেছিল সবকিছু জড়ো করে যে ছবি পাওয়া গেল তা একদম মানানসই হল। এএফপি এনথ্রাক্স’র পিছনেই লেগেছে এবং তারা সম্ভবত তার সম্পর্কে অনেক তথ্য জেনেও ফেলেছে। তারা তার বাড়ির একটা টেলিফোন সংযোগের সন্ধানও পেয়েছে। তারা তার বয়সও জানে, যার অর্থ হল তারা তার নামও জানে। ফোনের বিলগুলো তার বাবা-মায়ের নামেই হত, তাই তার উপরে নজরদারিও বোধহয় চলছিল। তারা এতোই কাছাকাছি চলে গিয়েছিল যে তার উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছিল। আইএস হ্যাকাররাও তাকে হন্য হয়ে খুঁজছিল, সতর্ক করে দেবার জন্য, কিন্তু এই প্রথমবার তারা তার সন্ধান পেল।

এনথ্রাক্স প্রাইম সাসপেক্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিস্টেম থেকে বেরিয়ে এলো। সে সারারাত ঠায় বসে রইলো। ধরা খাবার কথা ভেবে একটা গভীর ভাবের মধ্যে ডুবে থাকা, কাল্পনিক পরিস্থিতর কথা চিন্তা করে মিশ্র অনুভূতি হওয়া এক কথা। আর সত্যি সত্যিই ধেয়ে আসা বিপদের কথা কল্পনা করা আরেক কথা। সকালে, সে তার যাবতীয় হ্যাকিং বিষয়ক কাগজপত্র, নোট, ম্যানুয়াল একখানে জড়ো করল। ট্র্যাংকভর্তি দরকারি জিনিসপত্র। সমস্তকিছু সে পেছনের বাগানে নিয়ে গেল, তারপর আগুন ধরিয়ে সেগুলো জ্বালিয়ে দিয়ে একদৃষ্টে চেয়ে রইলো। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো হ্যাকিং চিরতরে ছেড়ে দিবে।

এবং কিছু সময়ের জন্য ছেড়েও দিয়েছিল। কিন্তু কয়েকমাসের মাথায়ই সে নিজেকে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে নিজেকে আবিষ্কার করল, সেইসাথে মডেমের ঘড়ঘড়ে আওয়াজটাও। এর এমনই আকর্ষণ যে উপেক্ষা করা কঠিন। পুলিশ তখনো আসেনি। মাসের পর মাস চলে গেছে, তবুও কিছুই ঘটলো না। প্রাইম সাসপেক্ট নিশ্চয়ই ভুল তথ্য দিয়েছিল্ হয়তো এএফপি অন্যকোনো হ্যাকারের পেছনে লেগেছিল।

এরপর, ১৯৯১ সালের অক্টোবরে, এএফপি প্রাইম সাসপেক্ট, মেনড্যাক্স এবং ট্র্যাক্সকে ধরে ফেলল। কিন্তু এনথ্রাক্স হ্যাকিং চালিয়েই গেল, নিজে নিজেই মূলত, আরও দুই বছর। সে নিজেকে বুঝালো যে, আইএস হ্যাকাররা দলবেঁধে কাজ করত। তারা যদি তাকে এভাবে খুঁটতে না আসতো, তাহলে পুলিশ হয়তো তাকে কখনোই খুঁজে পেতো না। তাছাড়া, হ্যাকার হিসেবে তার দক্ষতাও অনেকগুণ বেড়েছে, বিশেষ করে তার অবস্থান মুছে দেওয়ার দক্ষতা, যাতে সে কারও খুব একটা মনোযোগ না কাড়ে। তার আরও কিছু নিজস্ব যুক্তি ছিল। যে শহরে সে বাস করে সে এতোটাই দূরে যে, পুলিশ এই গন্ডগ্রামে যেচে আসতে যাবে না। চির অধরা এনথ্রাক্স সারাজীবন অধরাই থেকে যাবে, কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের সেই অজেয় নেড কেলি’র মত।

[  ]

