বুধবার, ১৮ অক্টোবর ১৯৮৯

কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা

পাঁচ সদস্যের আটলান্টিসে দুঃসংবাদটা পৌঁছাল বুধবার সকালেই। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বৃষ্টি এবং মেঘ বিবেচনায় না নিয়েই উৎক্ষেপনের সম্ভাবনা ধার্য করেছেন মাত্র ৪০ শতাংশ। এর উপরে আবার ক্যালিফোর্নিয়াতে হয়েছে ভূমিকম্প।

কাজ সারার জন্য শুধুমাত্র কেনেডি স্পেস সেন্টারই টিপটপ অবস্থায় থাকলে তো চলবে না। ফ্লোরিডার বাইরে আরও অনেকগুলো জায়গার উপরেও উৎক্ষেপন প্রক্রিয়া নির্ভর করছে। এসবের মধ্যে আছে ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস যেখানে সোমবারে শাটলটার ল্যান্ড করার কথা। এছাড়া শাটল পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য সহযোগিতার জন্য আরও বিভিন্ন এলাকা, এমনকি কয়েকটি সামরিক বেসও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পর্যবেক্ষণের কাজে জরুরী এরকম একটা সাইট হল ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলের ওনিজুকা এয়ার ফোর্স বেস। ভূমিকম্প সাগর তীরবর্তী এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোয় পর্যবেক্ষণ স্টেশনের অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং নাসার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বুধবারে সানিভেলের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার জন্য মিটিং ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসবের পরেও, স্পেস এজেন্সি যথাসম্ভব শান্ত ও স্থির থাকার চেষ্টা করল। কারিগরি সমস্যা, আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং বিক্ষোভকারীর দল, বৈরি আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম; এতোসব সমস্যার পরেও পুরো পরিস্থিতি নাসার অনুকূলেই ছিল।

ইউপিআইকে দেওয়া নাসার মুখপাত্রের ভাষ্য, ‘কিছু ক্ষতি হয়েছে সত্য, কিন্তু, আমরা জানিনা তার প্রভাব কেমন হতে পারে। তবে, যতোটুকু বুঝতে পারছি, তাতে আমি ইতিবাচক মনোভাবই পোষণ করছি।’[1] ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের মুখপাত্র রিক ওবর্ন জনগণকে আস্বস্ত করার জন্য বললেন, ‘তারা শাটল পর্যবেক্ষণ এবং অভিযান সহায়তার বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে নিতে পারবেন…..তারা তাদের কাজ ঠিকই করে ফেলবেন।’[2]

অপেক্ষার পরে আটলান্টিস ৩৮বি লঞ্চপ্যাডে উৎক্ষেপনের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। টেকনিশিয়ানরা শাটলে রকেট ফুয়েল ভরে দিলেন এবং ধরে নেওয়া হল আবহাওয়া ঠিকঠাকই থাকবে। আকাশ হালকা মেঘাচ্ছন্ন হলেও তাতে কোনো অসুবিধা নাই।

নভোচারীরা শাটলে গিয়ে বসলেন। সবকিছু ঠিকঠাক।

কিন্তু, ফ্লোরিডার আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলেও আফ্রিকায় কিছু সমস্যা দেখা দিল। ওইখানে জরুরী অবতরণের জায়গা ঠিক করা হয়েছিল। একটা না একটা সমস্যা লেগেই আছে। নাসা এবার চার মিনিটের বিরতির হুকুম দিল।

অবশেষে দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে, আটলান্টিস লঞ্চপ্যাড ছেড়ে গেল। কেনেডি সেন্টার থেকে উড়ে গিয়ে, দুপাশে আগুনের ফুলকি ঝরিয়ে শাটলটা বায়ুমন্ডল ভেদ করে মহাশুন্যে চলে গেল।

এর ঠিক ৬ ঘন্টা ২১ মিনিট পরে, সন্ধ্যা ৭:১৫ নাগাদ, গ্যালিলিও মহাশুন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। এবং, রাত ৮:১৫ তে গ্যালিলিওর বুস্টার চালু হয়ে গেল।

