এলএলএনএলে প্রধানত সামরিক গবেষণাই হতো, বেশীরভাগই স্ট্রাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ বিষয়ক। এলএলএনএলের অনেক বিজ্ঞানীই পারমাণবিক অস্ত্র এবং মহাকাশ যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্রের নকশা তৈরির কাজ করতেন।[1] ডিওইর আগে থেকেই একটা কম্পিউটার নিরাপত্তা গ্রুপ ছিল, যার নাম সিআইএসি বা কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট এডভাইজরি ক্যাপাবিলিটি। কিন্তু সিআইএসি ভিএমএস ভিত্তিক কম্পিউটার সিস্টেম এবং নেটওয়ার্কের চেয়ে প্রধানত ইউনিক্স ভিত্তিক কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কের ব্যাপারে অধীক পারদর্শী ছিল। ওবারম্যানের ভাষ্যে, ‘এতোদিন ভিএমএসে নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হয়নি বললেই চলে। তাই তারাও আগে কখনো ভিএমএস বিশেষজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দেয়নি এবং এ ধরণের কোনো ঘটনার আশংকাও তারা আগে কোনোদিন করেনি।’

এই উদাসীনতার সুযোগ নিয়েই ভিএমএস কম্পিউটারে ওয়ার্মটা ঢুকে পড়েছে। ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম নাসা দিয়ে ঢুকলেও, এটা শিকোগোর কাছে ডিওইর ফার্মি ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ল্যাবরেটরিতেও ভয়ংকর হামলা চালায়। সেখানকার অনেকগুলো কম্পিউটারে এর সংক্রমণ হয় এবং ফার্মিল্যাবের লোকজন স্বাভাবিকভাবেই এতে আনন্দিত হয়নি। তারা সিআইএসিকে ডেকে পাঠালে, সিআইএসি ওবারম্যানের সঙ্গে ১৬ অক্টোবর সকালে ফোনে যোগাযোগ করে। তারা ওবারম্যানকে ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনুরোধ করে। তাদের জানা দরকার এটা কতোটা ক্ষতিকর। তারচেয়েও জানা জরুরী, একে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়।

ডিওইর লোকজন সনাক্ত করল যে, ১৪ অক্টোবরেই ওয়ার্মটা প্রথম আক্রমণ করে। তারপর তাদের অনুমান, ওয়ার্মটাকে আসলে এর একদিন আগে, অর্থাৎ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ছাড়া হয়। ওবারম্যানের মতে, ওয়ার্মের নির্মাতা বা নির্মাতাদের এমন একটা অশুভ সংখ্যার দিনকে বেছে নেওয়ার কারণ হল তাদের রসবোধকেও প্রদর্শন করা।

ওবারম্যান তার মতো করে ওয়ার্মের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছিলেন। কাকতালীয় হলেও সত্যি, ৩২০০ কিলোমিটার দূরে, দেশের আরেক প্রান্তে বসে, তারই সহকর্মী ও বন্ধু জন ম্যাকম্যাহনও ঠিক এই কাজটাই করছিলেন।

ম্যাকম্যাহন যখনই নাসা সিস্টেমের কোনো ক্ষ্যাপা ম্যানেজারের ফোন পাচ্ছিলেন, তখনই তিনি ঐ আক্রান্ত মেশিন থেকে ওয়ার্মের কপি সংগ্রহ করছিলেন। তিনি ওয়ার্মের কার্যকলাপের লগও সংগ্রহ করছিলেন। কোন কম্পিউটার থেকে ওয়ার্মটা ছড়াল? আক্রান্ত সাইট থেকে সেটা আবার কোন সিস্টেমে আক্রমণ করল? হিসাব করতে পারলে, এইসব লগ থেকে নাসা টিমের পক্ষে ওয়ার্মের গতিবিধি অনুমান করা সম্ভব। এরপর টিম যদি সম্ভাব্য বিপদগ্রস্থ সিস্টেমের ম্যানেজারদের আগেভাগেই জানিয়ে দিতে পারে, তাহলে তারা হয়তো সতর্ক হতে পারবেন। আর এভাবেই যেসব সিস্টেম ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে সেগুলো থেকে ইশারা নিয়ে ওয়ার্ম ছড়ানোর আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