১৪ জুলাই ১৯৯৪, এনথ্যাক্স’র মনে সকাল থেকেই জাগতিক নানান চিন্তা কাজ করছিল। বাক্সো-প্যাটরা গোছানোর লোকেরা যখন তখন চলে আসবে আধা-ফাঁকা এপার্টমেন্ট থেকে জিনিসপত্র সরাতে যেখানে সে আরেকজন ছাত্রের সঙ্গে একসাথে থাকত। তার রুমমেট ইতিমধ্যেই চলে গেছে এবং জায়গাটা জামা-কাপড়, টেপ এবং বইয়ের বাক্সে এলোমেলো হয়ে আছে।

এনথ্রাক্স বিছানার অর্ধেক জায়গা জুড়ে শুয়ে ‘টুডে’ শো এর অর্ধেক দেখতে দেখতে যেইমাত্র ঘুমিয়ে পড়েছিল ওমনি বাইরে থেকে একটা বড় গাড়ি আসার শব্দ শুনতে পেল। বাক্সো-প্যাটরা গোছানোর লোক ভেবে সে বাইরে উঁকি দিল। তার বদলে সে যা দেখল তা হল, সাদা পোশাকের অন্তত চারজন লোক ঘরের দিকে দৌড়ে আসছে।

বাক্সো-প্যাটরা গোছাবার লোকদের এতো উৎসাহি হওয়ার কথা নয়, তাছাড়া তারা দরজায় আসার আগে দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেল, সেইসাথে দুজন লোক বাড়ির উল্টোপাশ দিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে এগিয়ে এলো। এদের একজন গাড়ি রাখার জায়গার দিকে গেল। আরেকজন বাড়িটার অপরদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। তৃতীয় আরেকজন সদর দরজায় জোরে জোরে কড়া নাড়তে লাগল। এনথ্রাক্স কেঁপে উঠে সজাগ হয়ে গেল।

ঘরের দরজায় বেঁটে, গাট্টাগোট্টা লোকটির উপস্থিতি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তার চুল ফোলানো, লম্বাটে এবং পড়নে ছিল একটা সোয়েটশার্ট এবং এসিড-ওয়াশ জিন্স যেটা এতোই আঁটোসাঁটো যে পকেটে রাখা টাকাও বাইরে থেকে গোনা যাবে। এনথ্রাক্স’র মাথায় খারাপ কিছুর চিন্তা এলো। বিষয়টা মনে হচ্ছে ডাকাতি। ডাকাতেরা তার বাড়ি ভেঙে ঢুকতে যাচ্ছে, তারপর তাকে বেঁধে ফেলবে এবং তার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা পর্যন্ত ভয় দেখাতে থাকবে।

‘খুলুন। খুলুন,’ পুলিশের ব্যাচ দেখিয়ে সেই গাট্টাগোট্টা লোকটি চিৎকার করে উঠল।

স্তব্ধ এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় এনথ্রাক্স দরজা খুলে দিল। ‘আপনি কি জানেন আমরা কারা?’ সেই গাট্টাগোট্টা তাকে জিজ্ঞেস করল।

এনথ্রাক্সকে বিচলিত দেখাল। না। ঠিক বুঝতে পারছি না।

‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিশ।’ পুলিশটি তল্লাসি পরোয়ানা পড়তে উদ্যত হল।

এই পর্যায়ের পর থেকে যেসব ঘটনা ঘটেছিল তা বিতর্কের দাবী রাখে। তবে আসলে যা যা ঘটেছিল তা হল তল্লাসি অভিযান এবং তার উপর ভিত্তি করে অফিস অফ ওমবাডসম্যানে এনথ্রাক্স বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের এবং এএফপি’র অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা। কীভাবে এসব এনথ্রাক্স’র পক্ষে হয়েছিল তার সরল বর্ণনা করছি।

সেই গাট্টাগোট্টা লোকটি এনথ্রাক্স’র দিকে খেঁকিয়ে বলল, ‘আপনার কম্পিউটার কোথায়?’

‘কোন কম্পিউটার?’ এনথ্রাক্স ভাবলেশহীন মুখে অফিসারের দিকে তাকিয়ে বলল। তার এপার্টমেন্টে কোনো কম্পিউটার ছিল না। সে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কোনো বন্ধুদের কম্পিউটার চালাত।

‘আপনার কম্পিউটার। কোথায় সেটা? কোন বন্ধুর কাছে রেখে দিয়েছেন?’