শাটল মিশন কন্ট্রোলের ভিতর থেকে নাসার মুখপাত্র ব্রায়ান ওয়েলচ ঘোষণা করলেন,‘গ্যালিলিও মহাকাশযান…… পৃথিবী ত্যাগ করার মত মুক্তবেগ অর্জন করেছে।’[3]

সোমবার, ৩০ অক্টোবর ১৯৮৯

নাসার গোডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার, গ্রিনবেল্ট, ম্যারিল্যান্ড

১৬ অক্টোবরের সপ্তাহটা স্প্যান টিমের কাছে দীর্ঘতম সপ্তাহ বলে মনে হল। এতোদিন তাদেরকে দৈনিক বারো ঘন্টা টানা কাজ করতে হয়েছে এবং হিস্টিরিয়াগ্রস্ত মানুষদের সামলাতে হয়েছে। স্প্যান রেকর্ডের অপর্যাপ্ততা এবং ওয়ার্মের গতিবিধির স্পষ্ট আলামতের অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা যে এন্টি-ওয়াঙ্ক প্রোগ্রাম সকলের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে, এসবই বড় কথা। ম্যাকম্যাহনের ভাষ্যে, ‘এই সপ্তাহে আমরা বুঝতে পেরেছি কতো তথ্য আমাদের সংগ্রহে ছিল না।’

২০ অক্টোবর, শুক্রবার পর্যন্ত ওয়ার্ম আক্রমণের আর কোনো নতুন খবর পাওয়া গেল না। মনে হল যেন বিপদ কেটে গেছে। বাদবাকি কাজ স্প্যান টিম সারতে পারবে বলে ম্যাকম্যাহনও নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেলেন।

সপ্তাহ কেটে গেল। কিছুদিন পর, যদিও, ম্যাকম্যাহনের মনে আগে থেকেই সন্দেহটা ছিলো, এবার সেটা ঘনীভূত হল। যে ব্যক্তি ওয়াঙ্ক তৈরি করতে গিয়ে এতো ঝামেলা ইতিমধ্যেই করেছে সে এতো সহজে হাল ছেড়ে দিবে না। তাদের বিষে বিষক্ষয় নীতি ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ করবে যতক্ষণ প্রসেসের নাম একই থাকবে এবং যতক্ষণ সেটা নিজ থেকেই আক্রান্ত কম্পিউটারে সক্রিয় হওয়ার উপযোগী করে প্রোগ্রাম করা না হবে। প্রসেস নাম পাল্টে দিলে আর ওয়ার্মকে আত্মহত্যা না করার নির্দেশনা দিলেই স্প্যান টিমকে আবারো বড়সড় বিপদে পড়তে হবে। জন ম্যাকম্যাহনের মনে ওয়ার্মটা আবারো ফিরে আসবে বলে একটা অনুমান আগেই দানা বেঁধেছিল।

এই অনুমান সঠিক ছিল।

সোমবারেই ম্যাকম্যাহন স্প্যান প্রজেক্ট অফিস থেকে আবারো ফোন পেলেন। তিনি যখন তার বসের টেবিলে গিয়ে মাথা ঠুকলেন, ভদ্রলোক জেরোম বেনেট মাথা তুলে চাইলেন।

‘জিনিসটা আবার ফিরে এসেছে,’ বললেন ম্যাকম্যাহন। ‘জিনিসটা’ বলতে কি বুঝালেন তা আর ব্যাখ্যা করতে হল না তাকে। ‘আমি আবার স্প্যান অফিসে যাচ্ছি।’