কিন্তু, এভাবে সবসময় সঠিক অনুমান করা যায় না। ওয়ার্মটা যদি কোনো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই ফেলে এবং তাতে সক্রিয় থাকে, তাতে ম্যানেজার শুধুমাত্র ওয়ার্মটা কোথা থেকে এলো সেটুকুই জানতে পারবেন, কোথায় যাবে তা জানতে পারবেন না। আরও মুশকিলের কথা হল, অনেক ম্যানেজারই তাদের আক্রান্ত কম্পিউটারগুলোর কোনো লগ নিয়ে রাখেননি।

ম্যাকম্যাহন শুধু ভাবছিলেন, কে কোন কম্পিউটারে যুক্ত হচ্ছে সেসবের বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে রাখা কতোটা জরুরী। পুরাতন কর্মক্ষেত্রে তিনি সবগুলো মেশিনকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করেছিলেন যাতে সেগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে অপর কম্পিউটারে সংযুক্ত হওয়ার সময় সকল তথ্য সংগ্রহ করে রাখে।

ভিএমএস কম্পিউটারে এমনিতেই সাধারণ এলার্ম আছে, কিন্তু, ম্যাকম্যাহন সেটাকে পর্যাপ্ত মনে করতেন না। ভিমএমএসের এলার্মগুলো কম্পিউটার ম্যানেজারদের কাছে শুধুমাত্র এই বার্তা পাঠায়: ‘হাই! আপনি এইমাত্র এই কম্পিউটার থেকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়েছেন।’ কিন্তু, বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এলার্ম হলে বলতো: ‘হাই! আপনি এইমাত্র এই কম্পিউটার থেকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়েছেন। অপরপ্রান্তের ব্যক্তিটি এই মুহূর্তে একটি ফাইল ট্রান্সফার করছেন।’ এছাড়া আরও খুঁটিনাটি অনেক তথ্য ম্যাকম্যাহনের কম্পিউটারগুলো সংগ্রহ করে রাখত। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক নাসা কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক ম্যানেজারেরা এইধরণের লগ সংগ্রহে মনযোগী হন নাই। কারা কখন তাদের কম্পিউটার খুলছেন, সংযুক্ত হচ্ছেন সেসবের বিশদ বিবরণও অনেকে রাখেন নাই। অথচ, এসব থাকলে আজ ওয়ার্মের পিছে ছোটা এতো কঠিন হতো না।

তবে, স্প্যান অফিস অন্তত,  কোন কোন নাসা কম্পিউটারে ওয়ার্ম সংক্রমিত হলো বেশ যত্ন নিয়ে সেসবের লগ রাখছিল। যখনই কোনো নাসা ম্যানেজার ওয়ার্ম ভোগান্তির কথা জানিয়ে কল করছিলেন, তখনই টিমের সদস্যরা কাগজে কলমে সেসবের বিবরণ লিখে রাখছিলেন। আক্রান্ত কম্পিউটারগুলোর ঠিকানা এবং আক্রমণের মাত্রার বিস্তারিত বিবরণ কম্পিউটারেও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। তবে, হাতে লেখা লিস্ট সবথেকে নিরাপদ। ওয়ার্ম তো আর কাগজের লেখা মুছে দিতে পারবে না।

ম্যাকম্যাহন যখন জানতে পারলেন ডিওইও আক্রান্ত হয়েছে, তখন তাদের সাথে প্রতি তিন ঘন্টা অন্তর অন্তর যোগাযোগ করতে লাগলেন। দুইটা গ্রুপ আক্রান্ত কম্পিউটারগুলোর লিস্ট টেলিফোনে  বলেবলে বিনিময় করে নিলো। হাতের লেখার মতোই, টেলিফোনের কথাও একটা ওয়ার্ম-মুক্ত মাধ্যম। ম্যাকম্যাহনের ভাষ্যে, ‘অনেকটা সেকেলে পদ্ধতি হলেও এতে আমাদেরকে নেটওয়ার্কের উপরে নির্ভর করতে হত না। আমাদের যোগাযোগের জন্য এমন একটা মাধ্যমের দরকার ছিলো যেটা নেটওয়ার্কের মতো আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নাই।’