‘কারো কাছেই না। আমার কোনো কম্পিউটার নাই।’

‘বেশ, যখন আপনার বলতে ইচ্ছা হবে, আমাদের জানাবেন।’

আচ্ছা। ঠিক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এনথ্রাক্স’র লুকানো কোনো কম্পিউটার থেকেও থাকে, তাহলেও সে সেটা আগ বাড়িয়ে বলতে যাবে না।

পুলিশ তার ব্যক্তিগত চিঠিপত্র দিকে হাত বাড়াল, এনথ্রাক্সকে সেগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে লাগল। কারা এগুলো লিখেছে? সে কি কম্পিউটার আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে জড়িত?’ তার ঠিকানা কি?

এনথ্রাক্সকে যে কতোবার ‘মন্তব্য করব না’ বাক্যটি বলতে হল তার ইয়ত্তা নাই। সে দেখতে পেলো কয়েকজন পুলিশ তার শোবার ঘরের দিকে যাচ্ছে এবং তখনই তার মাথায় এলো এবার তাদের কাছ থেকে লক্ষ্য রাখা দরকার, কোনোকিছু পরিকল্পিতভাবে রেখে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। একজন পুলিশ তাকে বাধা দিল। এনথ্রাক্স তাদের জানাল সে একজন আইনজীবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়। একজন পুলিশ তাতে সায় না দিয়ে তল্লাসি চালিয়ে গেল।

‘আপনি অবশ্যই অপরাধী,’ সে এনথ্রাক্সকে বলল। ‘অপরাধীরাই আইনজীবি খোঁজে। আর তাই আপনার জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে।’

ঠিক সেই সময় অন্য আরেকজন অফিসার বোমাটি মারল। ‘জানেন তো,’ স্বাভাবিক গলায় বলতে লাগল, ‘আমরা আপনার বাবা-মায়ের বাড়িতেও তল্লাসি চালাচ্ছি…’

এনথ্রাক্স ভয় পেয়ে গেল। তার মা পাগল হয়ে যাবেন। সে মোবাইলে তার মাকে কল করতে চাইল, এটাই এপার্টমেন্টের একমাত্র ফোন যেটা তখনো সচল ছিল। পুলিশ তাকে মোবাইল স্পর্শ করতেও বাধা দিল। তখন রাস্তার ওপাশের সে পে ফোন থেকে তাকে কল করতে চাইল। পুলিশ আবারও অসম্মতি জানাল। লম্বাটে, ঢেঙ্গা গোছের একজন অফিসার তাদের কার্য হাসিলের মোক্ষম একটা উপায় পেয়ে গেল। সে তার দোষটা আরও কদর্যভাবে প্রচার করতে লাগল।

‘আপনার অসুস্থ বেচারা মা। সেই অসুস্থ বেচারা মায়ের সঙ্গে আপনি এমনটা করতে পারলেন? আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকেও মেলবোর্নে নিয়ে যাব। আপনাকে দেখে আমার বমি আসছে। আপনার মত একজন সন্তান, যে কিনা এতো ভোগান্তির মূলে রয়েছে, তাকে আপনার মা গর্ভে ধরেছেন এজন্য আমার করুণা হয়।’

সেই সময় থেকে বাদবাকি সময় পর্যন্ত লম্বা অফিসারটি এনথ্রাক্স’র ‘অসুস্থ বেচারা মা’-কে নিয়ে সুযোগ পেলেই কথা শোনাতে ছাড়ল না। সে কিছুতেই হাল ছাড়বে না। এমন নয় যে সে তার মায়ের ভয়ংকর কঠিন অসুখ স্ক্লেরোডার্মার ব্যাপারে জানত। এনথ্রাক্স প্রায়ই ভাবতো কী অসহ্য ব্যথা তার মা সহ্য করতেন কারণ অসুখটা তার ভেতরের অঙ্গ-প্রতঙ্গেও ছড়িয়ে পড়েছিল। স্ক্লেরোডার্মা হলে আঙুল এবং পায়ের পাতার  চামড়া শক্ত হয়ে যায়, কিন্তু তখন সেগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে, বিশেষ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়। যেসব নারী গরম আবহাওয়া থেকে ঠান্ডা আবহাওয়ায় এসে পড়েন তাদের সাধারণত এই রোগটা হয়।