রন টেনকাটি এবং টড বাটলার নতুন ওয়াঙ্ক ওয়ার্মের একটা কপি ম্যাকম্যাহনের জন্য সংগ্রহ করেই রেখেছিলেন। এই সংস্করণটি আগের চেয়েও ক্ষতিকর। এখন এটা আরও দক্ষভাবে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং সেইজন্য এর গতিও আগের চেয়ে অনেক বেশী। নতুন ওয়ার্মের বিধ্বংসী ক্ষমতা আরও বেশী – প্রথম আক্রমণের সময়কার সংস্করণটির চেয়ে অন্তত চারগুণ। আবারো ফোনের বন্যা বয়ে গেল। জন একটা কল ধরলে অপরপ্রান্ত থেকে উত্তেজিত একজন ম্যানেজার রাগতস্বরে বললেন, ‘আমি আপনার এন্টি-ওয়াঙ্ক প্রোগ্রাম চালিয়েছি, আপনার চিঠির প্রত্যেকটা নির্দেশনা মেনে কাজ করেছি, আর দেখেন এই হল তার ফল!’

ওয়ার্মটা তার প্রসেসের নাম পাল্টে দিয়েছে। ছদ্মবেশী ওয়ার্ম বিধ্বংসী প্রোগ্রামটাকে খুঁজে বের করে সেটাকে অকেজো করে দেওয়ার সক্ষমতাও যুক্ত করা হয়েছে। স্প্যান নেটওয়ার্ক যেন এবার সত্যিকার অর্থেই যুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হতে যাচ্ছে। ওয়ার্মটা শুধুমাত্র ছদ্মবেশী প্রসেসগুলোকেই অকেজো করে দিচ্ছিল না, সে পুরাতন ওয়াঙ্ক ওয়ার্মগুলোকেও অকেজো করে দিচ্ছিল। এমনকি ম্যাকম্যাহন তার প্রোগ্রামের প্রসেস নাম পরিবর্তন করে দিলে সেটাও অকেজো করে দিচ্ছিল। তাই, বিষে বিষক্ষয় পদ্ধতি আর কোনো কাজে আসছিল না।

আরও কিছু বিরক্তিকর জিনিসপত্র ওয়াঙ্কের নতুন সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছিল যেসব একাউন্টে ওয়ার্মটা যাবে সেসবের পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন করে দিবে। এটা একটা সমস্যা। তবে শুধুমাত্র বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিলে যত বড় সমস্যা হতো তত বড় সমস্যা এটা নয়। নতুন ওয়ার্মটা সিস্টেম ম্যানজারকে তার নিজের সিস্টেম থেকে একঘরে করে রাখার ক্ষমতাও রাখে।

এগুলো সামলাতে গিয়ে প্রথমেই ম্যানজার মেশিনকে জোর করে রিবুট করাতে বাধ্য হন। বন্ধ করে তারপর আবার ন্যূনতম কনফিগারেশন নিয়ে চালু করতে হয়। এরপর পাসওয়ার্ড ভেঙে আবার ঢুকতে হয়। ওয়ার্মের পরিবর্তন করে দেওয়া পাসওয়ার্ড ঠিকঠাক করতে হয়। তারপর লগআউট। কিছু জিনিসপত্র রিসেট করো। আবার মেশিন রিবুট করো। একাউন্টের নামের সঙ্গে কোনো পাসওয়ার্ড মিলে গেলে সেগুলো আবার পরিবর্তন করো। বিশাল ভিএমএস কম্পিউটারকে এভাবে নতুন করে চালু করতে বেশ সময় লাগে। সেই সময়টুকু নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ এবং প্রকৌশলীগণ কাজ করতে পারেন না।

এবার অন্তত স্প্যান টিম ওয়ার্মের ব্যাপারে ভালোরকম প্রস্তুতি নিয়েছিল ছিল বলা যায়। তারা সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের জন্য মানসিকভাবে তৈরিই ছিল। নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। সাধারণ ডেকনেট কমুনিটি এবার ওয়ার্ম সম্পর্কে সজাগ ছিলেন এবং দরকারি সকল ধরণের সহযোগিতা করতে পারছিলেন।