নাসা স্প্যান টিমের কয়েকজন সদস্য কোম্পানির ভোক্তা পরিষদের (ডেকাস) সাহায্যে বিভিন্ন ডেক নেটওয়ার্কের কন্টাক্ট লিস্ট তৈরি করেছিলেন। এই কন্টাক্টগুলো এবারে খুব কাজে লাগল। ডেক প্রশাসনের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু না, এতে ১,২৫,০০০ জনেরও বেশী কর্মচারী কাজ করেন, বিলিয়ন-ডলার লভ্যাংশ থাকে এর এবং ১৯৮৯ সালে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী কর এই কোম্পানি দিয়েছে।[2] এমন দানবাকৃতির এবং খ্যাতিমান একটা কোম্পানি ওয়াঙ্ক ওয়ার্মের মতো কোনো ঝামেলা নিশ্চয়ই চাইবে না, বিশেষত নাসার মতো এমন পাবলিক একটা প্রতিষ্ঠানের বেলায়। দোষটা ডেকের সফটওয়্যারের উপর দেওয়া যায় কী যায় না সেটাই এখন মুখ্য বিষয়। এমন একটা ঝামেলা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ একটা ঘটনা। ডেক যদি এখন এই গন্ডগোলের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে তাহলে আরও দৃষ্টিকটূ দেখাবে। তখন হয়তো মনে হতে পারে এই বিপর্যয়ের জন্য কোম্পানিও কোনোভাবে দায়ী।

অবশ্য, কোম্পানির কোনো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কেউ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে ঘটনা ভিন্ন খাতে গড়াত।  সম্পর্কটাতো এমন নয় যে, নাসা ম্যানেজার ডেকের কোনো কর্মীকে অযাচিতভাবে কল করতে পারেন, যিনি মিলিয়ন ডলার মূল্যের কোনো মেশিন ছয় মাস আগে এজেন্সির অন্যকারও কাছে বিক্রি করেছেন। বরং, গত মাসের কনফারেন্সে ডেকের লোকজনের পাশেই নাসার লোকজন বসেছিলেন। তারা তো সহকর্মীর মতোই, যাদের সঙ্গে নাসা ম্যানেজারেরা যখন তখন কথা বলতে পারেন।

জন ম্যাকম্যাহনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াঙ্ক ওয়ার্মের তিন ধরণের সংস্করণ আছে। নেটওয়ার্ক থেকে নেওয়া নমুনায় দেখা যায়, সংস্করণগুলো দেখতে কাছাকাছি ধরণের হলেও প্রত্যেকেরই সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য আছে। ম্যাকম্যাহনের মতে, ওয়ার্মগুলো প্রত্যেকটা সাইটে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যেভাবে নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি করেছে তা অনুসরণ করে পার্থক্যগুলোকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। কিন্তু, ওয়ার্মের নির্মাতা তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণই বা তৈরি করলেন কেন? একটা সংস্করণকেই ভালোমত তৈরি করে ছেড়ে দিলে হত না? ওয়ার্মটা ধেয়ে আসা কোনো মিসাইল নয়, বরং, একঝাঁক মিসাইলের বহর। সবদিক থেকেই সে ধেয়ে আসছিল, নাসার কম্পিউটারগুলোর সব  স্তর থেকেই।

ম্যাকম্যাহনের অনুমান, ওয়ার্মের ডিজাইনার সামান্য সময়ের ব্যবধানে তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ ছেড়েছিলেন। হয়তো, নির্মাতা একটা ওয়ার্ম ছাড়ার পর কোনো বাগ খুঁজে পেয়েছিলেন। তখন তিনি আরও কিছু সময় ব্যয় করে সমস্যাটা ঠিকঠাক করে আবার ছেড়েছেন। হয়তো প্রথমবার তিনি যেভাবে বাগ ঠিক করেছিলেন সেটাও পরে পছন্দ হয়নি। তাই তিনি হয়তো আবার সেটাতে কিছু পরিবর্তন করেছিলেন এবং তৃতীয়বারের মতো ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তবে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে কেভিন ওবারম্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্তে এলেন। তার বিশ্বাস, আসলে ওয়ার্মটার একটাই সংস্করণ আছে যেটা হেপনেট এবং স্প্যানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেসব সূক্ষ্ম পার্থক্য বিভিন্ন নমুনায় দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সম্ভবত বিভিন্ন কম্পিউটারে ঘুরতে ঘুরতে ওয়ার্মটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিখে নিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করায় ঘটেছে।

শুধুমাত্র ম্যাকম্যাহন আর ওবারম্যানই ওয়ার্মটার বিভিন্ন রূপধারণের রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছিলেন, সেরকম নয়। ডেকও ওয়ার্মটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল এবং সাধু উদ্দেশ্যেই। ওয়াঙ্ক ওয়ার্ম তাদের কর্পোরশনের নিজস্ব নেটওয়ার্কেও হানা দিয়েছে। একে ডেকের নিজস্ব ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইজিনেটেও অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। ইজিনেট শুধুমাত্র ডেকের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, সেলস অফিস এবং দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত কোম্পানির বিভিন্ন শাখাগুলোকে সংযুক্ত করে থাকে। ডেক বিষয়টার প্রকাশ্য প্রচারের ব্যাপারে সতর্ক ছিলো, কিন্তু ওয়াঙ্কের ইজিনেট সংস্করণটা অনেক আলাদা। এতে একটা উদ্ভট কোড আছে যেগুলো অন্য সংস্করণগুলোতে নাই। ওয়ার্মটাকে যতগুলো সম্ভব সাইট আক্রমণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া ছিল, শুধুমাত্র একটা ব্যতিক্রম বাদে। কোনো অবস্থাতেই এটা যেন ডেকের এরিয়া ৪৮-এ আক্রমণ না করে। নাসা এই বিষয়টা নিয়ে অনেক ভাবলো। একজন এরিয়া ৪৮ জায়গাটা খুঁজেও দেখলো। জায়গাটা নিউজিল্যান্ডে।

নিউজিল্যান্ড?

নাসা টিম মাথা চুলকাতে লাগল। এই আক্রমণের ঘটনা প্রতি মিনিটে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। যখনই মনে হচ্ছিল স্প্যান টিম যেন সঠিক পথ ধরেই ধাঁধাঁর উত্তরের কাছাকাছি এগিয়ে গেছে ঠিক তখনই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিলো। আর তারাও আবিষ্কার করছিলেন যে, তারা আবারো অসহায়ভাবে খেই হারিয়েছেন। ঠিক তখনই কেউ একজন বললেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত এলাকা বলে নিউজিল্যান্ডের দুনিয়াব্যাপী খ্যাতি আছে।

১৯৮৬ সালে নিউজিল্যান্ড ঘোষনা করে, পারমাণবিক শক্তিচালিত অথবা পারমাণবিক অস্ত্রবাহী কোনো আমেরিকান জাহাজকে তারা তাদের বন্দরে ভীড়তে দিবে না। আমেরিকা সাউথ প্যাসিফিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেকার সমস্ত নিরাপত্তা নীতি স্থগিত করে এর প্রতিশোধ নেয়। এর অর্থ হল কোনো শক্রুরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড আক্রমণ করলেও আমেরিকা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে দ্বিধা করবে না। আমেরিকা গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সমন্বিত সামরিক মহড়াও তখন স্থগিত করেছিল।

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বেশীরভাগ মানুষের কাছেই সেসসময় আমেরিকার আচরণ বাড়াবাড়ি মনে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড তো আমেরিকানদের বর্জন করেনি; তারা শুধুমাত্র তাদের সামনে পারমাণবিক অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শনের ব্যাপারে অমতকরেছিল। এমনকি আমেরিকার স্থগিতাদেশের পরেও নিউজিল্যান্ড ওয়াইহোপাইতে মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটি চালু রাখার সম্মতি জারিরাখে। তারা মার্কিন-পরিপন্থী ছিলো না, তারা শুধুমাত্র পারমাণবিক কার্যক্রমের বিরোধী ছিল।