ফ্রান্সের একজন সিস্টেম ম্যানেজারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া গেল। তারা বোধহয় একমাত্র দেশ যারা ওয়ার্মের নির্মাতার ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। অরসের ইন্সটিটুট ডি ফিজিক নিউক্লিয়ারের ম্যানেজার বানার্ড পেরট ওয়ার্মের একটা কপি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এবং  ভ্রান্তি-সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্মাতার দুর্বলতার বিষয়টি সবার নজরে আনলেন। এটাই ওয়ার্মটার সবথেকে দুর্বল জায়গা।

ওয়ার্মটাকে রাইটলিস্ট ডাটাবেজ খুঁজে বের করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঐ কম্পিউটারের সব ব্যবহারকারীদের নামের তালিকা থাকে। যদি এই ডাটাবেজটার নাম পরিবর্তন করে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গায় একটা ভুয়া ডাটাবেজ রাখা হয়? ওয়ার্মটা তাহলে, তাত্ত্বিকভাবে, ভুয়া ডাটাবেজের পিছনে ছুটবে। এখন ওই ভুয়া ডাটাবেজের ভিতরে একটা বোমা লুকিয়ে রাখা যেতে পারে। যেইমাত্র ওয়ার্মটা ভুয়া ডাটাবেজে ঢুকতে যাবে, তখুনী সেটা বিস্ফোরিত হবে এবং ওয়ার্মটাও ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে যদি কাজ হয়, স্প্যান টিমকে তাহলে আগেরবারের মতো ওয়ার্মটার আত্মহত্যার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তারা নিজেরাই সেটাকে ধ্বংস করতে পারবে।

রন টেনকাটি ফরাসি ম্যানেজারের ওয়ার্ম বিধ্বংসী প্রোগ্রামটার একটা কপি সংগ্রহ করলেন এবং ম্যাকম্যাহনকে দিলেন। তিনি, খতিয়ে দেখার জন্য একটা ছোট্ট পরীক্ষার বন্দোবস্ত করলেন। তিনি ওয়ার্মটাকে কয়েকটা অংশে ভাগ করে দরকারি বিটগুলোকে আলাদা করলেন। এতে করে ফরাসি ওয়ার্ম-বিধ্বংসী প্রোগ্রামটা পরীক্ষা করার সময় ওয়ার্মটার ছড়িয়ে পড়ার এবং ক্ষতি করার ঝুঁকি কমে গেল। ফরাসি প্রোগ্রামটা দারুণ কাজ করল। সেটাকেই বিতরণ করার ব্যবস্থা করা হল। ওয়ার্মের দ্বিতীয় সংস্করণটি এতোই ক্ষতিকর ছিল যে, একে তাড়াতে প্রথমবারের তুলনায় অনেক বেশী সময় লেগে গেল। অবশেষে, দ্বিতীয় আক্রমণের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে, স্প্যান থেকে ওয়াঙ্ক ওয়ার্মকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হল।

ম্যাকম্যাহনের হিসাবমতে, ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম আধা মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এর বেশীরভাগ ব্যয় হয়েছে কর্মচারীদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ফেলে ওয়ার্মের পেছনে ছুটতে ছুটতে সময় নষ্ট করে। তার মতে, এই ঘটনা একপ্রকার চুরি বলা চলে। তার ভাষ্যে, ‘মানুষের সময় এবং সংস্থান দুটোরই অপচয় হয়েছে। এই চুরির ঘটনা নিছক দূর্ঘটনা নয়। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইচ্ছা করেই এসব করেছে।’

‘সাধারণত, যারা মেশিনে অনুপ্রবেশ করে আনন্দ পায় তাদের বিচার হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। এই ধরণের মানুষেরা বুঝতে চায় না তাদের এই ধরণের কাজের ফলাফল কেমন হতে পারে। তারা মনে করে কোনো মেশিনে অনুপ্রবেশ করে কোনোকিছু ওলটপালট না করলে বোধহয় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু, এমনটা সত্য নয়। এতে আপনি আসলে মানুষের সময় নষ্ট করান। এরজন্য মানুষকে যেকোন উদ্ভট সময়ে অফিসে ডেকে আনা হতে পারে। প্রতিবেদন লিখতে লিখতে জান খারাপ হয়ে যেতে পারে। প্রচুর বকাঝকা শুনতে হতে পারে। আইনকানুনের ঝক্কিও সামলাতে হতে পারে। এগুলো সবই হল একজনের নিছক মজা করে সিস্টেমে ঢোকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কোনোরকম রকম ক্ষতি না করলে তাতেই এতো ভোগান্তি হয়। একজনের আনন্দের জন্য কাউকে দিতে হয় চরম মূল্য।’

ম্যাকম্যাহন কোনোদিন জানতে পারেননি কে ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম তৈরি করেছিল। তিনি কোনোদিন বুঝতেও পারেননি এর নির্মাতার অভিপ্রায়। সেই অভিপ্রায় কোনোদিনই স্পষ্ট ছিল না। আর, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েও এমনটা করা হয়েছিল কিনা তাও জানা যায়নি। কেউ এর দায়-দায়িত্বও স্বীকার করেনি।

ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে গেছে, রেখে গেছে অনেক রহস্য যেসব ম্যাকম্যাহনকে আজও তাড়া করে বেড়ায়। ওয়ার্মের নির্মাতা হ্যাকার কী সত্যিই নাসার প্লুটোনিয়াম-চালিত গ্যালিলীও মহাকাশযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এসব করেছিল? ‘ওয়াঙ্ক’-এর মত অ-মার্কিনী একটা শব্দ ব্যবহার করে কি সে এটাই বুঝাতে চেয়েছিল যে, হ্যাকার আমেরিকান নয়? নির্মাতা দ্বিতীয়বার কেন এটা তৈরি করল এবং ছেড়ে দিল? কেনই বা কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্যকোনো দল এসবের দায়-দায়িত্ব স্বীকার করল না?

ওয়ার্মের দ্বিতীয় আক্রমণের সময়কার সংস্করণটির মধ্যে অনেক রহস্য রয়ে গেল। সম্ভবত এন্টি-ওয়াঙ্ক প্রোগ্রামকে ধোঁকা দিতেই ওয়ার্মের নির্মাতা নেটডব্লিউ__ নামের পুরাতন প্রসেসটাকে পরিবর্তন করেছিল। ম্যাকম্যাহন ভেবে বের করেছিলেন পুরাতন প্রসেসের নামটার অক্ষরগুলো ‘নেটওয়ার্ক’ শব্দটা বুঝাতেই ব্যবহার করা হয়েছিল। অবশ্য এটাহ্যাকার  সত্যিকার অর্থেই যা বলতে চেয়েছিলেন তার সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য একটা অনুমান। তবে, নতুন প্রসেস নামটার ব্যাপারে ভাবতে গিয়ে সবাই মাথা চুলকেই হয়রান হয়েছে। কোনো অর্থই এর সঙ্গে লাগসই মনে হয়নি। এটা যে একটা প্রতিষ্ঠানের নামের সংক্ষিপ্তরূপ তা কেউ ধরতে পারেনি। অবশ্যই সেটা কোনো ইংরেজি শব্দ ছিল না। ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম নির্মাতা হ্যাকার যে কিনা নাসা এবং ডিওই এর শত শত কম্পিউটারে আক্রমণ করেছে, সে কেন এইরকম অর্থহীন উদ্ভট একটা নাম পছন্দ করল তা ছিল এক রহস্য।

শব্দটা ছিল ‘ওইআইএলজেড’।

[1] William Harwood, ‘Shuttle Launch Rained Out’, UPI, 17 October 1989.

[2] Vincent Del Guidice, ‘Atlantis Set for Another Launch Try’, UPI, 18 October 1989.

[3] William Harwood, ‘Astronauts Fire Galileo on Flight to Jupiter’, UPI, 18 October 1989.