আর পরমাণু কার্যক্রমের বিরোধীতার পেছনে নিউজিল্যান্ডের ভালো যুক্তিও ছিল। প্যাসিফিক অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য তারা বহুদিন ধরেই ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করছিল। এরপর ১৯৮৫ সালের জুলাইয়ে পরমাণু-বিরোধী জাহাজ গ্রিনপিস (দ্য রেইনবো ওরিয়র) অকল্যান্ড বন্দরে অবস্থান নিলে ফরাসিরা সেটাকে ডুবিয়ে দেয়। দ্য রেইনবো ওরিয়র পরমাণু পরীক্ষাক্ষেত্র মুরোরা আটোলের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিল। তখন ফরাসি গোয়েন্দারা জাহাজটিতে বোমা মেরে তাদের কর্মী ফার্নান্দো পেরেরাকে হত্যা করে।

ঘটনার প্রথম কয়েক সপ্তাহধরে ফ্রান্স সবকিছু অস্বীকার করে গিয়েছিল। কিন্তু যখন সত্য ঘটনা প্রকাশিত হল, জানা গেল প্রেসিডেন্ট মিত্তেহো নিজে এই বোমা পরিকল্পনার কথা জানতেন, তখন ফরাসি জনগণ রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেল। রুইকাতলাদের শাস্তি হল। ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চার্লস হার্নু পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। ফরাসি গোয়েন্দা এবং কভার্ট একশন ব্যুরোর পরিচালক এডমিরাল পিয়েরে লাকোস্তে বরখাস্ত হলেন। ফরাসি সরকার ক্ষমা চাইলো এবং দুই ঘাতক, যাদের প্রত্যেকের অকল্যান্ডে দশ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছিল, তাদের ফেরত নেওয়ার বিনিময়ে ১৩ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার ক্ষতিপূরণ দিল।

চুক্তির শর্তানুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত গুপ্তচরদের হাও এটলের ফরাসি সামরিক ঘাঁটিতে তিন বছর বন্দী রাখার কথা ছিল ফরাসি সরকারের। কিন্তু দুইজন গুপ্তচরই ১৯৮৮ সালে দুই বছরেরও কম সময় জেল খেটে মুক্তি পান। তাদের একজন, ক্যাপ্টেন ডোমিনিক প্রিয়ার, ফ্রান্সে ফেরার পর কমান্ড্যান্ট হিসেবে পদোন্নতিও পান।

এতোক্ষণে বোধগম্য একটা সূত্র পাওয়া গেল, ম্যাকম্যাহন ভাবলেন। ওয়ার্মটার রাজনৈতিক বার্তা সম্ভবত নিউজিল্যান্ডকে বর্জনের ঘোষনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ওয়াঙ্ক যখন কোনো কম্পিউটারের দখল নেয়, নির্দেশনা অনুযায়ী সে সেখানে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে এবং সেই প্রতিলিপিই অন্য মেশিনে পাঠায়। সেটা নেটওয়ার্ক গলে ঢুকে যায় এবং সংযুক্ত কোনো কম্পিউটারের দ্বারপ্রান্তে এসে তাতে প্রবেশের জন্য ক্রমাগত খোঁচাতে থাকে। আসলে এর উদ্দেশ্য হল কম্পিউটারের ভিতরে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু, সেটা সে করে শুধু বেসিক-লেভেল, ইউজার-লেভেল একাউন্ট পর্যন্ত।

ভিএমএস সিস্টেমগুলোতে বিভিন্ন একাউন্টের বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো উচ্চক্ষমতাপ্রাপ্ত একাউন্টের ব্যবহারকারী হয়তো অন্য কোনো কম্পিউটারের ইমেইল পড়তে, এমনকি মুছে দিতেও পারেন। তিনি হয়তো নতুন একাউন্টও খুলতে পারেন বা কোনো বন্ধ একাউন্ট নতুন করে চালুও করতে পারেন। কোনো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একাউন্ট ব্যবহারকারী হয়তো অন্য কম্পিউটারের পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যারা কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তাদের এই ধরণের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একাউন্টের দরকার হয়, যাতে পুরো সিস্টেমকে সহজে চালানো যায়। ওয়ার্মটা বিশেষ করে এই ধরণের একাউন্টই খুঁজছিল কারণ, এর নির্মাতা জানে আসল ক্ষমতা কার কাছে থাকে।

[1] The Age, 22 April 1996, reprinted from The New York Times.

[2] DEC, Annual Report, 1989, listed in ‘Sec Online’.